গ্যাসের সমস্যা হলে যা করবেন
পাকস্থলীতে গ্যাস তৈরি হওয়ার কারণ সমূহ

যখন বুকে গ্যাসের ব্যাথা অনুভূত হয়, সেটা প্রধানত পেটের এলাকায় গ্যাস তৈরি হওয়ার কারণে হয়ে থাকে।
আমাদের ক্ষুদ্রান্তে যে সকল শর্করা জাতীয় খাদ্য হজম হয় না তা মলাশয়ে এলে সেখানে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া কর্তৃক গাঁজিত হলে গ্যাস উৎপন্ন হয়
বেশী আঁশযুক্ত এবং স্বাস্থ্যকর খাবার যেগুলি হজম হওয়া বেশ কঠিন
আঁশযুক্ত খাবার পরিপাক তন্ত্রের জন্য ভাল মনে করা হয় এবং এটি বিষাক্ত দ্রব্যসমূহকে সরিয়ে দিয়ে, কোলেস্টেরল লেভেলকে নিয়ন্ত্রণ এবং তার সাথে রক্তের শর্করাকেও নিয়ন্ত্রণ করে পুষ্টি নালীকে ভাল অবস্থায় রাখে। যদিও, আঁশযুক্ত খাবার গ্যাস উৎপন্নের কারণ।
উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার যা গ্যাসের এবং গ্যাসের জন্য ব্যাথার কারণ সেগুলি হল শাকসবজি, ফল, শিম এবং মটর জাতীয় খাদ্য, সকল দানা শস্য এবং অন্যান্য আরও খাদ্য।
Psyllium জাতীয় উচ্চ আঁশযুক্ত সম্পূরক খাবার এধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে
এমনকি বিয়ার এবং সোডা জাতীয় কার্বনেটেড পানীয়ও গ্যাস উৎপন্নের কারণ হতে পারে
খাবারের প্রতি অসহনশীলতা গ্যাস উৎপন্নের কারণ হতে পারে
যখন কেহ irritable bowel syndrome বা ulcerative colitis এ ভোগে তখনও গ্যাস উৎপন্ন হতে পারে
খাবার খাওয়ার সময় যখন বেশী বাতাস গিলে ফেলা হয়
কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য যার কারণে পেট ফুলে যেতে পারে
পেটে গ্যাসের সমস্যা? জেনে নিন যা খাবেন ও যা খাবেন না
যা যা খাবেন নাঃ
১) ডাল ও ডাল জাতীয় খাবার ডাল, বুট, ছোলা, বীণ, সয়াবিন ইত্যাদি ধরণের খাবার গ্যাস উদ্রেককারী খাবার। এগুলোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, সুগার ও ফাইবার যা সহজে হজম হতে চায় না। ফলে গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি করে পেটে।
২) ব্রকলি, পাতাকপি, বাঁধাকপি এইধরনের সবজিগুলোতে রয়েছে ‘রাফিনোজ’ নামক একধরণের সুগার উপাদান যা পাকস্থলীর ব্যাকটেরিয়া ফারমেন্ট না করা পর্যন্ত হয় হয় না। এবং এই অবস্থায় পেটে গ্যাসের সমস্যা বৃদ্ধি পায়।
৩) দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার পর যদি দেখেন পেটে গ্যাস হচ্ছে তার অর্থ হচ্ছে আপনি লাক্টোজ ইন্টলারেন্ট অর্থাৎ আপনার দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার হজমে সমস্যা রয়েছে। হজম হয় না বলেই এগুলো আপনার পেটে গ্যাস উদ্রেকের জন্য দায়ী।
৪) আপেল ও পেয়ারা আপেল ও পেয়ারাতে রয়েছে ফাইবার এবং ফ্রুক্টোজ ও সরবিটোল নামক সুগার উপাদান যা সহজে হজম হতে চায় না। এতে করেও গ্যাস হয় পেটে।
৫) লবণাক্ত খাবার লবণের সোডিয়াম অনেক বেশি পানিগ্রাহী। অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার খেলে দেহে পানি জমার সমস্যা দেখা দেয়। পাকস্থলীতেও সমস্যা শুরু হয় ও খাবার হজম হতে চায় না।
যা যা খাবেনঃ
১) শসা শসা পেট ঠাণ্ডা রাখতে অনেক বেশি কার্যকরী খাদ্য। এতে রয়েছে ফ্লেভানয়েড ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা পেটে গ্যাসের উদ্রেক কমায়।
২) দই দই আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এতে করে দ্রুত খাবার হজম হয়, ফলে পেটে গ্যাস হওয়ার ঝামেলা দূর হয়।
৩) পেঁপে পেঁপেতে রয়েছে পাপায়া নামক এনজাইম যা হজমশক্তি বাড়ায়। নিয়মিত পেঁপে খাওয়ার অভ্যাস করলেও গ্যাসের সমস্যা কমে।
৪) কলা ও কমলা কলা ও কমলা পাকস্থলীর অতিরিক্ত সোডিয়াম দূর করতে সহায়তা করে। এতে করে গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়াও কলার স্যলুবল ফাইবারের কারণে কলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ক্ষমতা রাখে। ৫) আদা আদা সবচাইতে কার্যকরী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার। পেট ফাঁপা এবং পেটে গ্যাস হলে আদা কুচি করে লবণ দিয়ে কাঁচা খান, দেখবেন গ্যাসের সমস্যা সমাধান হবে।
বুকে গ্যাসের চাপ থেকে আরোগ্যের গৃহ চিকিৎসা

