Site icon Trickbd.com

ভয়ংকর মাইন্ড হ্যাকিং সফটওয়্যার

ভয়ংকর মাইন্ড হ্যাকিং সফটওয়্যার

প্রারম্ভিকতা

শিরোনাম’টি শুনলে একদিকে খুব হাস্যকর মনে হবে যেখানে একটি সফটওয়্যার (এপ্লিকেশন) মাইন্ড হ্যাক করবে এবং সেটাও নাকি আবার ভয়ংকর – সুতরাং আপনার কাছে মনে হতে পারে এটি খুবই সস্তা মানের ক্লিকবেইট টাইপ আর্টিকেল; তবে আমি নিশ্চিত করছি আসলেই কার্যত একটি খুবই ভয়ংকর চিন্তা ভাবনা এবং কিছুটা হিউম্যান লাইফের গ্রে লাইন বেইজড একটি ভাবনা (লেখনী)। সরাসরি এখানে এপ্লিকেশনটির সোর্সকোড বা রেডি প্রজেক্ট শেয়ার করছি না বরং পুরো এপ্লিকেশন সিস্টেম’টির কোর সাইকোলজিক্যাল ও টেকনিক্যাল দিকগুলো বিশদ আলোচনা করার চেষ্টা করবো।

একটা সময় একটি মিথ ছিলো ব্লুহোয়েল গেইম – যেটা খেললে মানুষ নাকি সুইসাইড করতে বাধ্য হয়। যদিও মিথের মাঝে মূল থিমটাই অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা ভীতি ছিলো [যাকে ব্লুহোয়েল হিসেবে ক্লেইম করা হয় সেটিও আসলে ছিলো রাশিয়ান সোস্যাল নেটওয়ার্ক Vk এর একটি সিক্রেট গ্রুপ যেখানে ডিপ্রেশন ও ফ্রাস্ট্রেশনে ভোগা মানুষদের নানান সাইকোপ্যাথিক টাস্ক পূরণ করতে হতো; যদিও এটি নিয়েও বিতর্ক আছে]। যাই হউক তবে এমন একটি সফটওয়্যার/এপ্লিকেশন সত্যিই কি মানুষের মাইন্ড হ্যাক করতে পারে? অথবা ভিক্টিম’কে পাগল বানিয়ে দিতে পারে কিংবা জীবনের নিঃশেষ ঘটাতে পারে?!

আমার মনে হয় এটি অসম্ভব নয় – সাইকোলজিক্যাল কন্ডিশন’গুলো কিভাবে টেকনিক্যালি ইউটিলাইজ করলে কার্যত এটা সম্ভবপর হতে পারে?

সাইকোলজিক্যাল টার্ম

সবার আগে কিছু সাইকোলজিক্যাল টার্ম স্পষ্ট করা উচিত –
(১) আদতে এপ্লিকেশনটি হতে হবে একদমই ইনোসেন্ট টাইপ (নন-ভার্বাল) অর্থাৎ ইউজার’কে এমন কোন টাস্ক কিংবা ফোর্স করে কিছু করতে বলা হবে না যাতে ব্যক্তির কনশিয়াস মাইন্ড (সচেতন মন) লজিক্যালি ভালো/মন্দ ডিটেক্ট করতে পারবে।
(২) এপ্লিকেশন’টি হতে হবে একদমই Alone ইন্টারএক্টিভির – তাতে ভিন্ন কারোর উপদেশ বা সাজেশন কাজে আসবে না।
(৩) এটি যথাসম্ভব ভিক্টিম এর সাব কনশিয়াস মাইন্ডে কাজ করবে – ফলে আবেগ, অনুভূতি এবং যাবতীয় ইমোশন ট্রিগার করবে কিন্তু কনশিয়াস তথা সচেতন মন সচরাচর কিছুই যেন ডিটেক্ট করতে না পারে।
(৪) এখানে ভিক্টিমের মনে হতে হবে যে “সে ঠিক তাই করছে যা সে নিজে চাচ্ছে – কিন্তু আদতে সেটি চূড়ান্তভাবে এপ্লিকেশনের মূল মোটিভ’ই নীরব রিফ্লেকশন ঘটবে”।
(৫) যথাসম্ভব সম্পূর্ণ সাইকোলজিক্যাল এক্টিভিটি হবে সাবকনশিয়াস এবং আনকনশিয়াস মাইন্ড কেন্দ্রিক।

আমার মনে হয় আমার কথাগুলো হয়তো বুঝতে অনেকের জন্যই অস্পষ্ট এবং কষ্টকর হচ্ছে – তবে টেকনিক্যাল টার্মগুলো জানালে আপনি সবকিছু স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন আশকরি….

