আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই আশাকরি সবাই ভাল আছেন, আপনাদের দোয়ায় আমিও ভালো আছি,

আজকে আবারও নতুন পোস্ট নিয়ে হাজির হলাম আপনাদের মাঝে আমি, আসিফ।

আপনি কি চান ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা নিজের ব্যক্তিগত তথ্য যতটা সম্ভব সরিয়ে ফেলতে? অনেকের কাছে অনলাইনে পরিচিতি থাকা ভালো লাগলেও, অনেকেই আবার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে চান। যদিও ইন্টারনেট থেকে নিজের সব তথ্য শতভাগ মুছে ফেলা সব সময় সম্ভব নয়, তবুও বেশিরভাগ ব্যক্তিগত তথ্য সরিয়ে ফেলার সুযোগ রয়েছে।

ইন্টারনেট থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সরানোর জন্য যা করবেন

  • প্রথমে গুগলে নিজের নাম বা তথ্য খুঁজে দেখুন এবং যেসব তথ্য মুছে ফেলার সুযোগ আছে, সেগুলো অপসারণের উদ্যোগ নিন।
  • আপনার ব্যবহৃত সোশ্যাল মিডিয়া, গেমিং প্ল্যাটফর্ম, ব্লগ বা অন্যান্য অনলাইন অ্যাকাউন্ট আর প্রয়োজন না হলে সেগুলো স্থায়ীভাবে মুছে দিন।
  • যেসব ওয়েবসাইট ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করে, সেখানে নিজের তথ্য খুঁজে বের করে তা অপসারণের অনুরোধ জানান।
  • যদি কোনো অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলার সুযোগ না থাকে, তাহলে সেখানে লগ ইন করে আপনার নাম, ছবি, যোগাযোগের তথ্যসহ সব ব্যক্তিগত তথ্য যতটা সম্ভব সরিয়ে দিন।

১. ইন্টারনেটে আপনার সম্পর্কে কী তথ্য আছে, আগে সেটি খুঁজে দেখুন

ইন্টারনেট থেকে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য সরানোর আগে জানতে হবে, আপনার সম্পর্কে অনলাইনে কী কী তথ্য প্রকাশিত আছে। একবার তথ্যগুলো খুঁজে বের করতে পারলে, সেগুলো মুছে ফেলার কাজও অনেক সহজ হবে।

  • গুগলে নিজের নাম লিখে খুঁজুন। আরও নির্ভুল ফলাফল পেতে নিজের নাম উদ্ধৃতি চিহ্ন (” “) দিয়ে সার্চ করুন। যদি আপনার নাম অনেকের সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে নামের সঙ্গে আপনার শহরের নাম বা পেশা যোগ করে খুঁজতে পারেন। যেসব ওয়েবসাইটে আপনার তথ্য দেখা যায়, সেগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে রাখুন।
  • People Search ধরনের ওয়েবসাইটে নিজের তথ্য আছে কি না দেখুন। এসব সাইটে অনেক সময় আপনার নামের পাশাপাশি ফোন নম্বর, ঠিকানা, কর্মস্থল বা পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কেও তথ্য প্রকাশিত থাকতে পারে। নিজের তথ্য পেলে তা অপসারণের ব্যবস্থা নিন।
  • সোশ্যাল মিডিয়ার গোপনীয়তা (Privacy) সেটিংস পরীক্ষা করুন। Facebook, Instagram, TikTok বা অন্য যেকোনো প্ল্যাটফর্মে আপনি যা শেয়ার করেছেন, তার সবকিছু সবার জন্য উন্মুক্ত আছে কি না তা দেখে নিন। প্রয়োজন হলে Privacy Settings পরিবর্তন করে শুধু আপনার পছন্দের ব্যক্তিদের জন্য তথ্য দৃশ্যমান রাখুন।

২. Google থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সরানোর অনুরোধ করুন

আপনি যদি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)-এর কোনো দেশের নাগরিক হন, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে Google-এর সার্চ ফলাফল থেকে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সরিয়ে দেওয়ার আবেদন করতে পারেন। এজন্য নিচের লিংকে গিয়ে নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করতে হবে।

লিংক: https://reportcontent.google.com/forms/rtbf

এছাড়া, আপনি যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থাকেন, তবুও কিছু ক্ষেত্রে Google-এর সার্চ ফলাফল থেকে পুরোনো তথ্য সরানোর অনুরোধ করা যায়। তবে এর জন্য আগে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে সেই তথ্য মুছে ফেলতে হবে বা এমনভাবে সংশোধন করতে হবে, যাতে Google-এ দেখানো তথ্যটি আর সঠিক না থাকে।

