তাবলীগের কাজে হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী (রহঃ) এর মহল্লায় তাবলীগের একটি কাফেলা যাওয়ার পর, থানবী (রহঃ) এর সাথে দেখা করতে গেলে হযরত তাদেরকে কিছু হাদীয়া প্রদান করেন। অতঃপর তারা এই হাদীয়া সযত্নে এনে হযরত মাওলানা ইলিয়াস সাহেব (রহঃ) এর হাতে দিলে তিনি বলেন, আজ এই দাওয়াতে তাবলীগের কাজে থানবী (রহঃ) মত ব্যক্তির সিল মহর লেগে গেছে। অতএব এই দাওয়াতে তাবলীগের কাজ সমগ্র পৃথিবীতে বিস্তার লাভ করবে ইন্শা-আল্লাহ।
:
শায়খুল আরব ওয়াল আজম আওলাদে রাসূল (সাঃ) সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী (রহঃ) একবার বয়ানের মধ্যে বলেন- দ্বীনের প্রতিটি শাখা যেন এক একটি বাতি, আর দাওয়াতে তাবলীগ যেন সে গুলোর পাওয়ার হাউজ। যদি পাওয়ার হাউস চালু থাকে তাহলে সমস্ত বাতি জ্বলবে এবং আলো ছড়াবে। হযরত আরেক বয়ানের মধ্যে বলেন, উলামায়ে কেরাম এই কাজের মধ্যে হাত দিয়েছেন এবং অন্যান্য ভাইগণও এই কাজের মধ্যে হাত দিয়েছেন। ফলে মানুষের জন্য ভয়ানক আযাব জাহান্নাম থেকে বের হয়ে জান্নাতে প্রবেশের ব্যবস্থা হয়ে গেছে।
:
মুফতীয়ে আজম হিন্দ-হযরত মাওলান মুফতী কিফায়াতুল্লাহ সাহেব এর নিকট কেউ একবার জিজ্ঞেস করলেন তা’লীম এবং তাবলীগের মধ্যে পার্থক্য কি? তিনি উত্তরে বলেন, দ্বীনের কাজ তো ঐ সকল লোকদের জন্য যাহাদের মাঝে আগ্রহ ও চাহিদা আছে। আর তাবলীগ হচ্ছে অনাগ্রহী ও অনুৎসাহীদের মধ্যে দ্বীনের আগ্রহ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টির জন্য।
:
একবার হযরত আতাউল্লাহ শাহ বুখারী (রহঃ) কে কোন ব্যক্তি উপহাস করে জিজ্ঞাসা করলেন, হযরত এসব গাট্টিওয়ালারা কেন ঘোরাফেরা করে? এরা কি করতে চায়? উত্তরে তিনি বলেন, তারা আসমান থেকে আগত আযাব কে রূখে দেয়। অর্থাৎ আসমান হতে আযাব আসার প্রতিবন্দক হয়।
:
হযরত মাওঃ আব্দুল আযীয দুয়ালী (রহঃ) বলেন, তা’লীমের দ্বারা গর্ব সৃষ্টি হয়। আর তাবলীগ দ্বারা বিনয় সৃষ্টি হয়। যদি কোন মানুষের মধ্যে এই দুটি একত্রে বিদ্যমান থাকে তাহলে সে ঠিকমত চলতে পারবে। তার দ্বারা সকলেই উপকৃত হবে।
:
হযরত মাওঃ আব্দুল কাদীর রায়পুরী (রহঃ) একবার হযরত মাওঃ ইলিয়াস (রহঃ) এর কাছে উপস্থিত হয়ে বলেন, আমাকে একটা জামাত দিন। অতঃপর তিনি জামাত নিয়ে পাঞ্জাবের কোন এক এলাকায় পৌঁছলেন, এলাকাবাসীকে ডেকে মাওঃ আব্দুল কাদীর (রহঃ) বলেন হে লোক সকল আমি দেখেছি তোমাদের এলাকার উপর আল্লাহর আযাব নেমে আসছে। এবং সেই গজবের আগুন প্রজ্বলিত হয়ে উটছে। আমার নিকট এই প্রজ্বলিত আগুন নিভানোর জন্য এই জামাত ব্যতীত আর কোন হাতিয়ার নাই। কিন্তু এলাকাবাসী তার একথার কোন ভ্রক্ষেপ করলো না। তার ডাকে সাড়া দিল না।ভাই মোশতাক সাহেব যিনি এই জামায়াতের সাথী ছিলেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, আমাদের এই জামাত হজ্জ্বের সফরের জন্য প্রায় আড়াই মাস পরে উক্ত এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় আমরা দেখতে পেলাম ঐ এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