টেকনিক্যাল টার্ম

এপ্লিকেশন’টির টেকনিক্যাল এক্টিভিটি ও ইফেক্টিভিটি এমন হবে:

(১) অডিটরি কন্ট্রোল মডিউল (Auditory Control Module) যেখানে Sub-Sonic Frequency Generator ১৭Hz – ১৯Hz রেঞ্জের ইনফ্রাসনিক সাউন্ড ওয়েব রেন্ডারিং করবে। এই সাউন্ড কিন্তু সরাসরি কানে শব্দের মতো শোনা যাবে এমন নয়; বাইনারাল বিটস হলে খুব ভালো হয় তবে সেটা তো সম্ভব নয় কেননা কেউই অহেতুক ইচ্ছাকৃত ইয়ারফোন/হেডফোন কানে তুলবে না তবে খুব নির্জন পরিবেশ (যেমন ঘুম হতে উঠার সময় যখন প্রায় সবকিছু হতেই মানুষের সজাগ ইন্দ্রিয়সমূহ রিলিজড থাকে)। আবার এটিকে যেকোন অডিও ফাইল যেমন অফলাইনে গান শোনা বা ইউটিউব ইত্যাদিতে ভিডিও দেখতে যে সাউন্ড ইমিটেড হয় সেটির সাথে এই রেন্ডার হওয়া Sub-Sonic Frequency অডিটরিয়ালী ক্যালকুলেটেড হয়ে Left – Right অডিলাইজেশান হবে।
এই ইনফ্রা সাউন্ড যে হিউম্যান ব্রেইন তথা মানব মস্তিষ্কে নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট ক্রিয়েট করতে পারে সেটি নিয়ে পিয়ার রিভিউড জার্নাল হতেও স্ট্যাডি করতে পারেন।
এক্টিভিটি: প্রতিদিন সকালে (ভোর ৫ টা), দুপুর (দুপুর ১২:৩০ টা) এবং (রাত ৯:৩০) বাজবে; ৭ সেকেন্ড করে প্রতিদিন (এতোটা অল্প সময় সেটা বুঝে উঠার জন্য যথেষ্ট হবে না ফলে ভিক্টিম সেটা কনট্রোল করারও অবকাশ পাবে না)। ফোনের অটোম্যাটিক টাইম অনুসারে আপডেট হবে এবং ফোন সাইলেন্ট বা স্ক্রিন অফ থাকলেও যেন এটি প্লে হয় অর্থাৎ স্লিপ মোডেও কাজ করবে – তবে স্ক্রিনের আলো জ্বলবে না অর্থাৎ স্লিপিং মোডেও কাজ করবে। তদুপরি এপ্লিকেশনের মাখে আলাদা করে এমন mp3/wav ইত্যাদি এক্সটেনশনে এই ইনফ্রা সাউন্ড থাকবে না বরং সাউন্ড মডিউল কোড এপ্লিকেশন মডিউলের মাঝেই এক্সিকিউট করবে।

(২) Discordant Shepard Tone Engine নিরবিচ্ছিন্নভাবে যেকোন সাউন্ড/অডিও এর পিচ বৃদ্ধির ইলিউশন তৈরি করে এমন ১০-১৫ সেকেন্ডের অডিও ফাইল প্লে-ব্যাক (এপের মাঝেই কোড থাকবে – আলাদা সাউন্ড ফাইল না) ১৩ হার্জ ফ্রিকোয়েন্সী হতে ২৩ হার্জ ফ্রিকোয়েন্সী। এটাও আসলে ইনফ্রা সাউন্ড তবে যেকোন সাউন্ড ফাইলের সিক্রোনাইজ করতে নানান প্যাটার্ন থাকে যেমন Sine, Triangle, Square এবং Sawtooth যা শ্রবণ ইন্দ্রিয় হতে মানব মস্তিষ্কে স্পেসিফিক ইমপ্যাক্ট তৈরি করে।
এক্টিভিটি: প্রতিদিন একবার এবং চলবে ১০ হতে ১৫ সেকেন্ড। সন্ধ্যা ৬:০০ টার সময় (সপ্তাহে ১ দিন শনিবারে); এটিও ফোনের অটোম্যাটিক টাইম অনুসারে আপডেট হবে এবং ফোন সাইলেন্ট বা স্ক্রিন অফ থাকলেও যেন এটি প্লে হয় অর্থাৎ স্লিপ মোডেও কাজ করবে [সাইলেন্ট ব্যাকএন্ড এক্টিভিটি]।

