Site icon Trickbd.com

ভূমিকম্প সচেতনতায় EarthquakeTracker

ভূমিকম্প সচেতনতায় EarthquakeTracker

ভূমিকম্প

সহজভাবে ভূমিকম্প হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরে হঠাৎ শিলা বা টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার ফলে সৃষ্ট কম্পন – যা খুবই স্বাভাবিক একটি প্রাকৃতিক বিষয়। যখন মাটির নিচে জমা হওয়া শক্তি হঠাৎ মুক্ত হয়ে যায় সেই শক্তি Emitting Release করতে একটি শক্তি ঢেউ বা তরঙ্গের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ফলে মাটির উপরিভাগ কেঁপে উঠে।
এটিকেই আমরা ভূমিকম্প বলে অভিহিত করি।
শুনতে অবাক লাগলেও ভূমিকম্প তথা ঐ শিলা বা টেকটোনিক প্লেট সর্বদাই কম্পমান – যদিও তা এতোই সূক্ষভাবে ঘটে তা আমরা উপলব্ধি করতে পারি না।

ভূমিকম্প কেন হয়?

আমাদের পৃথিবীর উপরিভাগ বেশ কিছু বড় বড় খণ্ডে বিভক্ত যেগুলোকে টেকটোনিক প্লেট (Tectonic Plate) বলা হয় – এই প্লেটগুলো সবসময় খুব ধীরগতিতে নড়াচড়া করছে। পৃথিবী অভ্যন্তরে গলিত লাভা ও আগ্নেয়গিরির যে মাঝে মাঝে সুপ্ত অবস্থা হতে জেগে উঠে অগ্নুৎপাত ঘটে এটা মূলত ঐসব টেকটোনিক প্লেটের যে কম্পন তাতে অভ্যন্তরের ভূমির চাপের সংকোচনে মাটির ওপর উঠে আসা। যখন দুটি Tectonic Plate একে অপরের সাথে ঘষা খায় বা ধাক্কা লাগে তখন সেখানে যে প্রচণ্ড চাপের সৃষ্টি হয় ঐ চাপের কারনেই আসলে ভূমির অভ্যন্তরীন শিলাগুলো ফেটে যায় এবং সেই শক্তির অবমুক্তি ঘটানোর জন্য ভূমির উপরিভাগে কম্পন সৃষ্টি করে।
এটি খুবই সাধারণ একটি প্রাকৃতিক বিষয় – যদিও তাতে মানবজীবন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তথাপি এই ভূমিকম্পের কারনেই এই মহাদেশ ও মহাসাগরীয় ভূত্বকের উৎপত্তি।

ভূমিকম্পের স্পেসিফিকেশন

ফোকাস পয়েন্ট (Focus Point) মাটির নিচে যে সুনির্দিষ্ট স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে ফোকাস বা কেন্দ্র বলা হয়; এটি মূলত দুটি টেকটোনিক প্লেট ঠিক যে অঞ্চল জুড়ে পরস্পর আঘাত তথা বলের মিথস্ক্রিয়া ঘটায় সেটিকে Focus বিন্দু হিসেবে ডেফিনেটেড করা হয়।

​এপিসেন্টার এরিয়া (Epicenter) ফোকাসের ঠিক উপরে ভূপৃষ্ঠের ঐ বিন্দুটিকে বলা হয় উপকেন্দ্র বলা হয়; আর এই অঞ্চলেই যেহেতু ঐ শক্তির রিলিজেশান ঘটে তাই এখানে কম্পনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভScale।

ভূমিকম্প পরিমাপ

ভূমিকম্প পরিমাপের জন্য সবচেয়ে প্রচলিত যে পরিমাপক স্কেল ব্যবহৃত হয় সেটি হলো Richter Scale এবং যে টেকনোলজির মাধ্যমে এটি করা হয় তা সেটার প্রযুক্তিকে বলা হয় Seismograph টেকনোলজি (আরও বেশ কিছু টেকনোলজি আছে যেমন আয়নোস্ফিয়ার এর প্রকৃতি বা Nature Analysis ইত্যাদি তথাপি এটিই সর্বাপেক্ষা অধিক নিকটতম রেজাল্ট দিতে পারে)।

