টাকা কী? বড়লোক হওয়ার উপায় কী
যারপরনাই শিরোনাম অদ্ভুত ও আদিখ্যেতাপূর্ণ মনে হলেও আস্থা রাখুন – অবশ্যই আপনি এমন কিছু জানতে পারবেন যেটা সম্পর্কে আগে হয়তো কখনো ভাবনাতেও আসেনি!
টাকা কী?
সহজভাবে টাকা হলো এমন একটি স্বীকৃত মাধ্যম যার মাধ্যমে আমরা পণ্য ও সেবা ক্রয় বিক্রয় এবং লেনদেন করতে পারি; এটি রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার জন্য বৈধ এবং স্বীকৃত মাধ্যম।
তো এই পুঁথিগত সংজ্ঞার বাইরে এবার এবার একটু কঠিন করে যদি জানতে চাই “টাকা কি?” তাহলে উত্তর আসবে ব্যক্তি স্বাপেক্ষ ভিন্ন ভিন্ন পার্সপেক্টিভ ও পারসেপশন হতে। এই যেমন কারোর কাছে টাকা মানে কেবলি একটি সংখ্যা বা ফিগার উদাহরণস্বরূপ ব্যাংকার বা হিসাবরক্ষক কিংবা ম্যানেজার, ভিক্ষুকের জন্য টাকা মানে ক্ষুধার অন্ন [অবশ্য যদি সে আদৌ প্রকৃত ভিক্ষুক হয়], কারোর কাছে টাকা মানে কেবলি বিনোদন আর আনন্দ উল্লাস, জুয়ারি এর নিকট টাকা মানে বেটিং করে হার অথবা জিতে থ্রিল, রিকশাচালকের নিকট টাকা মানে মলিন কাগজ হলেও তাতে স্বপ্ন বুনন, নেশাখোরের নিকট টাকা মানে খানিক কল্পনার জগতে বিচরণ করার আয়াস ইত্যাদি।
ভাবছেন এসব কি লিখছি? এটা তো কাব্য সাহিত্যের স্থান নয় যে এসব লেখার মানে আছে?
– অবশ্যই মানে আছে! আর সেটাই বলছি…
তো এই যে এক একজনের নিকট টাকার বিশেষনগত বিশেষ্য সেটাই আসলে “টাকার পরিচয়” জানান দেয়; বস্তুর “টাকা হলো একটি সাইকোলজিক্যাল সূচক” যা ব্যবহার করে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি এচিভ করতে সক্ষম হউন।
এখন মনে হয়তো প্রশ্ন জাগবে যে টাকা কিভাবে সাইকোলজিক্যাল সূচক হয়?
আচ্ছা আর্টিকেলের উপরের অংশে আবার ফিরে যান এবং পড়ুন – আপনি একটু গভীরভাবে যদি চিন্তা করেন তবে দেখতে পাবেন যে “নানা মানুষের নানান উপায়ে উপার্জিত টাকার মূল্যায়ন কিন্তু ব্যক্তির ব্যক্তত্ব স্বাপেক্ষ” সুতরাং উপরোক্ত উদাহরণগুলো রিভার্স সাইকোলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং করলে দেখা যাবে:
(১) ব্যাংকার বা হিসাবরক্ষক কিংবা ম্যানেজার’কে যদি গ্রহনযোগ্য কোন ভ্যালিড সংখ্যার কাগজ দেওয়া হয় – অনায়েসেই তার নিকট টাকার প্রয়োজন মিটে যাবে।
এখন উদাহরণের উদাহরণ দিয়ে বোঝাতে চাইলে দেখবেন যারা ধনী মানুষ তারা কিন্তু টাকার বান্ডিল কিংবা বস্তা বাসায় না রেখে সেটাকে ব্যাংক বা লকারে রেখে এমন একটি ভ্যালিড পেপার যেমন ব্যাংক একাউন্ট / বন্ড / সঞ্চয়পত্র ইত্যাদিতে একটি সংখ্যা নিজের কাছে সংরক্ষণ করে মাত্র।
(২) প্রকৃত ভিক্ষুক’কে টাকার বদলে খাবার বা তার প্রয়োজনীয় জীবন ধারনের ব্যবস্থা করে দিলে সে তাতেই তৃপ্ত হয়ে যাবে।
(৩) আমুদে মানুষের কাছে টাকা যেমন বিনোদন – বিপরীতে বিনোদন পাওয়ার জন্য আমোদ প্রমাদ কিংবা ফুর্তিতে তারা খরচ করতে একদমই নির্লিপ্ত!
