Site icon Trickbd.com

মৃত্যুর পর মানুষের প্রথম কী হবে? ইসলাম কী বলে?

মৃত্যু… শব্দটা শুনলেই আমাদের অনেকের বুকটা কেমন যেন ভারী হয়ে আসে। কারণ আমরা সবাই জানি, একদিন না একদিন এই পৃথিবীর জীবন শেষ হবে। কিন্তু কখন হবে, কোথায় হবে—সেটা কেউ জানে না।

তবে কখনো কি ভেবে দেখেছেন, মানুষ মারা যাওয়ার পর প্রথম কী ঘটে?

মৃত্যুর পর কি সবকিছু শেষ হয়ে যায়? নাকি শুরু হয় আরেকটি নতুন জীবন?

ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, মৃত্যু মানুষের সম্পূর্ণ শেষ নয়। বরং দুনিয়ার জীবন শেষ হওয়ার পর শুরু হয় আখিরাতের জীবনের একটি নতুন পর্যায়।

মানুষ যখন মৃত্যুর সময় পৌঁছে যায়, তখন তার রূহ দেহ থেকে পৃথক হওয়ার বিষয়টি আসে। কুরআন ও হাদিসে মৃত্যুর সময় এবং রূহ কবজ করার ব্যাপারে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। এরপর মানুষ আর দুনিয়ার জীবনে ফিরে এসে নিজের আমল করার সুযোগ পায় না।

এখানেই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

আমরা দুনিয়াতে থাকতে কত কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকি—টাকা-পয়সা, বাড়ি, গাড়ি, ব্যবসা, চাকরি, মানুষের প্রশংসা, মোবাইল আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। মনে হয় এগুলোই যেন জীবনের সবকিছু।

কিন্তু মৃত্যুর মুহূর্ত এলে এসবের কোনোটাই সঙ্গে যাবে না।

সঙ্গে থাকবে আমাদের আমল।

কুরআনে আল্লাহ বলেন, প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই, যে মৃত্যুর বাইরে থাকতে পারবে।

মৃত্যুর পর মানুষ বারযাখের জীবনে প্রবেশ করে—অর্থাৎ দুনিয়ার জীবন ও কিয়ামতের মধ্যবর্তী এক পর্যায়। সেখানে মানুষের দুনিয়ার জীবন আর আগের মতো থাকে না।

তারপর আসবে সেই মহাদিবস—কিয়ামতের দিন।

আল্লাহ যখন কিয়ামত সংঘটিত করবেন, তখন মানুষকে পুনরুত্থিত করা হবে। সবাইকে একত্র করা হবে। সেদিন মানুষ বুঝতে পারবে, দুনিয়ার জীবনে যে সময়টাকে সে খুব সাধারণ মনে করেছিল, সেটাই ছিল আসলে সবচেয়ে মূল্যবান সময়।

সেদিন কেউ বলবে না—আরও টাকা চাই।

কেউ বলবে না—আরও বড় বাড়ি চাই।

বরং মানুষ চাইবে, যদি তাকে পৃথিবীতে আরেকবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে সে ভালো কাজ করত, তওবা করত, নামাজ পড়ত, মানুষের হক আদায় করত এবং আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকত।

কিন্তু তখন আর সেই সুযোগ থাকবে না।

তাই মৃত্যুর পর প্রথম কী হবে—এই প্রশ্নের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো:

“মৃত্যুর জন্য আমি কী প্রস্তুতি নিয়েছি?”

আমরা জানি না আমাদের মৃত্যু কখন আসবে। আজ যে মানুষটি সুস্থভাবে ঘুমাতে যাচ্ছে, কাল হয়তো সে আর জেগে উঠবে না। আবার যে মানুষটি আজ আমাদের পাশে বসে আছে, হয়তো কিছুদিন পর তাকে কবরস্থানে রেখে আসতে হবে।

এটাই দুনিয়ার বাস্তবতা।

তাই ভাই, মৃত্যুকে শুধু ভয় পাওয়ার বিষয় হিসেবে না দেখে নিজেকে সংশোধনের একটি স্মরণিকা হিসেবে দেখুন।

নামাজ ঠিক করুন।

হারাম থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করুন।

মা-বাবার হক আদায় করুন।

কারও ওপর জুলুম করে থাকলে ক্ষমা চান।

কারও হক নষ্ট করে থাকলে তা ফিরিয়ে দিন।

আর সবচেয়ে বড় কথা—আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করুন।

কারণ আমরা জানি না, আমাদের জীবনের শেষ দিনটি কোন দিন।

হয়তো আজকের রাতটাই শেষ রাত।

হয়তো আগামী সকালটাই শেষ সকাল।

তাই মৃত্যু আসার আগে আমাদের প্রস্তুত হওয়া উচিত।

আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে ঈমানের সঙ্গে জীবন কাটানোর এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যু বরণ করার তাওফিক দেন। আমাদের কবরকে শান্তির স্থান করুন এবং কিয়ামতের দিন আমাদের ওপর রহমত করুন।

আমিন।

Exit mobile version