Site icon Trickbd.com

সর্প দংশনে ইমার্জেন্সি সহায়ক এপ্লিকেশন

সর্প দংশনে ইমার্জেন্সি সহায়ক এপ্লিকেশন

বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ, যেখানে গ্রামাঞ্চলে কৃষিকাজ, জঙ্গল, খাল-বিল কিংবা রাতের অন্ধকারে চলাচলের সময় সাপের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। দেশের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই সাপ রয়েছে, তবে উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং চরাঞ্চলে সাপের কামড়ের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি ঘটে। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পেলে এর পরিণতি অনেক সময় মারাত্মক হয়।

সাপে কাটা এর পরিসংখ্যান এবং বাস্তব চিত্র

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য ও স্থানীয় জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষ সাপে কামড়ের শিকার হন। এর মধ্যে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে বলে ধারণা করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ক্ষেত্রেই আক্রান্তরা হাসপাতালে না গিয়ে ওঝা, কবিরাজ কিংবা ঝাড়ফুঁকের শরণাপন্ন হন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুসারে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ যেখানে সাপের দংশনে মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে কৃষিশ্রমিক, শিশুরা এবং রাতে খোলা জায়গায় শোয়া মানুষ সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।

বিষধর সাপের প্রজাতি

বাংলাদেশে প্রায় ৮০টির মতো সাপের প্রজাতি রয়েছে, এর মধ্যে ৩০টির মতো বিষধর। সবচেয়ে পরিচিত এবং ভয়ংকর বিষধর সাপগুলোর মধ্যে রয়েছে—

গোখরা (Spectacled Cobra / Naja naja)

বিষ: নিউরোটক্সিন (Neurotoxic)ইফেক্ট: শ্বাসকষ্ট, প্যারালাইসিস; দ্রুত চিকিৎসা না হলে ৬–১২ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু হতে পারে।

Monocled Cobra (Naja kaouthia)

বিষ: নিউরোটক্সিন (Neurotoxic)

ইফেক্ট: স্নায়ু প্যারালাইসিস, চোখ-পাতঝাড়া, শ্বাস-নালির ব্যাঘাত; চিকিৎসা না হলে জীবনহানির ঝুঁকি বেশি।

কমন ক্রেইট (Common Krait / Bungarus caeruleus)

বিষ: নিউরোটক্সিন (Neurotoxic)

ইফেক্ট: রাতে কামড় দিয়ে সকালে ধীরে ধীরে প্যারালাইসিস; শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু হতে পারে, কখনও কখনও ১২–২৪ ঘণ্টার মধ্যে।

কালো ক্রেইট (Black Krait / Bungarus niger)

বিষ: নিউরোটক্সিন (Neurotoxic)

ইফেক্ট: স্নায়বিক প্যারালাইসিস, শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যাহত; দ্রুত মেডিক্যাল হেল্প ছাড়া জীবনহানি।

রাসেল ভাইপার / চন্দ্রবোড়া (Russell’s Viper / Daboia russelii)

বিষ: হেমোটক্সিন ও প্রোকোঅ্যাগুল্যান্ট (Hemotoxic / Procoagulant)

ইফেক্ট: রক্ত জমাট বাঁধা, রক্তপাত, কিডনি ক্ষতি; চিকিৎসা না হলে ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু হতে পারে।

সবুজ পিট ভাইপার / বাম্বু পিট ভাইপার (Green Pit Viper / Trimeresurus erythrurus / T. albolabris)

বিষ: হেমোটক্সিন (Hemotoxic)

ইফেক্ট: স্থানীয় টিস্যু ক্ষয়, রক্তপাত, ব্যথা; সাধারণত জীবনহানির ঝুঁকি কম, তবে অযত্নে সংক্রমণ হতে পারে।

সরকারি হাসপাতালে এন্টিভেনমের প্রাপ্যতা

বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বিনামূল্যে এন্টিভেনম সরবরাহ করে আসছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল এবং কিছু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এন্টিভেনম পাওয়া যায়। তবে অনেক সময় পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বা সঠিক সময়ে পৌঁছাতে না পারায় রোগীরা বিপাকে পড়েন।

২০১৯ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ধাপে ধাপে এন্টিভেনম বিতরণের পরিমাণ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা সঠিকভাবে সাপের কামড়ের রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসা দিতে পারেন।

