নির্বাচনের ভোট হ্যাকিং টেকনিক!
বলাই বাহুল্য এমন টাইটেল দেখে খানিক ভীমড়ি আর বাকিটা বিরক্তি জাগাটাই স্বাভাবিক। তবে আমি কনফিউশান ক্লিয়ার করছি “মোটের ওপর এটি নূন্যতম রাজনৈতিক পোস্ট নয় বরং শুধুমাত্র সাইকোলজি (Lifestyle Relative) এর সাথে সমাজবিজ্ঞান (Sociology) এর সংমিশ্রণ মাত্র! আর অবশিষ্ট যে বিরক্তির কারন সেটিরও মীমাংসা করে দিচ্ছি “এখানে ডার্ক সাইকোলজির Tricks আছে”। সুতরাং চলুন না খানিক সময় না হয় নষ্ট করেই একটু কষ্ট করে আর্টিকেল পড়া যাক – লাভ না হলেও লস যে হবে তাতে মোটামুটি আশাবাদী।
নির্বাচনের ভোট কি?
নাহ, আপনাকে স্কুল বা কলেজ লেভেলের সমাজবিজ্ঞানের “ভোট” এর ডেফিনেশন মুখস্থ স্মরণ করতে হবে না; সহজভাবে এক শব্দ বললে “ভোট” হলো “সমর্থন”। তো সেই সমর্থন এর সংখ্যাগত বিষয়ে আপনি তুলনামূলক অন্য সবার চেয়ে কতোটা এগিয়ে আছেন সেটার বিচারেই নির্বাচন (চুজ করা বা বাছাই করা তথা Elected করা) করাকেই বোঝানো হয়। এখন এই নির্বাচনের ভোট তথা সমর্থন এর সংখ্যাগত বিষয়ে যারা মূল উপাদান তথা Element তারা হলেন নির্ধারিত বৈধ জনসাধারণ (যার যার সর্মথক গোষ্ঠী সহ এবং সমর্থক গোষ্ঠী ছাড়াও)। কিসব ড্যাশ…ড্যাশ… লিখছি তাইনা? ওয়েল, এই এতোটুকু অন্তত আপনার জানা সত্ত্বেও পুনরায় পড়িয়ে নিলাম যাতে পরে প্যারাতে পড়তে না হয় – আইমিন সরল বিষয় সহজে বুঝতে প্যাচ না লাগে!
নির্বাচনের ভোট হ্যাকিং!
যেকোন নির্বাচনের ভোট হ্যাকের অন্যতম সহজ এবং সবচেয়ে কার্যকরী উপাদানগত বৈশিষ্ট্য হলো “চিন্তা চেতনা ও বুদ্ধির দিক হতে আপাত নির্বোধ এক ভোটদাতা গোষ্ঠী”। এখন শুনতে কটু লাগলেও বিষয়টা তো কার্যত মিথ্যা নয় যে ” আমরা আসলেই বুদ্ধিগ্রাহ্য দিক হতে প্রায়শ নির্বোধ” – নয়তো ৫০ টাকা হতে ৫০০ টাকার প্রলোভনে পড়ে আমরা আমাদের সমর্থন তথা ভোট বিক্রি করতাম না; উপরন্তু সেই ভোট বিক্রি করা টাকাতে বিকালে আয়েশ করে “কে কতো কিভাবে কার নিকট হতে নিতে পারলো?” এটা নিয়ে চায়ের দোকানে আড্ডা হতে বিতর্ক জুড়ে দেওয়ার অবকাশ হতো না! যায় হউক – কনটেক্সটের ভেতরেই থাকি…
পার্সোনাল বেনিফিট
তো এই অসচেতন ভোট দাতা গোষ্ঠীর সমর্থন অর্থাৎ ভোট প্রাপ্তি [পড়ুন: হ্যাক] জন্য আপনাকে “তাদের ব্যক্তিগত লাইফের সাথে ইন্টারএ্যাক্ট করে এমন সাবজেক্টিভ ইস্যুর সাথে ভোটের কন্ডিশন যুক্ত করে দিতে হবে”। কঠিন লাগছে তাইনা? আসুন সহজে বোঝার চেষ্টা করি “আপনি যদি নির্বাচনের কোন একজন প্রার্থী হউন এবং আমি যদি একজন সাধারণ ভোটদাতা হই তাহলে ভোট (আমার আপনাকে দেওয়া) প্রাপ্তির শর্ত এমন হতে হবে যেন – সেই ভোটের বিনিময়ে আমি যেন আক্ষরিকভাবেই কিছু পাই”। এখন “ভোটের বিনিময়ে ভাত” এটা যেমন অতিশয় পথের মানুষ এবং নিম্নবিত্ত এর জন্য