এই ধরনের অনুরোধ করার জন্য নিচের লিংকটি ব্যবহার করতে পারেন।

লিংক: https://www.google.com/webmasters/tools/removals?pli=1

আপনি ধাপে ধাপে নিজের তথ্য বিভিন্ন জায়গা থেকে সরিয়ে ফেললে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে Google-এর সার্চ ফলাফল থেকেও সেগুলো কমে যেতে পারে। তবে যদি অন্য কোনো ওয়েবসাইটে সেই তথ্য সংরক্ষিত থাকে, তাহলে সেগুলো আলাদাভাবে সরানোর প্রয়োজন হতে পারে।

৩. অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার আগে ভালোভাবে ভাবুন

কোনো অনলাইন অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার আগে একবার ভালোভাবে চিন্তা করুন। কারণ একবার অ্যাকাউন্ট ডিলিট করলে অনেক ক্ষেত্রেই সেটি আগের মতো ফিরিয়ে আনা যায় না। এতে আপনার সংরক্ষিত তথ্য, পুরোনো পোস্ট, ছবি বা অনলাইনে তৈরি করা পরিচিতিও হারিয়ে যেতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে একই নামে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগও নাও থাকতে পারে।

যদি সমস্যার মূল কারণ শুধু আপনার অনলাইন পরিচয় বা ইমেইল হয়, তাহলে পুরো অ্যাকাউন্ট মুছে না দিয়ে অন্য সমাধানও বেছে নিতে পারেন। যেমন, ব্যক্তিগত কাজের জন্য একটি ইমেইল ব্যবহার করে পেশাগত কাজের জন্য আলাদা একটি নতুন ইমেইল ব্যবহার করা যেতে পারে।

আবার, যদি কোনো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে শুধু পুরোনো পোস্ট নিয়ে সমস্যা থাকে, তাহলে পুরো অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার পরিবর্তে সেই পোস্টগুলো আলাদাভাবে সরিয়ে দেওয়াও একটি ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে।

আর যদি ইন্টারনেটে আপনার সম্পর্কে ভুল, বিভ্রান্তিকর বা মানহানিকর কোনো তথ্য প্রকাশিত থাকে, তাহলে বিষয়টি সমাধানের জন্য একজন অভিজ্ঞ আইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

৪. অপ্রয়োজনীয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন

ইন্টারনেটে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো যেসব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট আর ব্যবহার করেন না, সেগুলো স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা। বেশিরভাগ মানুষ প্রথমে এসব প্ল্যাটফর্মেই কারও সম্পর্কে তথ্য খোঁজেন। তাই এখান থেকে তথ্য সরানো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

অনেক বছর ধরে ব্যবহার করতে করতে আপনি হয়তো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একাধিক অ্যাকাউন্ট খুলেছেন, যার সবগুলো এখন আর মনে নাও থাকতে পারে। তাই প্রথমে সবচেয়ে পরিচিত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো মুছে ফেলার কাজ শুরু করুন।

  • Facebook অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।
  • Instagram অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।
  • X (Twitter) অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।
  • YouTube অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।
  • LinkedIn অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।
  • Twitch অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।
  • TikTok অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।
  • Foursquare অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।

এছাড়াও, Ning বা বিভিন্ন ব্যক্তিগত ফোরামের মতো কম পরিচিত ওয়েবসাইটে যদি আপনার কোনো অ্যাকাউন্ট থাকে, সেগুলোর বিষয়েও খোঁজ নিন। যদি কোনো ফোরামে নিজে থেকে অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার সুযোগ না থাকে, তাহলে সেখানে থাকা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে আপনার অ্যাকাউন্ট বা পোস্ট মুছে দেওয়ার অনুরোধ করতে পারেন।

৫. অপ্রয়োজনীয় গেমিং অ্যাকাউন্টও মুছে ফেলুন

আপনি যদি আগে বিভিন্ন অনলাইন গেম বা গেমিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে থাকেন এবং এখন আর সেগুলো ব্যবহার না করেন, তাহলে সেই অ্যাকাউন্টগুলোও মুছে ফেলুন। এতে ইন্টারনেটে আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের উপস্থিতি আরও কমে যাবে।

