Site icon Trickbd.com

[ক্রিপ্টো ট্রেডিং- ১০]: স্টেকিং, লঞ্চপুল এবং প্যাসিভ ইনকাম

স্টেকিং, লঞ্চপুল এবং প্যাসিভ ইনকাম

চার্টের দিকে তাকিয়ে ট্রেড করার বাইরেও ক্রিপ্টোতে ইনকাম করার বেশ কিছু দারুণ এবং তুলনামূলক কম ঝুঁকির উপায় আছে। এক্সচেঞ্জগুলোর (যেমন: Binance, Bybit) “Earn” বা “Finance” সেকশনে এই অপশনগুলো পাওয়া যায়।

১. স্টেকিং (Staking): ক্রিপ্টোর “ফিক্সড ডিপোজিট”
ব্যাংকে যেমন টাকা ফিক্সড ডিপোজিট (FDR) করে রাখলে নির্দিষ্ট সময় পর পর মুনাফা পাওয়া যায়, ক্রিপ্টোর ক্ষেত্রে স্টেকিং বিষয়টা ঠিক তেমনই।

• কীভাবে কাজ করে? আপনি আপনার কেনা কয়েনগুলো (যেমন: ETH, SOL, DOT) এক্সচেঞ্জের আর্ন (Earn) সেকশনে লক করে রাখবেন। এই লক করা কয়েনগুলো ব্লকচেইনের ট্রানজেকশন ভেরিফাই করার কাজে ব্যবহৃত হয় (যাকে Proof of Stake বলে)। এর বিনিময়ে ব্লকচেইন আপনাকে রিওয়ার্ড হিসেবে আরও কিছু ওই একই কয়েন ফ্রি দেয়।
• ধরন: ফ্লেক্সিবল (Flexible): আপনি যেকোনো সময় আপনার কয়েন আনলক করে বিক্রি করে দিতে পারবেন। তবে এতে রিওয়ার্ড বা APY (Annual Percentage Yield) একটু কম থাকে।
• লকড (Locked): ৩০, ৬০ বা ৯০ দিনের জন্য কয়েন লক করতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ের আগে কয়েন তোলা যায় না। এর রিওয়ার্ড বা মুনাফার হার অনেক বেশি থাকে।
• সওদাগরের লাভ: আপনি লং-টার্মের জন্য ১০০টি SOL কিনেছেন। সেগুলো শুধু ওয়ালেটে ফেলে না রেখে স্টেকিংয়ে দিলে, বছর শেষে হয়তো সেটি ১০৫টি SOL হয়ে যাবে। অর্থাৎ, দাম বাড়লে তো লাভ হচ্ছেই, সাথে কয়েনের পরিমাণও বাড়ছে!

২. সেভিংস (Savings) এবং স্টেবলকয়েন আর্ন :অনেক সময় মার্কেট খারাপ থাকলে আমরা সব কয়েন বিক্রি করে ডলার (USDT বা USDC) করে বসে থাকি সুযোগের অপেক্ষায়। এই অলস ডলারগুলোকেও কাজে লাগানো যায়।

• এক্সচেঞ্জে Flexible Savings-এ USDT রাখলে সাধারণত ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত বাৎসরিক ইন্টারেস্ট (APY) পাওয়া যায়। মার্কেট ক্র্যাশের সময় যখন আপনার ট্রেড বন্ধ, তখনও আপনার ডলার থেকে প্রতিদিন সেন্ট সেন্ট করে কিছু প্যাসিভ ইনকাম আসতে থাকবে।

৩. লঞ্চপুল (Launchpool): নতুন কয়েনের খনি
ক্রিপ্টো মার্কেটে বিন্যান্সের মতো বড় এক্সচেঞ্জগুলোতে যখন কোনো নতুন প্রজেক্টের কয়েন লিস্ট হয় (প্রথমবারের মতো বাজারে আসে), তখন এক্সচেঞ্জগুলো তাদের ইউজারদের ফ্রিতে সেই নতুন কয়েন পাওয়ার সুযোগ দেয়। একেই লঞ্চপুল বলে।

• কীভাবে কাজ করে? নতুন কয়েন বাজারে আসার আগে কয়েকদিনের জন্য একটি ফার্মিং পিরিয়ড চলে। এই সময়ে আপনার কাছে থাকা BNB (Binance Coin) অথবা FDUSD/USDT এর মতো স্টেবলকয়েন লঞ্চপুলে স্টেক বা জমা করতে হয়।
• ম্যাজিক: আপনার জমানো ডলার বা BNB কিন্তু একটুও কাটা যাবে না! শুধু ওই ফান্ড লঞ্চপুলে রাখার কারণে প্রতি ঘণ্টায় আপনাকে ফ্রিতে ওই নতুন প্রজেক্টের কয়েন দেওয়া হবে। ফার্মিং শেষ হলে আপনি আপনার মূল ফান্ড ফেরত পাবেন এবং সাথে পাওয়া নতুন কয়েনগুলো চড়া দামে মার্কেটে বিক্রি করে দিতে পারবেন। এটি ক্রিপ্টোতে জিরো-রিস্কে প্রফিট করার সবচেয়ে সেরা উপায়।

৪. অটো-ইনভেস্ট (Auto-Invest)

ইতিপূর্বের ক্রিপ্টো ট্রেডিং লার্নিং পর্বে আমরা DCA বা ধাপে ধাপে ইনভেস্ট করার কথা বলেছিলাম। অটো-ইনভেস্ট হলো সেই DCA-এর একটি রোবোটিক রূপ।
• আপনি এক্সচেঞ্জকে নির্দেশ দিয়ে রাখতে পারেন: “আমার অ্যাকাউন্টে থাকা ডলার থেকে প্রতিদিন/প্রতি সপ্তাহে অটোমেটিকভাবে ১০ ডলারের বিটকয়েন কিনে নাও।”
• এতে করে আপনাকে আর প্রতিদিন চার্ট দেখতে বা ম্যানুয়ালি অর্ডার করতে হবে না। সিস্টেম অটোমেটিক আপনার পোর্টফোলিও বড় করতে থাকবে।

সামারাইজ

• স্টেকিং: লং-টার্ম হোল্ড করা কয়েনগুলোকে কাজে লাগিয়ে ফ্রিতে আরও কয়েন জমানো।
• সেভিংস: অলস বসে থাকা স্টেবলকয়েন (USDT) থেকে প্রতিদিন ছোট ছোট প্রফিট বের করা।
• লঞ্চপুল: নিজের মূলধন অক্ষত রেখে, শুধু ফান্ড জমা করে সম্পূর্ণ নতুন কয়েন ফ্রিতে আয় করা।
• অটো-ইনভেস্ট: টেনশন-ফ্রি ভাবে রোবটের মাধ্যমে নিয়মিত DCA করা।

একজন প্রো-লেভেলের ট্রেডার সবসময় চেষ্টা করেন মার্কেটের পতন বা ডাম্পিংয়ের সময়টাতেও যেন তার ফান্ড বসে না থাকে। স্টেকিং এবং লঞ্চপুল হলো সেই জাদুকরী উপায়, যা আপনার ঘুমন্ত অবস্থাতেও আপনার হয়ে ক্রিপ্টো এ্যাসেট তৈরি করতে থাকে!

শুভকামনা রইলো

Exit mobile version