রিক্টার স্কেল (Richter Scale)

এটি দিয়ে ভূমিকম্পের তীব্রতা বা শক্তি মাপা হয়। যেমন: ৫.০ বা ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্প ইত্যাদি।
রিক্টার স্কেল (Richter Scale) দিয়ে যদিও ০.০ মাত্রা (স্থির অবস্থা) হতে সর্বোচ্চ কম্পিত অবস্থা ৮.০ থেকে ১০.০ (সর্বোচ্চতম কম্পমান অবস্থা) মাপা যায় তবে সেটা ৮.০ মাত্রাতেই আসলে Absolute গেইন করা যেতে পারে।
কারন ১০.০ এর পরম মাত্রাতে সম্পূর্ণ Destroyment ঘটবে (এটাকে খাতা কলমে গানিতিকভাবে বিবেচনা করা হয় মাত্র)।

​সিসমোগ্রাফ (Seismograph) টেকনলোজি

এই Seismograph টেকনোলজি আসলে এমন একটি যন্ত্র যা ভূমিকম্পের কম্পন বা তরঙ্গের চিত্র রেকর্ড করে – অনেকটা খাতা কলমে মানচিত্র আকার মতো। এটি 2D সারফেসে 3D এর কম্পনকে X,Y,Z আকারে কম্পনটাকে ভিজ্যুয়ালাইজেশান করার একটি উপায়।

ভূমিকম্প সচেতনতায় EarthquakeTracker

এই বিষয়টি আসলে একটু আপেক্ষিক বিষয় কেননা বস্তুতপক্ষে ভূমিকম্পের সময়কাল এতোটাই দ্রুত ঘটে যে সেখানে পূর্ব হতে প্রেডিকশন কিংবা সচেতন হওয়াটা প্রায় অসম্ভব; তবুও যতোটুকু সময় পাওয়া যায় তাতে সচেতন থাকলে হয়তো সেটাই আপনার জীবন’কে বাঁচাতে পারে।
EarthquakeTracker হলো এমন একটি টেকনোলজি যার মাধ্যমে এই মূহুর্তে (Live Time / Real Time) পৃথিবী কোথায় কোথায় কতো মাত্রাতে ভূমিকম্প হচ্ছে – সেটার উৎপত্তি বা Focus হতে আপনি যেখানে আছেন সেটার দূরত্ব কতোখানি (Liner Distance) সেটাকে পরিমাপ করে দেয়।
এছাড়াও Seismograph কে ব্যবহার করে মানচিত্রের মাধ্যমে Map এবং Satalite উভয় ব্যবস্থাতে Epicenter কে আইডিয়েন্টিফাই করবে।

এখন এই দুটি বিষয়’কে এনালাইসিস করে আপনার রিয়েল লোকেশন GPS কে ট্রাক করবে জিওলোকেশন অনুসারে ভূমিকম্পের Indexing সিস্টেম ব্যবস্থায় এই মুহূর্তে কোন Vibration আছে কিনা সেটি Richter Scale তে পরিমাপ মাত্রাতে জানান দিবে।
বলা বাহুল্য যেহেতু সর্বদাই ভূমিকম্পমান সেহেতু অতি নিম্নমানের কম্পনে এটি উহ্য করা যায় – তাই সেক্ষেত্রে জাভাস্ক্রিপ্ট লজিক এমনভাবে সেট করা হয়েছে যেন আক্ষরিকভাবেই ভূমির কম্পন (যা ভূমিকম্প হিসেবে সূচিত করা যায়) সেটিই Data হিসেবে শো করবে।

