একটা সময় ছিল যখন ব্যবসাকে শুধুমাত্র ধনী এবং সম্পদশালী মানুষের কাজ হিসেবে চিন্তা করা হতো। গরিব বা মধ্যবিত্তদের কাছে তখন ব্যবসা ছিল স্বপ্নের মতো। ধনীদের তৈরি করা সমাজ ব্যবস্থার কারণে গরিবরা চাইলেও তখন

ব্যবসার কথা চিন্তা করতে পারতো না। তাদের আয়ের একমাত্র উপায় ছিল ক্ষ্যাত খামারে কাজ করা কিংবা কারো বাড়িতে কামলা দেওয়া। তখন ব্যবসার চাইতে এই কাজগুলোই তাদের কাছে সহজ মনে হতো। তখনকার সময়ে ব্যবসা করার জন্য যে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অভিজ্ঞতা কিংবা গাইডলাইনের দরকার হতো তা ছিল সাধারণ মানুষের নাগানের বাহিরে। পরিবারের কেউ ব্যবসায়ী না হলে ব্যবসা করাটা তখন অনেক কঠিন ছিল। কিন্তু বর্তমানে দিন পাল্টেছে সমাজ পরিবর্তন হয়েছে। ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোনের সুবাদে যে কেউ যে কোন তথ্য খুব সহজেই পেয়ে যাচ্ছে।

যার ফলে ধীরে ধীরে সবাই নানা ধরনের ব্যবসা সম্পর্কে জানতে পারছে এবং মানুষ এটা বুঝতে পারছে যে দারিদ্র জীবন থেকে মুক্তি পেতে হলে ব্যবসার কোন বিকল্প নেই। যার জন্য অনেকেই চাই কম পুঁজি দিয়ে ছোটখাট একটা ব্যবসা করার যেন তারা প্রতি মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশের যে অবস্থা চারিদিকে নানা সমস্যা দুর্নীতি আর চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসা করাটা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমি এমন তিনটা ছোট ব্যবসার কথা বলব যে ব্যবসাগুলো বাংলাদেশের যেকোন জায়গা থেকে অল্প পুঁজির মাধ্যমে শুরু করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন। বর্তমানে এই ব্যবসাগুলো যারা করছে তাদের মধ্যে অনেকেই প্রতিমাসে এই পরিমাণ টাকা আয় করতে পারছে এবং এই তিনটি ব্যবসার মধ্যে এমন একটি ব্যবসা রয়েছে যা মাত্র ১৫,০০০ টাকা থেকে ২০, ০০০ টাকা দিয়ে শুরু করতে পারবেন।

তো প্রথম ব্যবসাটি সম্পর্কে বলার আগে আপনারা কেউ কি বলতে পারবেন বিশ্বের যত বড় বড় ব্যবসায়ী রয়েছে তারা কোথা থেকে এত ভালো ভালো ব্যবসার আইডিয়া পায় তারা যে কোন ব্যবসা শুরু করলেই কিভাবে সেই ব্যবসায় সফল হয়ে যায় এর পেছনে একটা রহস্য রয়েছে কয়েকদিন আগে একটা গ্লোবাল বিজনেস রিপোর্টে বলা হয় সারা বিশ্বে যত ব্যবসায়ী রয়েছে তারা সবাই ব্যবসার উন্নতি এবং নতুন ব্যবসা শুরু করার আগে দুইটা বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় প্রথমটা হচ্ছে ক্রস মার্কেট বিজনেস এডপ্টেশন আর দ্বিতীয়টা হচ্ছে ইনল্যান্ড বিজনেস এডপ্টেশন সহজ ভাষায় যদি বলি ক্রস মার্কেট বিজনেস অ্যাডাপ্টেশনের মানে হচ্ছে বিশ্বের কোন একটা দেশের চলমান কোন বিখ্যাত ব্যবসাকে নিজের দেশে এনে প্রচলন বা শুরু করা।

