ফোন হারানোর খবরটা শুনলেই প্রথমে ফোনের দামের কথা মনে আসে, কিন্তু আমার মতে আসল চিন্তা হওয়া উচিত ভেতরের ডেটা নিয়ে — বিশেষ করে WhatsApp। ওখানে পরিবারের ছবি, কাজের গ্রুপ, ব্যাংকের মেসেজ, কত কিছু থাকে। আতঙ্কে হাত-পা না গুটিয়ে প্রথম আধ ঘণ্টায় কয়েকটা কাজ করলে অ্যাকাউন্টটা অনেকটাই নিরাপদ রাখা যায়।

সবার আগে: সিম ব্লক করুন। আপনার মোবাইল অপারেটরকে ফোন করে বলুন সিমটা ব্লক করতে। এটা সবচেয়ে জরুরি, কারণ WhatsApp ভেরিফিকেশন কোড SMS-এ আসে। সিম সচল থাকলে যে ফোনটা পেয়েছে, সে আপনার নম্বরে কোড পেয়ে অ্যাকাউন্ট দখল করতে পারে। সিম ব্লক করলে সেই রাস্তা বন্ধ।

এরপর একই নম্বরের নতুন সিম নিন। নতুন ফোনে WhatsApp ইনস্টল করে ওই নম্বর দিয়ে রেজিস্টার করুন। একটা নিয়ম মনে রাখুন — একটা নম্বরের WhatsApp এক সময়ে একটাই ফোনে চলে। আপনি নতুন ফোনে চালু করলেই হারানো ফোনটা থেকে অ্যাকাউন্ট আপনা-আপনি লগআউট হয়ে যাবে। আগে থেকে Google-এ চ্যাট ব্যাকআপ থাকলে চ্যাটগুলোও ফিরে পাবেন।

আর যদি নতুন সিম পেতে দেরি হয়? তাহলে WhatsApp সাপোর্টকে ইমেইল করুন — [email protected]এ, সাবজেক্টে লিখুন “Lost/Stolen: Please deactivate my account”, আর মেইলের ভেতরে আপনার পুরো নম্বর আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে দিন। ওরা অ্যাকাউন্টটা সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেবে। ৩০ দিনের মধ্যে আবার চালু না করলে অ্যাকাউন্টটা পুরোপুরি মুছে যাবে, তাই নতুন সিম পেলেই আবার রেজিস্টার করুন।

অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার পর দুটো কাজ ভুলবেন না। এক — WhatsApp-এর Settings > Account > Two-step verification-এ গিয়ে একটা PIN সেট করুন। এরপর কেউ আপনার নম্বর পেলেও PIN ছাড়া WhatsApp চালু করতে পারবে না। দুই — কাছের মানুষদের জানিয়ে দিন ফোনটা হারিয়েছে, যাতে আপনার নামে টাকা চাওয়া মেসেজ এলে কেউ বিশ্বাস না করে। Linked Devices-এ গিয়ে অচেনা কোনো কম্পিউটার বা ব্রাউজার লগইন থাকলে সেটাও লগআউট করে দিন।

আর সবচেয়ে বড় ভুলটা করবেন না: কেউ “WhatsApp সাপোর্ট” সেজে ফোন করে ভেরিফিকেশন কোড চাইলে কখনো দেবেন না। আসল সাপোর্ট কখনো কোড চায় না।

আশা করি এই পরিস্থিতিতে কখনো পড়তে হবে না। কিন্তু পড়লে এই লেখাটা মনে রাখবেন — প্রথমে সিম ব্লক, তারপর নতুন সিমে রেজিস্টার, আর ফিরে পাওয়ার পর PIN। এই তিনটেই আপনার WhatsApp বাঁচাবে।