নতুন ফোন কিনে পুরনোটা বিক্রি বা কাউকে দিয়ে দেওয়ার প্ল্যান করছেন? এক মিনিট দাঁড়ান। শুধু ফ্যাক্টরি রিসেট দিলেই কাজ শেষ — এটা ভাবলে ভুল করবেন। ছবি, চ্যাট, ব্যাংকিং অ্যাপের তথ্য — সব ঠিকঠাক না সরালে পরে পস্তাতে হতে পারে। আমি নিজে একবার তাড়াহুড়ো করে রিসেট দিয়ে দিয়েছিলাম, পরে মনে পড়ল WhatsApp-এর ব্যাকআপ নেওয়া হয়নি। সেই থেকে এই চেকলিস্টটা মেনে চলি:
১. ব্যাকআপ নিন আগে
Google Photos বা Drive-এ ছবি-ভিডিও তুলে রাখুন। WhatsApp-এর চ্যাট আলাদা করে ব্যাকআপ নিন — Google-এর সাধারণ ব্যাকআপে অনেক সময় চ্যাট ঠিকমতো আসে না। আর সবচেয়ে জরুরি: 2FA (টু-ফ্যাক্টর) কোডগুলো নতুন ফোনে ট্রান্সফার করুন। এটা ভুলে গেলে অনেক অ্যাকাউন্টে আর ঢুকতেই পারবেন না।
২. Google অ্যাকাউন্ট আগে রিমুভ করুন
Settings → Accounts থেকে Google অ্যাকাউন্টটা সরিয়ে দিন। এটা না করে রিসেট দিলে Factory Reset Protection লক চালু হয়ে যাবে — তখন ক্রেতা ফোনটা ব্যবহারই করতে পারবে না, আপনার অ্যাকাউন্টে সাইন-ইন চাইবে।
৩. SIM আর মেমোরি কার্ড বের করুন
এগুলো রিসেটে মুছে না — হাতে করে বের করে নিন।
৪. ফ্যাক্টরি রিসেট দিন
Settings → System → Reset → Erase all data (factory reset)। আধুনিক ফোনের স্টোরেজ এমনিতেই এনক্রিপ্টেড থাকে, তাই একটা ঠিকঠাক রিসেটই যথেষ্ট নিরাপদ।
৫. রিসেটের পর যাচাই করুন
ফোন চালু করে দেখুন সেটআপ স্ক্রিন আসছে কিনা, কোনো পুরনো অ্যাকাউন্ট লগইন করা আছে কিনা।
৬. Find My Device থেকে ডিভাইস সরান
Google অ্যাকাউন্টের ডিভাইস লিস্ট থেকে পুরনো ফোনটা রিমুভ করে দিন।
৭. ক্রেতার সামনে ফোন অন করে দেখান
ক্লিন সেটআপ স্ক্রিনটা দেখালে ক্রেতার বিশ্বাস বাড়ে, দাম নিয়েও কথা সহজ হয়।
একটা বাড়তি টিপস: ফোনটা যদি অনেক পুরনো হয় (Android 6-এর আগের), তাহলে রিসেটের আগে স্টোরেজটা জাঙ্ক ফাইল দিয়ে ভরে ফেলুন, তারপর রিসেট দিন। পুরনো ফোনে এনক্রিপশন নাও থাকতে পারে, এই কৌশলে তথ্য উদ্ধার প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।