যেমন বিশ্ব বাজারে সর্বপ্রথম ১৯৬০ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিকভাবে পটেটো চিপস বানানো শুরু করে। তারপর তাদের দেখাদেখিকে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো চিপস উৎপাদন করতে থাকে। শুরুর দিকে বাংলাদেশ অন্য দেশ থেকে পটেটো চিপস আমদানি করলেও ১৯৮৫ সালে বোম্বে সুইটস কোম্পানি সর্বপ্রথম বাংলাদেশের রিং চিপস নামে একটি চিপস বানিয়ে বাজারে বিক্রি করা শুরু করে। তেমনিভাবে বাংলাদেশে যত
প্রোডাক্ট রয়েছে যেমনঃ জুস, নুডলস, বিস্কিট, আইসক্রিম, সস এ ধরনের সমস্ত প্যাকেট জাতীয় পণ্য বানানোর আইডিয়া
বাহিরের দেশ থেকেই দাঁড় করা। শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের সকল ব্যবসায়ীরাই এক দেশ থেকে অন্য দেশের ব্যবসাকে কপি করে। তারা দেখে যে কোন দেশের কোন পণ্যটা তাদের দেশের মার্কেটে সবচেয়ে বেশি ভালো চলছে।

তখন তারা সেই পণ্যটাকে কপি করে তাদের দেশে হুবহুবু আরেকটা পণ্য বানিয়ে বিক্রি করা শুরু করে। তেমনি বাংলাদেশের একজন সফল উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী হচ্ছেন রমিজ আক্তার। তিনি ছোটবেলা থেকেই ঢাকাতেই বড় হন। একদিন তার মামার শ্বশুরবাড়ি চাপাই নবাবগঞ্জে বেড়াতে যান। সেখানে যাওয়ার পর সে ওই এলাকার বিখ্যাত খাবার কালোজিরার রুটি খেয়ে তার খুব ভালো লাগে। এই রুটিটির ভিন্নধর্মী স্বাদ এবং ঘ্রাণের জন্য রমিজা প্রথম দিনেই ১০ টিরও বেশি রুটি খেয়ে ফেলেন। তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে এই রুটি বানানো শিখে ঢাকায় এসে তিনি একটা দোকান দিবেন। যে চিন্তা সে অনুযায়ী কাজ শুরু করেন। ঢাকায় এসে তার বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় একটি দোকান খুলে বসেন।

সেখানে সকাল ও বিকালে কালোজিরার রুটির সাথে বিভিন্ন ধরনের ভর্তা ও মাংস দিয়ে বিক্রি করা শুরু করেন। দেখতে দেখতে তার কালোজিরার রুটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বর্তমানে তিনি ঢাকাতে তিনটা দোকানের মালিক। তো রমিজা যেভাবে ব্যবসার আইডিয়াটা পেয়েছে সেটাকে বলা হয় ইনল্যান্ড বিজনেস এডপ্টেশন। মানে নিজের দেশের ভিতরে কোন এলাকা বা জেলার বিখ্যাত কিছু নিয়ে নিজের এলাকায় ব্যবসা করা। এখন আমি যেটা বলতে চাচ্ছি বাংলাদেশের এমন অনেক কিছু রয়েছে যেগুলো বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় খুবই বিখ্যাত। কিছু কিছু এলাকার মানুষ সেই বিখ্যাত জিনিসগুলো নিয়ে ব্যবসা করে ভালো পরিমাণ টাকা আয় করছে। যেমনঃ নাটরের কাঁচাগোল্লা, বগুড়ার দই, টাঙ্গাইলের চমচম, পদ্মার ইলিশ, কক্সবাজারের শুটকি, সুন্দরবনের মধুসহ কিশোরগঞ্জের নানা ধরনের নকশী পিঠা নিয়ে অনেকেই ব্যবসা করছে।