(৩) REM-Sleep Detection Logic মাইক্রোফোন (Snore/Breathing pattern) এবং এক্সিলারোমিটার (Body movement) ডাটা বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট স্লিপ সাইকেলে শর্ট অ্যালার্ম ট্রিগার করবে।
এক্টিভিটি : এলার্ম বাজবে খুবই অল্প সময় তবে আওয়াজ হবে বিকট (ভয়ংকর ভাইব বলতে খুব ক্রিপি সাউন্ড থাকবে সেটা হতে পারে ভীতি জাগানিয়া আওয়াজ অথবা মৃদ্যু নুপুরের আওয়াজ ছন্দ যা মোহ সৃষ্টি করবে)।
সাউন্ড ফাইল কোড করে তৈরী করা যেতে পারে তবে সবচেয়ে ভালো হবে ভিক্টিম সাইকোলজি এনালাইসিস করে কাস্টমাইজড সাউন্ড ফাইল এপ্লিকেশনের ভেতরই থাকবে। সাইকোলজিক্যাল কন্ডিশনস ও ব্রেইন ফ্রিকোয়েন্সির সাথে সিক্রোনাইজ করবে এমনভাবে অডিও ফাইল প্যাটার্ন হতে হবে – উদাহরণ হিসেবে বোঝাতে চাইলে সাউন্ড স্পষ্ট এবং লাউড হবে বটে তবে যেন তবে মনে হবে দূর হয়ে যেন কানের মাঝে ঢুকে যাচ্ছে…
আচ্ছা এই বিষয়টা ঠিক লিখে বোঝানোর মতো সহজ হবে না তাই উদাহরণ হিসেবে Needle Noise শুনতে পারেন যেখানে মনে হবে সূচের মতো কানে কিছু এসে ফুটছে; অডিও ফাইল তৈরীতে বিভিন্ন ইফেক্ট যেমন রিভার্ভ, 8D, লেফট – রাইট স্টেরিও ইত্যাদি ইউটিলাইজ করা যেতে পারে।

এক্টিভিটি: রাত ৩:০০ টার সময় প্রতিদিন ১৩ সেকেন্ড।

(৪) Binaural Beat Sync লেফট ও রাইট অডিও চ্যানেলে ৪Hz – ৭Hz ফ্রিকোয়েন্সি ডিফারেন্স তৈরি করা (Theta wave induction)।
এক্টিভিটি: এটি মোবাইল চলার সময় যেকোন গান/কল কিংবা যেকোনো অডিও ফাইলের সাথেই সিক্রোনাইজ হয়ে যাবে।

(৫) Stealth Audio Fading যা ইউজার ফোন আনলক করার ০.৫ সেকেন্ডের মধ্যে সমস্ত সাউন্ড অটো-মিউট করবে।
এক্টিভিটি: দিনে একবার (প্রতিদিন) সন্ধ্যার সময়।

(৬) ভিজ্যুয়াল ম্যানিপুলেশন মডিউল (Visual Manipulation Module) তে Subliminal Frame Injector ব্যবহার করা যা ভিডিও বা সিস্টেম ইউআই রেন্ডারিংয়ের সময় প্রতি ৬০ ফ্রেমের মধ্যে ১টি ফ্রেমে (১৬.৬ms) নির্দিষ্ট ইমেজ/টেক্সট ওভারলে করবে।
এক্টিভিটি: একটি কালো স্ক্রিন তবে ঝাপসা করে তাতে একটি ফটো আসবে। এপ ফাইলের মাঝেই Persona বেইজড এনালাইসিস করে এমন image.png ফাইল রেখে এপ বিল্ড করতে পারেন।
এক্টিভিটি: ৩ দিনে ১ বার সকালে হবে (৮ টার সময়) – যাতে বিষয়টা নরমাল মনে হয়।

