প্রত্যেকটি জগতেরই একটি নেগেটিভ এবং পজেটিভ দিক রয়েছে। একই রকমভাবে যখন আপনি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সম্পর্কে জানবেন কিংবা এটা নিয়ে কাজ করবে তারও কিছু নেগেটিভ দিক রয়েছে, যেটি ক্ষনিক সময়ের জন্য আপনাকে অনেক সুফল এনে দিবে কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী তে আপনাকে ভোগাবে।
সার্চ ইঞ্জিন এর ভাষায়, google কে মেনে যেভাবে এসইও অপটিমাইজেশন করা হয় তাকে বলা হয়, White Hat SEO, এবং গুগলকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নিজের মন মত স্পেমিং করে, ক্ষণিক সময়ের জন্য বোকা বানিয়ে, দীর্ঘ সময়ের জন্য নিজে মারা খাওয়ার জন্য যে টেকনিক ব্যবহার করা হয়, তাকে বলা হয় Black Hat SEO টেকনিক।
আজকের এই, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন মাস্টার ক্লাস পর্বে, আমরা ব্ল্যাকহেট এসইও এবং একই সাথে হোয়াইট হ্যাট এসইও সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানবো এবং দেখে নিব কি কি কাজ করা উচিত এবং কি করা উচিত নয়।
SEO কী? (Search Engine Optimization)
শুরুতে একটু সহজ বাংলায় আমরা এই সংজ্ঞাটি জেনে নেই, যাতে করে পরবর্তীতে সেটি আমাদের কাজে আসতে পারে। SEO হচ্ছে এমন একধরনের প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ওয়েবসাইটকে গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনে ভালো র্যাংকে আনার চেষ্টা করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে:
- বেশি ভিজিটর আনা।
- অর্গানিক (বিনা খরচে) ট্রাফিক পাওয়া।
- গুগলের চোখে ওয়েবসাইটকে ভ্যালুয়েবল প্রমাণ করা, ইত্যাদি।
White Hat SEO (হোয়াইট হ্যাট এসইও)
যদিও সকল ক্ষেত্রে সাদা সফলতার প্রতিকি হিসেবে ধরা হয় না। তবে সার্চ ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে এটি সফলতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। White Hat SEO এমন সকল ধরনের টেকনিক, যা google এর সকল নিয়ম নীতি মেনে চলে এবং সঠিক উপায়ে বেশি সময় লাগিয়ে সার্চ ইঞ্জিনে নিজের জায়গা করে নিতে সহায়তা করে।
একেবারে সহজ ডেফিনেশন হলো, এটি এমন এসইও কৌশল যা গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনের গাইডলাইন মেনে চলে। এতে সময় বেশি লাগলেও ফলাফল তুলনামূলক টেকসই ও নিরাপদ হয়।
এর কিছু বৈশিষ্ট্য হলো:
- সার্চ ইঞ্জিনের নিয়ম মেনে কাজ
- ইউজারের অভিজ্ঞতা উন্নত করে
- অর্গানিক ও বৈধ পদ্ধতিতে ট্রাফিক আনে
- কোন রকম স্প্যামিং নেই।
- গুগল পেনাল্টির ভয় নেই।
অর্থাৎ আপনি যখন সঠিক উপায়ে সমস্ত নিয়ম মেনে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর দিকে নজর দেন তখন সেটিকে হোয়াইট হ্যাট এসইও বলা হয়। এবং যখন আপনি সঠিক ট্রাকে থাকবেন, তখন আপনার চিন্তা করার কোন দরকার থাকবে না।
কিছু উদাহরণ দিয়ে এ বিষয়টিকে আরো ভালোভাবে জেনে নেই
উদাহরণসমূহ
মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি
আপনি চাইলে এরকম একটি ব্লগ আর্টিকেল লিখতে পারেন, যে ব্লগে একটি ভালো রিসার্চ ভিত্তিক আর্টিকেল, যেখানে ছবি, গাইড, মানচিত্র ইত্যাদি আছে, এবং এই কনটেন্ট সম্পূর্ণ তথ্যবহুল এবং নিজে লেখা।
কিন্তু আপনি সেই একই আর্টিকেল স্প্যামিং করে দেখতে পারেন। বর্তমান সময়ে যেহেতু এআই কনটেন্ট জেনারেটর আছে সে ক্ষেত্রে আপনি পুরোপুরি তার সহায়তা নিতে পারেন এবং সহজেই একটি কন্টেন্ট জেনারেট করতে পারেন।
এতে শুরুতে, অবশ্যই ইনডেক্স হবে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে, সেটি আর ইনডেক্সে থাকবে না। এর চাক্ষুষ প্রমাণ আমি নিচে দিয়ে দিচ্ছি।
এখানে শেয়ার করা স্ক্রিনশটে আপনি যেই বিষয়টি দেখতে পারছেন সেটি হল আমারই একটি ওয়েবসাইট যা সম্পূর্ণ এয়াই কনটেন্ট দিয়ে তৈরি। এটি শুরুতে ইনডেক্স হলেও পরবর্তীতে প্রায় প্রত্যেকটি ইউআরএল ডি-ইনডেক্স হয়ে গেছে।
