পাইথন বা AI শিখতে গিয়ে অনেকের প্রথম বাধাটা কোড নয় – কম্পিউটারে সেটআপ। পাইথন ইনস্টল, লাইব্রেরির ভার্সন ঝামেলা, ধীর ল্যাপটপ – সব মিলিয়ে অনেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। গুগলের Colab এই সমস্যাটাই পুরোপুরি উধাও করে দেয়। ব্রাউজার খুললেই প্রস্তুত একটা কোডিং ল্যাব, সাথে ফ্রি GPU পর্যন্ত।
আজকের লেখায় দেখাব Colab কী, কীভাবে মিনিটেই শুরু করবেন, আর ফ্রি GPU চালু করার নিয়ম – সাথে সত্যিকারের সীমাগুলোও জানিয়ে রাখব।
Google Colab কী?
Colab হলো গুগলের হোস্ট করা Jupyter Notebook সার্ভিস। কোনো ইনস্টল বা সেটআপ ছাড়াই ব্রাউজারে পাইথন কোড লেখা আর চালানো যায়। গুগল নিজে বলছে, এটা মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স আর শিক্ষার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী – আর ব্যবহার একদম ফ্রি।
- ইনস্টল কিছুই লাগে না, শুধু গুগল অ্যাকাউন্ট আর ব্রাউজার
- নোটবুক সেভ হয় আপনার Google Drive-এ
- Google Docs-এর মতো শেয়ার করা যায়, GitHub থেকে নোটবুক খোলাও যায়
- জনপ্রিয় লাইব্রেরি (numpy, pandas, torch, tensorflow) আগে থেকেই ইনস্টল করা থাকে
শুরু করুন মাত্র ৩ ধাপে
- colab.google-এ গিয়ে গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে সাইন ইন করুন।
- New Notebook চেপে একটা নতুন নোটবুক খুলুন।
- সেলে কোড লিখে পাশের Run বোতাম চাপুন, বা কীবোর্ডে Shift+Enter দিন। আউটপুট সাথে সাথে সেলের নিচে দেখা যাবে।
প্রথম কোড হিসেবে লিখে দেখুন print("Hello Bangla!")। তারপর আরেকটা সেলে import torch লিখে চালান – দেখবেন কোনো এরর আসছে না, কারণ লাইব্রেরিটা আগে থেকেই আছে।
ফ্রি GPU চালু করার নিয়ম
মেশিন লার্নিং বা ভারী হিসাবের জন্য CPU-র বদলে GPU দরকার। Colab-এ সেটাও ফ্রি:
- উপরের Runtime মেনু খুলুন।
- Change runtime type-এ যান।
- Hardware accelerator হিসেবে GPU বেছে Save করুন।
কোন GPU পেলেন দেখতে একটা সেলে !nvidia-smi লিখে চালান। মনে রাখবেন, GPU-র ধরন সময়ভেদে বদলায় – গুগল আগে থেকে কোনো নির্দিষ্ট মডেলের প্রতিশ্রুতি দেয় না।
সত্যিকারের সীমা – জেনেই শুরু করুন
ফ্রি সার্ভিস বলে কিছু সীমা আছে, গুগল নিজেই এগুলো বলেছে:
- ফ্রি টিয়ারে একটা নোটবুক টানা সর্বোচ্চ প্রায় ১২ ঘণ্টা চলতে পারে; অনেকক্ষণ কাজ না করলে (idle) রানটাইম বন্ধ হয়ে যায়।
- রিসোর্সের কোনো গ্যারান্টি নেই – ভিড়ের সময় GPU পাওয়া দেরি হতে পারে বা লিমিট কমে যেতে পারে।
- ক্রিপ্টো মাইনিং, টরেন্ট ডাউনলোড, রিমোট ডেস্কটপ/SSH চালানো Colab-এর নিয়মে নিষিদ্ধ – অ্যাকাউন্টে ব্যবহার বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
- বেশি সময় বা গ্যারান্টিযুক্ত রিসোর্স দরকার হলে পেইড প্ল্যান আছে, তবে শেখা আর ছোট প্রজেক্টের জন্য ফ্রি টিয়ারই যথেষ্ট।
দিয়ে কী কী করা যায়?
- পাইথন শেখা: প্র্যাকটিসের জন্য আলাদা কম্পিউটার বা সেটআপ লাগবে না।
- ডেটা সায়েন্স: pandas, matplotlib দিয়ে ডেটা বিশ্লেষণ আর চার্ট।
- মেশিন লার্নিং: ছোট মডেল ট্রেন করা, টিউটোরিয়াল অনুসরণ করা।
- অ্যাসাইনমেন্ট ও প্রজেক্ট: নোটবুক শেয়ার করে টিচার বা টিমমেইটদের দেখানো।
শেষ কথা
কোডিং শেখার জন্য দামি ল্যাপটপ বা জটিল সেটআপ এখন আর বাধা নয়। colab.google খুলুন, প্রথম সেলটা চালান, তারপর ধীরে ধীরে এগিয়ে যান। GPU দরকার পড়লে তখন Runtime মেনুতে যাবেন। কমেন্টে জানান – Colab দিয়ে প্রথম কোন প্রজেক্টটা বানাতে চান।