১. শুয়ে পড়ুন
যখন গ্যাসের কারণে বুকে ব্যাথা এবং অস্বস্তি হয় তখন আপনাকে যা করতে হবেঃ
মাথা উঁচুতে রেখে শুয়ে পড়ুন
অস্বস্তি দূর হওয়ার জন্য এই অবস্থানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন

২. প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুন
প্রায়ই হজমের অসুবিধার কারণে গ্যাস তৈরি হয়ে থাকে।
প্রচুর পরিমাণে পানি পান করলে এর সাথে হজম বিহীন খাদ্য সহজে সরে যেতে পারে
আঁশ সমৃদ্ধ খাবার যা সাধারণত পেটে গ্যাস তৈরির কারণ তা বেশী পরিমাণে পানি পান করলে সহজে হজম হয়
বেশী পরিমাণে পানি পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে এবং গ্যাসকে সহজে বেরিয়ে যেতে দেয়

৩. কার্বনেটেড ড্রিঙ্কস থেকে দূরে থাকুন
কারও যদি পেটে গ্যাসের সমস্যা থাকে তবে কার্বনেটেড ড্রিঙ্কস পরিহার করা উচিত।
কার্বনেটেড ড্রিঙ্কস গ্যাস তৈরির পরিমাণ বাড়াতে সহায়তা করে এবং অস্বস্তি বাড়িয়ে দেয়
এ ধরণের কোমল পানীয় বেশী গ্রহণ করলে গ্যাস বেড়ে যায় এবং এর চাপে বুকে ব্যাথা হয়
কার্বনেটেড ড্রিঙ্কস সাধারণত ক্যলরিবিহীন থাকে, তাই বলা যায় এটা পান করলে অযথাই শরীরে শর্করা গ্রহণ করা হয়

৪. দেহ ভঙ্গি যা বুকে গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেয়
আপনি বিছানায় হাঁটু ভাঁজ করে পশ্চাতদেশ বাতাসে রেখে এবং মাথা নীচের দিকে রেখে থাকতে পারেন। এটা এমন একটা ভঙ্গি যাতে পেটের বাড়তি গ্যাস পরিপাকতন্ত্র থেকে সহজে বের হয়ে যেতে পারে।
শুয়ে পরে দুই পা পাকস্থলীর উপরে ভাঁজ করে চাপ দিন। একই সাথে, নিশ্বাস ছাড়ার সময় জোরে বাতাস বের করে দেয়ার চেষ্টা করা করুন
যখন এরূপ করবেন তখন একা থাকার চেষ্টা করুন
যখন পেট থেকে বাতাস বের করার চেষ্টা করা হবে তখন নিশ্চিত হতে হবে যেন পাকস্থলী খালি হয়ে যায়।

