বিজ্ঞানের যুগে ভূতের নাম- এ যেন বড়ই বেমানান। আর কেউ ভূতের অস্তিতে বিশ্বাসী, তা তো নিতান্তই হাস্যকর।
অথচ বিশ্বের এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে গেলে এখনো গা ছমছম অনুভূতি আসবে দিনদুপুরে। দেখতে পাবেন ব্যাখ্যাতীত কিছুর আনাগোনা। শুনতে পাবেন ভয়ঙ্কর অার্তচিৎকার। খুব সাহসী মানুষটিরও ভয় পেতে এসব উপকরণ যথেষ্ট হবে। প্রযুক্তির নীল আলোতে সেখানে এখনো রচিত হচ্ছে বহু ভৌতিক গল্প। এমন বহু শহর, গ্রাম এখনো ঠিকে আছে ভুতুড়ে হিসেবে। যার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা আজও মেলেনি। এমনকি সাহসিকতার সঙ্গে এসব ঘটনাকে মিথ্যা প্রমাণ করাও সম্ভব হয়নি।
বিশ্বের এমন কিছু শহর নিয়ে আজকে আলোচনা করব।
সম্পূর্ণ পোস্টটা পড়বেন। এতে আপনার ভালো লাগবে।

বোডি [ক্যালিফোর্নিয়া]

ভাবুন তো, কোনো পাহাড়ঘেরা শহরের ভিতরকার নির্জন খাদ থেকে মাঝে মাঝে উচ্চ শব্দের হাসির আওয়াজ আসে, দূর থেকে ভেসে আসে গল্প করার আওয়াজ বা শোঁনা যায় ফিসফিসির শব্দ। তাকে কি বলবেন, নিশ্চয় ভুতুড়ে? হ্যাঁ, ক্যালিফোর্নিয়ার বোডি শহরে এমন সব কাণ্ড ঘটার জন্য তাকে ভুতুড়েই বলা হয়।
আমেরিকার মানুষ শহর ঘুরে এসে বলে- শহরটি থেকে গুরুগম্ভীরর পিয়ানো বাজানোর শব্দ দূর থেকে ভেসে আসে। মাঝে মাঝে শোনা যায় গানের আওয়াজ। লোকে বলে ওখানে সত্যি সত্যিই ভূতের বাস আছে।
একসময় আমেরিকার সবচেয়ে দুর্ধর্ষ বাসিন্দারর শহর ছিল এটি। ঊনবিংশ শতাব্দীরর মাঝামাঝাতি এসে এখানে প্রতিদিন প্রকাশ্যে খুন হতো।
১৮৮০ সালে বোডির বাইরে দুই ডাকাত একটি স্টেজ কোচ লুট করে। হাজার হাজার ডলারের সোনাও তারা লুকিয়ে ফেলে। পরে অবশ্য তারা জনগণের হাতে মারা যায়। কিন্তু লুট করা সোনার সন্ধান আর মেলেনি। কেউ বলে সেসব সোনা শহরের ধারেকাছে কোথাও মাটি খুঁড়ে নিচে ডাকাতরা পুঁতে রেখেছিল। বর্তমানে বোডি শহরকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ক্লপকথা। এই শহরে বর্তমানে মানুষজন বাস করে না।
১৮৭০ সালের দিকে শহরে তৈরি করা কাঠের দালানগুলো আজও শুধু ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। ভয় আর কল্পকাহিনী নিয়ে বোডি আজ আমেরিকার এক ভুতুড়ে শহর।


রিওলাইট [নেভাদা]

আমেরিকার পূর্ব ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত পৃথিবীর অন্যতম আশ্চর্য স্থান ডেথ ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কে যাবেন আর অদূরেই নেভাদার রিওলাইট শহর থেকে একবার ঘুরে আসবেন না তা কি হয়? ভুতুড়ে এই শহরটিকে নিয়ে বিশ্ববাসীরা যে পরিমাণ মাতামাতি তা হয়তো আর কোনো শহরকে ঘিরে হয়নি এ পর্যন্ত তার ছবিও তোলা হয়েছে অন্য যেকোনো শহর থেকে অনেক বেশি। এর অর্থ দাঁড়ায়, এই শহরের অবশ্যই কিছু না কিছু বিশেষত্ব আছে।
বিংশ শতাব্দীতে নেভাদার এই শহরে ১০ হাজাীর মানুষের বসবাস ছিল। একসময় মাইননাররা শহর ছেড়ে বিদায় নিতে শুরু করে। ফলে ১৯০৭ সালে ভয়ানক আর্থিক সংকট দেখা দেয়। এখানের শ্রমিকরাও সবাই শহর ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। তারপরই সোনার খনি থেকে সোনা উত্তোলনের কাজ শেষ হয়। যাও-বা ছিল তারা মরে যায়। এমনকি জনশূন্যও হয়েছিল। তারপর থেকে এটি সত্যি একটি ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয়। স্বাভাবিকভাবেই গা ছমছমে একটি পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকেই বলে ফাঁকা গ্রামে নাকি ভূত আস্তানাও গেড়েছে। শহরটি ক্রমে ধ্বংসস হতে থাকে। সারা শহর মিলে বর্তমানে দর্শনীয় জিনিস বলতে আছে একটি ট্রেন ডিপো এবল একটি বটল হাউস। শহরের বটল হাউসটি একটি অনন্য নিদর্শন। ১৯০৬ সালে মাইনার টম কোলি পঞ্চাশ হাজার বোতল দিয়ে বোতল বাড়িটি তৈরি করেন। বাড়টির নির্মাণশৈলী সবাইকে অবাক করে দেয়।