সাপে কাটলে করণীয়

সাপের কামড় হলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ভুল পদক্ষেপ নেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সঠিক করণীয়গুলো হলো

1. আক্রান্তকে শান্ত রাখুন – আতঙ্ক বা দৌড়াদৌড়ি শরীরে বিষ ছড়িয়ে দেয়।

2. আক্রান্ত অঙ্গ নড়াচড়া কম করুন – কাপড় বা কাপড়ের ফিতা দিয়ে অঙ্গটি হালকা চাপে বেঁধে রাখুন, তবে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ করা যাবে না।

3. কাটার জায়গা কাটবেন না, রক্ত চুষবেন না – এতে সংক্রমণ ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে।

4. কোনো ওঝা বা ঝাড়ফুঁকে সময় নষ্ট করবেন না – সরাসরি নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

5. হাসপাতালে গিয়ে এন্টিভেনম নিন – চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না।

প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ

সাপে কামড়ের ঝুঁকি কমাতে কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জরুরি:

রাতে হাঁটার সময় টর্চলাইট ব্যবহার করা।

খোলা জায়গায় না শোয়া।

ঘরের চারপাশ পরিষ্কার রাখা এবং ঝোপঝাড় না রাখা।

মাঠে কাজ করার সময় বুট বা মোটা জুতা ব্যবহার করা।

Emergency এপ্লিকেশন

সরকারী হসপিটালে জরুরী সেবা বিশেষত ইমার্জেন্সি মুহূর্তে সাপে দংশন করা ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য গঃভেন্ট এন্টিভেনম ডাটা বেইজ ও সার্জন কিংবা কোন হসপিটালে এই সময়ের মাঝে নেওয়া উচিত হবে সেটা তৈরীর জন্য একটি ওয়েব এপ্লিকেশনের কথা ভাবছিলাম…
বেশ খুজেও এমন গভঃমেন্ট সিস্টেম ওয়াইজ ডাটা পায়নি – অন্যদিকে API বিড়ম্বনা ছিলো লাইভ লোকেশনে ডাটা গ্রাব করতে; তথাপি একটু রিভার্স থিংকিং এর মাধ্যমে Emergency এপ্লিকেশন’টি দ্রুত সময়ে বিল্ডআপ করা তাতে Help বাটন’টি ক্লিক করলে লাইভ লোকেশনে আপনার নিকটস্থ হসপিটালের নাম, ঠিকানা, ডিসটান্স, ডাক্তার ও সার্জন (যা গুগল ডর্কের মাধ্যমে পাওয়া যাবে) ইনফো পাওয়া যেতে পারে।

Emergency ওয়েব এপ্লিকেশন লিংক:-Emergency

উল্লেখ্য: এখানে ব্রাউজারে লাইভ ডাটা লোকেশন পারমিশন দিতে হবে/ ইন্টারনেট কানেকশন থাকার আবশ্যকতা রয়েছে / এটি ওপেন সোর্স তাই ডাটা সংক্রান্ত প্রাইভেসির ঝুকি নেই – আপনি নিজেও গিটহাবে প্রয়োজনে জাস্টিফাই করতে পারেন / এটি ওপেন সোর্স রাখার পরও লাইসেন্স ইস্যু রাখছি না তাই যেকোউ ক্রেডিট ছাড়াই আরও উন্নত সিস্টেম তৈরী করতে পারেন।

সবিশেষ বাংলাদেশে সাপের কামড় একটি অবহেলিত জনস্বাস্থ্য সমস্যা, যার শিকার সবচেয়ে বেশি হয় দরিদ্র ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী। সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো চিকিৎসা এবং এন্টিভেনমের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা গেলে প্রতিবছর হাজারো প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। এ বিষয়ে সরকার, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে কার্যকর সমাধান; তদুপরি জীবনের শেষ সময়ে একটু বেঁচে থাকার যে প্রয়াস তাতে বিষের যন্ত্রণা সহ্য করা মানুষটির আশ্বাসের নিঃশ্বাস’ই Emergency প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্টে আমার এচিভমেন্ট (স্যাটিসেফেকশান)।

ফেসবুকে নিমন্ত্রণ রইলো:- Humayun Shahriar Himu
শুভকামনা ও ভালোবাসা রইলো

 

Exit mobile version