Samsung Galaxy A37 5G রিভিউ: কয়েক সপ্তাহ ব্যবহার করে যা মনে হলো
সত্যি বলতে মিড-রেঞ্জ Samsung মানেই তো একটা চেনা ছক, ভালো ডিসপ্লে, মোটামুটি ক্যামেরা, আর “চলনসই” পারফরম্যান্স। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ Galaxy A37 5G রোজকার সঙ্গী হিসেবে রাখার পর বুঝলাম, কিছু জায়গায় ফোনটা সত্যিই চমকে দিয়েছে, আবার কিছু জায়গায় পুরনো অভিযোগও রয়ে গেছে।
Display
ফোনটা প্রথম অন করার পর স্ক্রিনে ওয়ালপেপার ভেসে ওঠার সাথে সাথেই মনে হলো, এই দামে এত গাঢ় কালো আর এত প্রাণবন্ত রঙ পাওয়ার কথা না। 6.7 ইঞ্চি Super AMOLED প্যানেল, FHD+ রেজোলিউশন আর 385 ppi টেক্সট যত ছোটই হোক, একবারও ঝাপসা লাগেনি।
120Hz রিফ্রেশ রেটের কারণে স্ক্রল করার সময় হাতের সাথে স্ক্রিনটাও যেন কথা বলে, কোথাও ঝাঁকুনি নেই। রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকবার ফোন চেক করতে হয়েছে, আর অবাক হয়েছি 1900 নিটস পিক ব্রাইটনেসের কারণে স্ক্রিন একবারও চোখের সামনে থেকে হারিয়ে যায়নি।
Performance
Exynos 1480 চিপসেট নিয়ে শুরুতে একটু সন্দেহ ছিল, নামটা খুব একটা রোমাঞ্চ জাগায় না। কিন্তু দৈনন্দিন ব্যবহারে— মেসেজিং, ব্রাউজিং, একসাথে কয়েকটা অ্যাপ খুলে রাখা কোথাও থমকে যায়নি। 8GB RAM আর UFS 3.1 স্টোরেজের কম্বিনেশনে অ্যাপ সুইচিং বেশ ঝরঝরে লেগেছে।
Camera
ক্যামেরা নিয়ে অনুভূতিটা একটু মিশ্র। 50MP OIS-যুক্ত মেইন ক্যামেরা দিনের আলোয় সত্যিই কথা রাখে শার্পনেস, কালার আর ডাইনামিক রেঞ্জ মিলিয়ে ছবি সরাসরি পোস্ট করার মতো, আলাদা এডিটিং লাগেনি বললেই চলে। HDR মোড আকাশ আর ছায়া দুটোর ডিটেইলই সুন্দর ধরে রাখে। কিন্তু 8MP আল্ট্রাওয়াইড লেন্সে গিয়ে একটু হতাশ হয়েছি ফ্রেমের কিনারায় ফিশ-আই ডিস্টরশন চোখে লাগার মতো, বিল্ডিংয়ের সোজা লাইনও বাঁকা দেখায়।
লো-লাইটে মেইন ক্যামেরা নয়েজ বেশ ভালোভাবে সামলায়, সন্ধ্যার বাজারের ছবিও গ্রেইনি লাগেনি। 12MP সেলফি ক্যামেরায় স্কিন টোন একটু ওয়ার্ম কিন্তু ন্যাচারাল, বিউটিফিকেশন জোর করে চাপিয়ে দেয় না এটা ভালো লেগেছে।
তবে ভিডিওতে 4K রেকর্ডিং শুধু 30fps-এই আটকে থাকে, 60fps অপশন না থাকাটা ভ্লগ বা রিলস বানানোর সময় সত্যিই টের পাওয়া যায় মোশন যতটা স্মুথ চাইছিলাম, ততটা পাইনি। পোর্ট্রেট মোডে এজ ডিটেকশন বেশ যত্নশীল, চুলের কিনারা ব্লার করে ফেলার পুরনো সমস্যাটা এখানে অনেকটাই কম।
Battery Life & Charging
5000mAh ব্যাটারি নিয়ে বলতে গেলে, এটাই ফোনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দিক মনে হয়েছে। সকালে বাসা থেকে বের হয়ে সারাদিন Wi-Fi, ব্লুটুথ অন রেখে, মাঝে ইউটিউব-ইনস্টাগ্রাম দেখে, রাতে ফিরে দেখেছি চার্জ তখনও ২০-২৫% বাকি। স্ক্রিন-অন টাইম সহজেই ৬-৭ ঘণ্টা ছুঁয়ে ফেলেছে, যা এই বাজেটে সত্যিই স্বস্তির। 45W ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট থাকায় শূন্য থেকে ফুল চার্জ হতে ঘণ্টাখানেকের মতোই লাগে, তাড়াহুড়োর সময় ২০-২৫ মিনিটেই বেশ খানিকটা চার্জ উঠে যায়। শুধু মনে রাখতে হবে, বক্সে চার্জার আলাদা কিনতে হবে, আর ওয়্যারলেস চার্জিং এখানে নেই। ভারী গেমিং সেশনের পরেও চার্জিং স্পিড কমে যাওয়ার মতো কোনো সমস্যা চোখে পড়েনি, থার্মাল ম্যানেজমেন্ট এখানে বেশ ভরসাযোগ্য মনে হয়েছে।
Final Verdict
কয়েক সপ্তাহ ব্যবহার শেষে সত্যি বলতে, Galaxy A37 5G-কে একটা “নির্ভরযোগ্য বন্ধু” টাইপ ফোন মনে হয়েছে। যে রোজকার কাজে কখনো বিরক্ত করবে না। উজ্জ্বল আর প্রাণবন্ত ডিসপ্লে, দিনভর চলা ব্যাটারি, বিশ্বস্ত মেইন ক্যামেরা আর ৬ বছরের সফটওয়্যার সাপোর্ট। এই কম্বিনেশন এই দামে সহজে পাওয়া যায় না। তবে যারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাই-গ্রাফিক্স গেম খেলেন বা 60fps ভিডিওতে অভ্যস্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, তাদের জন্য এটা প্রথম পছন্দ না-ও হতে পারে। বাংলাদেশে আনঅফিসিয়াল দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ৳৪১,০০০ থেকে, আর অফিসিয়াল ভ্যারিয়েন্ট ৳৫৪,৯৯৯ (8GB+128GB) ও ৳৫৭,৯৯৯ (8GB+256GB)। ট্রেন্ডি স্পেক শিটের চেয়ে যদি স্থিতিশীল, দীর্ঘদিন সঙ্গ দেওয়া একটা ডেইলি ড্রাইভার খুঁজে থাকেন, Galaxy A37 5G নিশ্চিন্তে কিনে ফেলতে পারেন। আর যদি স্টুডেন্ট বাজেটে একটা ফোন চান যেটা ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, আর অবসরের বিনোদন তিনটাতেই সমান আত্মবিশ্বাসে চলবে, এই ফোন আপনাকে হতাশ করবে না।
📱 Samsung Galaxy A37 5G-এর সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন, বাংলাদেশে সর্বশেষ দাম এবং সব ভ্যারিয়েন্টের তথ্য দেখতে
এখানে ক্লিক করুন →

