বনের পশু নয় বরং মনের পশুর উৎসর্গে আত্মার পরিশুদ্ধিতা লাভ হউক!
শুরুতেই শত সহস্রবার ক্ষমা চাইলেও বোধকরি যারা শিরোনামে দেখে মনে মনে একটু ক্ষেপে গিয়েছেন তাদের হাত হতে নিস্তার নেই – তথাপি এতোটুকু অন্তত এনসিউরিটি দিচ্ছি এটি পরিপূর্ণভাবে একটি টেকনোলজিক্যাল লেখনী সুতরাং “দয়া করে উত্তেজিত হবেন না – একটু শান্ত হতে আগে পড়ুন – পরে না হয় যা হয় মনের আশ মিটিয়ে বকা দেওয়া যাবে”।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যায় যে অতীতের সিংহভাগ বিশ্বাসী চেতনাতে উৎসব যেমন একটি সার্বজনীন সামাজিক ফ্যাক্ট হিসেবে বিবেচিত হতো। পশু শিকাড়ের যুগে দল বেঁধে মানুষেরা শিকার করতো এবং সকলে একসাথে মিলে সেই খাবার ভাগাভাগি করতো – সেটা উৎসবের মতোই তাদের জন্য একটি ফেস্টিভ হিসেবে পরিগণিত হতো।
এরপর সামাজিক বিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের প্রযুক্তিগত বিকাশের সাথে সাথে বিশ্বাসগত চেতনাও বিবর্তিত হতে থাকে – একটা সময় প্রকৃতি পূজা (প্রকৃতিকে খুশী রাখা যেন আরও বেশী শিকার করতে পারে) হতে এমন ধ্যান ধারনা বিভিন্ন দেবতা ও ঈশ্বরের জন্য উৎস্বর্গ করার বিষটির উদ্ভব হয়।
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি প্রত্যাক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঈশ্বর’কে তুষ্ট করা যেন পার্থিব ও অপার্থিব স্বার্থসিদ্ধি, কল্যাণ লাভ ইত্যাদি নানান সামাজিক ও আধ্যাত্মিক মোটিভ থাকে। অপরাপর ঐসব উৎসর্গের দিনটি বিশেষভাবে গোষ্ঠীগত আচরণে উৎসব আকারে পালিত হয়। বিষয়টা কেবলমাত্র আব্রাহামিক ধর্মগ্রন্থগুলো যেমন ইসলাম ধর্ম নয় বরং সনাতনী ধর্মেও উৎসর্গ হিসেবে বলী দান এর মতো আচার অনুষ্ঠান বিদ্যমান – ততকালীন মানুষ বলী দিয়ে দেবতার সন্তুষ্টি লাভ ধীরে ধীরে মানবিকতার বিকাশে পশু উৎসর্গে এসে থাকে।
যাই হউক আমরা মানুষ হোমো সেপিয়েন্স ধীরে ধীরে সভ্যতার সাথে সময়ের সাথে সাথে চিন্তা চেতনার পরিবর্তে বিকাশ লাভ করেছি – এখনকার সময়ে আসলে শুধুমাত্র এবং কেবলমাত্র আধ্যাত্মিক স্যাটিসফেকশান (সেটা ইউক ঈশ্বর বা যেকোন দেবতা ইত্যাদি) লাভের জন্য পশু’কে উৎসর্গ করা এবং তাতে উৎসব পালন করার মতো বিষয়টি আসলে খুব একটা মানবিক নয়। বিষয়টা মোটের ওপর প্রাণী হত্যা কিংবা ভেগান হয়ে যাওয়ার মতো লজিক্যাল ফ্যালাসি নয় বরং খুব সহজ একটি ফ্যাক্ট “পশুর প্রাণের বিনিময়ে স্পিরিচুয়াল স্যাটিসফেকশান লাভের মতো পাশবিক বিষয় কখনো একজন সুস্থ মানুষের জন্য উৎসব হতে পারে না!”
আক্ষরিকভাবে যদি সত্যিই উৎসর্গ করতে হয় তবে সেটা জীবনে ভালো কাজ করা এবং মন্দ কাজ হতে বিরত থাকার মতো বিষয়গুলো প্র্যাকটিস করা যেতে পারে তাতে একদিন ঘটা করে সারা বছরের ভালো কাজ ও খারাপ কাজ হতে বিরত থাকার এই মহৎ বিষয়টি সেলিব্রেট করা যায়। এমনি চিন্তা চেতনা হতে Utshorgo (উৎসর্গ) এপ্লিকেশনটি বিল্ডআপ করা – যাতে সারা বছরের ভালো কাজ করা ও খারাপ কাজ হতে বিরত থাকার টাস্ক পূরণে পয়েন্ট এচিভ করবেন এবং প্রতীকি পশু উৎসর্গে একটি দিন উৎসব হিসেবে সেলিব্রেট করা যাবে।
উৎস্বর্গের এই কনসেপ্ট বিষয়টা একটু ক্লিয়ার করা দরকার:
- আপনি প্রতিদিন ভালো কাজ করুন – ভালো কাজ না করতে পারলে অন্তত খারাপ কাজ হতে বিরত থাকুন।
- প্রতিদিন টাস্ক অনুসারে ভালো কাজ সম্পন্ন করে আপনি পয়েন্ট এচিভ করবেন।