ডারগাভস [রাশিয়া]

নানা রহস্যঘেরা ডারগাভস শহরের অবস্থান দক্ষিণ রাশিয়ার উত্তর ওসেশিয়ায়। গ্রামটিতে রয়েছে বহু পুরনো ১০০ টি পাথরের সমাধির এক গোরস্তান। গ্রামবাসী মৃত স্বজনদের কবর দিত, সঙ্গে তাদের ব্যবহারের জামাকাপড় আর পছন্দের জিনিসপত্রও দিত। সেসব জিনিসপত্র দেখে ৪০০ বছর আগে এ গ্রামে থাকা মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা পাওয়া যায়। আর তাই পর্যটক থেকে শুরু করে প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে গবেষণার জন্য ভীষণ আকর্ষণীয় এক জায়গা ডারগাভস। স্থানীয়দের ধারণা, কেউ এখানে একবার প্রবেশ করলে আর কখনো জীবিত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে পারে না। ভুতুড়ে এক শক্তি গ্রামটি বধ করে রেখেছে। তবে কারও মুখে শোনা যায়, আঠারো শতকে ওসেশিয়াজুড়ে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে প্লেগ। সংক্রামণের ভয়ে আক্রান্তদের পাথরের তৈরি বিশেষ এই ঘরে দরকারি জিনিসপত্র রেখে দেওয়া হতো। ভীষণ কষ্ট আর একাকিত্ব নিয়ে একসময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ত তারা। এখন কেউ গ্রামে ঢুকলে প্রথমেই দেখতে পাবেন সাদা রঙের বাড়ির মতো সারিবাধা সমাধিগুলো। প্রতিটি সমাধির সামনেই রয়েছে একটি করে কুয়ো। ধারণা করা হয়, ওসেশিয়ার লোকেরা নিজেদের মৃত স্বজনদের কবর দেওয়ার পর কুয়োতে মুদ্রা ছুড়ে মারত। যদি সেটা কুয়োর নিচে কোনো পাথরকে আঘাত করত, তবে মনে করা হতো, মৃত ব্যক্তির আত্মা স্বর্গে পৌঁছে গেছে।

বাহলা [ওমান]

বহু সত্য-মিথ্যার মিশেলে রচিত আরব্য গল্প-উপন্যাস। অশরীরী কিংবা জিনের ছড়াছড়ি রয়েছে এসব গল্পে। কিন্তু বাস্তবেই তেমনি অভিশপ্ত ঘটনার সাক্ষী হয়ে এখনো টিকে আছে ওমানের বাহলা শহর।
কালো জাদু, ভবিষ্যদ্বাণীসহ ইসলামে নিষিদ্ধ সব ধরনের কাজ চলে এখানে। আর তাই বাহলার বাসিন্দাদের তালিকায়ও আছে ডাইনি, জিন ও জাদুকরদের নাম। যারা ইচ্ছা করলে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সময় না নিয়েই চলে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে বাহলা বর্তমানে কেবল কোনো অভিশপ্ত গ্রামই নয়, বরং পৃথিবীর কালো জাদুর কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। রাজধানী থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরত্বের এই শহরে নিকৃষ্টতম এসব কাজ হরহামেশাই চলে।
শহরটিকে অশরীরী, দুষ্টু আত্মা বা জিনের বাসস্থান বলা হয়। এর পেছনের ইতিহাস আরও ভয়ঙ্কর। আগে শহরটিতে মুসলিম চেহারার আদলে খারিজি সম্প্রদায়রা বাস করত। প্রকৃত অর্থে এরা কালো জাদুর বিদ্যাচর্চা করত। ইসলামের নিষেধ অমান্য করে খারিজিরা কালো জাদুর চর্চার জন্য বাহলা দুর্গটি নির্মাণ করে। তারা এতটাই পারদর্শী ছিল যে, কোনো বাহন ছাড়াই পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে যেতে পারত। মুসলমানদের ওপর তারা বিভিন্ন অত্যাচার করত। তাদের মূল দাবি ছিল সব মুসলিম তাদের অনুসরণ করবে। এতে করে যদি তাদের মৃত্যুও হয় হোক। ইতিহাসে খারিজিরাই প্রথম সন্ত্রাসী, যারা জিহাদের নামে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করত।


পরের পর্বে আর ৪ টি শহর পাবেন।


24 thoughts on "ভুতুড়ে শহর- ১! ৪ টি ভুতের শহর!"

