প্রিয় ট্রিকবিডির ব্যবহারকারী এবং ভিজিটর,
আশা করছি বর্তমান পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে মায়াবী পৃথিবীর অপরূপ সুন্দরতা উপভোগ করছেন।
আজকের টিউটোরিয়ালে আমি আপনাদের সাথে যেটা শেয়ার করবো সেই বিষয়টা হলো
“হ্যাকিং করে কীভাবে ক্যারিয়ার গড়বেন এই বিষয় আজকের টিউটোরিয়াল আমার”
হ্যাকিং শব্দের সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। কারণ আপনারা এখন খুব বেশীই শুনতে পান হ্যাকার এই ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে অথবা ওই ওয়েবসাইট ডাউন করে দিয়েছে ইত্যাদি বিভিন্ন খবরের পাতার আইটি সেক্টরে এইরূপ খবরও প্রকাশিত করা হয়।
হ্যাকার মানেই যে খারাপ এমন না, একজন হ্যাকারই পারে সিকিউরিটি শক্তিশালী করতে। একজন ডেভেলপার একটা ওয়েব অ্যাপলিকেশন তৈরি তো করে কিন্তু ওই ওয়েব অ্যাপলিকেশনের দূর্বলতা পরীক্ষা করে দেখে না আর মূলত কখনোই নিজের জিনিস নিজের কাছে কারো খারাপ লাগে না। একজন হ্যাকার একজন ডেভেলপারের থেকেও দক্ষ হয়ে থাকে, কারণ ডেভেলপার প্রোগ্রাম করতে গিয়ে যে ভুল গুলো করে সেই ভুল গুলো খুঁজে বার করে ওই ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয়। অর্থাৎ একজন হ্যাকারকে বহু কাজের উপর নিজেকে দক্ষ ভাবে গড়ে তুলতে হয়।
হ্যাকিং মানে যে সাইবার ক্রাইম এমন না অথবা সব হ্যাকারই যে সাইবার ক্রিমিনাল এমন না; হ্যাকার মূলত তিন প্রকারের হয়ে থেকে যারা অসৎ কাজ করে তাদেরকে কালো টুপির হ্যাকার বলে চিহ্নিত করা হয়, যারা ভালো কাজের উদ্দেশ্য নিয়ে হ্যাকিং করে তাদের সাদা টুপির হ্যাকার বলে চিহ্নিত করা হয় অথবা ইথিক্যাল হ্যাকারও বলা যায়।
আরও এক প্রকারের হ্যাকার আছে যারা সাদা এবং কালোর মাঝামাঝি অর্থাৎ ধূসর টুপি দিয়ে যাদের চিহ্নিত করা হয়ে থাকে এরা মূলত কোনো সিস্টেমকে হ্যাক করতে সাইট এডমিনিস্ট্রেটের পারমিশন নেয় না আবার সে যদি মনে করে সে অসৎ কর্ম করবে এখন করতে পারে এবং চাইলে সৎ কর্মও করতে পারে মানে হলো সে ভালো এবং খারাপ দুই রকমের কাজই সক্রিয় রাখে।
আপনি কালো টুপির অথবা ধূসর টুপির হ্যাকিং করলে আপনি হ্যাকিং করে ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন না; আপনাকে ইথিক্যাল হ্যাকার হতে হবে এইখানেই ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। বড় বড় কোম্পানি বাগ বাউন্টি প্রোগ্রাম দ্বারা পৃথিবীর সকল ইথিক্যাল হ্যাকারগণকে নিমন্ত্রণ করে গুগল, ফেসবুক, ইয়াহু, টুইটার ইত্যাদি কোম্পানি গুলো। ফেসবুক কোম্পানিকে যদি নিজেদের বাগ খুঁজে দেওয়া যায় তাহলে সর্বনিম্ন পাঁচশত ইউএস ডলার দিয়ে থাকে মূলত ফেসবুক কোম্পানি বাউন্টি দেয় হলো বাগ এর উপর নির্ভর করে।
অর্থাৎ আপনি যে বাগটি অনুসন্ধান করেছেন এটা আসলে কতোটা ক্ষতি করতে পারে এর উপর বিবেচনা করে বহু ডলার পেমেন্ট করে থাকে, ইয়াহু রীতিমতো কয়েকবার তাদের সিকিউরিটি দূর্বল থাকাই এই বাগ বাউন্টি প্রোগ্রাম চালু করে বাউন্টি দিয়ে নিজেদের সিকিউরিটি উচ্চ করার চেষ্টা চালিয়ে যায়।
পৃথীবির যে সকল বড় বড় কোম্পানি আছে সেই সকল কোম্পানির একটা করে হ্যাকিং টিম অবশ্যই চাকরী করে ওই কোম্পানিতে তারপরও ওই কোম্পানি নিজের টিমের উপর শুধুমাত্র ভরসা না করে ইথিক্যাল হ্যাকারসগণ কে নিমন্ত্রণ করে নিজেদের সিকিউরিটি উন্নতি করতে।
গুগল যখন সর্বপ্রথম বাগ বাউন্টি প্রোগ্রাম চালু করেছিলো তখন শুধুমাত্র তাদের এই বাগ বাউন্টি প্রোগ্রামে অংশগ্রহন করতে দিয়েছিলো মাত্র ২৪ জন ইথিক্যাল হ্যাকারকে তবে বর্তমান সময় গুগলের বাগ বাউন্টি প্রোগ্রামে পৃথিবীর সবাই অংশগ্রহন করতে পারে। বাগ বাউন্টি প্রোগ্রাম থেকে আপনি কাজ করে ইনকাম করতে পারবেন, এবং বিভিন্ন কোম্পানি সিকিউরিটি এক্সপার্ট এবং ইথিক্যাল হ্যাকার নিয়োগ দিয়ে থাকেন অফিসিয়ালি। আর হ্যাকারদের বেতন খুবই উচ্চ দেওয়া হয় কারণ তারাই কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