এসব বিখ্যাত খাবারগুলো খাওয়ার জন্য এক এলাকার মানুষ অন্য এলাকায় ছুটে যায়। বাংলাদেশে এরকম আরো অনেক বিখ্যাত খাবার বা জিনিস রয়েছে যেগুলো নিয়ে আপনি আপনার নিজ এলাকায় ব্যবসা শুরু করতে পারেন। কিন্তু কথা হচ্ছে এত কিছুর মধ্যে আপনি কি নিয়ে ব্যবসা শুরু করবেন…?? সহজ এবং ছোট একটা ব্যবসার আইডিয়া দিচ্ছি। আপনারা হয়তোবা অনেকেই জানেন কুষ্টিয়ায় পুরা রুটি এবং মালাই চা অনেক বেশি বিখ্যাত। মানুষ এই পোড়া রুটি এবং মালাই চা খাওয়ার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে বীর করে। প্রতিদিন ঘরে প্রায় ১২০০ পিস পোড়া রুটি এবং ১০০ লিটার দুধের মালাই চা বিক্রি করে কুষ্টিয়ার জাফর ভাই। চিন্তা করুন তিনি একদিনে কি পরিমাণ চা ও রুটি বিক্রি করে। তবে কুষ্টিয়া সর্বপ্রথম আরিফ নামে একজন ব্যক্তি এই পুরা রোটি ও মালাই চা বিক্রি করার প্রচলন শুরু করেন।

তারপর ধীরে ধীরে এই চা বিখ্যাত হতে শুরু করলে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এই চা আর পুরা রোটি খাওয়ার জন্য কুষ্টিয়ায় ছুটে আসে। তারপর জাফর নামে এই ভাই এই পুরা রুটি এবং মালাই চা বিক্রি করা শুরু করেন। বর্তমানে এই জাফর ভাইয়ের দোকানে এই চা খাওয়ার জন্য প্রতিদিন প্রচুর মানুষের লাইন লেগে থাকে। এখানে মূলত ১০০ লিটারদুধকে অনেকক্ষণ ধরে জাল দিয়ে ঘন করে মালাই তৈরি করা হয়। তারপর সেই দুধ দিয়ে চা তৈরি করে তার সাথে পাও রুটির উপর সামান্য মধু এবং চিনির রস মিশিয়ে সেটাকে আগুনে পুড়িয়ে বিক্রি করা হয়। এটার যে কি অপূর্ব স্বাদ এবং ঘ্রাণ যে না খেয়েছেন সে বুঝতে পারবেন না। প্রতিদিন ১২০০ পিস পুরো রুটি এবং ১০০ লিটার দুধের চা বিক্রি করা সামান্য কথা নয়। প্রতি কাপ চায়ের দাম ৩০ টাকা এবং রুটির দাম ২০ টাকা। তাহলে আপনারাই হিসাব করুন তার মাসিক আয় কত দাঁড়াচ্ছে।

জাফর মামার দোকানে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০কেজি দুধের মালায় চা বিক্রি হয়। সরে ভাষা দুধ চা আর চিনি মাখা পোড়া পাুটি বিক্রি করে সাড়া ফেলেছেন কুষ্টিয়ার মোহাম্মদ জাফর। এমন চা আর রুটি খেতে রীতিমত ভিড় লেগে থাকে তার দোকানে। এটা অন্যরকম একটা ব্যাপার ভাই। অনুভূতিটা অন্যরকম। স্বাদটা ভিন্নধর একটা স্বাদ। বর্তমান সময়ে ঢাকাতেও এটার প্রচলন শুরু হয়েছে। মিরপুরে পুরোপুরি কুষ্টিয়ার আদলে
এই পুরো রুটি এবং মালাই চা বিক্রি করা হচ্ছে। মাত্র এক মাস সময়ের মধ্যে মিরপুরে এটা এতটাই জনপ্রিয় হয় যে তারা দিনে ৯০ লিটার দুধ এবং ১০০০ পিস রুটি বিক্রি করতে পারছে। আপনি যদি এই দোকানের সামনে দিয়ে হেঁটে যান তাহলে এটার ঘ্রাণ আপনাকে আকৃষ্ট করবে খাওয়ার জন্য। বর্তমানে এটা শুধু
ঢাকার মিরপুরে নয় যাত্রাবাড়ী, উত্তরা সহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে।