  1. Nishan Ahammed Neon Nishan Ahammed Neon Author says:
    ভালো হয়েছে, ধন্যবাদ ভাইয়া
    তবে কালো জাদু শুধু ঐসব গ্রাম বা প্রাগৈতিহাসিক এলাকাতে নয় বরং আজকের দিনে বৈজ্ঞানিক- আধুনিকতার নামে সেটাকেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এক্সট্রিম লেভেলের মেডিটেশন আর সাইকোলজিকাল কাউন্সিলিং এর মাঝে।
    1. Shadin Shadin Author Post Creator says:
      একদম ঠিক ভাইয়া।
  2. Ridoy Khan Rana Ridoy Khan Rana Author says:
    😈😈👍ভুত😈😈😈
    এই জিনিস টার প্রতি আমি সব চেয়ে বেশি আকৃষ্ট। গত ৪ বছরের বেশি সময় হলো ভুত এফ,এম শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যাই। লাইভ ভুত এফ,এম শুনেও মনের ক্ষুধা মেটে না,,তাই ডাউনলোড করে শুনি।।।
    ধন্যবাদ এমন সুন্দর একটা পোস্ট করার জন্য।
    পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।।
    1. Shadin Shadin Author Post Creator says:
      ধন্যবাদ ভাইয়া।
      ২য় পর্ব খুবই তাড়াতাড়ি পেয়ে যাবেন।
  3. Metal head Contributor says:
    Awesome👻👽🙆👽👻
    Waiting for next part👻👻👻
  4. Soyeb Khan Soyeb Khan Author says:
    খুব সুন্দর। এটা নিয়ে আরো লিখবেন Please.
  5. MD Esmail Author says:
    পৃথিবীতে ভূত বলতে কিছু নেই
    1. Shadin Shadin Author Post Creator says:
      বিজ্ঞানের যুগে ভূতের নাম- এ যেন বড়ই বেমানান।
  6. ViperAK Contributor says:
    ডারগাভস সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং লাগলো।প্রতিটা ঘরের মধ্যে আছে একটা করে মৃত মানুষ
    1. Shadin Shadin Author Post Creator says:
      আসলেই খুবই ইন্টারেস্টিং।
  7. Ridoy Khan Rana Ridoy Khan Rana Author says:
    apni online earning category te ekta vaia er post e coinbase e account create korar link ceyechilen.

    https://trickbd.com/online-earning/359282

    eita coinbase account create korar post….apps use kore account create kora onek easy.

    1. Shadin Shadin Author Post Creator says:
      ধন্যবাদ ভাইয়া। দেখে নিলাম।
  8. AH Sohag AH Sohag Author says:
    ওমান দেশের ওই জায়গায় কি এখনো কালো জাদু প্রচলিত?
    1. Shadin Shadin Author Post Creator says:
      হুম।
  9. Sowrov Sowrov Contributor says:
    good post bhai
  10. HM Tamjid HM Tamjid Contributor says:
    ১৫ দিন পর একটা কমেন্ট করলাম পোস্ট টা ভালো লাগলো।
    1. Shadin Shadin Author Post Creator says:
      ইনশাল্লাহ, ভবিষ্যতেও যেন এরকম ভালো পোস্ট দিতে পারি।
  11. Mr.Badal Contributor says:
    ভুত টুত অাসলে কিছু নেই ভাই
    1. Shadin Shadin Author Post Creator says:
      পোস্টের প্রথম লাইনই বলেছিলাম, বিজ্ঞানের যুগে ভূতের নাম- এ যেন বড়ই বেমানান।
      আপনারাও ঠিক তেমনি।
  12. ভূত বলতে আসলে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই। আপনি যেসব যায়গার কথা উল্লেখ করেছেন সেখানেও কোন ভূত নেই,,বরং এটা একটা লোকভয়, হয়তো এসব ভুতুড়ে কাহিনীর পিছনে রয়েছে অনেক রহস্য।😃শেষ কথা হলোঃ আসলে ভূত বলতে কোন কিছু আছে বলে এটা কোনদিনও প্রমানিত হয়নি, আর বিজ্ঞান এটা বিশ্বাস করে না।
    1. Shadin Shadin Author Post Creator says:
      সেই রহস্যটায় তো উদঘাটন করলাম, ভাইয়া।

Leave a Reply