সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের মূল ভিত্তি হল, অন পেজ এবং অফ পেজ এসইও। এই দুইটি বিষয়ে যে যত বেশি এগিয়ে থাকবে তার পেইজটি গুগলে তত বেশি এগিয়ে থাকবে। এই রুলটি বুঝে ফেলা দুই দিনের বাচ্চার জন্যও কষ্টকর হওয়া উচিত নয়।
শুরুতেই বলে রাখি, এটা শুধুমাত্র বেসিক ধারনা, এখানের প্রত্যেকটি টপিকের উপরেই আলাদা পর্বে এবং ওয়েল ডিটেইল জানকারি আসবে, ইনশাআল্লাহ। এখান থেকে শুধু জেনে রাখুন।
যাইহোক এসইও মাস্টার ক্লাস এর এই পর্বে আমরা অন পেজ এবং অফ পেজ এসইও সম্পর্কে বেশ কিছু ইনফরমেশন সংগ্রহ করে নেব যেগুলো সংগ্রহ করে নিলে আমরা মোটামুটি কিংবা পায় পরিপূর্ণভাবে বিষয়গুলো আয়ত্তে আনতে পারবো।
অন-পেজ SEO
এর ইংরেজি অর্থের দিকে আপনি যদি নজর করেন তাহলে সহজেই বুঝে ফেলার কথা। এখানে বলা হয়েছে অন পেইজ, যার সহজ বাংলা ভাবার্থ হল পেইজের ভিতরে। অর্থাৎ আপনার ওয়েব পেজের ভিতরে যে সমস্ত এসইও এর কার্যকলাপ সম্পাদন করতে হয়, সেগুলো হল অন পেজ এসইও।
তাহলে এক নজরে জেনে নেয়া যাক, এর ভিতরে কি কি লুকিয়ে রয়েছে এবং কিভাবে আপনি এই কাজটি সম্পন্ন করতে পারবেন।
টাইটেল ট্যাগ : এটি হলো আপনার ব্লগ পোস্ট কিংবা ওয়েব পেইজের মস্তিষ্ক। অর্থাৎ আপনি কি সম্পর্কে লিখছেন সেটি সম্পর্কে একটি টাইটেল দেওয়া। এবং সার্চ ইঞ্জিনে এটি সর্বপ্রথম দেখাবে।
যখন আপনি একটি টাইটেল জেনারেট করবেন তখন তার সর্বোচ্চ ক্যারাক্টার সংখ্যা হবে, ৬০। এর বেশি বর্নে আপনি যদি দেখান তাহলে সেটি, গুগল সার্চে পূর্ণভাবে ভালোভাবে দেখাবে না।
মেটা ডেসক্রিপশন: আপনি যেই কনটেন্ট লিখবেন সেই কনটেন্ট এর সম্পর্কে একটি ছোট ধারণা দেয়া। এটিও গুগল সার্চে ভিজিবল থাকবে। সেজন্য, আপনার কনটেন্টের সম্পূর্ণ ডিটেলস ১৪৫ থেকে ১৬০ ক্যারেক্টার এর মধ্যে দেখতে হয়।
মোট কথা হলো, আপনার যে পেজ রয়েছে সেই পেজটির ক্লিক থ্রু রেট বাড়াতে সেটি আকর্ষণীয় হওয়া উচিত।
URL Length : আপনি যে ব্লগ পোষ্ট কিংবা আর্টিকেল নিয়ে কাজ করছেন সেটার টপিকের উপরে ভিত্তি করে আপনাকে একটি ইউআরএল সেট করে নিতে হয়। এর আকার যত ছোট হবে, সেটি সবচেয়ে বেশি ভালো হবে। তবে সবচেয়ে ভালো এবং ইউনিক সাইজ হলো ৩ থেকে ৫ শব্দের মধ্যে।
Keyword Density : যেকোন একটি আর্টিকেলের ভিতরে আপনার টার্গেট কিওয়ার্ড অবশ্যই রাখতে হবে। তবে এই টার্গেটেড কিওয়ার্ড যদি অতিরিক্ত হয়ে যায়, তাহলে সেটি আপনার সাইট কিংবা ওয়েব পেজের জন্য মারাতিরিক্ত ক্ষতিকারক।
আপনি প্রতি ১০০ শব্দের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ বার কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে পারেন। তবে এর আদর্শ সীমা হল সর্বমোট কন্টেন্টের ১-২%। একটা সহজ সারমর্ম বলি, আপনি যদি কিওয়ার্ড স্টাফিং করেন তাহলে সহজেই পেনাল্টি খাবেন। এখন আপনার যদি গোল খাওয়ার শখ থাকে তাহলে করতেই পারেন৷ তবে আর যাই হোক, আপনে তো আর ২২ বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা হতে ত পারবেননা, হাহা।
এছাড়াও অন পেজ এসইও এর মধ্যে আরও যে সমস্ত বিষয়গুলো বিদ্যমান রয়েছে, সেগুলো হলো :
Heading Tags : ১টি H1, বাকিগুলো H2/H3
Image Alt Text : সর্বোচ্চ ১২৫ ক্যারাক্টার, এর কাজ হল আপনি যে ছবি ব্লগ বা আর্টিকেলের মধ্যে সম্পৃক্ত করবেন, তার বর্ণনা ভালোভাবে দেয়া।