:
হযরত মাওঃ ক্বারী তৈয়ব সাহেব (রহঃ) (সাবেক মুহতামিম দারুল উলুম দেওবন্দ) বলেন, – এই তাবলীগ একটি সমষ্টিগত মিশ্রনের নাম, যার মধ্যে দ্বীনের বিষয়ের সকল সংমিশ্রণ ঘটেছে। কেননা, এর মধ্যে তা’লীম, দাওয়াত, যিকির, ইবাদত, সৎ-চরিত্র, আত্মশুদ্ধি, সহানুভূতিও আছে।
:
মুফতীয়ে আযম বাংলাদেশ, মুহিস্সুন্নাহ, মাহিউল বিদআত, আল-জামেয়াতুল ইসলামিয়া হামিয়ূচছুন্নাহ মেহখ মাদ্রাসার প্রতিষ্টাতা হযরত মাওলানা মুফতী ফয়জুল্লাহ সাহেব (রহঃ) এর কাছে একবার এক মাদ্রাসার শিক্ষক এসে বললেন, হযরত তাবলীগ জামাত আমাদের মাদ্রসায় আসার কারণে তা’লীমের মধ্যে ক্ষতি হয়। হযরত উত্তর দিলেন, ভাই যদি সামান্য অসুবিধাও হয় তবুও এই অসুবিধা কে সহ্য কর। কারণ এর মধ্যে অনেক ফায়দা নিহিত রয়েছে।
:
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পটিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্টাতা হযরত মাওঃ মুফতী আযীযুল হক সাহেব (রহঃ) বলতেন – এই দাওয়াত ও তাবলীগ হচ্ছে চলন্ত মাদ্রাসা।
মুফতী আযম আল্লামা আহমদুল হক সাহেব (রহঃ) হাটহাজারী মাদ্রাসার বর্ষিক সম্মেলনে বয়ান করতে গিয়ে বলেন, বর্তমানে এই ফিৎনার যুগে উম্মতের নাযাতের জন্য মাত্র দুটি পথ রয়েছে।
১. দাওয়াতে তাবলীগের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা।
২. উলামায়ে দেওবন্দ তথা হক্কানী উলামায়ে কেরামের সাথে সম্পর্ক রেখে তাদের অনুসৃত পথে এগিয়ে চলা।
:
উপমহাদেশের আযাদী আন্দোলনের অগ্রদূত, শাইখূল আরব ওয়াল আযম সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী (রহঃ) এর সুযোগ্য খলীফা, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবীয়াহ্ বাংলাদেশ এর সম্মানিত চেয়ারম্যান, পাক-ভারত উপমহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীনি বিদ্যানিকেতন, বাংলার ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন বিদ্যাপীঠ, উম্মুল মাদারিস আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মূঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর স্বনামধন্য মহাপরিচালক শাইখূল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (দাঃ বাঃ) বলেন, তাবলীগ একটি অন্যতম জিহাদ।
আর্ন্তজাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাস্সিরে কুরআন, মুনাযেরে যামান, খতীবে আযম, তরজুমানে আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামাআত আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী সাহেব (দাঃ বাঃ) এক বয়ানে বলেন, আমাদের নবী শেষ নবী হওয়ার কারণে তারপরে আর কেউ নবী হবেন না। যেহেতু দাওয়াতে ত
7 টি মন্তব্য