(৭) PWM Backlight Jitter এতে ডিসপ্লে ব্যাকলাইটের পালস উইডথ মড্যুলেশন কন্ট্রোল করে ১% – ৩% ফ্লিকারিং রেট সেট করা (সবসময়)।

(৮) Notification Eraser API এর মাধ্যমে পুশ নোটিফিকেশন আসার সাথে সাথে ভাইব্রেশন মোটর চালু করা এবং ০.৫ সেকেন্ডের মধ্যে নোটিফিকেশন হিস্ট্রি থেকে ডাটা ডিলিট করা। এমন কিছু যেন কি হচ্ছে সেটাও ভিক্টিম আসলে বুঝতে পারবে না তবে সাবমিনাল ইমপ্যাক্ট (সরাসরি কোন অর্থ নয় কিন্তু ব্রেইন সেটার অর্থ ডিটেক্ট করতে অবচেতনে বাধ্য হয়) তৈরী হয়। অপরাপর নোটিফিকেশন কিছু ওড টাইপের লেখা থাকবে যেমন এক/দুইটি শব্দ যেমন(১) এই জীবন! (২) তারপর…. (৩) ভালো লাগে না আর! (৪) হারিয়ে যাও… (৫) শুনতে পাচ্ছেন? (৬) এ্যাই…. (৭) আসছি আমি (৮) ঐদিনের কি করেছিলেন? (৯) তারপর কি হবে? এগুলোরই Random আকারে কন্টিনিউস’লি শাফল করে চলবে।
এক্টিভিটি: ৩/৪ দিনে ১ বার Random টাইম [স্ক্রিন সচল হলে অটোম্যাটিক ডিটেক্ট করবে; জাভাস্ক্রিপ্টে এমন Random Math ফ্লোর লজিক সেটআপ করা যাবে]

(৯) Temporal Offset Engine সিস্টেম ক্লক (System Time) এবং এনটিপি সার্ভার সিংক্রোনাইজেশন ইন্টারাপ্ট করে প্রতিদিন সময়কে অনিয়মিতভাবে স্লো/ফাস্ট করবে – ফলে আপনি ঠিক অল্প সময়ের বিপরীতে ভিক্টিম লাইফ’কে রিয়েল টাইম লীড করবে – যেখানে আদতে বাস্তব সময় হয়তো এগিয়ে/পিছিয়ে আছে। আবার অন্যান্য সময়ে অটোম্যাটিক আপডেট হবে – ফলে আসলে যে মোবাইলে টাইমিং প্রবলেম সেটাও বুঝতে পারবে না।

(১০) হ্যাপটিক ও সেন্সর মডিউল (Haptic & Sensor Module) ব্যবহার করে Micro-Pulse PWM ভাইব্রেশন মোটরের ভোল্টেজ কন্ট্রোল করে ০.০৫ – ০.১ সেকেন্ডের ‘ট্যাপ’ ভাইব্রেশন জেনারেট করবে; এমন যেন আসলে যে ভাইব্রেশন হয়েছিলো সেটাই ভিক্টিম রিয়েলাইজ করতে পারবে না তবে মনে হয় ভাইব্রেশনের মতো কিছু একটা হয়েছে (হয়তো)…
এটিও Variable Interval Scheduler: র‍্যান্ডম টাইম ইন্টারভ্যালে (যেমন: ১০ সেকেন্ড হতে ৩০ সেকেন্ড) ভাইব্রেশন ট্রিগার করবে সপ্তাহে একবার/দুইবার এমন অনিয়মিত) – অপরাপ সেই ভাইব্রেশনটাও যেন ব্রেইন ফ্রিকোয়েন্সির সাথে সিক্রোনাইজ করে (সাউন্ড বেইজড নয় তবে স্পর্শ অনুভূতি)।

(১১) Proximity-Based Triggers তে পকেট থেকে ফোন বের করার ঠিক আগ মুহূর্তে (Proximity sensor input) ১ সেকেন্ডের ভাইব্রেশন বা সাউন্ড অ্যাক্টিভেট করা (খুব অল্প সময় ২/৩ সেকেন্ড)

(১২) সিস্টেম অপারেশন ও স্টেলথ মডিউল (System Operations) তে Hidden Foreground Service অ্যাপ আইকন হাইড করা থাকবে এবং সিস্টেম লগার (System Log) থেকে নিজের প্রসেস আইডি (PID) মাস্ক করবে। বিষয়টা ইনভিজবল স্পাই/মনিটরিং এপ্লিকেশনের মতো।