৫. বিছানায় শোয়ার ভঙ্গি
বেশ কিছু ভঙ্গি আছে যেভাবে ডাক্তারগন শোয়ার জন্য সুপারিশ করেন যাতে গ্যাস কম তৈরি হয় এবং পেটে বা বুকে গ্যাসের চাপ কম হয়। এ সকল ভঙ্গি গুলি বেশ সাধারণ হতে পারে কিন্তু তা অস্বস্থি কমাতে বেশ কার্যকর এবং রাতে ঘুমাতে সাহায্য করে যদি গ্যাসের কারণে অস্বস্থি বোধ হয়।
বাম পাশ ফিরে শুলে তা বিস্ময়কর ভাবে কাজ করে
যদিও এটা খুব সহজ সমাধান, এটা অনেক ক্ষেত্রেই সুপারিশ করা হয় যেমন গর্ভাবস্থায় এবং colonoscopy করার সময় যদি গ্যাসের সমস্যা হয় তখন।

৬. সাধারণ কিছু রান্নার উপাদান
এশিয়ান রান্নাঘরে ব্যবহৃত হয় এমন অনেক সাধারণ উপাদান পেট থেকে গ্যাস নির্গমন কমাতে সহায়ক, যেমন সরিষা
বিভিন্ন রকম রান্নার উপাদান হিসাবে সরিষা ব্যবহার করা হয় যা পেটে গ্যাস তৈরিতে বাধা দেয়
এলাচ, জিরা এবং হলুদ জাতীয় এশিয়ান মসলার হজম ভাল হওয়ার উপকারি বৈশিষ্ট্য আছে। হালকা তরকারি রান্নার জন্য এ সকল মসলা ব্যবহার করা যেতে পারে যা পেটে গ্যাস হওয়া বা পেট ফাঁপা কমাতে পারে।

৭. গরম তরল পান করা
• এটা বলা হয় যে তরল গ্রহণ করলে পেটে গ্যাস কম তৈরি হয়
• যদি কেউ গরম পানি বা গরম পানীয় যেমন চা পান করে তবে তা পরিপাক নালী থেকে স্বাভাবিক ভাবে গ্যাসকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে।

৮. মেঝের উপর কিছু ভঙ্গি
পেট থেকে গ্যাস নির্গমন এবং এর উৎপাদন কমাতে বিশেষ কিছু উপকারি ভঙ্গি আছে যা কেউ অবলম্বন করলে বা নিয়মিত চর্চা করলে উপকার পেতে পারেন।
পিঠ মাটিতে ঠেকিয়ে শুয়ে পরুন। শ্বাস গ্রহণের সময় বাম পা ভাঁজ করে ধীরে ধীরে বুকের দিকে তুলুন।
পা হাত দিয়ে অন্তত ১০ সেকেন্ড বুকের দিকে চেপে ধরে রাখতে হবে।
এরকম করার সময়ে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখতে হবে
শ্বাস ছাড়ার সময় পা ছেড়ে দিতে হবে
অন্য পা দিয়েও ঠিক এমনটি করতে হবে।
এটা দেখা গেছে যে শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে তাল মিলিয়ে এরকম ভাবে নড়াচড়া করলে গ্যাস বেরিয়ে যায়।

৯. খাবার জন্য কিছু ফল
কিছু বিশেষ ফল আছে যেগুলি পরিপাকতন্ত্রকে উজ্জীবিত করে এবং গ্যাস তৈরিতে বাধাগ্রস্ত করে।
পেঁপে এমন একটি ফলের উদাহরণ যা পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করে

১০. বিভিন্ন রকমের চা আছে যা পান করা যেতে পারে
পিপারমিন্ট চায়ের মত পানীয় স্বস্তি এনে দিতে পারে
আদা বা ক্যামোমিল দেয়া চা ও বেশ উপকারী
ভেষজ চায়ের গ্যাস নির্গত না হওয়ার গুণাগুণ আছে যা পাকস্থলীতে গ্যাস তৈরিতে বাধাগ্রস্ত করে

১১. হাঁটাচলা করা
অনেক সময় অপর্যাপ্ত পরিমাণে অঙ্গ সঞ্চালনের জন্য হজম শক্তি দুর্বল হয়ে যায় এবং এ কারণে পেটে গ্যাস তৈরি হয়ে থাকে।
সান্ধ্য ভ্রমণে বেরিয়ে বা সাধারণভাবে শারীরিক কার্যক্রম একটু বাড়িয়ে দিয়ে স্বস্তি পাওয়া যায়।

১২. শুয়ে করার মত কিছু কসরত
কিছু কসরত আছে যা কেউ বিছানায় শুয়ে করতে পারেঃ
শুয়ে শুয়ে বাতাসে পা তুলে সাইকেল চালনার মত কসরত করা যেতে পারে
দুই পা দিয়ে বাতাসে কাঁচি চালনার মত ভঙ্গি করা যেতে পারে
যোগ ব্যায়ামও পেটের গ্যাস বের হয়ে যেতে এবং পেট ফাঁপার অনুভুতি কমাতে সাহায্য করে।

