আমি একবার এক বন্ধুর ফোনে দেখলাম, তার Google অ্যাকাউন্টে এমন সব ডিভাইস লগইন করা যেখানে সে বছরখানেক আগে একটা পুরনো ফোন বিক্রি করে দিয়েছিল। সে নিজেও জানত না। সেদিন থেকে আমি বছরে দু-একবার নিজের অ্যাকাউন্টের একটা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করি। বেশি সময় লাগে না — চায়ের কাপ হাতে ১০ মিনিটেই হয়ে যায়।
প্রথমে যান myaccount.google.com/security — অথবা ফোনের Settings থেকে Google, তারপর Manage your Google Account, তারপর Security ট্যাব। এখানে কয়েকটা জায়গা দেখলেই হবে।
এক নম্বর: “Your devices”। এখানে দেখুন কোন কোন ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেটে আপনার অ্যাকাউন্ট লগইন করা। চেনা ডিভাইস ছাড়া কিছু থাকলে, কিংবা বিক্রি করা পুরনো ফোন দেখলে, সেটা থেকে সাইন আউট করে দিন। দুই নম্বর: “Third-party access”। অনেক অ্যাপ আর ওয়েবসাইটকে আমরা একসময় Google দিয়ে লগইন করার অনুমতি দিই, পরে ভুলে যাই। যেগুলো আর ব্যবহার করেন না, সেগুলোর অ্যাক্সেস সরিয়ে দিন। তিন নম্বর: “Recent security activity”। এখানে অস্বাভাবিক কিছু — যেমন আপনার অজানা জায়গা থেকে লগইন — দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পাসওয়ার্ড বদলান।
এরপর আসে পাসওয়ার্ডের হিসাব। Chrome-এর Google Password Manager-এ গিয়ে Checkup চালান। এটা আপনার সেভ করা পাসওয়ার্ডগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করে দেখাবে: ফাঁস হওয়া (কোনো ডেটা লিকের তালিকায় পাওয়া গেছে), দুর্বল (খুব সহজ বা ছোট), আর বারবার ব্যবহৃত (একই পাসওয়ার্ড অনেক জায়গায়)। ফাঁস হওয়া পাসওয়ার্ড পেলে দেরি না করে বদলে ফেলুন — সেটা আপনার দোষ না, ওই সাইটের ডেটাবেস ফাঁস হয়েছে, কিন্তু ঝুঁকিটা আপনার।
শেষে দুটো জিনিস ঠিক করে রাখুন, যেগুলো বিপদের সময় কাজে লাগে: রিকভারি ইমেইল আর রিকভারি ফোন নম্বর। দুটোই আপডেট আছে কি না দেখুন। পুরনো নম্বর দিয়ে রাখলে পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে আর ফিরে পাবেন না।
আমি নিজে এই চেকআপটা ক্যালেন্ডারে মনে রাখার চেষ্টা করি না — যখনই মনে পড়ে, তখনই করে ফেলি। আপনার অ্যাকাউন্টে জিমেইল, ছবি, ড্রাইভ, ইউটিউব — প্রায় পুরো ডিজিটাল জীবনটাই জড়িয়ে আছে। সেটার ১০ মিনিটের যত্ন নেওয়াটা খুব বেশি চাওয়া নয়, তাই না?