বর্তমান সময়ে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস (MFS) যেমন—বিকাশ, নগদ ও রকেট এজেন্ট ব্যবসা একটি অত্যন্ত লাভজনক ও জনপ্রিয় উদ্যোগ। এই ব্যবসায় বড় ধরনের কোনো লসের ঝুঁকি নেই বললেই চলে। আপনি যদি সঠিকভাবে এবং একটু বুদ্ধিমত্তার সাথে এই ব্যবসা পরিচালনা করেন, তবে খুব ভালো একটি আয় করা সম্ভব। নিচে এজেন্ট ব্যবসার লাভ, কমিশন এবং আবেদন করার পদ্ধতি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. এজেন্ট ব্যবসায় লাভ ও কমিশন সিস্টেম কেমন?
সাধারণত বিকাশ, নগদ বা রকেট—সবগুলো প্ল্যাটফর্মেই লেনদেনের কমিশন প্রায় একই রকম হয়ে থাকে:
-
ক্যাশ আউট ও সেন্ড মানি কমিশন: কোনো গ্রাহক আপনার দোকান থেকে ক্যাশ আউট করলে কিংবা আপনি কারো নাম্বারে টাকা পাঠালে হাজারে নির্দিষ্ট হারে (সাধারণত ৪ টাকা) কমিশন পাওয়া যায়।
-
সিক্রেট বা বাড়তি লাভ (পার্সোনাল লেনদেন): দোকান পরিচালনার পাশাপাশি অনেক সময় বড় অ্যামোন্ট (যেমন: ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা) গ্রাহক যখন পার্সোনাল নাম্বারে ক্যাশ আউট করতে দেন, তখন খরচ বা সেন্ড মানি বাবদ বাড়তি টাকাটা নিজের কাছে রেখে ক্যাশ লেনদেন করলে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করা সম্ভব।
-
ব্যবসার নিরাপত্তা: এই ব্যবসায় লস হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যত বেশি লেনদেন হবে, আপনার ইনকাম তত বেশি হবে।
২. দোকানে কেন একাধিক এমএফএস (বিকাশ, নগদ, রকেট) রাখা জরুরি?
আপনার দোকানে যদি শুধু বিকাশ বা একটি নির্দিষ্ট মাধ্যম থাকে, তবে অন্য গ্রাহকরা ফিরে যেতে পারে। তাই কাস্ট ধরে রাখতে এবং প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে দোকানে বিকাশ, নগদ এবং রকেট—তিনটি মাধ্যমই রাখা উচিত। এতে কোনো গ্রাহকই আপনার দোকান থেকে সেবা না নিয়ে ফিরে যাবে না। এছাড়া গ্রাহকদের সাথে সবসময় ভালো ব্যবহার ও আন্তরিক সেবা প্রদান করলে কাস্টমার লয়্যালটি বৃদ্ধি পায়।
৩. কীভাবে এজেন্ট ব্যবসার জন্য আবেদন করবেন?
আপনি দুই উপায়ে বিকাশ বা অন্যান্য এমএফএস এজেন্টের জন্য আবেদন করতে পারেন:
-
অনলাইন পদ্ধতি: সরাসরি কোম্পানির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা পোর্টাল ভিজিট করে অনলাইন ফরম পূরণ করার মাধ্যমে এজেন্টের জন্য আবেদন করা সম্ভব।
-
ম্যানুয়ালি পদ্ধতি (ডিওএসো বা ডিও (DO) এর মাধ্যমে): আপনার এলাকার বাজারে যারা বর্তমানে এমএফএস ব্যবসা করছে, তাদের দোকানে কোম্পানির যে প্রতিনিধি বা ডিও (DO) আসেন, তার সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: ম্যানুয়ালি আবেদন বা ডিও-এর সাথে কথা বলার জন্য সাধারণত নিচের ডকুমেন্টসগুলো প্রয়োজন হয়:
-
টিন সার্টিফিকেট (TIN Certificate)
-
দোকানের ট্রেড লাইসেন্স (Trade License)
-
উদ্যোক্তার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card)
-
পাসপোর্ট সাইজ ছবি
সঠিক নিয়ম মেনে, ভালো ব্যবহার বজায় রেখে এবং সততার সাথে এই ব্যবসা শুরু করলে খুব দ্রুত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
পুরুষ ও নারীর গোপন সমস্যার সমাধান এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য টিপস পেতে ভিজিট করুন: www.sohobas.com