প্রয়োজন অনুযায়ী নিচের গেমিং অ্যাকাউন্টগুলো স্থায়ীভাবে মুছে দিতে পারেন।

  • Minecraft অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।
  • Steam অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।
  • Roblox অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।
  • Epic Games অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।

৬. নিজের ওয়েবসাইট বা ব্লগ মুছে ফেলুন

আপনার নামে যদি কোনো ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট বা ব্লগ থাকে এবং সেটি আর ব্যবহার করার পরিকল্পনা না থাকে, তাহলে সেখানে থাকা সব কনটেন্ট মুছে দিয়ে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিন। এতে ইন্টারনেটে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য আরও কমে যাবে।

  • Blogger, Tumblr, WordPress, Medium বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে ব্লগ থাকলে, প্রথমে সব পোস্ট ও তথ্য মুছে ফেলুন। এরপর অ্যাকাউন্টটি স্থায়ীভাবে ডিলিট করুন।
  • যদি আপনি কোনো পেইড হোস্টিং ব্যবহার করে ওয়েবসাইট চালিয়ে থাকেন, তাহলে সেই হোস্টিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ এবং ওয়েবসাইট অপসারণের অনুরোধ করুন।
  • আপনার ওয়েবসাইট আগে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলে, সেটির পুরোনো কপি ইন্টারনেট আর্কাইভে সংরক্ষিত থাকতে পারে। প্রয়োজনে [email protected] ঠিকানায় যোগাযোগ করে সেটি অপসারণের অনুরোধ জানাতে পারেন।
  • আপনার ওয়েবসাইটের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞাপন সেবা, পরিসংখ্যান পর্যবেক্ষণ টুল বা তৃতীয় পক্ষের প্লাগইনের অ্যাকাউন্ট থাকলে, সেগুলোও মুছে ফেলতে ভুলবেন না।
  • যদি কোনো অনলাইন প্রকাশনা বা কনটেন্ট প্রকাশের ওয়েবসাইটে আপনার লেখা প্রকাশিত হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেই লেখাগুলো সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করতে পারেন।
  • আবার যদি অন্য কোনো ব্লগ বা ওয়েবসাইট আপনার লেখা পুনরায় প্রকাশ করে থাকে, তাহলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আপনার নাম এবং প্রকাশিত কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ জানান।

৭. ডেটিং অ্যাকাউন্ট ও অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন বন্ধ করুন

আপনি যদি আগে কোনো অনলাইন ডেটিং সাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে সেসব অ্যাকাউন্টও স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার বিষয়টি বিবেচনা করুন। অনেক সময় এসব অ্যাকাউন্টে আপনার নাম না থাকলেও, ইমেইল, ফোন নম্বর বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের সঙ্গে সেগুলো যুক্ত থাকে।

প্রয়োজন অনুযায়ী নিচের ডেটিং প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যাকাউন্ট মুছে দিতে পারেন।

  • Tinder অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।
  • Hinge অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।
  • OKCupid অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।
  • eHarmony অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।
  • MeetMe অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।
  • Zoosk অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।
  • Ashley Madison অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।

এছাড়া, যেসব অনলাইন সেবার সাবস্ক্রিপশন আর ব্যবহার করছেন না, সেগুলোও বাতিল করে দিন। এতে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অপ্রয়োজনীয়ভাবে সংরক্ষিত থাকার সম্ভাবনা কমে যাবে।

 

 

৮. কেনাকাটা ও অনলাইন পেমেন্টের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন

আপনি যদি বিভিন্ন অনলাইন শপিং বা পেমেন্ট সেবা ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে প্রয়োজন না থাকলে সেসব অ্যাকাউন্টও স্থায়ীভাবে মুছে দিন। অনেক ক্ষেত্রে এসব প্ল্যাটফর্মে থাকা আপনার প্রোফাইলের কিছু তথ্য অন্য ব্যবহারকারীরা দেখতে পারে, এমনকি সার্চ ইঞ্জিনেও সেগুলো দেখা যেতে পারে।

প্রয়োজন অনুযায়ী নিচের অ্যাকাউন্টগুলো মুছে ফেলতে পারেন।

  • Amazon অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।
  • eBay অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।
  • Venmo অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।
  • PayPal অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।
  • Square অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন।