সেজন্য ভালো মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করার চেষ্টা করুন।
সঠিক কীওয়ার্ড রিসার্চ
কি-ওয়ার্ড রিসার্চ করার ক্ষেত্রে যে সমস্ত স্প্যামি কিওয়ার্ড রয়েছে সেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। মানসম্মত কিওয়ার্ড নিয়ে আর্টিকেল লিখতে হবে এবং তার সাথে মানসম্মত কনটেন্ট লেখার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
অন-পেজ অপটিমাইজেশন
যখন আপনি কোন একটি কন্টেন্ট এর অন পেজ অপটিমাইজেশন করবেন, তখন একেবারে লিগাল উপায়ে html ট্যাগগুলো বসিয়ে দিতে হবে। যদি আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করেন তাহলে কোন রকমের কোডিং করতে হয় না, আপনি কোন একটি এসইও প্লাগিন দিয়ে এই কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারেন।
এর কিছু উদাহরণ হল:
- টাইটেল ট্যাগ: <title>ডায়াবেটিসের ঘরোয়া প্রতিকার</title>
- হেডিং: <h1>ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করণীয়</h1>
- Alt Text: <img src=”sugar-level-chart.jpg” alt=”ডায়াবেটিস সুগার লেভেল চার্ট”>
মোবাইল ফ্রেন্ডলি ও দ্রুত লোডিং ওয়েবসাইট
উদাহরণ: ওয়েবসাইট এমনভাবে ডিজাইন করা যাতে মোবাইলেও সুন্দরভাবে দেখা যায় এবং সর্বোচ্চ ৩ সেকেন্ডের মধ্যে লোড হয়। কারণ যে ওয়েবসাইট কচ্ছপের মত লোডিং নিবে সেটি কেউ ভিজিট করতে চাইবেনা।
অর্গানিক ব্যাকলিঙ্ক সংগ্রহ
কেউ আপনার কনটেন্ট দেখে ভালো লেগে নিজের ব্লগে লিংক দেয় – এটা প্রকৃত ব্যাকলিঙ্ক। কিন্তু আপনি যদি, লিংক এক্সচেঞ্জ করেন কিংবা অন্য যে কারো ওয়েব সাইটে আপনার লিংক বসিয়ে দেন এবং একই সাথে তার ওয়েবসাইটের লিংক আপনার ওয়েবসাইটে বসিয়ে দেন তাহলে সেটি হবে ব্ল্যাক হ্যাট এসইও টেকনিক।
সেজন্য অর্গানিক উপায়ে ব্যাকলিংক সংগ্রহ করা সবার জন্য, প্রয়োজনীয়।
Black Hat SEO (ব্ল্যাক হ্যাট এসইও)
ব্ল্যাক হ্যাট এসইও টেকনিক বা মারা খাওয়া টেকনিক। যে কোন সার্চ ইঞ্জিন এর জন্য এটি একটি বিষ। কিন্তু শুরুর দিকে, এটি আপনার জন্য মধু হলেও পরবর্তী সারাজীবনের জন্য এটি আপনার জন্য বিষ হবে। ১৯ নয়, একেবারে টুয়েন্টি।
এর সহজ সংজ্ঞা হলো, এটি এমন এসইও কৌশল যা সার্চ ইঞ্জিনকে ধোঁকা দিয়ে দ্রুত র্যাংক পাওয়ার চেষ্টা করে। এটি শর্টকাট হলেও ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ।
এই টেকনিকের মধ্যে যে বিষয়গুলো রয়েছে:
- গুগলের গাইডলাইন লঙ্ঘন করে।
- স্প্যামিং করে।
- অস্থায়ী র্যাংক দেয়।
- গুগল পেনাল্টির শিকার হতে পারে।
- ইউজার অভিজ্ঞতা খারাপ হয়।
এবার তাহলে উদাহরণ এর সাথে বিষয়টিকে আরো সহজ ভাবে জেনে নেই:
Keyword Stuffing
এটি হলো একটি ঐতিহাসিক ব্ল্যাক হ্যাট এসইও টেকনিক। যদিও অনেকে এটি জেনে করে থাকেন আবার বেশিরভাগ না জেনেই এই টেকনিক ফলো করে থাকেন। অনেকেই মনে করেন আর্টিকেলের ভিতরে ধুম-ধারাক্ষা কিওয়ার্ড দিলে সেটি তার জন্য সহনীয় হবে।
কিংবা গুগল তাকে ভালোবাসার চোখে দেখবে। এরকম তাহলে আপনি স্বপ্নের জগতে রয়েছেন, ঘুম ভেঙ্গে উঠুন। যদিও ওঠার পরেই দেখবেন আপনার ওয়েবসাইট, পেনাল্টি খেয়ে মুখ থোবরে পড়ে আছে।
এর একটি সহজ উদাহরণ হল: “দাঁতের ব্যথা হলে দাঁতের ব্যথার জন্য দাঁতের ব্যথার ওষুধ ব্যবহার করে দাঁতের ব্যথা কমান।” — ৫ লাইনে ৭ বার একই শব্দ।
এর মানে বিষয়টি একেবারেই সহজ, এর মানে বিষয়টি একেবারেই সহজ, এর মানে বিষয়টি একেবারেই সহজ, হাহা।
Hidden Text
গুগলের মারা খাওয়া টেকনিক এর মধ্যে আরেকটি অন্যতম টেকনিক হল, Hidden text. অনেকেই আমরা নিজেদেরকে অত্যাধিক চালাক ভেবে, এই কাজটি করার চেষ্টা করি। কিন্তু ভাই আমরা কি আসলেই চালাক? আমাদেরকে মেরে google খায়, আমরা কিভাবে গুগলকে মেরে খেতে পারি?