(৪) রিকশাচালক তথা নিম্নবিত্ত সাধারণ মানুষের কাছে টাকা যেমন জীবনের সকল মৌলিক চাহিদা পূরণ করার উপায় – তেমনি উক্ত শ্রেনীর মানুষের জীবনের সকল সাধারণ চাহিদা মিটলেই সে খুশী।
উদাহরণস্বরূপ ধনী মানুষের কাছে প্রতিদিনের দুপুরের খাবারে মাংস তে যেখানে কিঞ্চিৎ অরুচি জাগায় সে ডাল ভাতে বৈচিত্র্যতা খুঁজে ঠিক তেমনি ঐ নিম্নবর্গীয় শ্রেনীর সাধারণ মানুষ সপ্তাহান্তে দুপুরে পরিবার নিয়ে একবেলা মাংসের আহারে একই একই আনন্দ লাভ করছে।
(৫) সবিশেষ নেশাখোরের প্রসঙ্গে সে জল কিংবা ধোয়ার মাঝে যে সাইকেডেলিক ফিলিংস খুঁজে – সেই একই ফিলিংস মস্তিষ্কে স্টিমুলেট করতেই সে টাকার জন্য হন্যে পশুর মতো বিবেকহীন হতেও সংকোচ করে না।
উদাহরণ দেবার প্রয়োজন নেই তথাপি পত্রিকাত হরহামেশাই “নেশার টাকার জন্য নিজের মা/বাবা’কে…… করলো নিজ সন্তান” এমন খবর তো প্রায়ই দেখে থাকেন।
তাহলে এখন কি দাড়ালো?
টাকা আসলেই একটা সাইকোলজিক্যাল সূচক।
তবে এখানেও কিন্তু একটা কথা আছে – এই সাইকোলজিক্যাল সূচক কিন্তু একদমই অদৃশ্য একটি কন্ডিশন যা সার্বজনীন গ্রহনযোগ্য।
একটু কঠিন লাগছে?
আসুন বুঝিয়ে দিচ্ছি….আপনার কাছে ১০০ টাকা মানে যাই হউক সেটা নেশাখোরের নিকট এক ছিলিম ড্রাগ/ ব্যাংকারের কাছে খুচরা টাকা / রিকশাওয়ালার কাছে খুশীতে আত্মহারা হওয়া একটি ভাড়ার টিপ / ফূর্তিবাজের কাছে ১০ মিনিটের বিনোদন হলেও আদতে সেই “১০০ টাকা এর মূল্য বাস্তবেই ১০০ টাকা পরিমান থাকবে”।
সুতরাং “টাকা সবার কাছেই গ্রহনযোগ্য একটা উপায় মাত্র” – এবার নিশ্চয়ই সাইকোলজিক্যাল সূচক মানতে আর আপত্তি রইলো না!
তো এইসব বলার মানে কি? এসব জানা না জানায় কি আসে যায়?
আরে যায় রে ভাই যায় – আর আসেও রে ভাই আসে সেটা হলো “টাকা” – অর্থাৎ এই টাকার পেছনের সাইকোলজিক্যাল সূচকের কাহিনী যদি একবার বুঝতে পারেন তবে নিশ্চিত থাকুন “আপনি টাকার খেলা খেলতেই পারেন”।
টাকার খেলা!