জাভাস্ক্রিপ্ট এর লজিক ফাংশানটি এখানে দেওয়া হলো

if (navigator.geolocation) {
navigator.geolocation.watchPosition(p => {
uLat = p.coords.latitude;
uLon = p.coords.longitude;
document.getElementById(‘lat’).innerText = uLat.toFixed(4);
document.getElementById(‘lon’).innerText = uLon.toFixed(4);
document.getElementById(‘alt’).innerText = (p.coords.altitude || 0).toFixed(1) + ” m”;
document.getElementById(‘acc’).innerText = p.coords.accuracy.toFixed(0) + ” m”;
L.circleMarker([uLat, uLon], { radius: 8, color: ‘#00f3ff’, fillOpacity: 0.8 }).addTo(map);
}, null, { enableHighAccuracy: true });
}

fetchQuakeData();
setInterval(fetchQuakeData, 30000);
}

সম্পূর্ণ ওয়েব এপ্লিকেশন ডিপ্লয়মেন্ট:- https://humayunshariarhimu.github.io/EarthquakeTracker/

[গিটহাবে Open Source রইলো – ফলে কোনরূপ ইউজার লোকেশন স্নিফিং বা লোকাল ডাটাবেইজে Json আকারে সংরক্ষন হতে সেইফটি নিশ্চিত হতে পারেন / অপরাপর প্রজেক্টি আপনার প্রয়োজনে নিজের মতো কাস্টমাইজেশান করে ব্যবহার করতে বা ডেভোলপমেন্ট করতে পারেন]।

EarthquakeTracker ইন্টারফেইস

ইন্টরফেইস

স্যাটেলাইট ভিউ

রিয়েল টাইম ওয়ার্ল্ড আর্থকোয়াক মনিটরিং

রিয়েল টাইম আর্থকোয়াক লাইভ ডিসটান্স ক্যালকুলেশান


ভূমিকম্প সচেতনতা

(১) ভূমিকম্পের সময় আপনি যদি ঘরের ভেতর থাকেন এবং কোনভাবে বাইরে বের হওয়ার পরিস্থিতি না থাকে তাহলে নিচু হোন এবং দুই হাত ও হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে মেঝেতে বসে পড়ুন। কোনো শক্ত টেবিল বা ডেস্কের নিচে ঢুকে পড়ুন যাতে মাথা সেইফ থাকে এবং কম্পন না থামা পর্যন্ত টেবিল কিংবা অন্য শক্ত কিছু আকড়ে থাকুন। এটি প্রাইমেট অবস্থায় আপনার অন্তত জীবনকে বাঁচাতে পারে।

(২) ঘরের বাইরে থাকলে বিল্ডিং, গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি বা বড় সাইনবোর্ড থেকে দূরে যথাসম্ভব কোনো খোলা জায়গায় আশ্রয় নিন যেন যদি ঐসব ভেঙ্গে পড়ে তাহলে আপনি ফিজিক্যালি সেইফ থাকতে পারেন। খুব সংকীর্ণ ওপেন প্লেস হলে মাথার ওপর কাঁচ বা ইট কিংবা নড়বড়ে কিছু পড়তে পারে এমন জায়গা থেকে দূরে থাকুন।

(৩) যদি ভ্রাম্যমান অবস্থাতে থাকেন যেমন গাড়ী বা বাস সেক্ষেত্রে নিরাপদ স্থানে গাড়ী থামিয়ে সেখানেই থাকুন – গাড়ী পার্কিং এর ক্ষেত্রে অবশ্যই ওপেন প্লেস সিলেক্ট করা উচিত হবে।

কনক্লুশন

ভূমিকম্প তথা Earthquake প্রাকৃতিক একটি অনন্য ঘটনা তথাপি এটাকে প্যানিক না হয়ে যদি আপনি সচেতন হউন এবং আমরা পরিপূর্ণভাবে অবকাঠামোগত ডেভেলপমেন্ট করতে পারি তবে তবে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ না করেই এটাকে মানিয়ে নিয়ে জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারি – এটিই আমাদের একান্ত কর্তব্য।
ভূমিকম্প কোন অভিশাপ অন্তত নয় – যতোদিনে আমরা এটা বুঝে পরিপূর্ণ সচেতন হতে পারবো ততোদিনে হয়তো আক্ষরিকভাবে একটি উন্নত জাতিতে পরিণত হবো।

শুভকামনা রইলো।
টেলিগ্রাম আমন্ত্রণ রইলো : OpenEye

Exit mobile version