আসসালামু আলাইকুম

আশা করি সকলে অনেক ভালো আছেন। আজকে আবারো আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য নতুন একটি আর্টিকেল নিয়ে হাজির হলাম। আজকে কি নিয়ে আর্টিকেল লেখা তা হয়তো বুঝতেই পারছেন। বর্তমান সময়ে গ্রাফিক ডিজাইনের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব, ব্লগ ইত্যাদি সব জায়গায় এখন ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট দরকার।

কিন্তু সবাই প্রফেশনাল ডিজাইনার নিয়োগ দিতে পারে না বা চায় না। কেননা প্রফেশনালদের প্রথম থেকেই পেমেন্ট বেশি করতে হয়। এখানেই ক্যানভা এর মতো অনলাইন ডিজাইন টুল কাজ করে। Canva একটি ফ্রি এবং সহজ গ্রাফিক ডিজাইন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আপনি পোস্টার, লোগো, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যানার, প্রেজেন্টেশন, বিজনেস কার্ড থেকে শুরু করে প্রিন্টেবল ডিজাইন পর্যন্ত তৈরি করতে পারবেন, শুধু দরকার হবে সামান্য ইডিটিং স্কিল।

তবে এই স্কিল যতটা ভালো হবে আপনার আপনি ঠিক ততোই বেশি সাকসেস হতে পারবেন। ক্যানভা তে তৈরি ডিজাইন গুলো আপনি অনলাইনে বিক্রি করে আয় করতে পারবেন, এমনকি যদি চান আপনার নিজের কোম্পানি বা চ্যানেল বা পেজ ইত্যাদির জন্য নিজেই পছন্দ মতো ডিজাইন করতে পারবেন।

 

Canva কি এবং কেন এটা আয় করার জন্য ভালো প্ল্যাটফর্ম

Canva মূলত একটি গ্রাফিক ডিজাইন টুল। এখানে হাজার হাজার রেডিমেড টেমপ্লেট আছে যেগুলো আপনি নিজের মতো কাস্টমাইজ করতে পারবেন। ফটোশপ বা ইলাস্ট্রেটরের মতো জটিল সফটওয়্যার এর কাজ শিখতে হয় না ক্যানভার কাজ করার জন্য, ফলে নতুনরাও সহজে ডিজাইন বানাতে পারে। এতে Ai এর ও কিছু ফিচার থাকবে যা কাজ আরো সহজ করে তুলবে।

 

 

Canva ফ্রি প্ল্যানেও অনেক কিছু অফার করে, তবে পেইড (Pro) ভার্সনে আরও বাড়তি ফিচার পাওয়া যায়, যেগুলো আরো বেশি ইউজফুল। যেহেতু ক্যানভা তে ডিজাইন তৈরি করা অন্য সকল প্লাটফর্ম থেকে সহজ, তাই সময় কম লাগে এবং আপনি বেশি প্রোজেক্ট করতে পারবেন, যা আয়ের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলবে।

 

Canva দিয়ে কেমন ধরনের ডিজাইন তৈরি করে বিক্রি করা যায়

ক্যানভা তে তৈরি ডিজাইন অনেক জায়গায় বিক্রি করা যায়। কিছু জনপ্রিয় ক্যাটেগরি হলো:

১. সোশ্যাল মিডিয়া: ইনস্টাগ্রাম পোস্ট, ফেসবুক কভার, ইউটিউব থাম্বনেইল ইত্যাদি

২. প্রিন্টেবল ডিজাইন: প্ল্যানার, ক্যালেন্ডার, গিফট কার্ড, ওয়েডিং ইনভাইটেশন ইত্যাদি

৩.মার্কেটিং ম্যাটেরিয়াল: বিজনেস কার্ড, ফ্লায়ার ইত্যাদি

৪.ডিজিটাল প্রোডাক্ট: ই-বুক কভার, প্রেজেন্টেশন টেমপ্লেট ইত্যাদি

৫. লোগো ডিজাইন: ইউটিউব চ্যানল বা ফেসবুক পেজ এর লোগো, কোম্পানির লোগো ইত্যাদি।

এইসব ডিজাইন গুলো অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, শিক্ষক, স্টুডেন্ট এমনকি সাধারণ ব্যবহারকারীরাও কিনে থাকে।

 

Canva ডিজাইন বিক্রি করে আয় করার প্রধান উপায়

প্রথম উপায় হলো ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস। Fiverr, Upwork, Freelancer এর মতো সাইটে আপনি নিজের প্রোফাইল খুলে ডিজাইন সার্ভিস অফার করতে পারেন। এখানে ক্লায়েন্টরা আপনাকে ডিজাইন এর জন্য অফার করলে আপনাকে সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই ভাষাগত দক্ষতাও প্রয়োজন।

দ্বিতীয় উপায় হলো ডিজিটাল মার্কেটপ্লেসে নিজের ডিজাইন আপলোড করা। Etsy, Creative Market, Gumroad-এর মতো প্ল্যাটফর্মে আপনি ডিজিটাল প্রোডাক্ট হিসেবে Canva টেমপ্লেট বিক্রি করতে পারেন।

