ইন্টারনেট ছাড়াই এক ফোন থেকে আরেক ফোনে ছবি বা গান পাঠাতে হলে আমাদের সবার প্রথমে মনে পড়ে Bluetooth-এর কথা। পুরনো হলেও এই ফিচারটা এখনো কাজে লাগে — বিশেষ করে যখন নেট স্লো বা ডেটা শেষ। কিন্তু অনেকেরই অভিযোগ, Bluetooth-এ ফাইল পাঠাতে গেলে ডিভাইস খুঁজে পায় না, নয়তো মাঝপথে আটকে যায়। আমি নিজে কয়েকবার এই ঝামেলায় পড়েছি, তাই আজ শেয়ার করছি কিছু প্র্যাকটিক্যাল টিপস।
সবার আগে দুটো ফোনেই Bluetooth চালু করুন। তারপর যে ফোন ফাইল নেবে, সেটার Bluetooth সেটিংস স্ক্রিন খুলে রাখুন — অনেক ফোনে সেটিংস স্ক্রিন খোলা না থাকলে ডিভাইসটা visible বা discoverable হয় না, ফলে অন্য ফোন তাকে খুঁজে পায় না। এটাই সবচেয়ে কমন ভুল, আর এটা ঠিক করলেই অর্ধেক সমস্যা মিটে যায়।
পেয়ারিং হয়ে গেলে ফাইল সিলেক্ট করে Share অপশনে Bluetooth বেছে নিন। রিসিভার ফোনের স্ক্রিন আনলক রাখবেন, কারণ নোটিফিকেশনে Accept চাপতে হবে। পাওয়া ফাইলগুলো সাধারণত Internal Storage-এর Bluetooth ফোল্ডারে জমা হয় — ফাইল ম্যানেজার দিয়ে খুঁজে পাবেন।
এবার গতি নিয়ে কথা বলি। Bluetooth আসলে বড় ফাইলের জন্য তৈরি নয় — একটা বড় ভিডিও পাঠাতে সময় লাগবেই, এটা স্বাভাবিক। গতি বাড়াতে দুটো ফোন যতটা সম্ভব কাছাকাছি রাখুন, মাঝখানে দেয়াল বা ধাতব জিনিস না থাকাই ভালো। আর একসাথে অনেকগুলো ফাইল না পাঠিয়ে একটা একটা করে পাঠালে ফেইল হওয়ার চান্স কমে। আমি নিজে দেখেছি, ফোন দুটো পাশাপাশি রেখে একটা করে ছবি পাঠালে প্রায় কখনো আটকায় না।
একটা নিরাপত্তার কথা বলে রাখি — অচেনা ডিভাইস থেকে আসা ফাইল কখনো Accept করবেন না। পেয়ারিং রিকোয়েস্ট এলে দুটো ফোনে দেখানো কোডটা মিলিয়ে নিন। আর কাজ শেষ হলে Bluetooth বন্ধ করে রাখুন — ব্যাটারিও বাঁচবে, অচেনা কানেকশনের রিস্কও কমবে।
আর হ্যাঁ, সত্যি বড় ফাইল হলে Bluetooth-এর বদলে Quick Share (আগের Nearby Share) বা USB কেবল ব্যবহার করুন — অনেক ফাস্ট হবে। কিন্তু ছোটখাটো ছবি-গান-ডকুমেন্টের জন্য Bluetooth এখনো সবচেয়ে সহজ সমাধান।