(১৩) Battery Saver Bypass তে ওএস-এর ব্যাটারি অপ্টিমাইজেশন এবং ডোজ মোড (Doze Mode) বাইপাস করে ব্যাকগ্রাউন্ডে নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলবে ফলে কিছু না করেই ফোনের পাওয়ার ড্রেইন হবে; এটা আসলে মোবাইলের কোন ত্রুটি হিসেবে ভিক্টিম মনে হলেও আসলে এমন কিছুই না – এটা ডিস্টার্বেন্স নয় বরং অদ্ভুত অজানা কারন হিসেবে মনে হবে। বর্তমান সময়ে একটি মোবাইল সবার কাছেই প্রিয় এবং সর্বদাই সঙ্গী কিন্তু সেটিই যখন ইউজারে এর নিকট উইয়ার্ড হিসেবে গণ্য হবে তা সাইকোলজিক্যালি ইমপ্যাক্টিভ হবে।

(১৪) Remote Command Receiver ইন্টারনেট সংযোগে যদি এপ্লিকেশনটি হ্যাকার এন্ডে সার্ভারের সাথে রিমোট’লি কানেক্ট রাখা যায় তাহলে সার্ভার হতে ভিক্টিম বিহ্যাবিয়ার মনিটরিং এর মাধ্যমে নতুন সাউন্ড ফাইল বা ভাইব্রেশন প্যাটার্ন আপডেট করা যাবে (অটোমেটিক হবে)।

(১৫) Remote Monitoring & Command Execution এর মাধ্যমে ভিক্টিম এর সকল মোবাইল এক্টিভিটি নিয়মিত মনিটরিং করা সম্ভব তাতে সে কি টাইপ করছে?, কাকে কল করছে?, কি বলছে?, ফেসবুক বা সোস্যাল মিডিয়াতে কি কি এক্টিভিটি করছে?, কোথায় আছে? ইত্যাদি সবকিছু মনিটরিং করে এই মুহূর্তে কি মানসিক অবস্থা সেটা ডিফাইন করে রিমোট’লি কাস্টম কমান্ড এক্সিকিউট করা যেতে পারে।

(১৬) বিহেভিয়ারাল লজিক ইঞ্জিন (Behavioral Logic Engine) তে Interaction Tracker এর মাধ্যমে ইউজারের টাইপিং স্পিড, স্ক্রিন প্রেসার এবং অ্যাপ ইউসেজ ডাটা কালেক্ট করে ইউজারের স্ট্রেস লেভেল ক্যালকুলেট হবে এবং সবকিছু হয় স্লো/ফাস্ট হবে যাতে ইউজার প্রভাবিত হয়। আবার হঠাৎ হঠাৎ সেটা ব্যাক বাটন করে কেটে যাবে কিংবা অকারনেই ফ্রিজ হয়ে যাবে।

(১৭) Adaptive Triggering তে ইউজারের স্ট্রেস লেভেল যখন সর্বোচ্চ থাকে, তখন সাবলিমিনাল অডিও বা ভাইব্রেশন ফ্রিকোয়েন্সি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তন করা (এমন হবে যেন এড্রিয়ানিলিন নিঃসরণ হয়)।

ইমপ্যাক্ট

এতোসব সাইকোলজিক্যাল ও টেকনিক্যাল এনালাইসিস পড়েও হয়তো আপনার মনে কনফিউশান তৈরী হতে পারে যে এটি আসলে ঠিক কিভাবে মাইন্ড হ্যাক করবে কিংবা কারোর জীবন’কে ভয়ংকরভাবে নিঃশেষ করে দিবে? চলুন এবং সাইকো- টেকনোলজিক্যাল এনালাইসিস করা যাক।

এমন এপ্লিকেশন আসলে ধীরে ধীরে অস্বস্তি, বিভ্রান্তি, ভয়, অবসাদ এবং বাস্তবতা-বিকৃতি ফিলিংস তৈরী করবে; তাতে সাইকোলজিক্যাল ইমপ্যাক্ট খুব গভীরে একটি ব্যক্তির মন অবচেতনভাবেই গ্রাস করবে এবং রিয়েল লাইফ হতে ফ্ল্যাকচুয়েশান ঘটবে।