তো যারা মূলত বেকার রয়েছেন বা ব্যবসা করার কথা ভাবছেন তারা এই ব্যবসাটির কথা ভাবতে পারেন। এই ধরনের একটা ফুড কার্ড দিয়ে যেকোনো পার্ক অথবা সরকারি কোন প্রতিষ্ঠানের সামনে যেমনঃ কোর্ট, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, রেজিস্ট্রি অফিস কিংবা যেকোন ব্যস্ততম এলাকার পাশে যদি একটা টিস্টল খুলতে পারেন তাহলে আমার মনে হয় সেটা কুষ্টিয়া বা ঢাকার মিরপুরের মতোই ধীরে ধীরে আপনার এলাকাতে জনপ্রিয় হবে। কারণ ভালো খাবারের কদর সব জায়গাতেই সমান। সেটা হোক কুষ্টিয়া কিংবা বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে। তবে এটা নির্ভর করবে আপনি কতটুকু কোয়ালিটি সম্পন্ন চা এবং রুটি তৈরি করতে পারছেন তার উপর। হুট করে শুরু করেই ১২০০ পিস রুটি এবং ১০০০ লিটার এ চা বিক্রি করতে পারবেন না।

এটার জন্য ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে হবে। তো ব্যবসাটি শুরু করার জন্য তেমন বেশি পুঁজির প্রয়োজন নেই। এই ধরনের একটা ফুড কার্ড বা টিস্টল কেনার জন্য ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা সামান্য ১০ থেকে ২০ লিটার দুধ আর পাও রুটি কেনার মত টাকা থাকলেই হবে। এছাড়া হালকা পাতলা আরো কিছু খরচ রয়েছে। তো সব মিলিয়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যেই হয়ে যাবে। কিন্তু যদি কোন স্থায়ী দোকান নেন তাহলে একটু বেশি লাগতে পারে। কারণ স্থায়ী দোকানগুলোতে সিকিউরিটি বাবত কিছু টাকা দিতে হয়। তো অল্প পরিসরে শুরু করে পরবর্তীতে জনপ্রিয়তা এবং মানুষের চাহিদা বাড়লে ধীরে ধীরে পুঁজির পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারবেন। তবে এটা শুরু করার আগে যারা অলরেডি এই ব্যবসাটা করছে তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিলে বেশি ভালো হয়। কারণ আমি মনে করি কোন একটা ব্যবসা শুরু করার আগে সেই ব্যবসার আদ্যপান্ত সমস্ত কিছু জেনে নেওয়া উচিত।

পৃথিবীর প্রত্যেকটা ব্যবসায় লাভ এবং লস দুইটাই আছে। তো যদি আপনি তাদের সাথে কথা বলেন তাহলে তাদের দুই-তিন বছরের অভিজ্ঞতার জ্ঞান আপনি একদিনে জানতে পারবেন। তখন সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করে ব্যবসাটা শুরু করলে আমার মনে হয় ভালো হবে। তো তাদের সাথে যোগাযোগ করার ঠিকানা আপনি ইন্টারনেট থেকে খুঁজে পেতে পারেন।। এছাড়াও আপনার যদি এই ব্যবসাটি ভালো না লাগে তাহলে বাংলাদেশের যেকোন বিখ্যাত কিছু নিয়ে কাজ করতে পারেন। Google এ যদি সার্চ করেন বাংলাদেশের বিখ্যাত খাবারগুলো কি কি তাহলে জেলার নাম সহ কি কি খাবার রয়েছে সেগুলো চলে আসবে। তখন তা দেখে একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারবেন যে আপনার কোন বিষয় নিয়ে ব্যবসা করা উচিত। এবার দ্বিতীয় ব্যবসা
সম্পর্কে বলার আগে যদি বলি যে নবম শ্রেণীর একটা ছাত্রের পক্ষে কি এটা সম্ভব যে সে সকালে ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যায়। স্কুলের সমস্ত ক্লাসগুলো শেষ করে বিকাল ৪:০০ টার দিকে সে বাড়ি ফিরে আসে। তারপর তার মার সহযোগিতায় একটা কাজ করে। সেই কাজ শেষ করে সন্ধ্যার দিকে সে পড়তে বসে।