হ্যা, টাকার খেলা – এই যে আমাদের চারিপাশে যতোই নিত্য নৈমিত্তিক লেনদেন দেখেন না কেন সেখানে আসলে টাকা একটি কাগজের নোট আকারে যেন খেলার সামগ্রী মাত্র। এখানে টাকার আলাদা নূন্যতম কোন বৈশিষ্ট্য নেই যা উক্ত ঘটনার সাথে নূন্যতম সম্পর্ক রাখে। উদাহরণস্বরূপ আপনি একটি হোটেলে ভাত খেতে গেলেও টাকা লাগবে আবার সিনেমা দেখতে হলেও টাকা দিয়েই টিকিট কিনতে হবে – দুটি আলাদা আলাদা ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন টার্ম হওয়া সত্ত্বেও আসলে এখানে “টাকা” কেবলি “টাকা” হয়েই থাকছে যাতে আলাদা করে ঘটনার বিষয়ের সাথে রিলেটেড নয়।
তো এই টাকার খেলাতে আসলে টাকা লাভ করার জন্য (উপার্জন/ইনকাম কিংবা হ্যাকিং যেটাই বলুন আর যেমনই ভাবুন) আপনাকে ঘটনার বিষয়ের সাথে ইন্টারএ্যাক্ট করতে হবে – সেই ঘটনায় আপনি যতোটা প্রভাবশালী ঘটক হবেন ততোই ঐ বিষয়টিকে আপনার মতো করে কনট্রোল করে টাকার এক্সেস করতে পারবেন।
সহজভাবে বললে আপনি যদি একটি লেবুর গাছের মালিক হতে পারেন তবে সেই গাছের লেবু যতোই চিপড়ান – তাতে আপত্তি করার কেউ নেই; তবে অতিরিক্ত নিংড়ে নিলে যে তেতো স্বাদ হয় সেটা অতিরক্তি টাকার মালিক হলে জীবনের বৈচিত্র্য হারিয়ে যাওয়া মানুষের দৃষ্টান্ত হতে উপলব্ধি করতে পারেন।
টাকার সংখ্যা আর টাকার পরিমানের সাইকোলজি
শুনতে দারুন মজার হলেও টাকার অংক আর টাকার সংখ্যার সাইকোলজি খুব গভীর; যেখানে আপনার পকেটে ১০০০ টাকার একটি নোট থাকলে যদিও আপনার কাছে মোট ১০০০ টাকায় থাকছে – তবুও ১০০ টাকার ১০ টি নোটে আপনার সাইকোলজিক্যাল কন্ডিশন ভিন্ন ভিন্ন হবে; শুধু আপনার ক্ষেত্রেই যে এমনটা হয় তা নয় বরং ১০০ টাকার একটি গোটা বান্ডিল থাকলে সবার মাঝেই আলাদা সেন্সেশন কাজ করে।
এই বিষয়টা আসলে টাকার পরিমান দিয়ে হিউম্যান মাইন্ড’কে প্ররোচিত করে – “টাকার মালিক” হওয়ার মতো একটি অনুভূতি প্রদান করে।
টাকা চান?
এই পৃথিবীতে আসলে প্রায় সবাই আমরা টাকা চায় – তবে সেই টাকা এচিভ করার জন্য সবচেয়ে ভুল যে কাজটা করা হয় তা হলো “টাকার পেছনে ছোটা” যেখানে কার্যকরী ফ্যাক্ট হওয়া উচিত ছিলো “টাকার জন্য ছোটা”।
আপনি কখনোই টাকার পিছে ছুটে টাকা লাভ করতে পারবেন না – বরং আপনাকে টাকার জন্য ছুটতে হবে; সেই দৌড়ে আপনি কতোটা দ্রুত তার ওপর নির্ভর করবে আপনি কতোটা তাড়াতাড়ি টাকা লাভ পারবেন।
উপরে আলোচনা হতে এতোটুকু তো অন্তত স্পষ্ট হয়েছে যে “টাকা আসলে একটি সাইকোলজিক্যাল সূচক” তাই লাভ পেতে চাইলে আপনাকে টাকা আসতে পারে এমন ঘটনার বিয়ষয়গুলো যথাসম্ভব বুঝতে হবে এবং সেটা নিয়ন্ত্রণ করা জানতে হবে – তবেই টাকার ওপর রাজত্ব কায়েম করতে পারবেন।
বিষয়টা কি একটু কি একটু কঠিন হয়ে গেলো?
