Site icon Trickbd.com

হযরত সুলাইমান (আ.) ও পিঁপড়ার আশ্চর্য ঘটনা

আপনি কি জানেন, একজন নবী ছিলেন যিনি শুধু মানুষের ভাষাই বুঝতেন না, আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে তিনি পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর কথাও বুঝতে পারতেন?

তিনি হলেন হযরত সুলাইমান (আ.)।

আল্লাহ তায়ালা তাঁকে এমন এক রাজত্ব দিয়েছিলেন, যার মতো রাজত্ব আর কাউকে দেওয়া হয়নি। তাঁর অধীনে মানুষ, জিন এবং পাখির বাহিনী ছিল। শুধু তাই নয়, আল্লাহর হুকুমে বাতাসও তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল।

একদিন হযরত সুলাইমান (আ.) তাঁর বিশাল বাহিনী নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। সামনে ছিল মানুষের বিশাল দল, জিনদের দল এবং পাখিদের বাহিনী। সবাই শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল।

হঠাৎ তারা এমন একটি জায়গায় পৌঁছাল, যেখানে অনেক পিঁপড়া বাস করত।

সেই সময় একটি পিঁপড়া অন্য পিঁপড়াদের সতর্ক করে বলল—

“হে পিঁপড়েরা! তোমরা তোমাদের বাসস্থানে প্রবেশ করো, যেন সুলাইমান ও তাঁর বাহিনী অজান্তে তোমাদের পিষে না ফেলে।”

ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত আশ্চর্য।

কারণ একটি ছোট্ট পিঁপড়া বুঝতে পেরেছিল যে বিশাল একটি বাহিনী সামনে দিয়ে আসছে। আর হযরত সুলাইমান (আ.) আল্লাহর দেওয়া বিশেষ জ্ঞানের কারণে সেই পিঁপড়ার কথা শুনতে পেলেন এবং বুঝতে পারলেন।

কুরআনে বলা হয়েছে, পিঁপড়ার কথা শুনে সুলাইমান (আ.) মুচকি হেসে উঠলেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন—

“হে আমার রব! আপনি আমাকে যে নিয়ামত দিয়েছেন, তার জন্য আমাকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার তাওফিক দিন।”

এখানে সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো—এত বড় রাজত্ব, এত বিশাল বাহিনী এবং এত ক্ষমতা থাকার পরও সুলাইমান (আ.) অহংকার করেননি।

বরং একটি ছোট্ট পিঁপড়ার ঘটনা তাঁকে আল্লাহর নিয়ামতের কথা মনে করিয়ে দিল।

এই ঘটনা আমাদের জন্য অনেক বড় শিক্ষা।

আমরা অনেক সময় সামান্য ক্ষমতা, টাকা-পয়সা, বাড়ি-গাড়ি বা কোনো সফলতা পেলেই অহংকার করতে শুরু করি। অথচ সুলাইমান (আ.)-এর মতো একজন নবী ও বিশাল রাজ্যের অধিকারী মানুষও জানতেন—এসব আসলে আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত।

তাই আমাদেরও উচিত নিজের জীবনের ছোট-বড় প্রতিটি নিয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।

আরেকটি বিষয় এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ—পিঁপড়ার মতো ক্ষুদ্র একটি প্রাণীকেও আল্লাহ তায়ালা এমন ক্ষমতা দিয়েছেন যে সে নিজের দলকে বিপদ থেকে সতর্ক করতে পারে।

এটা আল্লাহর সৃষ্টির অসীম কুদরতের একটি নিদর্শন।

সূরা আন-নামল, ২৭ নম্বর সূরার ১৮–১৯ নম্বর আয়াতে এই ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে।

তাই ঘটনাটি শুধু একটি আশ্চর্য গল্প নয়; এর মধ্যে রয়েছে ঈমান, কৃতজ্ঞতা, বিনয় এবং আল্লাহর অসীম ক্ষমতার শিক্ষা।

আমাদের জীবনে যত বড় সফলতাই আসুক, কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়—সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা নিয়ামত।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার এবং অহংকার থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Exit mobile version