তো আপনার কি মনে হয় এরকম একটা ছেলের পক্ষে মাসে একলাখ টাকা আয় করা কি সম্ভব…? আমাদের কাছে সম্ভব মনে না হলেও এটা সম্ভব করেছে সুরজ বিশ্বাস। বাংলাদেশ প্রতিদিন এবং সময় টিভি নিউজে বলা হয় মানিকগঞ্জের ১৪ বছরের কিশোর সুরুজ বিশ্বাস কোয়েল পাখি পালন করে মাসে আয় করছে এক লাখ টাকা। দুই বছর আগে YouTube এ কোয়েল পাখি পালন করা দেখে শখের বসে ৫০০টি কোয়েল পাখিকে কিনে আনে। কিছুদিন লালন-পালন করার পর সে বুঝতে পারে কোয়েল পাখি পালন করলে লাভ আছে। সেই চিন্তা থেকে সুরোজ বিভিন্ন খামারির সাথে কথা বলে তাদের কাছ থেকে একদিনের ছোট বাচ্চা কিনে আনে।

তারপর এক মাস সেই বাচ্চাগুলো লালন-পালন করে দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্যান্য খামারির কাছে তা বিক্রি করে। আর এটা থেকেই শুরু হয় সুরুজের বাণিজ্যিকভাবে কোয়েল পাখি পালন করার যাত্রা। মাত্র ১৪ বছর বয়স সুরুজের পড়ছেন নবম শ্রেণীতে। এই বয়সেই তার মাসে আয় লাখের ঘরে। বাড়িতেই পালন করছেন কোয়েল। আর এই কোয়েল বিক্রি করেই মাস শেষে বেশ ভালো আয় করছেন সে। বর্তমানে তার ব্যবসা এতটাই বড় হয়েছে যে কুরিয়ারের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৬৪ টিজেলায় সুরুজের কোয়েল পাখি বিক্রি হচ্ছে। এতে চাপ বাড়ার কারণে ১২,০০০ টাকা দিয়ে একজন কর্মচারী রেখেছে। সুরুজ যখন স্কুলে যায় তখন তিনি পাখিগুলো দেখাশোনা করেন। শুধু সুরুজ নয় এরকম শত শত মানুষ রয়েছে যারা কোয়েল পাখি পালন করে বর্তমানে একজন সফল ব্যবসায়ী হয়েছেন।

আপনারা YouTube এবং অনলাইনে খোঁজখবর নিলেই দেখতে পারবেন যে অনেকেই প্রতি বছরে কোয়েল পাখি বিক্রি করে কি পরিমাণ টাকা আয় করছে। সরকারি চাকরি ছেড়ে কোয়েল পাখির খামার গড়েছেন শহিদুল ইসলাম শহীদ। সোনার হরিণ সরকারি চাকরির মায়া ছেড়ে আসা শহীদ বছরে বিক্রি করেন চার কোটি টাকার কোয়েল পাখি ডিম ও বাচ্চা। খামার শুরু করার আগে এটা নিয়ে টেনশন করতাম যে এত কোয়েল পাখি কোথায় বিক্রি করবো? কোয়েল পাখির ডিম কিভাবে বিক্রি করবো? বর্তমান এত পরিমাণে বাচ্চা উৎপাদন করার পরেও আপনাদের চাহিদা পূরণ করতে আমরা ব্যর্থ। তবে আপনি তাদের মত শুরু করলেই যে সফল হয়ে যাবেন বিষয়টা এমন নয়। কারণ এখানে একটা অভিজ্ঞতার বিষয় রয়েছে।

কোন জাতের কোয়েল পাখি বেশি ভালো, কোন কোয়েল বেশি ডিম দেয় কিংবা কোন জাতের কোয়েলের রোগবালায় আক্রান্ত কম হয় সেই সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। আর এই সকল অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হলে একেবারেই ছোট থেকে শুরু করতে হবে। সুরুজ ৫০) টি কোয়েল পাখি দিয়ে শুরু করলেও আমি বলব যদি আপনারা কেউ এই ব্যবসাটি করতে চান তাহলে ৫০ টি কোয়েল পাখি দিয়ে শুরু করুন। একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন একদিনে কোন ব্যবসায় সফল হওয়া যায় না। সুরুজের আড়াই বছর সময় লেগেছে এই পর্যায়ে আসতে।

