গরীব থেকে ধনী হওয়ার তিনটি গোপন ধাপ যা আপনাকে কেউ বলবে না। আপনার মাসের বেতন কি মাস শেষ হওয়ার আগেই ফুরিয়ে যায়…? মাথার মধ্যে কি সবসময় একটা চিন্তা ঘুরে…? কিভাবে একটু ভালো থাকবো…? কিভাবে আমার পরিবারকে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ দেব…? যদি এই প্রশ্নগুলো আপনার মনেও এসে থাকে তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। আজ আমি কোন অলৌকিক স্বপ্ন কথা বলবনা আবার এক রাতেই কোটিপটি হওয়ার গল্প শোনাতে আসেনি। আমি এসেছি এমন তিনটি বাস্তবসম্মত ধাপের কথা বলতে যা সাধারণ থেকে অসাধারণ হওয়ার একটি পরীক্ষিত রাস্তা।
এই তিনটি ধাব যদি আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়েন এবং নিজের জীবনে কাজে লাগাতে পারেন তাহলে আমি কথা দিচ্ছি আপনার আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হবে ইনশাআল্লাহ। চলুন শুরু করা যাক সেই যাত্রা যা আপনাকে আর্থিক স্বাধীনতার দিকে নিয়ে যাবে।
ধাপ এক, পরিশ্রম ও সঞ্চয় শক্ত ভিত্তি গড়ার কৌশল। যেকোনো বড় বিল্ডিং বানানোর আগে তার ভিত্তি মজবুত করতে হয়। আপনার আর্থিক জীবনের বিল্ডিং এর ভিত্তি হলো দুটি জিনিস পরিশ্রম এবং সঞ্চয়। প্রথমত পরিশ্রম। দেখুন এর কোন বিকল্প নেই। আপনি যে কাজই করছেন চাকরি বা ব্যবসা সেখানে আপনার সেরাটা দিন। সৎভাবে পরিশ্রম করে যে টাকা আপনি আয় করছেন সেটাই আপনার প্রথম এবং প্রধান শক্তি। কিন্তু এখানেই বেশিরভাগ মানুষ প্রথম ভুলটা করে। তারা ভাবে যত বেশি আয় করব তত ধনী হব। কিন্তু এটা অর্ধেক সত্যি। আসল সত্যিটা হলো আপনি কত টাকা আয় করছেন তার চেয়েও জরুরি হলো আপনি কত টাকা ধরে রাখতে পারছেন।
দ্বিতীয়ত সঞ্চয়। এখানেই আসে আসল খেলা। ভাবুন তো আপনার আয়ের পাত্রটা যদি একটা ফুটো বালতির মত হয় তাহলে আপনি যতই পানি দেন না কেন দিনশেষে বালতিটা খালি থাকবে। সঞ্চয় হলো সেই ফুটো বন্ধ করার প্রক্রিয়া। কিভাবে করবেন…? খুব সহজ একটা নিয়ম মেনে চলুন। অর্থাৎ মাস শেষে বেতন পেয়েই প্রথমে নিজের জন্য একটি অংশ কমপক্ষে 10 থেকে 20 শতাংশ সরিয়ে ফেলুন। এই টাকাটা আপনি খরচ করবেন না। এটা আপনার ভবিষ্যতের জন্য। বাকি টাকা দিয়ে পুরো মাস চলার পরিকল্পনা করুন।
বিশ্বাস করুন আপনি যখন এই ছোট্ট অভ্যাসটা শুরু করবেন আপনি দেখবেন আপনার হাতে টাকা জমতে শুরু করেছে। এই জমানোর টাকাই হবে আপনার ধনী হওয়ার প্রথম সিঁড়ি। কারণ এই টাকা দিয়ে আমরা আমাদের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ধাপে যাব।
ধাপ দুই আয়ের নতুন উৎস। এক পায়ের উপর ভরসা নয়। একবার ভাবুন তো আপনার আয়ের উৎস যদি মাত্র একটা হয় তাহলে আপনি একটা এক পা ওয়ালা টুলের উপর বসে আছেন। যেকোনো সময় ধাক্কা লাগলেই পড়ে যাবেন। কিন্তু যদি আপনার টুলের তিন চারটি পা থাকে আপনি অনেক বেশি স্থিতিশীল থাকবেন। আর্থিক জীবনেও ব্যাপারটা ঠিক একই। শুধু একটা বেতনের উপর নির্ভর করা আজকের দিনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। তাই আপনাকে আয়ের নতুন উৎস তৈরি করতে হবে। তিন চারটি নতুন কাজের উৎস যা আপনি শুরু করতে পারেন।
এক, আপনার দক্ষতাকে কাজে লাগান। স্কিল মনিটাইজেশন। আপনি কি ভালো লিখতে পারেন…? ছবি আঁকতে পারেন..? ভিডিও এডিট করতে পারেন..? আপনার এই দক্ষতাকে অনলাইনে কাজে লাগান। আপওয়ার্ক, Fiverr এর মত প্ল্যাটফর্মে আপনি দেশ-বিদেশের ক্লায়েন্টদের জন্য কাজ করে আয় করতে পারেন।
