আসসালামুয়ালাইকুম,

কেমন আছেন সবাই? আজকে আমি আপনাদের ড্যাপ সম্পর্কিত কিছু তথ্য শেয়ার করবো, আশা করি শেষ পর্যন্ত পোস্টটি পড়ার মাধ্যমে আপনি একটি ক্লিয়ার কনসেপ্ট ধারণা পাবেন ড্যাপ সম্পর্কে। আর আপনি যদি Blockchain ডেভেলপার হয়ে থাকেন তাহলে তো পোস্টটি আপনারই জন্যে। তো চলুন শুরু করা যাক……….

ড্যাপ কী?

ডিসেন্ট্রালাইজড অ্যাপ্লিকেশন বা ড্যাপ (Dapp or Dapps) হলো এমন এক ধরনের অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম যেটি সম্পূর্ণ বিকেন্দ্রীভূত অর্থাৎ এটি কোন একক ব্যক্তি অথবা কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। এটি ব্লকচেইন নেটওয়ার্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং ব্যবহারকারীদের সেনসিটিভ তথ্যের জন্য নিরাপদ স্থান তৈরির জন্যে একটি স্মার্ট কন্ট্রাক্ট (Smart Contract) ব্যবহার করে। ড্যাপ গুলো ওপেন সোর্সড অর্থাৎ এটি যে কেউ দেখতে, নকল বা কপি তৈরি করতে এবং অডিট (Audit) করতে পারবে।

ড্যাপ এর প্রকারভেদঃ

2013 সালে Ethereum এর নির্মাতা Vitalik Buterin দ্বারা প্রকাশিত ইথেরিয়াম হোয়াইট পেপারে ড্যাপ কে তিনি তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেন।

১.Financial: এগুলি এমন অ্যাপ্লিকেশন যা কারেন্সি সংবলিত।

২.Semi-Financial: ওপেনসোর্স অ্যাপস যেগুলিতে কারেন্সি জড়িত কিন্তু এছাড়াও আরও কিছু জিনিসের দরকার পরে যেমন Ethereum ব্লকচেইনের বাহিরের ডেটার প্রয়োজন।

৩.Others: এগুলোর বাইরে যে কোনো রকমের ডিসেন্ট্রালাইজড অ্যাপ্লিকেশন যা ডেভলপারসরা তৈরি করার চেষ্টা করছে যেমন, অনলাইন ভোটিং এবং স্টরেজ অ্যাপস।

ক্রিপ্টোকারেন্সির সাথে ড্যাপ এর সম্পর্কঃ

যদিও ড্যাপের ক্রিপ্টোকারেন্সির সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই, তবে এই সিস্টেমটির সাথে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্রিপ্টোকারেন্সি সংযোজন করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ইথেরিয়াম ব্লকচেইনে স্মার্ট কন্ট্রাক্ট (Smart Contracts) চালানোর জন্য সামান্য পরিমাণ ইথার খরচ হয়, যাকে গ্যাস (Gas) বলা হয়। আবার ড্যাপের সাথে যেমন অর্থনৈতিক বিষয়াবলির সম্পর্ক থাকতে পারে তেমনি আবার সম্পর্ক নাও থাকতে পারে। যদি থাকে সেক্ষেত্রে অবশ্যই একটি ক্রিপ্টোগ্রাফিক টোকেন বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করতে হবে যেটি ড্যাপ এর হোস্ট করা নেটওয়ার্কে চলে।

ক্রিপ্টোতে ড্যাপ এর ব্যবহারঃ

এখন ক্রিপ্টোতে ডিসেন্ট্রালাইজড অ্যাপ্লিকেশন বা ড্যাপ শব্দটি আসলেই ডিসেন্ট্রালাইজড এক্সচেঞ্জ, ডিসেন্ট্রালাইজড ওয়ালেট, ডিসেন্ট্রালাইজড ব্রাউজারের কথা মাথায় আসে। এগুলো প্রত্যেকটি কিন্তু এক একটি ড্যাপ, কারণ এগুলোর কোনো একক ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয় অর্থাৎ এগুলো সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড।

কয়েকটি জনপ্রিয় ডিসেন্ট্রালাইজড এক্সচেঞ্জঃ

  • ইথেরিয়ামের ইউনিসোয়াপ (Uniswap), সুশি সোয়াপ (Sushiswap).
  • বাইন্যান্স স্মার্ট চেইনের প্যানকেক সোয়াপ (PancakeSwap), বেকারি সোয়াপ (Bakeryswap).
  • ট্রনের সানসোয়াপ (SunSwap) [যা আগে জাস্টসোয়াপ নামে পরিচিত ছিল], ইউসোয়াপ (USwap), ট্রন ট্রেড (Tron Trade).
  • সোলানার রেয়ডিয়াম (Raydium), সেরাম ডেক্স (Serum Dex).
  • ফ্যানটমের স্পুকিসোয়াপ (Spookyswap), স্পিরিট সোয়াপ (Spirit Swap).
  • আভাল্যাঞ্চ এর ট্রেডার জো (Trader Joe)

