Site icon Trickbd.com

বিটিআরসি কি সত্যি ২জি (2G) নেটওয়ার্ক ও বাটন মোবাইল বন্ধ করে দিচ্ছে? বাস্তবতা ও প্রভাব

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি বিশ্বে প্রতিনিয়ত আসছে নতুন সব পরিবর্তন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং সরকারের তরফ থেকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। তা হলো—দেশে ক্রমান্বয়ে ২জি (2G) নেটওয়ার্ক এবং সাধারণ বাটন মোবাইল বন্ধ করে দেওয়া।

এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের প্রায় ৬ কোটি বাটন ফোন ব্যবহারকারী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ও শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ এবং এর বাস্তব প্রভাব সম্পর্কে।

বিটিআরসি ও সরকারের সিদ্ধান্ত কী?

তথ্য অনুযায়ী, সরকার দেশকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্মার্ট ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০২৯ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ২জি নেটওয়ার্ক পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ২০৩০ সালের জানুয়ারি থেকে কেবল ৪জি বা তার বেশি সমর্থিত স্মার্ট ও আধুনিক ডিভাইসগুলো নেটওয়ার্কের আওতায় থাকে। এছাড়া, ২০২৭ সালের পর থেকে দেশে নতুন কোনো ২জি বাটন ফোনের মডেল তৈরির অনুমোদনও দেওয়া হবে না বলে জানা গেছে।

বাটন মোবাইল ও ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধ হলে কী কী সমস্যা হতে পারে?

১. নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ: দেশের একটি বড় অংশের মানুষ, যারা গ্রামীণ অঞ্চলে বসবাস করেন বা যাদের আয় সীমিত, তারা মূলত যোগাযোগের জন্য সস্তা বাটন ফোন ব্যবহার করেন। ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ করে একটি ভালো স্মার্টফোন কেনা অনেকের জন্যই কষ্টকর।

২. শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিষেধাজ্ঞা: অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রী বা কর্মীদের জন্য অ্যান্ড্রয়েড বা স্মার্টফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারা বাধ্য হয়ে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বাটন ফোন ব্যবহার করেন। ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধ হলে তারা চরম বিপাকে পড়বেন।

৩. অটো-আপডেট ও অন্যান্য ফিচার ব্যাহত: বর্তমানের অনেক বাটন ফোনে ইন্টারনেট বা সিম কার্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেট ও টাইম সেট হয়ে যাওয়ার ফিচার থাকে। নেটওয়ার্ক বন্ধ হলে এই সাধারণ সুবিধাগুলোও কাজ করবে না।

সরকারের বিকল্প পরিকল্পনা ও তার বাস্তবতা

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করার পর নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ৪-৫ হাজার টাকার মধ্যে কম দামে ফোরজি (4G) ফোন বাজারে নিয়ে আসা হবে, যাতে সবাই স্মার্ট প্রযুক্তির সুফল পেতে পারে।

তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই স্বল্পমূল্যের ফোনগুলোতে র‍্যাম ও প্রসেসরের মান দুর্বল হওয়ার কারণে টাচ রেসপন্স বা কার্যক্ষমতা সন্তোষজনক নাও হতে পারে। তাছাড়া, ফ্রিতে না হলেও ৫ হাজার টাকা দিয়ে ফোন কেনা অনেকের জন্যই দুরূহ ব্যাপার। পাশাপাশি, যেসব প্রতিষ্ঠানে স্মার্টফোন নিষিদ্ধ, সেখানে এই বিকল্প খুব একটা কাজে আসবে না।

দেশকে ডিজিটালাইজেশনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সরকারের একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ সন্দেহ নেই। তবে ৬ কোটিরও বেশি ২জি ব্যবহারকারী এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বাস্তব পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এটি বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: গর্ভধারণের সঠিক সময়, সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ (EDD) এবং গর্ভের বয়স নিখুঁতভাবে জানতে ভিজিট করুন আমাদের তৈরি করা ফ্রি অনলাইন প্রেগনেন্সি ক্যালকুলেটর ।

Exit mobile version