এছাড়াও, স্থানীয় অনলাইন বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম, Craigslist অ্যাকাউন্ট, Etsy প্রোফাইল বা এ ধরনের অন্য যেসব কেনাকাটা ও লেনদেনের সেবা আর ব্যবহার করছেন না, সেগুলোর অ্যাকাউন্ট এবং সাবস্ক্রিপশনও বাতিল করে দিন।

৯. ডেটা ব্রোকার ওয়েবসাইট থেকে নিজের তথ্য সরিয়ে ফেলুন

আপনার বয়স যদি ১৮ বছর বা তার বেশি হয়, তাহলে বিভিন্ন ডেটা ব্রোকার বা ব্যক্তি-অনুসন্ধান ওয়েবসাইটে আপনার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব ওয়েবসাইট বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করে, যা অনেক সময় সাধারণ মানুষও দেখতে পারে।

ভালো বিষয় হলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনি এসব ওয়েবসাইট থেকে নিজের তথ্য অপসারণের অনুরোধ করতে পারেন। তবে প্রতিটি ওয়েবসাইটে আলাদাভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

নিচের জনপ্রিয় ডেটা ব্রোকার ওয়েবসাইটগুলোতে নিজের তথ্য খুঁজে প্রয়োজনে অপসারণের আবেদন করতে পারেন।

  • CheckPeople
  • FastPeopleSearch
  • FamilyTreeNow
  • Spokeo

 

১০. যেসব অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা যায় না, সেগুলো নিরাপদ করুন

সব ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার সুবিধা থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে শুধু ডিঅ্যাক্টিভেট করার সুযোগ দেওয়া হয়, ফলে আপনার কিছু তথ্য তাদের সিস্টেমে থেকে যেতে পারে। যদি কোনো বিশেষ কারণে অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণ মুছে ফেলা জরুরি হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহায়তা দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানান।

যদি তাতেও সমাধান না হয়, তাহলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন।

    • অ্যাকাউন্টে লগ ইন করে যতটা সম্ভব ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলুন। যেসব তথ্য ফাঁকা রাখা যায় না, সেখানে নিজের আসল তথ্যের পরিবর্তে স্পষ্টভাবে কাল্পনিক নাম ব্যবহার করুন। তবে প্রতিটি অ্যাকাউন্টে আলাদা আলাদা তথ্য ব্যবহার করুন, যাতে একটির সঙ্গে আরেকটি মিলিয়ে শনাক্ত করা না যায়।
    • একটি নতুন ইমেইল ঠিকানা তৈরি করুন। এমন একটি বিনামূল্যের ইমেইল ব্যবহার করুন, যেখানে আপনার নাম বা পরিচয় বোঝার মতো কোনো তথ্য থাকবে না।
    • নতুন ইমেইলটি অ্যাকাউন্টে যুক্ত করুন। এরপর নিশ্চিত করুন যে আপনার আগের আসল ইমেইল ঠিকানাটি ওই অ্যাকাউন্টে আর কোথাও সংরক্ষিত বা দৃশ্যমান নেই।

১১. প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তা নিন

যদি নিজের চেষ্টা করেও ইন্টারনেট থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সরাতে না পারেন, অথবা পুরো প্রক্রিয়াটি আপনার কাছে খুব জটিল মনে হয়, তাহলে এ ধরনের কাজ করে এমন পেশাদার সেবার সাহায্য নিতে পারেন।

অবশ্য এসব সেবা সাধারণত বিনামূল্যে পাওয়া যায় না। তবে যদি আপনার ব্যক্তিগত তথ্য দ্রুত ও গুরুত্বের সঙ্গে অপসারণ করা প্রয়োজন হয়, তাহলে এই খরচ করা যুক্তিযুক্ত হতে পারে।

সেবা নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই যাচাই করুন।

  • তারা যেন সাধারণ ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ডিপ ওয়েব থেকেও তথ্য অপসারণে সহায়তা করতে পারে।
  • বিভিন্ন ডেটা সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের কাজ করার অভিজ্ঞতা বা ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা দেখে নিন।
  • প্রতিষ্ঠানটির সম্পর্কে অন্য ব্যবহারকারীদের মতামত ও রিভিউ ভালো কি না, সেটিও যাচাই করুন।

সবাইকে ধন্যবাদ, আপনার একটি সুন্দর মন্তব্য পরবর্তী পোস্ট লিখতে অনুপ্রেরণা যোগায়। আজকের মতো এখানেই বিদায় নিলাম, হাজির হবো আরও নিত্য নতুন টিপস নিয়ে আমি আসিফ। আল্লাহ হাফেজ.