দুই ই-কমার্স বা এফ কমার্স। আজকের ডিজিটাল যুগে কিছু বিক্রি করা অনেক সহজ। আপনার যদি কোন ইউনিক প্রোডাক্টের আইডিয়া থাকে বা আপনি কোন নির্দিষ্ট জিনিস কম দামে কিনে অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন তাহলে একটি ফেসবুক পেইজ বা ছোট ওয়েবসাইট খুলে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এটা এখন বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়।
তিন, কনটেন্ট তৈরি। আপনার যদি কোন বিষয়ে গভীর জ্ঞান থাকে যেমনঃ রান্না, ভ্রমণ, প্রযুক্তি বা শিক্ষামূলক কোন বিষয় তাহলে ইউটিউব চ্যানেল বা ব্লগিং শুরু করতে পারেন। শুরুতে হয়তো আয় আসবে না, কিন্তু ধৈর্য ধরে লেগে থাকলে এটাই আপনার জন্য একটি বিশাল আয়ের উৎস হতে পারে।
চার, অনলাইন টিউশন বা কোর্স। আপনি যদি কোন বিষয় পারদর্শী হন যেমনঃ গণিত, ইংরেজি বা গিটার বাজানো তাহলে অনলাইনে ছাত্র পড়াতে পারেন। মনে রাখবেন শুরুটা ছোটই হবে। আপনার প্রধান কাজের পাশাপাশি প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘন্টা সময় দিন। এই ছোট ছোট চেষ্টাগুলোই একসময় আপনার জন্য বড় আয়ের দরজা খুলে দিবে।
ধাপ তিন, বিনিয়োগ ও প্যাসিভ ইনকাম। টাকাকে আপনার কর্মী বানান। এখন আমরা আমাদের যাত্রার সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ধাপে চলে এসেছি। আপনার জমানো টাকা এবং নতুন উৎস থেকে আসা আয়কে এবার আপনার জন্য কাজে লাগাতে হবে। এর নামই হলো বিনিয়োগ বা ইনভেস্টমেন্ট। আর এর ফলাফল হলো প্যাসিভ ইনকাম। প্যাসিভ ইনকাম মানে হলো আপনি যখন ঘুমিয়ে থাকবেন তখন আপনার টাকা আপনার জন্য টাকা আয় করবে। কিভাবে শুরু করবেন…? শুরুতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। অল্প টাকা দিয়েই বিনিয়োগ শুরু করা যায়।
এক, সঞ্চয়পত্র। এটা বাংলাদেশে বিনিয়োগের সবচেয়ে নিরাপদ এবং সহজ উপায়গুলোর মধ্যে একটি। এখানে ঝুঁকির পরিমাণ প্রায় শূন্য এবং নির্দিষ্ট হারে আপনি মুনাফা পাবেন। যারা একদমই নতুন তাদের জন্য এটা দারুন একটি শুরু হতে পারে। দুই শেয়ার বাজার। এখানে ঝুঁকি একটু বেশি কিন্তু লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি। তবে এখানে না জেনে বুঝে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। প্রথমে ভালো করে পড়াশোনা করুন। বাজার সম্পর্কে জানুন। ভালো প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির অর্থাৎ ব্লুচিপ শেয়ারের অল্প কিছু শেয়ার কিনে শুরু করতে পারেন। মিউচুয়াল ফান্ডও নতুনদের জন্য একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
তিন, জমি বা রিয়েল ইস্টেট এর জন্য বেশ বড় অংকের টাকা প্রয়োজন। তবে এটি একটি দীর্ঘমেয়া এবং শক্তিশালী বিনিয়োগ। আপনার জমানো টাকা দিয়ে ছোট এক টুকরো জমি কিনে রাখলে ১০-১৫ বছর পর তার মূল্য বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। মূলকথা হলো আপনার টাকা অলস ভাবে ফেলে রাখবেন না। তাকে এমন জায়গায় রাখুন যেখানে সে নিজে নিজে বাড়তে পারে। এটাই হলো গরীব এবং ধনী মানসিকতার মধ্যে আসল পার্থক্য। গরিবরা টাকার জন্য কাজ করে আর ধনীরা টাকাকে দিয়ে নিজেদের জন্য কাজ করায়।
তাহলে ধনী হওয়ার গোপন সূত্রটা কি…? ধাপ এক সৎভাবে পরিশ্রম করুন এবং আয়ের একটি অংশ যেভাবেই হোক সঞ্চয় করুন। ধাপ দুই একটি আয়ের উপর নির্ভর না করে ছোট ছোট নতুন আয়ের উৎস তৈরি করুন। ধাপ তিন আপনার জমানো টাকাকে বিনিয়োগের মাধ্যমে আপনার জন্য কাজে করতে পাঠান। এই তিনটি ধাপ কোন রকেট সাইন্স নয়। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং শেখার মানসিকতা। আজই আপনার জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিন। আপনার আর্থিক স্বাধীনতার যাত্রা আজ থেকেই শুরু হোক।
