Site icon Trickbd.com

কেন পাসপোর্ট থেকে “EXCEPT IS.RAEL” লেখাটা সরিয়ে দেওয়ার হয়

এইটা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ বড়সড় একটা হট্টগোল হইছিল, এমনকী এখনও হচ্ছে।  আমরা তো বাঙালি ভাই এতো কিচ্ছু বুঝতে চাই না! 

বিষয়টা আসলে যতটা না রাজনৈতিক, তার চেয়ে বেশি টেকনিক্যাল বা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের ব্যাপার। সহজ করে বুঝিয়ে বলছি।

বাংলাদেশি পাসপোর্ট থেকে “EXCEPT…. IS/RAEL” লেখাটা সরিয়ে দেওয়ার পেছনে মূলত কয়েকটা কারণ আছে।

১. আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (ICAO Compliance)

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের ই-পাসপোর্ট এখন আইসিএও (ICAO) স্ট্যান্ডার্ড ফলো করে। সেখানে পাসপোর্টের ভেতরে এই ধরণের কোনো দেশের নাম আলাদা করে বাদ রাখা বা যোগ করার নিয়ম খুব একটা নেই। পাসপোর্টকে গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডে আনতেই সরকার এই পরিবর্তনটা আনছে।

২. পাসপোর্টের ব্র্যান্ডিং

অনেক ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম এভাবে লিখে দেওয়াটা পাসপোর্টের “ভিসা ফ্রি স্কোর” বা র‍্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে খুব একটা প্রফেশনাল দেখায় না। আধুনিক পাসপোর্টের ফরম্যাট ধরে রাখতেই এই কাটছাঁট।

৩. কনফিউশন দূর করা

আগে ওই লেখাটা থাকায় অনেক সময় বিদেশের ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশি প্রবাসীরা সমস্যায় পড়তেন। ইমিগ্রেশন অফিসাররা মনে করতেন হয়তো এই পাসপোর্টে কোনো বিশেষ বাধা আছে। সেই ঝামেলা এড়াতেও এটা একটা বড় কাজ দিয়েছে।

এখন আসল কথা যেটা আপনার জানা দরকার:

পাসপোর্ট থেকে লেখাটা মুছে গেছে মানেই কিন্তু এই না যে আপনি কালকেই ইস_রায়েলের টিকিট কাটতে পারবেন।

ভ্রমণে বাধা: বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনো ইস_রায়েলের সাথে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

আইনি বিষয়: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছে যে, লেখা থাকুক আর না থাকুক, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য এখনো ইস_রায়েল ভ্রমণ নিষিদ্ধ। যদি কেউ যায়, তবে তাকে দেশে ফেরার পর আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে।

তো সোজা কথা হলো, আপনার পাসপোর্টে এখন লেখা আছে “এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ”, কিন্তু আপনার দেশের আইন আপনাকে এখনো সেখানে যাওয়ার পারমিশন দেয় নাই।

Exit mobile version