কার্যকরী উপায় তেমনি “সরকারী চাকুরী প্রত্যাশী যুবকের CV রেখে একটা আগলা অমুক নামক সরকারী চাকুরীর সাইন করা নন-ভ্যালিড অফিশিয়াল প্রিন্টেড পেপার’ই হতে পারে কোয়াইট এনাফ”। শুধু যে একটা ভোটের জন্য এনাফ তা নয় বরং ভোটে নির্বাচিত হলে “এখন দ্যাখো…যদি উপরওয়ালা মুখ তুলে তাকায় আর নির্বাচনের পাস করি তাহলে এমনিই চাকুরী তো কনফার্ম হয়েই আছে – এপোয়েন্টমেন্ট লেটার ২/১ মাসে হয়ে যাবে” এই কোটেড কথাটুকু ঐ যুবকের পরিবার পরিজন এমনকি পাড়া প্রতিবেশীকেও ভোট প্রাপ্তিতে সাবকনশিয়াস মোটিভেট করবে।
ফাইনান্সিশিয়াল বেনিফিট
এরপর আসা যাক সবচেয়ে প্রচলিত একটা উপায় “টাকা” – যা কিনা হিউম্যান সাইকোলজি তথা ব্রেইন নিয়ন্ত্রণে খুবই কার্যকরী একটা ফিজিক্যাল এ্যাসেট। তো এই টাকার বিনিময়ে ভোট ক্রয়/বিক্রয় কিংবা প্রচারণা যদিও বাংলাদেশ আইনের স্পষ্ট বিধি লঙ্ঘন এবং অপরাধ তথাপি এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে ব্যক্তিগতভাবে এই আমরাই অধিকাংশ সময় নানান অযুহাত (যেমন দারিদ্র্যতা / ভোট দিলেও যা না দিলেও তাই হবে… মাঝখানে কয়টা টাকা সংসার বা পকেটে আসলো / এমনিই খুশী হয়ে দিয়েছে / বড়ভাই এর বখশিশ এইসব আরকি) দেখিয়ে টাকার বিনিময়ে ভোট বিক্রি করে থাকি। সুতরাং ভোট হ্যাকিং এর জন্য টাকা খুব সাধারান তবে সবচেয়ে কার্যকরী উপায়। তবে যেহেতু এটা হ্যাকিং টেকনিক তাই টাকা ছাড়াই কিংবা যতোটা কম পরিমাণে টাকা খরচ করে আপনি নিশ্চিত সমর্থন লাভ করতে পারেন! এটার জন্য সবার আগে আপনার সমর্থক গোষ্ঠীর হতে আংশিক Rumor ছড়িয়ে দিতে হবে যে “আপনাকে ভোট দিলে নাকি তমুক পরিমানের বেশ বড় একটা এমাউান্টের টাকা পাওয়া যাবে”। এখানে আংশিক বলার কারন হলো আসলেই শুরুতে আপনাকে কয়েকজন’কে কিছু অংশের টাকা প্রদান করতে হবে – কেননা এটিকে বাস্তব হিসেবে অন্যের মনে ক্ষণিক সময়ের জন্য হলেও সত্যাসত্য রূপে (যতোটুকু সময় ভোটদানের জন্য নির্দিষ্ট) গেঁথে দিতে হবে – যাতে আসলেই টাকা পাওয়ার এক সহজাত লিস্পা সাইকোলজিক্যালি ইমপ্যাক্ট করে। তো এখানে Dark Hacking ফ্যাক্ট’টা আরও খানিক Deep অর্থাৎ আদতে ভোটের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাবার পর যদি আপনি নির্বাচিত হতে না পারেন তখন “ঐসব সহজ সরল নিষ্পাপ লোভী জনগণ আর টাকা নেবার ফুসরত পাবে না” – আর একান্তই রেপুটেশন ফ্যাক্ট হলে পূর্বের মতোই ছোটখাটো একটা মেকি ঝামেলা সৃষ্টি করলে হিউম্যান মাইন্ড এমনিতেই ডাইভার্ট হয়ে যাবে। তবুও একটা প্রশ্ন থাকে যে “যেহেতু আপনি একজন বড় মনের বিশাল মাপের মানুষ – সুতরাং এমন ওপেন ম্যানিউপুলেশনের বিষয়টা আসলেই আপনার মান সম্মান শেষ করে দিবে না তো?” ওয়েট…যেহেতু জনসাধারণ আপনাকে ভোট দিয়েছে একরূপ টাকার বিনিময়ে সুতরাং শেষমেষ ভোটে হেরে টাকা না পাওয়ার বিষয়টা কিন্তু কানাকানি হলেপ আসলে ঐরকম হাইলাইটেড হবে না; এটার রিজন হলো পাবলিক’লি আমরা স্ক্যামের স্বীকার হলেও সেটা সবার সামনে প্রকাশ করতে লজ্জা পাই (যেহেতু সেই স্ক্যামের মাঝে স্বীয় লোভী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে)। আর এমনিতেও উপরের যে “মান সম্মান” শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে সেটার প্রতিউত্তর হলো “বাস্তবিকার্থেই না তো ভোটের প্রার্থী হিসেবে এমন কাজে আপনার নিজের ভেতর নূন্যতম মান ও সম্মানের বালাই নেই – আর না তো ঐসব জনসাধারণ যারা টাকার বিনিময়ে নিজেদের ভোট বিক্রি করছে তাদের মনে কোনরূপ সম্মানের অবশিষ্ট বিদ্যমান” – সুতরাং এই সাইকোলজিক্যাল প্যাচে প্যারা অন্তত নেই!
ভাত
এখন আমরা খুব সহজ ও সাধারণ একটা ফ্যাক্ট নিয়ে আসবো যা হলো “ভাত”। এই ভাত তথা খাবার এর গুরুত্ব অপরিসীম; উদাহরণস্বরূপ সাইকোলজিক্যাল কন্ডিশন বোঝাতে দুটি টার্ম এনালাইসিস করতে পারি (১) আমরা ব্যক্তিগতভাবে রাগারাগি বা উত্তেজিত থাকার পরও যখন ভাত খায় – এরপর আমাদের ঐ নেগেটিভ এক্সাইটেড মানসিকতা হ্রাস পায়। এই কারনটা হয়তো প্রথাগত সেই ছোটকালে রাগ করে ভাত না খেয়ে থাকার পর বাবা মা এর স্নেহে আদর করে ভাত খাওয়িয়ে রাগ ভাঙ্গানোর মতো দারুণ একটি সাইকোলজিক্যাল কন্ডিশন। (২) যদিও আমরা জনগণ হিসেবে আদতে অসচেতন এবং গড়পড়তা খুব ভালো মানের মানুষ নই – তবুও আসলে পেটে ভাত পড়ার পর ইনস্ট্যান্ট “নেমক খেয়ে নেমকহারামী করতে চায় না” কেননা ভরপেট উদরপূর্তির পর যদি সেটারই বিপরীত কিছু করতে চাই তাহলে সেটা স্বকীয় মানসিকতায় সাবকনশিয়াসলি সেল্ফ কনফ্লিক্টশন সৃষ্টি করে – তাই মানুষ হিসেবে আমরা যতোই থার্ডক্লাস হই না কেন আদতে নিজের কাছে নিজেরা সবসময়ই আত্মপক্ষ সমর্থনে “একজন ভালো মানুষ” হয়ে থাকি। সুতরাং নির্বাচনের আগে “সময় মতো সময়ে” এই সাধারণ ভাতের ব্যবস্থা [ভাত বলতে শুধু সাদা ভাত না হয়ে বিরিয়ানি ইত্যাদি টাইপের ব্যবস্থা আরকি] বেশ ভালো কাজে আসতে পারে; তবে শর্ত থাকে একটিই যে “খাবার প্যাক করে নয় বরং জায়গায় থেকে খেতে হবে” প্রয়োজনে না হয় নির্বাচন প্রার্থী হয়ে খানিক দিলদরদী চরিত্রে আপনি বাসায় নিয়ে যাবার জন্য আরও কিছু প্যাকেট এর ব্যবস্থা রাখতে পারেন – যাতে এটা আরও ভালো কাজ করবে। আর হ্যা, যেহেতু ভাত [মূলত খাবার] প্রসঙ্গে আসায় হলো তাই জানিয়ে রাখি “খাবার খাওয়িয়ে মন জয় করতে না পারলেও ব্রেইন হ্যাক ভালো মতোই করা যায়” যার সাথে সেরোটোনিন এর ইনিশিয়াল রিলিজ রিলেটেড – তবে সেটা হয়তো এখানে উল্লেখ করা বড্ড বাড়াবাড়ি রকমের ক্রা’ইম হতে পারে তাই আপাতত এখানেই সমাপ্ত রাখি!
