গত পর্বে ৪ টি ভুতুড়ে শহর নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আজ আর বাকি শেষ ৪ টি ভুতুড়ে শহর নিয়ে আলোচনা করব।
সম্পূর্ণ পোস্টটা পড়বেন তাহলে অনেক ভাল লাগবে।

আল জাজিরা আল হামরা [আরব আমিরাত]

‘আল জাজিরা আল হামরা’ উত্তর আরব আমিরাতের পরিত্যক্ত গ্রাম। আরবরা এর নাম দেয় লাল দ্বীপ। ১৪০০ শতাব্দীতে গ্রামটি তৈরি হয়। ১৮৩১ সালে এর পুনর্নির্মাণও হয়। জানা গেছে, গ্রামটিতে ৩০০-এর বেশি ঘর ও ১৩ টি মসজিদ নিয়ে ৪১০০ লোক বসবাস করত। এখানকার স্থানীয়রা মাছ এবং মুক্তার ব্যবসায় সমৃদ্ধশালী ছিল।


ধনাঢ্য গ্রাম


১৯৬০ সালে গ্রামটি বেশ সমৃদ্ধশালী ও ধনাঢ্য ছিল। তখনো বিলাসী বাড়িঘর ছিল এখানে। উপকূলীয় গ্রামটিতে তখন ফারসি অভিবাসী, পুর্তগিজ ব্যবসায়ী এবং ব্রিটিশ কর্মকর্তারা দাপিয়ে বেড়াতেন। কিন্তু হঠাৎ করেই দৃশ্যপট পাল্টাতে থাকে।

অশরীরী আত্মা


১৯৬৮ সালের পর হঠাৎ করেই মানুষশূন্য হতে থাকে গ্রামটি। যারা থেকে যায় তারাও খুব ভয়ে দিন কাটায়। কারণ, এখানে অশরীরী আত্মার আনাগোনা বেড়ে যায়। নানা রকম ভৌতিক কর্মকাণ্ডে প্রতিদিন জমতে থাকে নানা গল্প।

বিচিত্র হাতের ছাপ


‘আল জাজিরা আল হামরা’ প্যারানরমাল অ্যাকটিভিটিসের জন্য জনপ্রিয়। একবার কিছু পর্যটক ঘুরতে আসেন। প্রাচীন দুর্গের ছবি তুলতে গেলে তাদের সঙ্গেও ঘটতে থাকে অস্বাভাবিক ঘটনা। স্থানীয়দের ধারণা, এখানে অভিশপ্ত আত্মা রয়েছে। তারা প্রায়ই বিচিত্র হাতের চাপ দেখতে পান। তাদের ধারণা, এটি আগত দর্শনার্থীদের জন্য সতর্ক সংকেত।

ব্যারো হ্যাক [যুক্তরাষ্ট্র]

১৮৯০ সালে ব্যারো হ্যাক গ্রামটি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে যায়। অভিশপ্ত এই গ্রাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। বর্তমানে সেখানে কিছু ভাঙা দেয়াল, বিম এবং কয়েকটি কবর ছাড়া কিছুই নেই।
গ্রামটি আশপাশের সবার কাছেই ভৌতিক। এ কারণে নামটাও ‘ভুতুড়ে কণ্ঠের গ্রাম’। মাঝে মাঝে এখানে বিকট চিৎকার শোনা যায়। অথচ এমন নির্জন জঙ্গলে কেউ থাকে না। দর্শনার্থীরা এখানে অদ্ভুত সব আর্তনাদ শুনতে পান। অনেকের অভিযোগ, ঘোড়ার খুরের শব্দ, কুকুরের কান্না এমনকি শূকরের ডাক শুনতে পান। অনেকের দাবি, তারা কবরস্থানের কাছে মুণ্ডুও দেখতে পেয়েছেন। অনেকে আবার ছোট বাচ্চার প্রেতাত্মা দেখেন। ১৯৭১ সালে এক প্যারানরমাল বিশেষজ্ঞ পল ইনো ব্যারো হ্যাক কবরস্থানে গোঙানোর শব্দ পান। পরে তিনি আবিষ্কার করেন একটি কাটা মাথা কান্না করছে, যার চোখ দিয়ে অজস্র ধারায় পানি ঝরছে।

ভাঙ্গর [ভারত]

