Site icon Trickbd.com

আঁচড় পড়ে না স্মার্টফোনের যেসব পর্দায়

Unnamed

হালের স্মার্টফোনে তো বেশি বোতাম নেই, যা কিছু করার ওই বিশেষ কাচের ওপর আঙুলের স্পর্শ করেই করতে হয়। এই কাজটি করতে গিয়ে অনেক মোবাইল ফোনেই দাগ বা আঁচড় পড়ে যায়। এই দাগের কারণে মোবাইলের সৌন্দর্যহানি হয়, কাজেও ঝামেলা হয়। কিন্তু কাচ দিয়ে তৈরি কোন পর্দায় আঁচড় পড়ে না?
আইফোন সিক্স-এস মডেলের ফোনের পর্দায় ব্যবহার করা হয়েছে উচ্চ প্রযুক্তির রেটিনা ডিসপ্লে। ছুরি দিয়েও এর পর্দায় দাগ ফেলা যায় না। এ ছাড়া গরিলা গ্লাসের স্মার্টফোনগুলোতে সাধারণত কোনো দাগ পড়ে না। এগুলো অনেক শক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী। এর আবার আছে বিভিন্ন ধরন। কাচটির দৃঢ়তা বোঝাতে এমন নামকরণ করা হয়েছে। গরিলা গ্লাস আসলে একধরনের বিশেষ অ্যালকালাই-আলুমিনোসিলিকেট কাচের বর্ম, যাতে দাগ পড়া, পড়ে যাওয়া ও আঘাতরোধী ব্যবস্থা থাকে। মোটোরোলা, স্যামসাং ও নকিয়ার মতো ব্র্যান্ডগুলো তাদের মোবাইলের পর্দাকে আরও স্থায়ী ও বিশ্বস্ত করে গড়ে তুলতে গরিলা গ্লাস ব্যবহার করছে। এখন পাওয়া যাচ্ছে পঞ্চম প্রজন্মের গরিলা গ্লাস, যা পাতলা, হালকা ও ক্ষয়রোধী। কর্নিং ছাড়াও আসাহি গ্লাস কোম্পানি এবং ড্রাগনট্রেইলের মতো প্রতিষ্ঠান এই ধরনের গ্লাস তৈরি করে। মোবাইলের প্রাথমিক পর্দা ছাড়াও এই গ্লাসটি ব্যবহৃত হয় মিডিয়া প্লেয়ার, ল্যাপটপের ডিসপ্লেতেও। এর পর্দা খুবই শক্ত অথচ পাতলা। কাজেই ব্যবহারে সহজ ও উপকারী।
কর্নিং গরিলা গ্লাস স্মার্টফোনের পর্দাকে দাগ পড়া থেকে রক্ষা করে। যার কারণে অতিরিক্ত আর কোনো প্রতিরক্ষা পর্দা ব্যবহার করতে হয় না। এই কাচগুলো এতটাই শক্ত আর মজবুত যে এটা স্মার্টফোনকে দেবে অতিরিক্ত সুরক্ষা এবং ব্যবহারকারীকে দেবে মানসিক শান্তি। পর্দায় দাগ না পড়া এবং কাচটি ভেঙে না যাওয়ার এই প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করেছে ‘দ্য কর্নিং কোম্পানি’। তাঁরা এটিকে বলে ‘নেটিভ ড্যামেজ রেজিস্ট্যান্স’ (এনডিআর)। এই গরিলা গ্লাস স্মার্টফোনের ধরনের ওপর নির্ভর করে অনেক ধরনের পুরুত্বের হয়। ‘প্রজেক্ট মাসেল’ নামের এক উদ্যোগের মাধ্যমে ১৯৬০ সালে প্রথম রাসায়নিকভাবে শক্তিশালী গ্লাস তৈরির কাজ হাতে নেয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কর্নিং। কয়েক বছরের মধ্যেই তারা ‘শেমসর’ নামের এক কাচ বাজারজাত করেছে।
গরিলা কাচ তৈরির সময় একে আয়ন অদল–বদল প্রযুক্তির মাধ্যমে রাসায়নিকভাবে শক্ত করা হয়। একে প্রায় ৪০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় গলিত অ্যালকালাইন পটাশিয়াম লবণের দ্রবণে ডুবানো হয়। তখন লবণের ভেতর থেকে পটাশিয়ামের ভারী আয়ন দ্বারা হালকা আয়নগুলো প্রতিস্থাপিত হয়। বড় আয়নগুলো বেশি জায়গা দখল করে থাকে বলে আঘাত সহ্য করার জন্য অধিক জায়গা তৈরি হয়। এর ফলে গ্লাসের শক্তি বেড়ে যায়, চাপ সহ্য করার ক্ষমতা বেড়ে যায়, নমনীয় হয় এবং সর্বোপরি, গ্লাসটি ভেঙে বা ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।
তথ্যসূত্র: হাউস্টাফওয়ার্কস ডটকম, গিজবট ডটকম, কর্নিং গরিলা গ্লাস ও উইকিপিডিয়া

Exit mobile version