এই ফ্ল্যাকচুয়েশান যে কতোটা ভয়ানক হতে পারে সেটার একটা রিয়েল লাইফ উদাহরণ দেওয়া যায় (আপনি চাইলেই অবজার্ভ করতে পারেন) – যারা সাধারণত ট্রাক ড্রাইভার তারা অন্য সাধারনের মতো সচরাচর লাইফ লীড না করায় তারা প্রয়াশ নেশা মতো আসক্তিতে অচেতনভাবে প্রলুব্ধ হয় (গড়পড়তা বলা কেননা সকলেই যে এমন তা নয়)।
আবার যারা নাইট শিফট ডিউটি করেন এবং দিনের বেলা ঘুমান তারাও অন্য সবার থেকে সেনসেটিভিটির পার্থক্য থাকে – অপরাপর প্রবাসে থাকা একাকীত্ব কিছু কিছু পুরুষদের জন্য লালিত কামভাবে প্রলুব্ধ হয়ে বিপথে যায়।
এই কথাগুলো শুধু বোঝানোর জন্য স্রেফ উদাহরণ হিসেবে বলা (এক্সসেপশন নয়)।

তদুপরি উপরের এপ্লিকেশনের প্রতিটি মডিউল কী ধরনের মনস্তাত্ত্বিক (psychological) এবং রিয়েল-লাইফ (behavioral/social/physical) ইমপ্যাক্ট তৈরি করতে পারে তা বিশদভাবে ব্যাখ্যা করছি…

(১) Auditory Control Module — Infrasound / Sub-Sonic Trigger : Unexplained Anxiety : ১৭–১৯Hz ইনফ্রাসনিক রেঞ্জ নিয়ে বিভিন্ন জার্নাল হতে এনালাইসিসে দেখা যায় কিছু মানুষ Presence Feeling, অস্বস্তি, Chest Pressure, Vague Fear অনুভব করে; বিষয়টা এমন নয় যে নতুন করে সেটা মস্তিষ্কে ভয় সৃষ্টি করে বরং ঐ ব্যক্তির অবচেতন মনে গেঁথে থাকা ইমোশনাল ড্রাইভ কাজ করে এবং অচেতন ভয়’কে ট্রিগার করে।
(২) Sleep Association Conditioning ভোর, দুপুর, রাত — নির্দিষ্ট সময়ে Repeated Exposure হলে ব্রেইন ওই সময়গুলোর সাথে অজানা টেনশন Associate করতে শুরু করে ফলে ওই সময়ের আগে থেকেই অস্থিরতা তৈরী হয় এবং
Anticipatory Anxiety, Unexplained Dread ট্রিগার করে।
(৩) Hypervigilance তে ব্যক্তি বুঝতে পারবে না কী হচ্ছে, কিন্তু মনে হবে “কিছু একটা অস্বাভাবিক” যেমন রুমে Weird Feeling, মাথা ভারী, মন বসছে না এমন chronic হলে মানুষ Environment Scan করতে থাকে এবং নিজেই নিজেকে বিভ্রান্ত করে।
উদাহরণ হিসেবে কবরস্থান বা শশ্মানে সত্যিই অশরীরী কিছু থাকে তবে একবার যদি এমন ইলিউশন বা হ্যালুসিনেশানের দরূণ অভিজ্ঞতা থাকে তবে পরবর্তী সময়েও সেটিই আপন মনে ঐ স্থানের প্রতি অবাস্তব ফেনোমেনাকে সক্রিয় করে তুলে।
(৪) Reality Uncertainty তে যেহেতু Sound Consciously Detect নাও হতে পারে তাই ব্যক্তি নিজের Perception নিয়েই সন্দেহ করতে শুরু করে – ফলে আসলেই একজন মানুষ সে যা করছে সেটি কি নিজেই করছে নাকি তাকে দিয়ে কেউ করাচ্ছে এমন সাইকোসিসে আক্রান্ত হতে বাধ্য হয়। Real-Life Impact হিসেবে concentration drop, irritability, sleep quality reduction, unexplained fatigue,room avoidance behavior, ফোন বা environment নিয়ে distrust হওয়া শুরু হবে।
(৫) Discordant Shepard Tone Engine তে Shepard Tone মূলত Endless Rising/Fallingillusion তৈরি করে ফলে Psychological Impact হিসেবে Cognitive Tension Loop যাতে ব্রেইন Resolution খুঁজে পায় না এবং Subconscious Tension Build হয়।
(৬) Doom Sensation তে impending danger,unresolved threat,existential discomfort ফিল করবে ফলে “কি যেন একটা অশান্তি তাড়া করে ফিরছে” এমন ফিল হবে।
(৭) Mental Exhaustion তে Repeated unresolved auditory tension cognitive fatigue বাড়ে ফলে Real-Life Impact হিসেবে সন্ধ্যার সময় mood crash করবে অথবা unexplained irritability তে “আমার জীবনের