কয়েকটি জনপ্রিয় ডিসেন্ট্রালাইজড ওয়ালেটঃ

  • Trust Wallet
  • SafePal
  • MetaMask
  • TronLink
  • Token Pocket
  • Wombat
  • CoinBase Wallet
  • Phantom
  • Exodus

কয়েকটি জনপ্রিয় ডিসেন্ট্রালাইজড ব্রাউজারঃ

  • Brave Browser
  • CryptoTab Browser
  • Trust Wallet
  • SafePal

ড্যাপ ব্যবহারের সুবিধাসমূহঃ

  1.  এখানে কারেন্সি লেনদেনের জন্য কোন তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভর বা বিশ্বাস স্থাপনের দরকার পড়ে না। যারা কোনো তৃতীয় পক্ষকে বিশ্বাস করতে চান না তাদের জন্য ড্যাপ হলো সেরা মাধ্যম।
  2. পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে চলার কারণে এখানে সার্ভার ডাউনের মতো কোন আশঙ্কা থাকে না। অর্থাৎ এখানে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন অ্যাপ্লিকেশন যেমন ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টুইটারের মতো সার্ভার ডাউনের কোনো আশঙ্কা নেই।
  3. ড্যাপ গুলো ব্যবহার করে ব্যক্তি তার নিজের পরিচয় প্রকাশ না করেই অর্থ মজুদ, লেনদেনসহ অন্যান্য কাজ করতে পারবে।
  4. এগুলো ওপেনসোর্সড।

ড্যাপ ব্যবহারের অসুবিধাসমূহ :

১. যেহেতু নেটওয়ার্ক এর প্রতিটি পেয়ারের নোড সফটওয়্যার আপডেট দিতে হয়, সেহেতু বাগ ফিক্স করা বা ড্যাপ আপডেট দেয়া অনেক কঠিন।

২. ড্যাপ গুলোতে ট্রানজেকশন স্পিড তুলনামূলকভাবে একটু ধীর হয়ে থাকে।

৩. ড্যাপ প্রাথমিক পর্যায়ে থাকার কারণে এখানে পর্যাপ্ত ফিচারস নেই এবং ব্যবহারকারীদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

ড্যাপ এর ভবিষ্যৎঃ

এটির ব্যবহার শুধু ক্রিপ্টোতেই থেমে নেই। Steemit ব্লকচেইন বেসড ব্লগিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট যেখানে বর্তমানে ১২ লক্ষের বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। DTube যেটি ব্যবহার হচ্ছে YouTube এর বিকল্প হিসেবে। CryptoKitties, ইথিরিয়াম নেটওয়ার্ক এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা একটি গেম যেখানে ব্যবহারকারীরা ব্লকচেইন টেকনোলজি ব্যবহার করছে বিনোদনের ক্ষেত্রে। যেখানে একটি ডিসেন্ট্রালাইজড অনলাইন বিশ্ব এখনো একটি কল্পনার রাজ্য মাত্র, সেখানে ড্যাপ তার ব্যবহারকারীদের ব্লকচেইন টেকনোলজির মাধ্যমে দৈনন্দিন নানা কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

প্রতিদিনই এখানে নতুন ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি উদ্যক্তার সংখ্যাও বাড়ছে যার ফলে পরবর্তী সময়ে Dapps গুলোতে ইউজার ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেস এবং স্টেবিলিটি পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে এটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অগ্রসর হচ্ছে এবং এর ধারাবাহিক ডেভলপমেন্ট এবং ইমপ্রুভমেন্টে আশা করা যায় আগামী কয়েক বছরের ভিতর এটি একটি কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করবে। যার ফলে অটোমেশন সিস্টেম ও সিকিউরিটিতে নতুন মাত্রা উন্মোচিত হবে।

আজ এই পর্যন্তই শেষ পর্যন্ত ধৈর্য নিয়ে পড়ার জন্যে সবাইকে ধন্যবাদ। ক্রিপ্টো ও মার্কেট রিলেটেড সকল আপডেট পেতে আমার টেলিগ্রাম চ্যানেল এ যুক্ত হয়ে নিন। আর চাইলে টেলিগ্রামে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। 

Leave a Reply