এভাবে ভালো কাজের বিপরীতে নিজেই নিজের নিকট সেল্ফ কনফেসে যে এচিভমেন্ট সেটা আপনার ডোপামিন নিঃসরণ করে রিওয়ার্ড ট্রিগারিং করবে – যার ফলে আসলেই আপনি একটি ভালো মানুষ হয়ে উঠার প্রেক্ষাপট পাবেন। - যদি আপনার পরিস্থিতি স্বাপেক্ষ ভালো কাজ তথা টাস্ক পূরণ করতে নাও পরেন তবে অন্তত কোন একটি খারাপ কাজ হতে বিরত থাকবেন – তাতেও পয়েন্ট পাবেন; যাতে ধীরে ধীরে আত্মশুদ্ধি লাভের দিকে অগ্রসর হবেন।
আপনি চাইলেই কিন্তু ভালো কাজ না করে কিংবা খারাপ কাজ ত্যাগ না করেও পয়েন্ট এচিভ করতে পারেন। কিন্তু তাতে আসলে কি হবে? আপনি নিজেই নিজের সাথে প্রতারণা করবেন – যেখানে কুরবানী কিংবা বলীদানে শর্ত থাকে যে নিজেকে সৎ ও উজাড় করে দিতে হবে ঈশ্বরের প্রতি; বস্তুত ঐসব উৎসর্গ হয়ে যায় আত্মার পরিশুদ্ধি লাভের পরিবর্তে বরং মেকি সামাজিকতা পালন এবং স্রেফ উৎসব উদযাপন। কিন্তু এখানে আপনি আক্ষরিকভাবে তখনই উৎসবের আনন্দ লাভ করতে পারবেন যখন নিজেকে সৎ রেখে সত্যিকার অর্থে বছরের ৩৬৪ দিন সত্যিই ভালো কাজ করবেন / খারাপ কাজ হতে বিরত থাকবেন – কেবলমাত্র তখনই আপনি ঐ উৎসব এর আনন্দ ফিল করতে সক্ষম হবেন।
ফাংশান
- সেটআপ ও জার্নি: Utshorgo এপ্লিকেশনটিতে প্রবেশ করেই আপনি আপনার নাম এবং ঠিক যখন হতে এই জার্নি শুরু করছেন সেটার তারিখ সিলেক্ট করবেন – তাতে এক বছর অর্থাৎ ৩৬৪ দিন পর ৩৬৫তম দিনে আপনার উৎসবের দিন ডেডিকেটেড হয়।
- দৈনিক টাস্ক ও পয়েন্ট: এরপর Task অংশে প্রতিদিন একটি একটি করে ভালো কাজের টাস্ক পাবেন – ঐসকল ভালো কাজ কমপ্লিট করলে পয়েন্ট পাবেন। এছাড়াও আপনি ভেতরের যেকোন একটি খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করলে সেটির জন্যও পয়েন্ট পাবেন।
- প্রতীকি কোরবানী সংগ্রহ: এভাবে প্রতিদিন আপনি ভালো কাজ করা এবং খারাপ কাজ ত্যাগ করার বিপরীতে পয়েন্ট যোগ হতে থাকবে তাতে প্রতীকি কোরবানী করতে বিভিন্ন পশুর হাট হতে ছাগল, গরু, উট, মহিষ কিনতে পারবেন – যা উৎসবের দিন উৎসর্গ (ডেডিকেট) করতে পারেন এবং সেলিব্রেট করতে পারেন।
বলা বাহুল্য এখানে পশু কোরবানির বিষয়টিও আসলে রূপক – যেটার পরিবর্তে আরও বেটার অল্টারনেট যুক্ত করা যায়। তদুপরি যেখানে পশুর জীবন যেন উৎসবের উপলক্ষ্য না হয় সেটাকে প্রিভেন্ট করার সাইকোলজিক্যাল প্রয়াস মাত্র। - ডেমো প্রদর্শন: এই উৎসব বিষয়টা আসলে কেমন হবে সেটার Demonstration পেতে Demo তে প্রবেশ করে [পাসওয়ার্ড 123] আপনি বিষয়টি দেখতে পারেন। নিশ্চিতভাবে হয়তো আপনার নিকট বিষয়টি খুবই হাস্যকর বলেই মনে হবে – তবে আক্ষরিকভাবে একটিই কিন্তু প্রকৃত উৎসর্গ [একটু লজিক্যালি থিংকিং করলে এটার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারেন]।
ইমেইজ জার্নি:
এপ্লিকেশন (ওপেন সোর্স): https://utshorgo.psychotech.top/
[এপ্লিকেশনটি কেবলমাত্র এই আইডিয়ার একটি প্রোটোটাইপ মাত্র – পরিপূর্ণ ডেভেলপমেন্ট কিংবা কাস্টমাইজেশনের জন্য উন্মুক্ত রইলো]
ইফিসিয়েন্সি
এখন যদি সৎভাবে বলতে হয় যে আসলে এটি ঠিক কতোটা উপযোগী তাহলে বলা যায় এটি ১০০% উপযোগিতা রাখে কিন্তু বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ হতে দেখলে এটি হয়তো নূন্যতম কার্যকরী নয় কেননা আমরা বিভিন্ন বায়াসর্ড মানসিকতায় সামাজিকতার শৃঙ্খল আর বিশ্বাসের শিখলে বন্দী৷ রাতারাতি একদিনে হুট করেই সবকিছু পরিবর্তন করা যায় না – তদুপরি মানবিক এই এমন চিন্তা চেতনার প্রয়াসে হয়তো সত্যি সত্যিই একদিন আমরা এমন মহৎ ও মহান উৎসর্গ’কে সেলিব্রেট করতে পারবো – যাতে সত্যিকার অর্থেই আত্মার পরিশুদ্ধি এবং উৎসব উভয়ই স্বার্থকতা লাভ করবে।
সকলের জন্য শুভকামনা ও ভালোবাসা রইলো।