বর্তমান সময়ের কিছু হ্যাকারস আছে যারা রেডিমেড বোট টুল দিয়ে হ্যাকিং করে নিজেকে হ্যাকার বলে দাবী করে বসে। মূলত এইসকল হ্যাকারদের কোনো লেভেলই নাই; আর কোনো কোম্পানি এইসব বোট টুল দিয়ে হ্যাক করা গ্রহনযোগ্যতা দিবে না, নিজের ম্যানুয়াল যোগ্যতা দিয়ে হ্যাক করতে হবে না হলে ওই হ্যাকিং এর কোনো মূল্যই নাই। এর থেকে ওর থেকে একটা এসকিউএল ইনজেকশনের টুল ডাউনলোড করে ডর্ক দিয়ে কিছু দূর্বল ওয়েবসাইট খুঁজে ওয়েবসাইটে ডিফেস করেই নিজেকে হ্যাকার বলে দাবী করা যায় না।
আপনি যদি আসলেই হ্যাকিং করতে চান এবং এই হ্যাকিং করে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে আজ থেকেই নিজের মাইন্ডসেটকে বদলিয়ে ফেলুন; প্রোগ্রামিংয়ে কঠিন মনোযোগ দিন ভালো ভালো সিকিউরিটি এক্সপার্ট বিষয়ক বই গুলো নিয়ে দিনরাত এক করে পড়ুন কিছু জানুন, এক পাতা পড়লেও এমন করে পড়ুন জানো সারাজীবন মনে থাকে কারণ এখন আপনি আপনার গুড়া শক্ত করবেন আর যে গাছের গুড়া নেই ওই গাছ সামান্য বাতাসেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আমি এমনও মানুষ দেখেছি একদিনে এইচটিএমএল শিখার কথা বলে পরের দিন ডকটাইপ এইচটিএমএল কীভাবে লিখতে হয় ভুলে যায়, যদি এমনই শিক্ষা গ্রহণ করেন এই শিক্ষার কোনো দাম নাই সময়ের অপচয় মাত্র।
সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে একটা অ্যাপ ডাউনলোড করে ওইখানে একটা হ্যাক বাটন থাকবে আর ওইখানে ক্লিক করলে হ্যাক হয়ে যাবে এমন ইললোজিক্যাল কল্পনা মোটেও করবেন না ইহা কখনোই সত্যি না। হ্যাকার হওয়া কখনোই মুখের কথা না সহজও না আবার অসম্ভবও না কারণ এই পৃথিবীর সেরা সৃষ্টি হলো মানুষ। আর যা কিছুই এই পৃথিবীতে তৈরি হয়েছে সব কিছুই মানুষের জন্য মানুষ চাইলে পারে না বা পারবে না এমন কেনো কাজই না। আর সকল কিছু শুরু করার আগে আপনাকে প্রেম করতে হবে হ্যাঁ অবশ্যই কম্পিউটারের সাথে আপনাকে প্রেম করতে হবে কারণ আপনি যদি কম্পিউটারের সঠিক ব্যবহারই না জানেন তাহলে কিন্তু কিছুই করতে পারবেন না।
আশা করি আমি আপনাদের সুন্দর এবং সহজ ভাবে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি।
ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন প্রিয় মানুষকে ভালো রাখুন সবসময় পজিটিভ থাকুন সকল সময় মোটিভেট থাকুন; ধন্যবাদ।
আপনাকে অগণিত ধন্যবাদ প্রকাশ করছি আপনার গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য জানানোর জন্য।
and then onno rupe abar
আপনাকে অগণিত ধন্যবাদ প্রকাশ করছি আপনার গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য জানানোর জন্য।
সেই সাথে আপনার চিন্তাধারাকে শুভেচ্ছা জানাই।
likhar dhoron kotha bolar style ar comment ar reply baboharik vasa sokol kisui bolche apni onek boro “Anonymous” jai hok hoito sure na tobr ar ageu apnar sathe amar ai boro network jogote dekha hoyeche bro
keep writing and welcome back
আপনাকে অগণিত ধন্যবাদ প্রকাশ করছি আপনার গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য জানানোর জন্য।
?
আপনাকে অগণিত ধন্যবাদ প্রকাশ করছি আপনার গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য জানানোর জন্য।
আপনি সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করলেই অবশ্যই পেয়ে যাবেন অথবা আপনি চাইলে আমি এই বিষয়ক টিউটোরিয়াল করবো।
আপনাকে অগণিত ধন্যবাদ প্রকাশ করছি আপনার গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য জানানোর জন্য।
আপনি সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করলেই অবশ্যই পেয়ে যাবেন অথবা আপনি চাইলে আমি এই বিষয়ক টিউটোরিয়াল করবো।
আপনাকে অগণিত ধন্যবাদ প্রকাশ করছি আপনার গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য জানানোর জন্য।
কোথায় ইথিক্যাল হ্যাকিং শিখতে কোর্স করতে হবে এই বিষয়ক আমি আপনাকে সমাধান দিতে পারছি না কারণ আমার জানা নাই। আমি কোথাও কোর্স করি নাই কিছুর উপর কখনো যতোটা যা জানি নিজের রিসার্চের ফলাফল এটা। আর আমি এটাও বলতে অক্ষম এক্সপার্ট কতোদিনে হবেন, আসলে এটা সম্পূর্ণ আপনার উপর নির্ভর করবে।