সম্ভাবত হয়েছে – চলুন আবারো উদাহরণ দিয়ে স্পষ্ট করা যাক।
যে ব্যাংকারের নিকট ১ লক্ষ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনেছেন; তাকে সেই একই সঞ্চয় এর বিপরীতে মাত্র ১০০০ টাকা যদি লাভ দেখানো যায় – তাতে বাকি ৯৯ হাজার টাকাতে অনায়েসেই একটি নির্দিষ্ট সময় অবধি এক্সেস করার রাইট পাওয়া যায়। আবার যে ভগঘুরে নেশার মত্ত থাকে তার আর্জ টাইমে স্রেফ কিছুটা সাইকেডেলিক এর বিনিময়ে নিজের জান – প্রাণ থেকে শুরু করে পকেট অবধি নির্দিধায় উজাড় করে দিতে কালক্ষেপণ করবে না!
কি তাইনা?!
টাকার মালিক হওয়া যায়?
একটি প্রশ্ন হয়তো মাথাতে আসতে পারে যে টাকার মালিক হলে কেমন হতো?
সত্যি বলতে এটা খুবই বাজে হতো কেননা আপনি যদি আক্ষরিকভাবেই টাকার মালিক হতে চান তবে সেই টাকা হয়ে যাবে কেবলই একটি “স্থির সম্পদ” যা কখনোই ইকোনমিক ভ্যালিডিটি লাভ করে না।
বিষয়টা এমনভাবে বোঝা যেতে পারে যে “একটি দেশ তার প্রয়োজনের তুলনায় পূর্ণভাবে যতো ইচ্ছা ততো টাকার নোট মার্কটে ছাড়লো – ফলে সবার হাতে অসংখ্য টাকা থাকছে বটে কিন্তু মূল্যমান না থাকায় মুদ্রাস্ফীতির জন্য পুরো অর্থনৈতিক ইকো সিস্টেমটাই কলাপস করছে”।
আরও সহজ করে বলছি ধরুন আপনার কাছে একটি টাকার মেশিন আছে যা দিয়ে আপনি এবং আপনার পরিবার যতো ইচ্ছা ততো টাকা বানাতে পারেন – তো আপনি যখনই আপনার পরিবারের প্রিয়তমার জন্য বিপুল টাকা খরচ করে একটি সোনাল নেকলেস আনছেন – তখনই দেখতে পেলেন সে আরও অধিক মূল্যের ডায়মন্ডের নেকলেস পড়ে আপনাকে সারপ্রাইজ করে দিলো!
যেহেতু এখানে টাকার কোন মূল্যই আসলে মূল্যায়িত হবে না তখন আপনার লাইফের কোন ঘটনায় আসলে টাকার ওপর নির্ভরশীল থেকে জাস্টিফাইড হবে না – তাইতো টাকার মালিক হওয়ার জন্য টাকা ছাপানো নয় বরং টাকা এচিভ করার ঘটনার দিকেই শুধুমাত্র কনসেনট্রেশান দেওয়া উচিত হবে।
বসে বসে টাকা ইনকাম?
আচ্ছা কেমন হতো যদি বসে বসে টাকা ইনকাম করা যেতো? নাহ, মানে যদিও এটাকে ঠিক “ইনকাম” বলা যায় না তবুও বসে বসে টাকা জাদুর মতো হাজির হলে সেটা আসলে কেমন হতো?
