Site icon Trickbd.com

[ক্রিপ্টো ট্রেডিং – ০৮]: ক্রিপ্টো ট্রেডিং স্টাইল এবং টাইমফ্রেম ফাংশান

ক্রিপ্টো ট্রেডিং স্টাইল এবং টাইমফ্রেম ফাংশান

ক্রিপ্টো ট্রেডিং মূলত আপনার সময়, ধৈর্য এবং মানসিক শক্তির ওপর নির্ভর করে। একে প্রধানত ৪টি ভাগে ভাগ করা যায়:

১. স্ক্যাল্পিং (Scalping): ঝড়ের বেগে শিকার
স্ক্যাল্পিং হলো চোখের পলকে ট্রেড করা। স্ক্যাল্পাররা মার্কেটের খুব ছোট ছোট মুভমেন্ট থেকে দ্রুত প্রফিট নিয়ে বেরিয়ে যায়।
• সময়কাল: কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট।
• টাইমফ্রেম: ১ মিনিট (1m) থেকে ৫ মিনিটের (5m) চার্ট।
• বৈশিষ্ট্য: এরা দিনে অসংখ্য ট্রেড করে। লাভ ছোট হয়, কিন্তু ট্রেড বেশি হওয়ায় দিনশেষে প্রফিট বড় দেখায়।
• সতর্কতা: এটি অত্যন্ত স্ট্রেসফুল বা মানসিক চাপের কাজ। চোখের পলক ফেলার আগেই লস হয়ে যেতে পারে। নতুনদের জন্য স্ক্যাল্পিং করা আর আগুনে হাত দেওয়া সমান কথা।

২. ডে-ট্রেডিং (Day Trading): দিনের হিসাব দিনে শেষ; নাম শুনেই বুঝতে পারছেন, ডে-ট্রেডাররা যেদিন ট্রেড ওপেন করে, সেদিনই (বা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে) তা ক্লোজ করে দেয়। এরা রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পছন্দ করে, কোনো ট্রেড ঝুলিয়ে রাখে না।
• সময়কাল: কয়েক ঘণ্টা থেকে একদিন।
• টাইমফ্রেম: ১৫ মিনিট (15m) থেকে ১ ঘণ্টার (1H) চার্ট।
• বৈশিষ্ট্য: এরা মার্কেটের সারাদিনের খবরাখবর এবং ইন্ডিকেটর অ্যানালাইসিস করে দিনে ১-২টি ভালো ট্রেড খোঁজে।

৩. সুইং ট্রেডিং (Swing Trading): সুযোগ বুঝে কোপ; একজন আসল সওদাগরের ট্রেডিং স্টাইল হলো সুইং ট্রেডিং। এরা মার্কেটের বড় ঢেউ বা “সুইং” ধরার চেষ্টা করে। এরা প্রতিদিন চার্টের দিকে তাকিয়ে বসে থাকে না।
• সময়কাল: কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ।
• টাইমফ্রেম: ৪ ঘণ্টা (4H) এবং ১ দিনের (1D) চার্ট।
• বৈশিষ্ট্য: যারা চাকরি বা ব্যবসা করেন, তাদের জন্য এটি সেরা। এরা সাপোর্টে কেনে এবং রেজিস্ট্যান্সে বিক্রির জন্য টার্গেট সেট করে কয়েক দিনের জন্য ভুলে যায়। এতে মানসিক চাপ কম থাকে এবং প্রফিট অনেক বড় হয়।

লাইভ এক্সামপোল

উপরোক্ত ১ হতে ৩ পয়েন্ট পর্যন্ত ট্রেডিং বিষয়টি AI Crypto Signal Suggestion হতে সকল ক্রিপ্টো কয়েন পেয়ার হতে ১ মিনিট, ৫ মিনিট, ১৫ মিনিট, ১ ঘন্টা, ৪ ঘন্টা এবং ১ দিন সেশানে তিনটি আলাদা আলাদা মোডে [ Balanced / Aggressive / Conservative ] ট্রেড এক্সিউকিউট করতে পারবেন।

সাজেশন

অবশ্যই এটিই সাজেশন রইবে বাস্তব লাইফে ট্রেডিং সেশানে নামার পূর্বে লং টার্ম (অন্তত ৬ মাস) শুধুমাত্র হাইপোথেটিক্যাল অর্থাৎ খাতা কলমে ট্রেড তথা পেপার ট্রেডিং করে শুধু Knowledge গ্যাদার করুন।

৪. পজিশন ট্রেডিং বা ইনভেস্টিং (Position Trading / HODL)
এরা মূলত লং-টার্ম ইনভেস্টর। এরা ডে-টু-ডে মার্কেটের ওঠানামা নিয়ে একদমই মাথা ঘামায় না।
• সময়কাল: কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর (মার্কেট সাইকেল অনুযায়ী)।
• টাইমফ্রেম: ১ সপ্তাহ (1W) থেকে ১ মাসের (1M) চার্ট।
• বৈশিষ্ট্য: এরা বিয়ার মার্কেটে (যখন দাম সবচেয়ে কম থাকে) শুধু কিনতে থাকে (DCA করে), আর ১-২ বছর পর বুল মার্কেট এলে বিশাল লাভে সব বিক্রি করে দেয়।

৫. মাল্টিপল টাইমফ্রেম অ্যানালাইসিস (Top-Down Approach)
যেকোনো স্টাইলেই ট্রেড করেন না কেন, একটি গোপন সূত্র সবসময় মনে রাখবেন: “বড় টাইমফ্রেম সবসময় ছোট টাইমফ্রেমকে নিয়ন্ত্রণ করে।”
• আপনি যদি ১৫ মিনিটের চার্টে ট্রেড নিতে চান, তবে আগে ১ ঘণ্টা এবং ৪ ঘণ্টার চার্ট দেখে নিশ্চিত হোন যে বড় ট্রেন্ড কোন দিকে যাচ্ছে।
• বড় ট্রেন্ড যদি আপট্রেন্ড (উপরের দিকে) হয়, তবে ছোট টাইমফ্রেমে শুধু কেনার (Buy/Long) সুযোগ খুঁজবেন। ট্রেন্ডের বিপরীতে ট্রেড করা মানে স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটার চেষ্টা করা।

সামারাইজ

• স্ক্যাল্পিং: সেকেন্ড বা মিনিটের খেলা। অনেক বেশি রিস্কি, নতুনদের জন্য নয়।
• ডে-ট্রেডিং: সারাদিনের ট্রেড, রাতে ক্লোজ। মোটামুটি সময় দিতে হয়।

• সুইং ট্রেডিং: কয়েক দিন বা সপ্তাহের ট্রেড। চাকরিজীবী এবং নতুনদের জন্য সবচেয়ে আদর্শ ও রিলায়েবল।
• ইনভেস্টিং (HODL): মাসের পর মাস ফেলে রাখা। টেনশন-ফ্রি এবং বড় প্রফিটের জায়গা।

 

আপনার সারাদিনের রুটিন কেমন, আপনি চার্ট দেখার জন্য কতটুকু সময় দিতে পারবেন এবং আপনার ধৈর্য কতটুকু – এই বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে নিজের ট্রেডিং স্টাইল ফিক্স করে ফেলুন।

সবিশেষ আক্ষরিকভাবে ক্রিপ্টো ট্রেডিং শিখে সফল এবং এক্সপার্ট ক্রিপ্টো ট্রেডিং স্পেশালিষ্ট হউন সেই শুভকামনা রইলো।
ভালো থাকুন…
ভালোবাসা রইলো।

Exit mobile version