সহজ উদাহরণ: ওয়েবপেজে হোয়াইট ব্যাকগ্রাউন্ডে হোয়াইট রঙে কীওয়ার্ড লুকিয়ে রাখা, যা ইউজার দেখতে পায় না কিন্তু সার্চ ইঞ্জিন পড়ে।
Cloaking
এই বিষয়টির সাথে অনেকেই পরিচিত না থাকতে পারেন কিংবা অনেকে পরিচিত থাকতে পারেন। এর সহজ উদাহরণ হল বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইটে আপনি দেখবেন, বিভিন্ন জোয়ার ওয়েবসাইটে লিংক দেয়া থাকে।
কিংবা সার্চ ইঞ্জিনে এটি দেখায়, কিন্তু ওয়েব সাইটে ঢুকার পরে আর কিছু দেখায় না। এর একটি সহজ উদাহরণ নিচে থেকে দেখুন, আমাদেরই সরকারি সাইটের লিংক দেখুন।
দেখলেন তো ফেনী পলিটেকনিক ওয়েবসাইট কিভাবে অনলাইনে জুয়া খেলা যায় সেটি শেখাচ্ছে? আসলে বিষয়টি সেরকম না। এই ওয়েবসাইটটি হ্যাক হয়েছে, এবং এখানে ক্লকিং করা হয়েছে। কিন্তু আপনি যদি এই লিংকের মধ্যে প্রবেশ করেন, তাহলে ভিতরে গিয়ে কিছুই পাবেন না।
এটি গুগলের জন্য বিষফোঁড়া।
Duplicate Content
এটা নিয়ে আসলে বলার মত সেরকম কিছু আছে বলে আমার মনে হয় না। অন্যের ব্লগ থেকে পুরো অনুচ্ছেদ কপি করে নিজের সাইটে দিয়ে দেওয়া। এর জন্য ফাসি দেয়া যেতে পারে।
নিজে নিজে কন্টেন্ট তৈরি করা শিখেন ভাই।
স্প্যাম ব্যাকলিঙ্ক তৈরি
আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যারা কিনা এরকম ওয়েবসাইট এর মধ্যে লিংক তৈরি করেন যে সমস্ত ওয়েবসাইট আসলে, স্প্যামিং এর দুনিয়ায় রাজত্ব করে।
উদাহরণ: ফোরাম, ব্লগ কমেন্টে বা PBN সাইটে অপ্রাসঙ্গিকভাবে নিজের সাইটের লিংক দেওয়া।
Clickbait Titles
এর জন্য বাঙালি সেরা রে। ? না শুধু বাঙালি নয়, হতে পারে অন্য জাতিরাও সেরা। তবে আমার জানামতে বাঙালি সেরা হওয়ার কথা। এর সহজ মানে হল, এরকম একটি টাইটেল দেয়া যেটাই সাথে পুরো আর্টিকেলের কোন মিল নেই।
উদাহরণ: “মাত্র ১ দিনে ওজন কমান ১০ কেজি!” — অথচ ভিতরে কোন প্রমাণ নেই, শুধু ট্র্যাফিক বাড়ানো উদ্দেশ্য
শেষ কথা:
আপনার যদি নিজের ব্যবসা বা ব্লগ থাকে, এবং আপনি সত্যিই চান মানুষের আস্থা ও গুগলের ভালোবাসা – তাহলে White Hat SEO-ই একমাত্র পথ। শর্টকাটে নাম কামানো যায়, কিন্তু সেটা বেশিদিন টেকে না।
White Hat SEO-তে সময় ও ধৈর্য লাগলেও আপনি গুগলের চোখে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবেন এবং দীর্ঘমেয়াদী র্যাংকিং পাবেন।
Black Hat SEO আপনাকে প্রথমে লাভ দিতে পারে, কিন্তু গুগল একবার ধরলে সাইট র্যাংক হারাবে এবং চিরকালের জন্য পঙ্গু করে দেবে।
আগের পর্ব যারা দেখেননি: (এসইও মাস্টারক্লাস পর্ব -২) অন পেজ এসইও এবং অফ পেইজ এসইও সম্পর্কে গিলতে পারার মতো কিছু লেখা