নাহ, এখানেও আসলে আপনি “টাকার স্যাটিসফেকশান” পাবেন না – বরং তখন টাকা আপনার নিকট এমনই সস্তা বিষয়ে পরিণত হবে যার প্রয়োজন আছে বৈকি তথাপি মূল্যায়ন নেই।
এই যেমন স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসে আমাদের জীবন ধারনের জন্য অবশ্যই অক্সিজেন অপরিহার্য একটি উপাদান তবে সেই সেটাকে আমরা সুস্থ অবস্থানে নূন্যতম মূল্যায়ন না করলেও অসুস্থতা অইসিইউতে সেটাই লাইফ সাপোর্টিং ইলিমেন্ট হয়ে দাড়ায়।
সুতরাং বসে বসে অটোম্যাটিক টাকা ইনকাম হলেও আদতে আপনি ঠিক সেই স্যাটিসফেকশান নিশ্চয়ই পাবেন না – যেমনটা আপনি এখন টাকা পাওয়ার জন্য মানসিকভাবে উদ্রীব থাকেন।
তবুও এই “বসে বসে টাকা ইনকাম” বিষয়টাকে লেজিটভাবে গ্রহন করতে হলে আসলে “প্যাসিভ ইনকাম” কে বোঝানো যায় যেখানে একটি স্থান হতে মোটামুটি নিশ্চিতভাবে নিয়মিত টাকা ইনকাম হবে। এটি নানান উপায়ে করা যায় যেমন অফলাইনে গাছ লাগিয়ে কিংবা অনলাইনে আর্টিকেল হতে রেভিনিউ গেইন করে; তথাপি আসলে আক্ষরিকভাবে চিরদিনের মতো পার্মানেন্ট রিসোর্স হতে টাকা জেনারেট করা বাস্তবিকপক্ষে সম্ভব নয় – অবশ্যই আপনাকে ইফোর্ট দিতেই হবে।
মোদ্দাকথা আপনি যদি টাকা এচিভ করতে চান এবং এটার মূল্যায়ন চান তবে আপনাকে সময়, শ্রম, মেধা এবং স্ট্যামিনা দিতেই হবে – এটার অল্টারনেটিং কিছু নেই এবং অল্টারনেট কিছু হতেও পারে না।
বড়লোক হওয়ার উপায়!
এখন সবচেয়ে মজার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যায় যে “বড়লোক হওয়ার উপায়” নিয়ে; যদিও আলোচনা করে তো আর বড়লোক হওয়া যায় না তথাপি বড়লোক হওয়ার মূলমন্ত্র’টি হলো “চিন্তা” – যা হতে আসলেই আপনি আক্ষরিকভাবে “বড় লোক” হতে পারবেন।
দেখুন আপনি যদি “টাকা হতে বড়লোক” করার উপায় খুঁজেন তাহলে সেই টাকা’টা আসার রিসোর্স “বড়” হতে হবে। এই বড় রিসোর্স খুঁজতে হলে অবশ্যই আপনার বড় ভাবনা তথা Big Thinking এর প্রয়োজন।
যাই হউক সবার আগে একটি প্রশ্নের ক্ল্যারিটি যাচাই করা যায় যে “সত্যিই কি টাকা হলে বড়লোক হওয়া যায়?”
আসলে “না” – টাকা দিয়ে কখনোই বড়লোক হওয়া যায় না বরং টাকা এচিভ করার থিংকিং যতোটা ইফেক্টিভ এবং ইফিসিয়েন্সি হবে সেটাই আপনাকে ধনী তথা বড়লোক হওয়াতে পারে।
এখনও বিষয়টা হয়তো জটিল মনে পারে – তবে উপরের উদাহরণে সহায্যে কঠিন বিষয়টা যথাসম্ভব সহজভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা যেতে পারে….
একজন ব্যাংকার – ভিক্ষুক – আমুদে মানুষ – রিকশাচালক আর নেশাখোর চরিত্র সমন্বয়ে বড়লোক হওয়ার ঘটনা সাজানো যেতে পারে। একজন ব্যাংকার যার নিকট কেবলি “টাকা” মানে একটি সংখ্যা বা ফিগার তার জীবনে টাকার বিপরীতে আমোদ ও ফূর্তি’কে যদি নেশা ধরিয়ে দেওয়া যায় তাহলে ঠিকই তাকে পথের ভিক্ষুক বানিয়ে দেওয়া যাবে – তাইনা?
উহু…আপনার কাছে বিষয়টাকে খুবই Creepy মনে হচ্ছে তাইনা?
