গত সপ্তাহে এয়ারপোর্টে বসে আছি, ফোনে একটা ফ্রি Wi-Fi-এর নাম ভেসে উঠল। নামটা দেখে মনে হলো এয়ারপোর্টেরই হবে। কানেক্ট করতে গিয়ে হঠাৎ মনে হলো — আরে, পাশে একই রকম আরেকটা নামও তো আছে! তখনই হাত থামিয়ে দিলাম। আপনারা হয়তো ভাবছেন, ফ্রি নেট পেলে আবার এত ভাবনা কিসের? ভাবনাটা এখানেই। খোলা Wi-Fi মানেই সেই নেটওয়ার্কে আরও অনেক অচেনা মানুষ যুক্ত, আর কেউ চাইলে আপনার ডেটা আড়ি পেতে দেখার চেষ্টা করতে পারে।
প্রথম কাজটা খুব সহজ — নেটওয়ার্কের নামটা যাচাই করে নিন। ক্যাফে বা হোটেল হলে কাউন্টারে জিজ্ঞেস করুন, আসল নাম কোনটা। হ্যাকাররা অনেক সময় আসল নামের কাছাকাছি নাম দিয়ে ভুয়া হটস্পট বানায়, যাকে বলে ইভিল টুইন। সিগন্যাল জোরালো হলেই সেটা আসল — এই ভুলটা করবেন না।
দ্বিতীয়ত, পাবলিক Wi-Fi-তে ব্যাংকিং, পেমেন্ট বা পাসওয়ার্ড বদলানোর মতো কাজ এড়িয়ে চলুন। খুব জরুরি হলে নিজের মোবাইল ডেটা ব্যবহার করুন, সেটা অনেক বেশি নিরাপদ। আর যদি নিয়মিত পাবলিক নেট ব্যবহার করতেই হয়, একটা ভালো VPN রাখুন। VPN আপনার ডেটা এনক্রিপ্ট করে দেয়, ফলে একই নেটওয়ার্কে থাকা কেউ সহজে কিছু পড়তে পারে না। খেয়াল রাখবেন, VPN চালু করবেন Wi-Fi-তে যুক্ত হওয়ার আগেই।
তৃতীয়ত, ফোনের অটো-কানেক্ট বন্ধ রাখুন। না হলে ফোন নিজে নিজেই পুরনো কোনো খোলা নেটওয়ার্কে ঢুকে যেতে পারে, আপনি টেরও পাবেন না। কাজ শেষ হলে নেটওয়ার্কটা Forget করে দিন। আর ফাইল শেয়ারিং বা এয়ারড্রপের মতো অপশন পাবলিক নেটে বন্ধ রাখাই ভালো।
সবশেষে, যে সাইটে ঢুকছেন সেটা https দিয়ে শুরু হচ্ছে কিনা দেখে নিন, আর গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর চালু রাখুন। পাসওয়ার্ড কেউ জেনে গেলেও দ্বিতীয় ধাপটা তখন বাঁচিয়ে দেবে। ফ্রি Wi-Fi খারাপ কিছু নয় — একটু সতর্ক থাকলেই এটা দিব্যি কাজে লাগানো যায়।