সময় তো শেষ হয়ে যাচ্ছে” এমন ধরনের hopelessness এবং emotional dysregulation তৈরী হবে।
(৮) REM Sleep Detection + Fear Trigger এটি সবচেয়ে বিপজ্জনক ফাংশান যা Psychological Impact হিসেবে Sleep Fragmentation তে REM phase interrupt করবে ফলে emotional processing নষ্ট হবে, memory consolidation কমে যাবে, irritability বাড়তে বাড়তে চূড়ান্ত মাত্রাতে পৌছাবে ফলে তার জন্য আর কোন কিছুতেই শান্তি খুঁজে পাবে না এমন অনুভূতি তৈরী হবে।
(৯) Parasomnia-like Experience যা ঘুম ও জাগরণের মাঝামাঝি সময়ে ভয়ংকর sound ফ্রিকোয়েন্সি hypnopompic confusion, sleep paralysis-like fear, nightmare blending সৃষ্টি করবে।
(১০) Learned Fear During Sleep তে ভিক্টিমের ব্রেইন বিছানা/রাত/নিদ্রাকে unsafe associate করবে ফলে চোখে ঘুম থাকলেও মস্তিষ্কের একটি অংশ এলার্ট করবে তাতে পরিপূর্ণভাবে প্রশান্তির ঘুম হবে না। ঘুম মূলত মস্তিষ্কের রিলাক্সেশান প্রক্রিয়া যেটা পরিপূর্ণতা না আসলে এক প্রকার ডিপ্রেসিভ মোমেন্টাম সারাটা দিন’ই অস্বস্তিতে কাটবে। ফলাফল Real-Life Impact হিসেবে chronic insomnia, daytime brain fog, panic awakening, paranoia বৃদ্ধি পাওয়া, depression risk increase ইত্যাদিতে আক্রান্ত হতে বাধ্য হবে।
(১১) Binaural Beat Sync তে Theta-range binaural beat নিয়ে exaggerated claims অনেক আছে যাতে Psychological Impact হিসেবেে Dissociation-like Feeling অনুভূতিতে ভিক্টিমের dreamy state, derealization এবং emotional detachment ঘটবে।
(১২) Attention Drift হিসেবে Long exposure এ focus instability হতে পারে তাতে productivity decrease এবং emotional flattening তে ভিক্টিম “নিজেকেই নিজের কাছে অচেনা মনে হবে”
(১৩) Stealth Audio Fading সিস্টেমে Psychological Impact হিসেবে Micro-Confusion Conditioning ঘটবে, আবার User unlock করার পর sound mute হলে perception mismatch ও uncertainty তৈরি হবে।
ফলাফল হিসেবে Repeated mismatch → cognitive distrust এর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে।
(১৪) Self-Blame Loop প্রক্রিয়ায় ভিক্টিম ভাববে “আমি কি ভুলে mute করেছি?” নাকি “ফোন নষ্ট?” কিন্তু প্রতিনিয়ত কোনটাই যখন মিলবে না তখন নিজেই নিজেকে নিয়ে কনফিউশন তৈরী হবে আর তাতে Repeated self-doubt confidence ক্ষয় হতে বাধ্য। বিষয়টা অনেকটা এমন যন নিজেই নিজের কাছে পাগল মনে হবে; এছাড়াও Real-Life Impact হিসেবে frustration, learned helplessness এবং device distrust সৃষ্টি করবে।
(১৫) Subliminal Frame Injector যাতে সাবলিমিনাল imagery নিয়ে popular myths অনেক বেশি থাকলেও repeated subliminal emotional cue কিছু priming effect তৈরি করতে পারে যাতে Blurred face / dark imagery ভিক্টিমের অবচেতন মনেই sadness, dread, nostalgia (Dark) এবং perception ট্রিগার করবে।