ভারতের সবচেয়ে ভুতুড়ে রাজস্থানের ভাঙ্গর দুর্গ। ১৫৭৩ সালে নির্মিত এই দুর্গ ভুতুড়ে হয়ে উঠেছে নানা কারণে। প্রচলিত আছে, দুর্গের কাছেই ধ্যান করতেন গুরু বালু নাথ। তিনি মধু সিংকে দুর্গ নির্মাণের শর্ত দেন যেন এর ছায়া গুরুর দেহে না পড়ে। কিন্তু ঠিকই দুর্গের ছায়া গুরুর ওপর পড়ে। তখন নিজের ঐশ্বরিক ক্ষমতাবলে দুর্গকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেন গুরু। অপর কাহিনীতে বলা হয়, ভাঙ্গরে সে সময় এক অতিসুন্দরী রাজকুমারী রত্নাবতী বাস করতেন। উপযুক্ত বয়সে দেশ-বিদেশ থেকে একাধিক বিয়ের সম্বন্ধ আসে। সিঙ্ঘিয়া নামে এক তান্ত্রিকও তাকে পেতে চাইতেন। কিন্তু তিনি জানতেন রাজকুমারী কখনই তাকে ভালোবাসবে না। আর তাই রাজকুমারীর তেলের সঙ্গে মিশিয়ে দেন মন্ত্র। রাজকুমারী বুঝতে পেরে তেল মাটিতে ফেলে দেন। তেল মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাথরে রূপান্তরিত হয়। সেই পাথরের অভিশাপে সিঙ্ঘিয়ার মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যুর আগে সিঙ্ঘিয়া অভিশাপ দেন যে ভাঙ্গর ধ্বংস হয়ে যাবে। এখানে আর কারও জন্ম হবে না। বাস্তবে ঘটেও তাই।
কিছুদিনের ভিতরেই বিরানভূমিতে পরিণত হয় ভাঙ্গর। রাজকুমারীও মারা যান।
এখন পর্যন্ত দিনের বেলায় ফোর্টে প্রবেশ করতে পারলেও সন্ধ্যা ৬ টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে দুর্গ ছেড়ে চলে যেতে হবে আপনাকে। কারণ, রাতের বেলায় দুর্গের ভিতর থেকে কান্নার আওয়াজ, চুড়ির আওয়াজ, আলো, হালকা গন্ধ, হাসার মতো নানা ভৌতিক ব্যাপার বছরের পর বছর ধরে দেখে আসছে মানুষ। সেই সঙ্গে প্রচলিত আছে যে, একরাত ভাঙ্গরে থাকলে পরদিন আর কেউ ফিরে আসে না।
এখন পর্যন্ত কেউ নিজেকে সাহসী আর দুর্গকে ভূতহীন বলে প্রমাণ করতে পারেনি। এখনো রাতের বেলায় ভাঙ্গর দুর্গের পাশ দিয়ে চলার সময় অদৃশ্য মানুষের দেখা পাওয়া যায়।

প্রিপিয়াত [ইউক্রেন]

একটি ভৌতিক শহর হিসেবে পরিচিত উত্তর ইউক্রেনের প্রিপিয়াত। ১৯৮৬ সালে চেরনোবিল দুর্যোগের পর থেকে এলাকাটি একদম ফাঁকা। ১৩ হাজারেরও বেশি অ্যাপার্টমেন্ট, ৩৫ টি খেলার মাঠ, ১৫ টি প্রাইমারি স্কুল, ১০ টি জিম, ১ টি হাসপাতাল, ১ টি রেলস্টেশন এবং ১৬৭ টি বাস থাকলেও নেই কোনো মানুষ! আজও গৃহস্থালির জিনিসপত্র, শিশুদের খেলনা পড়ে রয়েছে সেখানে।
সেখানকার অধিবাসীরা নিজেদের জিনিস নেওয়ারও অনুমতি পায়নি তখন। এমন একটি শহরকে ভূতের শহর বলে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক।
শহরটি একন পরিত্যক্ত। প্রিপিয়াতকে শহর হিসেবে ঘোষণা করা হয় ১৯৭৯ সালে। শহরটি তৈরি হয়েছিল মূলত চেরনোবিল আণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মীদের থাকার জন্য। কিন্তু ২৬ এপ্রিল, ১৯৮৬ সালে চেরনোবিল আণবিক চুল্লিতে দুর্ঘটনার পর শহরটি মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার মাত্র ২ দিনের মধ্যে সবাই শহর ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যায়।


আশা করি দুই পর্বের এই ভুতুড়ে শহরের পোস্ট আপনাদের ভালো লেগেছে এবং অনেক কিছু শিখতে পেরেছেন।


14 thoughts on "ভুতুড়ে শহর- ২! আর ৪ টি ভুতের শহর!"

  1. আর জে লুৎফর আর জে লুৎফর Contributor says:
    ভাই…
    “অদ্ভুত ১০” থেকে কপি করেছেন নাকি?…
    1. Shadin Shadin Author Post Creator says:
      ভাইয়া দুঃখিত।
      “অদ্ভুত ১০” এটা কি আমি নিজেও জানি না।
      সম্পূর্ণ নিজের হাতে কষ্ট করে আড়াই ঘণ্টায় লিখছি।
  2. Sajeeb Sajeeb Contributor says:
    Part 1 ta valo cilo
    1. Shadin Shadin Author Post Creator says:
      এটাও ভালো।
  3. Nishan Ahammed Neon Nishan Ahammed Neon Author says:
    ভালো লাগলো… তথ্য বহুল পোস্ট
  4. SHAWON 60 Contributor says:
    odvut 10 youtube এর একটা চ্যানেলের নাম,এটা ওইখান থেকে নিয়েছেন নাকি।।
    1. Shadin Shadin Author Post Creator says:
      না ভাইয়া।
      আসলে একটা কথা বলি, যখনই পোস্ট পড়ুয়ারা কোন তথ্যবহুল পোস্ট দেখে তখনই বলা শুরু করে, এটা কি কপি করছেন, এমন সাইট/চ্যানেল থেকে নিয়েছেন।
      কিন্তু তারা আসলে এসব না খুঁজেই এমন কমেন্ট করে দেয়।
      তখন পোস্ট করবার আগ্রহ হারিয়ে যায়।
  5. systembreaker Contributor says:
    vy karo kothi kan na dia aksathe10 ta vuter sohor ar post koren
    1. Shadin Shadin Author Post Creator says:
      চেষ্টা করব।

Leave a Reply