তো কোয়েল পাখি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য সেবা এগ্রো নামে একটা YouTube চ্যানেল রয়েছে। ওই চ্যানেলের ভিডিওগুলো চাইলে দেখতে পারেন। ওই ছেলেটি কোয়েল পাখি পালন সম্পর্কে সঠিক ইনফরমেশন গুলো তার YouTube এর ভিডিওতে দিয়েছে। এছাড়াও YouTube এ কোয়েল পাখি পালন নিয়ে আরো অনেক ভিডিও রয়েছে। সেগুলো সার্চ করলেই আপনারা দেখতে পারবেন। যখন YouTube থেকে এই সকল ভিডিওগুলো দেখবেন তখন আপনার এই কোয়েল পাখি সম্পর্কে নলেজ বাড়বে এবং শুরু করার আগে কিছুটা হলে অভিজ্ঞতা আপনি অর্জন করতে পারবেন। তবে এইসব ভিডিও দেখার ক্ষেত্রে একটু সাবধান থাকবেন। কারণ দেখা যায় অনেকে YouTube এ ভিডিও বানিয়ে তারা সেই কোয়েল পাখিগুলো বিক্রি করছে কিন্তু আপনারা যাচাই বাচাই না করে সেই পাখিগুলো কিনতে যাবেন না যে কোন জায়গা থেকে আপনারা পাখি কিনবেন সশরীরে যাবেন দেখবেন তারপর যাচাই বাচাই করে ভালো মানের পাখিগুলো কিনে নিয়ে আসবেন।

আমার মনে হয় আপনারা এই কোয়েল পাখি পালনের ব্যবসাটি ১০০ টাকা পুঁজি হলেই করা শুরু করতে পারবেন পরবর্তীতে আপনার অভিজ্ঞতা এবং ভালো লাগা থেকে আস্তে আস্তে ধীরে ধীরে এটা বড় করতে পারবেন এবার আসেন তৃতীয় ব্যবসাটি সম্পর্কে বলি আমাদের মধ্যে অনেকে আছে যারা চাকরি কিংবা অন্য কোন কাজের পাশাপাশি ব্যবসা করতে চান যেন
প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা একটাএক্সট্রা ইনকাম করতে পারেন। তাদের জন্য অল্প পুঁজি এই ব্যবসাটি খুব কাজে আসবে। তবে এটা বাস্তব এবং সত্য কথা যারা ছোট ব্যবসাগুলোকে ছোট বলে এভয়েড করে কিংবা গুরুত্ব দিতে চায় না তারা ব্যবসায় তেমন ভালো করতে পারে না। তাইতো এই পৃথিবীতে যত বড় বড় ব্যবসায়ী রয়েছে তাদের ব্যবসার শুরুটা হয়েছিল ছোট কোন একটা ব্যবসা দিয়ে।

আর আমাদের মধ্যে যারা ছোট ব্যবসাগুলোর গুরুত্ব বুঝে তারা ঠিকই ভালো পরিমাণ টাকা আয় করে নিচ্ছে। যেমনঃ এই আব্দুল হাকিম চাচা। তিনি প্রতিদিন বিকাল ৪:০০ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত জনসংখ্যা পূর্ণ জায়গায় বসে চিংড়ি মাছের বড়া বিক্রি করেন। তিনি প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পিস ৫ টাকা দামের চিংড়ি মাছের বড়া বিক্রি করতে পারেন। এছাড়াও ১৫০ থেকে ২০০ পিস ডিমের বড়া যার দাম 10 টাকা এবং ২০ টাকা দামের এই ধরনের ৩০ থেকে ৪০ টা স্যান্ডউইচ বিক্রি করতে পারেন। তো সব মিলিয়ে তার প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার কেনাবেচা হয়। চাচার মতে এখানে তার আড়াই থেকে ৩০০০ টাকা খরচ হয়। আর বাকিটা তার প্রফিট। এছাড়াও আরো অনেকেই এই ধরনের চিংড়ি মাছের বড়ার সাথে আরো অনেক কিছু বিক্রি করে।

