আজকে আমরা এমন একটি সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা নিয়ে কথা বলবো,যা প্রতিদিন আমাদের চারপাশের শত শত মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। আমাদের দেশে একটি প্রচলিত প্রবণতা আছে -অসুখ হলে প্রথমে অবহেলা করা, তারপর রোগ যখন গুরুতর রূপ নেয় তখন কোন হাতুড়ে ডাক্তার বা কোন ফার্মেসি থেকে ঔষুধ বা চিকিৎসা সেবা নিয়ে সে অসুখকে দাবিয়ে রেখে সাময়িক আরাম লাভের চেষ্টা করা , কিন্তু পরে গিয়ে যখন সে অসুখই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায় যা কোনো চিকিৎসার মাধ্যমেই আর ঠিক করাই সম্ভব নয় তখন তারা ভালো চিকিৎসার আশায় এদিক সেদিক দৌড়ায় কিন্তু তখন কিছুই আর করার থাকে না । আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আমরা জানতে পারবো এই মহামারীর কারণ এবং এর থেকে বাঁচতে আমাদের কি করা উচিত সে সম্পর্কে।
এটি মহামারীর আকার ধারণ করার জন্য নিজের কারণগুলোকে দায়ী করা যায়…
১. ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে ঔষধ কিনে খাওয়া :আমাদের দেশে সামান্য জ্বর,সর্দি বা মাথা ব্যাথা হলেই আমরা ডাক্তারের কাছে না গিয়ে পাশের ফার্মেসিতে চলে যায়। ফার্মেসির দোকানদার কোন পরীক্ষা ছাড়াই নিজের মন মত কিছু ঔষুধ এমনকি কড়া কড়া অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে দেয়।
ভয়াবহতা :যার কারনে শরীরে “অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স “তৈরি হয়। অর্থাৎ পরবর্তীতে আসল প্রয়োজনে সে অ্যান্টিবায়োটিক আর শরীরে কাজ করে না, সামান্য রোগও তখন মহামারীর আকার ধারণ করে।
২. হাতুড়ে ডাক্তার দেখানো :কম খরচে বা সহজে সেবা পাওয়ার লোভে মানুষ এদের কাছে যায়।
ভয়াবহতা :সে ডাক্তাররা রোগের আসল কারণ না জেনে কেবল সামরিক আরামের জন্য উচ্চমাত্রার স্টেরয়েড বা ব্যথানাশক ঔষুধ দিয়ে দেয়। এতে রোগ সাময়িকভাবে কমলেও লিভার, কিডনি এবং হার্ট স্থায়ীভাবে ড্যামেজ হয়ে যায়।
৩. সঠিক সময়ে সঠিক ডাক্তারের কাছে না যাওয়া :অনেকের ভেতর একটা প্রবণতা থাকে- “বেশি কিছু হয়নি, কিছু ঔষুধ খেলে ঠিক হয়ে যাবো,ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না। “
ভয়াবহতা:যার কারণে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের মত অসংক্রমণ রোগগুলো প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে সহজে নিরাময় সম্ভব কিন্তু সময় নষ্ট করার জন্য যখন রোগটি শরীরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে তখন দেশের বড় বড় ডাক্তারদের কাছে গিয়েও কোনো লাভ হয় না।
আইসিডিডিআর,বি(icddr,b) এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)- এর সহায়তায় গ্রামীণ বাংলাদেশে পরিচালিত স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রায়ই ৬৯.৩% পরিবার চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ বিলম্ব করে।( https://www.google.com/url?sa=i&source=web&rct=j&url=https://www.researchgate.net/publication/6246816_Perceived_Delay_in_Healthcare-seeking_for_Episodes_of_Serious_Illness_and_Its_Implications_for_Safe_Motherhood_Interventions_in_Rural_Bangladesh&ved=2ahUKEwi71cfomamVAxXAUGcHHZWNJ2wQy_kOegkIAggACO4BEAk&opi=89978449&cd&psig=AOvVaw0SdNuSWecl4T9Mc4kub_KJ&ust=1782710916434000)
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এর হেলথ এন্ড মরবিডি স্ট্যাটাস সার্ভে(HMSS) অনুযায়ী ৫৪% রোগী নিবন্ধিত কোন চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে সরাসরি ঔষুধের দোকানে বা নিজে নিজে চিকিৎসা গ্রহণ করে (https://objectstorage.ap-dcc-gazipur-1.oraclecloud15.com/n/axvjbnqprylg/b/V2Ministry/o/office-bbs/2024/12/db26848eef684ecc83c129a22373f025.pdf [1])
এ ঘটনাগুলো বর্তমান বাংলাদেশে খুব বেশি পরিমাণে ঘটছে,যার ফলে অনেকেই আকালে মৃত্যু দেখছে।
এর থেকে বাঁচতে আমাদের যা করা উচিত…
১.রেজিস্টার্ড ডাক্তার দেখান :চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক বা কড়া ডোজের ঔষুধ সেবন করবেন না। ডাক্তারের বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন আছে কিনা নিশ্চিত হোন।
২.লক্ষণ অবহেলা করবেন না:শরীরে যে কোন অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা দীর্ঘস্থায়ী লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত মানসম্মত সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালের শরণাপন্ন হন।
৩. ফার্মেসির ওপর নির্ভরতা কমানো :ফার্মেসির দোকানদাররা ঔষুধ বিক্রেতা, তারা রোগ নির্ণয়কারী বা চিকিৎসক নন। তাদের দেওয়া ঔষুধে সাময়িক উপশম হলেও ভেতরের রোগটি আরো বৃদ্ধি পায়।
৪.সচেতনতা ছড়ান: আপনার পরিবারের বয়স্ক বা কম শিক্ষিত সদস্যদের এ বিষয়ে সচেতন করুন যাতে তারা কবিরাজি, ঝাড়ফুঁক বা হাতুড়ে চিকিৎসা থেকে দূরে থাকেন।
শেষ কথা: নিজেকে বড় চিকিৎসক মনে করে নিজে নিজে ঔষধ সেবনের মাধ্যমে চিকিৎসা করা বা হাতুড়ে ডাক্তার দেখানো বা ডাক্তারে ভীতি বা”টাকা নষ্ট করে লাভ কি” এমন মানসিকতার মধ্যমে নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলবেন না। ” প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো “-এই নীতি মেনে আমাদের নিজেদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে হবে।
আশা করি আজকের এই পোস্টটি আপনাদের সচেতন করতে সাহায্য করবে। পোস্টটি ভালো লাগলে লাইক দিতে ভুলবেন না এবং আপনার মূল্যবান মতবাদ কমেন্টে জানান। ধন্যবাদ!

