বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
বৃষ্টি নামলে আমরা অনেকেই শুধু ভাবি, আজকে হয়তো বাইরে বের হওয়া যাবে না। রাস্তায় পানি জমবে, কাপড় ভিজে যাবে—এই পর্যন্তই। কিন্তু একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, এই বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটার পেছনে আল্লাহর অসীম কুদরত রয়েছে।
একবার ভাবুন তো, আকাশে এত পানি কোথা থেকে আসে? সমুদ্রের পানি, নদীর পানি, পুকুরের পানি—সবকিছু থেকে পানি বাষ্প হয়ে ওপরে উঠে যায়। পরে সেই পানি মেঘের মধ্যে জমা হয় এবং উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টির আকারে পৃথিবীতে নেমে আসে। বিজ্ঞান আমাদের এই প্রক্রিয়াটা বুঝতে সাহায্য করে, কিন্তু একজন মুমিনের কাছে এর পেছনে আল্লাহর হুকুম ও কুদরতও স্পষ্ট।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, “আর আমি আকাশ থেকে বরকতময় পানি বর্ষণ করেছি।”
—সূরা ক্বাফ: ৯
এই একটি আয়াতেই বৃষ্টির একটি সুন্দর পরিচয় পাওয়া যায়—বরকতময় পানি।
বৃষ্টি না হলে আমাদের পৃথিবী কেমন হতো, একবার চিন্তা করুন। মাঠের ফসল শুকিয়ে যেত, গাছপালা বাঁচতে পারত না, নদী-খাল ও জলাধারগুলোতে পানির পরিমাণ কমে যেত। মানুষ ও প্রাণীর জীবনও কঠিন হয়ে পড়ত।
আল্লাহ বৃষ্টির মাধ্যমে শুকনো মাটিকে আবার জীবিত করেন। যে মাটি কয়েকদিন আগেও শুকনো ও ফেটে ছিল, বৃষ্টি পড়ার পর সেখান থেকেই সবুজ ঘাস বের হয়। ছোট ছোট গাছপালা সতেজ হয়ে ওঠে। কৃষকের জমিতে নতুন প্রাণ ফিরে আসে।
কুরআনে আল্লাহ বলেন, “আর তুমি জমিনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাও, অতঃপর যখন আমি তার ওপর পানি বর্ষণ করি, তখন তা আন্দোলিত হয় ও স্ফীত হয় এবং তাতে উদগত হয় সব ধরনের মনোরম উদ্ভিদ।”
—সূরা আল-হাজ্জ: ৫
সত্যিই তো, বৃষ্টির পর প্রকৃতির দিকে তাকালে মনে হয় যেন মৃত মাটির মধ্যে আবার প্রাণ ফিরে এসেছে।
আর বৃষ্টি শুধু মানুষের জন্য নয়। পাখি, পশু, গাছপালা—অসংখ্য জীবের জীবন এই পানির ওপর নির্ভরশীল। আমরা হয়তো একটি বৃষ্টির ফোঁটার মূল্য বুঝি না, কিন্তু পৃথিবীর কত প্রাণীর জন্য এই পানি জীবন বাঁচানোর কারণ, সেটা ভাবলে অবাক হতে হয়।
তাই বৃষ্টি হলে শুধু বিরক্ত না হয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
হাদিসে বৃষ্টি দেখলে আল্লাহর রাসুল ﷺ-এর একটি দোয়ার কথা এসেছে:
“আল্লাহুম্মা সাইয়্যিবান নাফি‘আন”
অর্থ: “হে আল্লাহ! এটিকে উপকারী বৃষ্টি করুন।”
তবে একটা বিষয় মনে রাখা দরকার—প্রতিটি বৃষ্টি যে শুধু মানুষের জন্য আনন্দের হবে, এমন নয়। কখনো অতিরিক্ত বৃষ্টি বন্যা বা ক্ষতির কারণ হতে পারে। তখনও একজন মুমিন আল্লাহর ওপর ভরসা করে এবং তাঁর কাছে নিরাপত্তা ও কল্যাণের দোয়া করে।
সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো, বৃষ্টি আমাদের একটি শিক্ষা দেয়—শুকনো মাটিও আবার জীবিত হতে পারে।
ঠিক তেমনি, মানুষের জীবন যতই কঠিন হয়ে যাক, যত গুনাহই হয়ে থাকুক, আল্লাহর রহমতের দরজা বন্ধ নয়। একজন মানুষ যদি আন্তরিকভাবে তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করতে পারেন।
তাই পরের বার বৃষ্টি নামলে শুধু জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থেকো না। কয়েক মুহূর্তের জন্য ভাবো—এই পানি আমার জীবনের কত প্রয়োজনীয়! তারপর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো।
বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আল্লাহর রহমত ছাড়া আমরা সত্যিই অসহায়।
আল্লাহ আমাদের জন্য বৃষ্টিকে উপকারী করুন, আমাদের রিজিকে বরকত দিন এবং তাঁর রহমত থেকে আমাদের বঞ্চিত না করুন। আমিন।