ভোট না চাওয়া!
আমাদের দেশে যারাই নির্বাচনে দাঁড়ান তারাই যতো সুন্দর মুখের যতো মিষ্টি বুলি’ই হউক – তাতে মূল চোদ্দকথা এই থাকে যে “ভাই…ভোট’টা কিন্তু আমাকেই দিয়েন”। কিন্তু কোনরূপ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ (ইনিয়েবিনিয়েও নয়) ভোট চাওয়া ছাড়াই আপনি আপনার প্রচারণা চালাতে পারেন। আপনার মনে হতে পারে যে এটা একটা বিশাল রকমের “ভুল’ তথাপি একান্তই এই “ভোটে দাড়িয়ে ভোট না চাওয়া” এবং অন্যদের নিকট হতে এই বিষয়টা ওয়েল স্প্রেড আউট হওয়ায় জনসাধারণের মনে একটা সেল্ফ ইনট্রোডিউসারী ভ্যাকুয়াম [সহজভাবে বোঝার সুবিধার জন্য বললে “মনের মাঝে ফাঁকা ফাঁকা অনুভব হওয়া”] এর ফলে স্বভাবতই কৌতুহল কাজ করবে – সেই কৌতুক যতোক্ষণ পর্যন্ত থাকবে সেটাই মানুষকে ততো বেশী আপনার দিকে টানাতে বাধ্য করবে [বিষয়টা একটু ডিপ তবে কনসার্ন এর এনালাইসিস করলে বুঝতে আশাকরি খুব একটা কঠিন হবে না]। আর হ্যা, কৌতুহল যদি একান্তই না টানে তবুও একই রাস্তায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে একটু পরপর মাইকিং করিয়ে কানের চৌদ্দগ্রাম(!) করানোর মত কৌতুকে যে বিরক্তি অনুভব হয় তাতে আপনার নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট অন্তত সৃষ্টি হবে না – এটি সুনিশ্চিত থাকুন। আচ্ছা আমি তো আসলে ভোট হ্যাকিং এর টেকনিক সমগ্র নিয়ে লিখছি না তাইনা? আমার মূল মোটিভ এটাই ছিলো যে ভোট জিনিসটা যে সাইকোলজিক্যাল ম্যানিউপুলেশন হতে করা যায় সেটি জনসাধারণ’কে উপলব্ধি করানো [উপলব্ধি এটা যে কতো সহজে আমরা আমাদের মূল্যবান মানসিকতা বিকিয়ে দিতে পারি / কথায় কথায় বড় গলায় জোর দিয়ে করে যতোই বড় মানুষ হই না কেন আদতে ভেতর হতে প্রায় পঁচে যাওয়া সর্বসারশূন্য ব্যতীত কিছুই না]। আমার মনে হয় এই কাজটুকু আমি উপরের লেখায় প্রকাশ করতে পেরেছি – আর সাইকোলজিক্যাল কন্ডিশন ওয়াইজ যে Trick সেটাও হয়তো এনালাইসিসের মাধ্যমে কিছুটা হলেও আপনি রিয়েলাইজ করতে পেরেছেন। এইটুকুতেই আমার লেখনীর যথার্থ প্রাপ্তির স্যাটিসফেকশান!
শুভকামনা রইলো – ভালো থাকুন!