অনেকটা ডার্ক সাইকোলজিক্যাল মাইন্ড হ্যাকিং এর মতো মনে হতে পারে – তথাপি এখানে হালাল/হারাম তথা লিগ্যাল/ইলিগ্যাল আর্নিং এর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঐ সাইকোলজিটাই কাজ করে।
আপনি যেভাবে টাকা এচিভ করছেন – সেই এচিভ করার কার্যপ্রণালীতে আপনি কতোটা ডেডিকেটেড এবং অর্নেস্ট, তাতে কেমন স্যাটিসফেকশান গেইন করতে পারছেন, সেটা সামাজিকভাবে কেমন মূল্যায়িত হয় সেটাই বড়লোক হওয়ার পেছনের মূল সাইকোলজি।
এক্ষেত্রে আপনাকে দুটি কথা আমি পারি যা মস্তিষ্কে ট্রিগার করতে পারে:
(১) জগতে টাকা মানেই সবকিছু নয় – সেখানে প্রেম, ভালোবাসা, সম্পর্ক, শখ, আহ্লাদ অনেক কিছুই আছে; তদুপরি প্রেম, ভালোবাসা, সম্পর্কে, শখ যাই বলুন না কেন সবকিছুর জন্যই আপনার টাকা লাগবে।
(২) টাকা ইনকাম করা কঠিন কিছু নয় – যদি তাতে আপনি আপনার ব্রেইনকে ইউটিলাইজ করতে পারেন তদুপরি সততা বা অর্নেস্ট থাকার বিষয়টি আসলে রিলেটিভ তথা আপেক্ষিক।
আপনি যদি “চুরি করতে চান” তাহলে সেই “চুরি করার কাজটি অন্তত ভালো মতো সততা রেখে সফল করুন” – যদিও মোটাদাগে কাজটি খারাপ ও অনৈতিক। নৈতিকতা এবং অনৈতিকতা একান্তই ব্যক্তি স্বাপেক্ষ বিবেচ্য মাত্র – সুতরাং অবশ্যই একজন ভালো মানুষ হিসেবে আপনি ভালো কাজ করবেন এটাই কাম্য; তবে মূল ফ্যাক্ট হলো “আপনি যাই করছেন সেটা আসলে কতোটুকু ডেডিকেশান দিয়ে করছেন সেটার ওপরেই নির্ভর করছে আপনার সাকাসেস হওয়ার সম্ভবানা।
TrickBD Giveaway
যেহেতু আমার এই লেখার সবকিছুই আসলে TrickBD তে আপনাদের এই গুগল এডসেন্স হতে এড ক্লিক আর ইমপ্রেশনের রেভিনিউ এর ওপর নির্ভর করে সুতরাং এই টাকাটার ওপর আপনাদের একটি বিশেষ কন্ট্রিবিউশন থাকে।
সেটা হউক সমালোচনা কিংবা আলোচনা, ভালোলাগা কিংবা ভালোবাসায় ক্লিক বা কমেন্ট – এটা আপনাদেরই এক্টিভিটি মাত্র; সুতরাং Giveaway কোন মহানুভবতার পরিচয়াক হতে পারে না। অন্যদিকে TrickBD তে লেখা কেবলি আমার জন্য প্যাশান প্রফোশন নয় তাই এটাকে আমি শুধুই Enjoyment এর স্থানেই রাখতে চাই।
TrickBD তে যারা কনট্রিবিউট [অথর হতে পারেননি এমন পার্সন] যাদের একাউন্টের বয়স নূন্যতম ৩ মাস পুরাতন [যেন অথেন্টিক TrickBD Lover বোঝা যায়] এমন ১৫ জন’কে ৫০ টাকা মোবাইল রিচার্জ আকারে দেওয়া হচ্ছে। কমেন্টে আপনারা আপনাদের মোবাইল নাম্বার জানাতে পারেন – আর হ্যা, সেই টাকাতে যদি ১০০ এমবি কিনেও ইন্টারনেট জগত হতে ইফেক্টিভ কিছু এচিভ করতে পারেন সেটিই হবে আমার জন্য প্রাপ্তি তথা এচিভমেন্ট।
শুভকামনা রইলো।
ভালো থাকুন – আপনার সুন্দর জীবনের তরে নিরন্তর শুভকামনা ও ভালোবাসা রইলো।
টেলিগ্রাম আমন্ত্রণ রইলো:- OpenEye
