Site icon Trickbd.com

পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে? বিস্তারিত!!

বাংলাদেশি পাসপোর্ট ছবি। পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে? এই আর্টিকেলে আমি ২০২৫ সালের সর্বশেষ নিয়মাবলি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তুলে ধরছি।

অনেকেই আছেন যারা পাসপোর্ট করাতে চান। তবে এই পাসপোর্ট করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডুকুমেন্টের প্রয়োজন। এসকল ডকুমেন্ট ছাড়া পাসপোর্ট করা সম্ভব নয়। বর্তমানে ই-পাসপোর্টের সুবিধা সরকার চালু করেছে। এর ফলে ঘরে বসে সকল তথ্য পূরণ করে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা যায়। এছাড়া ই-পাসপোর্টে বায়োমেট্রিক সকল তথ্য সংযুক্ত থাকে।

ই-পাসপোর্ট ফরম পূরণের নির্দেশাবলী

  1. আবেদন ফরম শুধুমাত্র অনলাইনে পূরণ করতে হবে: https://www.epassport.gov.bd
  2. কাগজপত্র বা ছবি সত্যায়নের প্রয়োজন নেই।
  3. আবেদন ফরমে ছবি সংযুক্ত করার প্রয়োজন নেই, ছবি বায়োমেট্রিকের সময় তোলা হবে।
  4. ফরম পূরণের সময় NID বা অনলাইন জন্মনিবন্ধন (BRC – English version) অনুযায়ী তথ্য দিতে হবে। জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কিনা তা জানার জন্য অবশ্যই জন্ম নিবন্ধন যাচাই করে নিবেন।
  5. ১৮ বছরের নিচে হলে পিতা/মাতার NID নম্বর বাধ্যতামূলক।
  6. বয়স অনুযায়ী কাগজপত্র দাখিলের নিয়ম:
    1. ১৮ বছরের নিচে: জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC English version)
    2. ১৮-২০ বছর: NID অথবা BRC
    3. ২০ বছরের বেশি: অবশ্যই NID (বিদেশে আবেদন হলে BRC গ্রহণযোগ্য
  7. দত্তক/অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশ দাখিল করতে হবে।
  8. আবেদনের সময় সব তারকাচিহ্নিত তথ্য পূরণ করতে হবে।
  9. আবেদন করতে হবে ঠিকানানুযায়ী নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে বা বিদেশস্থ মিশনে।
  10. ১৮ বছরের নিচের আবেদনের ক্ষেত্রে ৫ বছরের মেয়াদ ও ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট ইস্যু হবে।
  11. ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভারদের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল সনদ আপলোড করতে হবে।
  12. চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সরকারি আদেশ (GO), NOC, PRL Order বা পেনশন বই দাখিল বাধ্যতামূলক।
  13. বিবাহিত হলে বিবাহ সনদ বা নিকাহনামা, তালাকপ্রাপ্ত হলে তালাকনামা দিতে হবে।
  14. দেশীয় আবেদনকারীদের ফি-এর সাথে VAT এবং অন্যান্য চার্জ যুক্ত হবে।
  15. কূটনৈতিক পাসপোর্টের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার উইং বরাবর আবেদন করতে হবে।
  16. বিদেশে আবেদন করলে, ঠিকানার স্থানে বাংলাদেশের যোগাযোগের ঠিকানা লিখতে হবে।
  17. অতি জরুরি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে নিজ দায়িত্বে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহ করে দাখিল করতে হবে।
  18. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সহ আবেদন করলে:
    1. অতি জরুরি: ২ কর্মদিবসে
    2. জরুরি: ৭ কর্মদিবসে
    3. সাধারণ: ১৫ কর্মদিবসে পাসপোর্ট ইস্যু হবে
  19. আবেদনকালে মূল NID/BRC, টেকনিক্যাল সনদ, GO/NOC ইত্যাদি প্রদর্শন/দাখিল করতে হবে।
  20. রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে পুরাতন পাসপোর্ট জমা দিতে হবে।
  21. হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে জিডির কপি ও পুরাতন পাসপোর্টের ফটোকপি দিতে হবে।
  22. ৬ বছরের নিচের শিশুদের জন্য 3R সাইজের ল্যাব প্রিন্ট ছবি জমা দিতে হবে (গ্রে ব্যাকগ্রাউন্ড)।

ই-পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা

সাধারণ কাগজপত্র:

বিশেষ ক্ষেত্রে কাগজপত্র:

ই-পাসপোর্ট ফি (২০২৫)

টাইপ মেয়াদ পৃষ্ঠা সংখ্যা ফি (টাকা) সময়সীমা
সাধারণ ৫ বা ১০ বছর ৪৮/৬৪ পৃষ্ঠা ৳৫৭৫০ – ৮৬২৫ ১৫ কার্যদিবস
জরুরি ৫ বা ১০ বছর ৪৮/৬৪ পৃষ্ঠা ৳৮০৫০ – ১০৩৫০ ৭ কার্যদিবস
অতি জরুরি ৫ বা ১০ বছর ৪৮/৬৪ পৃষ্ঠা ৳১০৫০০ – ১২৫০০ ২ কার্যদিবস

* ফি-এর সঙ্গে VAT ও অন্যান্য চার্জ প্রযোজ্য।

উপসংহার

বর্তমানে ই-পাসপোর্ট করা অনেক সহজ এবং আধুনিক। আপনি যদি জানতে চান “ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে“, তাহলে উপরের গাইডলাইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করলেই খুব সহজে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন। সকল তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন এবং কোন দালালের সহায়তা ছাড়া নিজেই আবেদন করুন।

Exit mobile version