লেখনীর কলেবর অতিদীর্ঘতা এড়াতে বাকিসব সাইকোলজিক্যাল ইমপ্যাক্ট সংক্ষেপ হলে Intrusive Thought Seeding, PWM Backlight Jitter, Eye Strain & Irritation, Subconscious Stress, Notification Eraser + Cryptic Messages (Existential Intrusion এবং Paranoia Induction), Personalized Fear হিসেবে chronic paranoia এর সাথে isolation, shame, helplessness, panic (Panic Discords ট্রিগার্ড হওয়া) এর মতো বিষয়গুলো প্রত্যক্ষভাবে ভি্‌ক্টিম ভুগতে বাধ্য হবে। আবার পরোক্ষভাবে ভিক্টিমের পারিপার্শ্বিকতা ও পরিবেশ, অবস্থা ও অবস্থিতি এবং অবস্থান’ও ধীরে ধীরে নেগেটিভলি প্রভাবিত হবে তাতে relationship collapse, blackmail vulnerability, fear of communication মতো ঘটনাসমূহে প্রভাব ফেলবে। অপরাপর Adaptive Frustration, Nervous System Destabilization তে anger outbursts, reduced work efficienc ঘটবে। অবাস্তব অনুভূতি হিসেবে Phantom Sensation, Conditioning, Obsessive Rumination এর ফ্যাক্টসমূহ ইমপ্যাক্ট সৃষ্টি করবে।

সত্যি সত্যিই কি এটা কাজ করবে?

এখন এই মাইন্ড হ্যাকিং বলুন কিংবা লাইফ ডেস্ট্রয়ার সফটওয়্যার’ই বলুন এটা এমন নয় যে এইতো ইনস্টল করলেন আর তাতেই ভিক্টিম কেল্লাফতে হয়ে গেলো…
এটি মোটামুটি একটা লং টার্ম প্রসেস যা স্লো পয়জিনিং এর মতোই ভিক্টিমের মানসিক ক্যারিয়ার ও ব্যারিয়ার ধীরে ধীরে ক্ষয় করতে করতে একটা সময় ব্রেক ডাউন হতে বাধ্য হবে; ঐ ইন্সিডেন্ট একদম সবার আড়ালে নির্ভৃতেই ঘটবে – উপর হতে দেখে হয়তো মনে হবে যে কিছুই হয়নি কিন্তু যা হওয়ার সেটা হয়েই গিয়েছে।

ডিসক্লেইমার এবং কিছুকথা

এমন একটি লেখার পর আর এমন ভয়ংকর একটি এপ্লিকেশন তৈরীর আইডিয়ার পর সেটাতে ধন্যবাদ জানানোর তো কিছু থাকতে পারে না।
আবার এমন ডিসক্লেইমারও সাধু ভাষাতে দিতে পারি না যে “কেউ এটার খারাপ ব্যবহার করবেন না” বরং এটা তো আদতে একটি খারাপ উদ্দেশ্য নিয়েই ব্লিডআপ করা হচ্ছে [তদুপরি মোটাদাগে মোটামাথা’তে এক শব্দে “খারাপ” বলাটাও সংগত নয় বরং হিউম্যান গ্রে লাইনের একটি নিদর্শন মাত্র]।
তথাপি যদি সাইকোলজিক্যাল কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে টেকনোলজিক্যাল ইমপ্লিমেন্ট এর বিষয়টি ডীপলি রিয়েলাইজ করেন তবেই লেখার কিঞ্চিৎ স্বার্থকতা।
লেখনীতে মাত্রাতিরিক্ত ইংরেজি ওয়ার্ড ব্যবহারের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী তথাপি ডকুমেন্টারি রিসোর্স হতে সাবজেক্টিভ বিষয়গুলো তুলে ধরতে আসলে এমন প্রতিটির প্রতিশব্দ খুঁজে বের করাটা আমার জন্য আসলেই আসলে মানসিকতায় নিতান্তপক্ষে সময় স্বাপেক্ষ ছিলো।

শেষকথা

সবিশেষ সবকিছুর শেষটা সুন্দর হউক – সেই শুভকামনা রইলো; না হয় সে আপনার অতি আপন শত্রুও…
ভালো থাকুন, নিরন্তর ভালোবাসা রইলো

Exit mobile version