১৩. চারকোল ক্যাপসুল
আপনার বাড়িতে যদি চারকোল ক্যাপসুল থাকে তবে তা খেলে পেট ফাঁপা কমতে সাহায্য হবে
এ ধরণের সম্পুরক কিছু খেলে পরিপাক তন্ত্র থেকে গ্যাস এবং দূষিত পদার্থ সমূহ দূর হয়ে যাবে।

১৪. বেকিং সোডা
বেকিং সোডা দেয়া এক কাপ গরম পানি করার চেষ্টা করে দেখতে পারেন। এটা গ্যাস নির্গত হওয়া কমাতে সাহায্য করতে পারে।

১৫. বিভিন্ন রূপে আদা খাওয়া
নিরাময়কারী গুণাগুণ আছে এমন একটি সুপরিচিত রান্নাঘরের উপাদান হল আদা। এটা বিভিন্ন রূপে খেয়ে উপকার পাওয়া যায়।
ছোট ছোট টুকরা করে খাওয়া যেতে পারে
চায়ের মধ্যে দিয়ে পান করা যেতে পারে
আদা দিয়ে তৈরি ট্যাবলেট খাওয়া যেতে পারে

১৬. শুন্যে বসার চেষ্টা করুন
শুন্যে বসার চেষ্টা করলে নিশ্চিতভাবে গ্যাস বের হবে এবং আপনার পরিপাকতন্ত্র থেকে জোরপূর্বক গ্যাস বের করে দিবে।
এ ধরণের কসরত পাকস্থলীর জন্য যেমন, তেমনি পায়ের জন্যও ভাল। এভাবে, শুধু আপনার পেটের পেশী সমূহ মজবুত হয় না, বরং পায়ের পেশী সমূহকেও শক্তিশালী করে এবং আপনি পেটের গ্যাস বের করে দিতে পারেন এবং গ্যাস নির্গত হওয়া থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

১৭. অ্যাপেল সিডার ভিনেগার
একটি উপকারী গৃহ চিকিৎসা হল দুই চা চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার খেয়ে নেয়া।
এটা হজমে সাহায্য করে এবং গ্যাস নির্গমনের জন্য যে অস্বস্তি তা কমিয়ে দেয়।

১৮. দুধ জাতীয় খাদ্যপন্য পরিহার করুন
যদি আপনি পেট ফাঁপার মত অনুভূতি প্রায় সময়েই অনুভব করেন তবে তা খাদ্যে অসহনশীলতার একটি লক্ষণ।
অনেক ব্যাক্তিই বেশীরভাগ সময়ে gluten সমৃদ্ধ খাবার বা দুধজাত খাদ্যে তাদের অসহনশীলতার প্রতি সচেতন হন না।
কোন ধরণের খাবার আপনার দেহে পেট ফাঁপার মত অনুভূতি তৈরি করে তা বোঝার চেষ্টা করুন এবং তা পরিহার করুন।
আজ আমার 15 দিন ধরে গ্যাসের সমস্যা তাই এই পোস্টটা আপনাদের উপহার দিলাম।
ভাল লাগলে আমার youtube chanel টি Subscribe করুন প্লিয।
https://www.youtube.com/meshkatvswild

6 thoughts on "গ্যাসের সমস্যা হলে যা করবেন"

  1. Moksudur Rahman Moksudur Rahman Contributor says:
    সুন্দর একটি পোষ্ট ধন্যবাদ
  2. MD Nayeem Islam Nayan Abdus Salam Author says:
    একটা ফেইসবুক পেইজ সেল করা হবে।
    পেজের নামঃ হৃদয়ে বাংলাদেশ। (পরিবর্তন যোগ্য)
    লাইকঃ ১৫০০০ (পনেরো হাজার)।
    লোকেশানঃ বগুড়া, নওগা, জয়পুরহাট।
    যোগাযোগঃ facebook.com/salamssaa
  3. Meshkat Meshkat Contributor Post Creator says:
    tnx all.
  4. Piashkbs Piashkbs Contributor says:
    via ak post r koto bar
  5. Meshkat Meshkat Contributor Post Creator says:
    koi ar to keu koreni.

Leave a Reply