তৃতীয় উপায় হলো সোশ্যাল মিডিয়া বা নিজের ওয়েবসাইটে ডিজাইন বিক্রি করা। ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বা Shopify স্টোরে আপনি নিজের ব্র্যান্ড তৈরি করে কাস্টম ডিজাইন বিক্রি করতে পারেন।

নিজের একটি ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক পেজ খুলে সেখানে নিজের কাজের টেম্পলেট এর আকর্ষণীয় ছবি শেয়ার করবেন। এতে অডিয়েন্স যদি সেগুলো পছন্দ করে তাহলে আপনার থেকে সেগুলো কিনতে পারে। এটা বর্তমানে বহুল প্রচলিত কেননা সবাই ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ করতে পারে না।

এছাড়াও আরো কিছু প্লাটফর্ম আছে যেখানে আপনি এগুলো সেল করতে পারবেন। তাছাড়া ফেসবুক, ইউটিউব কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সাথে পরিচয় থাকলে আর আপনার কাজের দক্ষতা থাকলে তাদের সাথে কথা বলেও আপনি তাদের গ্রুপে কাজ কর‍তে পারেন।

 

ফ্রি নাকি প্রিমিয়াম Canva ফিচার, কোনটা ব্যবহার করবেন

Canva এর ফ্রি ভার্সনে হাজারো টেমপ্লেট, ফন্ট, এবং কিছু স্টক ফটো পাওয়া যায়, যা দিয়ে শুরু করাই ভালো হবে। কেননা এই কাজে অনেক ধৈর্য লাগে, আজকে কাজ শুরু করলাম আর আজকে থেকেই ইনকাম শুরু হবে এমন না,সময় লাগবে। তাই যারা প্রথমেই টাকা ইনভেস্ট করতে চান না তারা ফ্রি দিয়ে স্টার্ট করবেন।

তবে প্রিমিয়াম (Pro) প্ল্যানে মিলিয়ন মিলিয়ন প্রিমিয়াম টেমপ্লেট, স্টক ফটো, ভিডিও, অ্যানিমেশন, ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভার, এবং কন্টেন্ট প্ল্যানারসহ অনেক বাড়তি সুবিধা থাকে। যদি আপনি নিয়মিত ডিজাইন বিক্রি করতে চান এবং বড় আকারের প্রোডাক্ট লাইব্রেরি বানাতে চান, তাহলে Canva Pro নেওয়া লাভজনক হতে পারে।

 

Canva ডিজাইন করে কত আয় করা সম্ভব

Canva ডিজাইন বিক্রি করে আয়ের পরিমাণ নির্ভর করে আপনার ডিজাইনের মান, মার্কেটিং এবং প্ল্যাটফর্মের ওপর। ফাইভার এ একজন বিগিনার প্রতিটি প্রোজেক্টে ৫-১৫ ডলার পেয়ে থাকে, আর অভিজ্ঞ ডিজাইনাররা ৫০-১০০ ডলার বা তার বেশি চার্জ করে থাকে। তবে এখানে আপনি একজন এর জন্য তৈরি ডিজাইন অন্য ক্লায়েন্ট কে সেল দেওয়ার সুবিধা পাবেন না।

Etsy বা Creative Market-এর মতো প্ল্যাটফর্মে একটি টেমপ্লেট ৫-২০ ডলারে বিক্রি হয়, এবং একবার বানানো টেমপ্লেট যতবার খুশি বিক্রি করা যায়। ফলে এক্সট্রা ইনকাম করার সুযোগও থাকে।

 

সাফল্যের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

প্রথমত, ইউনিক ডিজাইন বানানোর চেষ্টা করুন যাতে মার্কেটপ্লেসে আলাদা করে চোখে পড়ে। দ্বিতীয়ত, প্রোডাক্টের সঠিক বর্ণনা ও কীওয়ার্ড ব্যবহার করুন যাতে সার্চে সহজে আসে। তৃতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রমোশন দিন এবং ক্রেতাদের রিভিউ সংগ্রহ করুন।

এছাড়া Canva-এর নতুন ফিচার ও ডিজাইন ট্রেন্ড শিখতে থাকুন। ডিজাইন স্কিল যত উন্নত হবে, তত বেশি ক্লায়েন্ট এবং বিক্রির সুযোগ পাবেন।

 

শেষকথা

আপনি চাইলেই আজকে থেকে শুরু করে আজকে বা কালকে থেকেই টাকা আয় করতে পারবেন না। যথেষ্ট সময় দিতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম এ একবার যদি দাঁড়িয়ে যেতে পারেন এবং নিজের ধারাবাহিকয়া বজায় রাখেন তাহলে সফল হতে পারবেন। আর সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনি যত বেশি আকর্ষণীয় ডিজাইন নিয়ে আসবেন, যত বেশি এনগেজড হতে পারবেন তত বেশি আয়ের সুযোগ পাবেন।