তারা বলছে প্রতিদিন তারা চার থেকে ৫ হাজার টাকা সেল করতে পারে। ডিমের চপ, রসুনের চপএই খাবারগুলোর বর্তমানে জনপ্রিয়তা কেমন তা আপনারা সবাই জানেন। ঢাকা সহ বিভিন্ন ব্যস্ততম এলাকায় এই ধরনের খাবারগুলো বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে এবং আপনারা যারা দেখছেন তারা অনেকেই হয়তোবা এই চিংড়ি মাছের বড়া খেয়েও থাকবেন। এই ব্যবসায় সারা বছর কমবেশি আয় হলেও শীতের সময় ওয়াজ মাহফিলগুলো যখন চলে তখন কেনাবেচারা তুলনামূলক বেশি হয়। আব্দুল চাচা তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বলেছেন শীতের সময় যদি কোন বড় মাহফিল হয় তাহলে আট থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত সেল করতে পারেন। তবে সবাই যে করতে পারবে বিষয়টা এমন নয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে খাবারের কোয়ালিটি এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা। আপনি এই ধরনের খাবার যখন বিক্রি করবেন তখন সেগুলো অবশ্যই মজাদার, মুখরোচক এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। না হলে বানাবেন ঠিকই কিন্তু বিক্রি করতে পারবেন না।

শীতে তিন থেকে চার মাস সময়টা তাদের খুব ভালো যায়। বছরে অন্যান্য সময় বিক্রি হলেও শীতের সময় তাদের বেচা কেনাটা একটু বেশি হয়। তো এই ধরনের একটা ব্যবসা করার জন্য ছোটখাটো একটা ব্যান্ড রান্না করার জন্য একটা স্টোক তেল এবং এগুলো বানানোর জন্য যা যা লাগে সেগুলো মিলিয়ে আমার মনে হয় এখানে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পুঁজি হলেই সবকিছু কমপ্লিট হয়ে যাবে এই চাচার মতো যদি প্রতিদিন ৩০০০ টাকাও বিক্রি করা যায় তাহলে সবকিছু বাদে ১০০০ টাকা হাতে থাকবে চিন্তা করে দেখুন ১০ থেকে ২০,০০০ টাকা পুঁজি দিয়ে বর্তমান সময়ে এর থেকেভালো কোন ব্যবসা খুঁজে পাবেন কিনা তবে শুরুতে এত পরিমাণ বড়া বিক্রি নাও হতে পারে কারণ ব্যবসায় পরিচিতির একটা বিষয় রয়েছে যখন আপনি ব্যবসাটা শুরু করবেন তখন বেচা কেনা একটু কম হবে।

যদি আপনি খাবারের মান খুব ভালো করেন এবং বড়াগুলো খেতে অন্যদের থেকে একটু আলাদা এবং সুস্বাধ হয় তাহলে আশা করা যায় খুব তাড়াতাড়ি যে কেউ এই ব্যবসায় জনপ্রিয়তা পাবে। যদি আপনি এই ব্যবসাটা করতে চান তাহলে ঠান্ডা মাথায় একটা সুষ্ঠ পরিকল্পনা করতে পারেন। কোন লোকেশন বা কোন জায়গায় এই ব্যবসাটা করলে বেশি ভালো হবে। সেখানে লোকজনের পরিমাণ কেমন সেই জায়গাটায় কাস্টমার এই ধরনের খাবারগুলো পছন্দ করবে কিনা তা আপনাকে যাচাই বাচাই করতে হবে। তবে মনে রাখবেন যেকোনো ব্যবসায় সফল হওয়ার জন্য সুষ্ঠ পরিকল্পনা, সঠিক লোকেশন এবং কাস্টমারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য বা খাবার তৈরি করা খুব জরুরি। না হলে ব্যবসায় সফল হওয়া অনেক কঠিন।

তাই যেকোনো ব্যবসা শুরু করার আগে প্রথমে যাচাই বাছাই করুন। সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। বাজারের পরিস্থিতি বুঝুন তারপর ব্যবসা শুরু করবেন। তো যাই হোক আজকের ব্যবসা সম্পর্কিত আর্টিকেল এই পর্যন্তই। আর্টিকেলটি কেমন লাগলো কমেন্টে জানাতে পারেন। যদি ভালো লাগে
তাহলে একটা লাইক দিন।