Internal Links : ব্লগ আর্টিকেল ইনডেক্স হওয়ার জন্য কিংবা পেইজের ভিজিবিলিটি বাড়ানোর জন্য অন্যতম সেরা একটি মাধ্যম হলো ইন্টার্নাল লিংকিং। এর মাধ্যমে আপনি একই আর্টিকেলের ভিতরে আপনার ওয়েবসাইট এর অন্যান্য আর্টিকেলের লিংক সম্পৃক্ত করেন।
এর সেরকম কোন সীমা নেই তবে, ন্যাচারাল ভাবে আপনি রিলেটেড পেজের লিংক দিতে পারেন। এটি এসইও এর জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি রেংকিং সিগন্যাল।
External Links : আমরা অনেকেই আমাদের পেইজে অন্যান্য রিলেভেন্ট ওয়েবসাইটের লিংক দিতে কার্পণ্য বোধ করি। সেটা মোটেও করা উচিত নয়। কোন একটি পেজ যদি আপনার ব্লগ ওয়েবসাইটের সাথে যায় এবং সেটি যদি দেয়া হয়, তাহলে এটি আপনার ব্লগ পোস্টের অন পেইজ স্কোর আরো বেশি বাড়িয়ে দেয়। সেজন্য ন্যাচারাল ভাবে লিংক দেয়ার চেষ্টা করুন। তবে, একান্তই যদি সমস্যা হয় তাহলে নফলো লিংক দিতে পারেন।
Content Length : আপনার দেয়া কন্টেন্ট হলো কিং। রাজার ও রাজা। সেজন্য, একটি লম্বা ইনফরমেটিভ কনটেন্ট দেয়ার চেষ্টা করুন। সর্বনিম্ন ৮০০ থেকে ১০০০ শব্দের মধ্যে কনটেন্ট হওয়া প্রায় বাধ্যতামূলক।কনটেন্ট যত বেশি ডিটেইলে লিখবেন এবং তথ্যসমৃদ্ধ করবেন র্যাংকিং পাওয়ার আশঙ্কা তত বেশি বৃদ্ধি করবেন।
তাই ইনফরমেটিভ কনটেন্ট লেখার দিকে মনোনিবেশ করুন।
ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড: এটি হলো অন্যতম একটি রেংকিং সিগন্যাল। ওয়েবসাইটে লোডিং স্পিড ৩ সেকেন্ডের নিচে নামিয়ে আনার জন্য ছোটখাটো যুদ্ধে লিপ্ত হতে পারেন। এছাড়াও ওয়েবসাইটের জন্য বাধ্যতামূলক মোবাইল ফ্রেন্ডলি ডিজাইন তৈরি করুন।
অফ-পেজ SEO
যখন আপনি অন পেজ এসইও সম্পন্ন করে ফেলবেন তারপরে আপনাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে এসইও সিগন্যালে লাইট জ্বালিয়ে দেখতে হবে তা হলো, এসইও এর আরেক ছোটভাই অফ পেজ এসইও। এক নজরে সহজভাবে দেখে নেই এর ভিতরে কি কি রয়েছে এবং সেটি কিভাবে করতে হয়।
ব্যাক লিংক (Backlinks): ওয়েবসাইটের কনটেন্ট এরপরে যদি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কোন একটি বিষয় থাকে তাহলে সেটি হল ব্যাক লিংক। আপনি অন্যান্য ওয়েব পেজ থেকে যত বেশি ন্যাচারাল লিঙ্ক নিতে পারবেন, ততই সমৃদ্ধশালী পাবেন।
যেহেতু এ সম্পর্কে ধাপে ধাপে আর্টিকেল আসবে সেক্ষেত্রে এখানে এত বেশি ডিটেইল আলোচনা করলাম না। অন্য একটি ব্লগ পোস্টে এই সম্পর্কে প্রায় প্রত্যেকটি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।
Social Shares (FB, Twitter) : আপনি যে আর্টিকেল বা যা খুশি লিখবেন সেটি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিন। যা আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাস্ট অথরিটি আরো বেশি বাড়িয়ে তুলবে।
এছাড়াও এর ভিতর আরো যে সমস্ত বিষয় রয়েছে সেগুলো হলো, লোকাল SEO (Google My Business), রিভিউস ও রেটিং, ব্র্যান্ড মেনশন, গেস্ট পোস্টিং ইত্যাদি এবং ইত্যাদি।
প্রত্যেকটি বিষয় সম্পর্কে সেপারেট আর্টিকেল আসবে, ইনশাআল্লাহ। যাতে করে আপনি এখানে থাকা প্রত্যেকটি বিষয় সম্পর্কে একেবারে, বাংলা ভাষার মাস্টার হতে পারেন।
আগেরটা যারা মিস করেছেন: (এসইও মাস্টারক্লাস পর্ব ১) সার্চ ইঞ্জিন কিভাবে কাজ করে?
মাথা ঠান্ডা রাখুন।
তাহলে আজকে এই পর্যন্ত, আল্লাহ হাফেজ।

