একটা কড়া সত্যি দিয়ে শুরু করি — বেশিরভাগ হ্যাকিং হলিউড মুভির মতো জিনিয়াস হ্যাকারের কাজ না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা নিজেরাই দরজা খুলে দিই: একই পাসওয়ার্ড সব জায়গায়, সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক, OTP শেয়ার করে দেওয়া। আমার এক পরিচিতের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট গেছিল ঠিক এইভাবে — “ফ্রি রিচার্জ জিতুন” লিংকে ক্লিক করে লগইন দিয়েছিল। নিচের ১০টা নিয়ম মেনে চললে এই ৯০% ঝামেলা এড়ানো যায়।
১. প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে আলাদা পাসওয়ার্ড রাখুন। মনে রাখতে কষ্ট হলে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন।
২. Two-factor authentication (2FA) চালু করুন — বিশেষ করে ইমেইল, ব্যাংকিং আর সোশ্যাল মিডিয়ায়। পাসওয়ার্ড চুরি গেলেও অ্যাকাউন্ট বাঁচবে।
৩. কেউ OTP বা ভেরিফিকেশন কোড চাইলে কখনো দেবেন না। ব্যাংক কখনো ফোন করে OTP চায় না — এটা মনে গেঁথে রাখুন।
৪. অচেনা লিংকে ক্লিক করার আগে সেন্ডারের আসল অ্যাড্রেস চেক করুন। তাড়াহুড়ো করানো মেসেজ (“এখনই না করলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ!”) মানেই সন্দেহজনক।
৫. পাবলিক WiFi-তে ব্যাংকিং বা পেমেন্ট করবেন না। করতেই হলে VPN ব্যবহার করুন।
৬. ফোন, অ্যাপ আর ব্রাউজার আপডেট রাখুন। আপডেটে সিকিউরিটি ফাঁকফোকর বন্ধ হয়।
৭. সোশ্যাল মিডিয়ায় ঠিকানা, ফোন নম্বর, ভ্রমণের প্ল্যান শেয়ার করবেন না। চোর-বাটপাররাও ফেসবুক দেখে।
৮. অ্যাপ ইনস্টলের সময় পারমিশন দেখুন। টর্চলাইট অ্যাপ কন্টাক্ট লিস্ট চাইলে সেটা লাল পতাকা।
৯. মাসে একবার ব্যাংক স্টেটমেন্ট আর অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভিটি চেক করুন। অচেনা লেনদেন দেখলেই ব্যাংকে জানান।
১০. পরিবারের বয়স্ক আর ছোটদের এই নিয়মগুলো শেখান। স্ক্যামাররা সবচেয়ে বেশি টার্গেট করে তাদেরই যারা কম সচেতন।
এই লিস্টটা সেভ করে রাখুন, আর প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। অনলাইন নিরাপত্তা কোনো একদিনের কাজ না — অভ্যাস। আপনার কোনো অভিজ্ঞতা থাকলে কমেন্টে শেয়ার করুন, সবাই শিখবে।

