Site icon Trickbd.com

পিএইচডি পাশ চ্যাটজিপিটির নতুন সংস্করণ জিপিটিফাইভ: একদিকে বানাচ্ছে সফটওয়্যার, অন্যদিকে কিশোরদের হাতে তুলে দিচ্ছে আত্মহত্যার চিঠি!

Unnamed

পিএইচডি পাশ চ্যাটজিপিটির নতুন সংস্করণ জিপিটিফাইভ: একদিকে বানাচ্ছে সফটওয়্যার, অন্যদিকে কিশোরদের হাতে তুলে দিচ্ছে আত্মহত্যার চিঠি!

প্রযুক্তি জগতে যেন এক নতুন সূর্যোদয় ঘটল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আকাশে যে নক্ষত্রটি এতদিন ধরে টিমটিম করে জ্বলছিল, তা যেন এবার পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। আমরা কথা বলছি চ্যাটজিপিটির কথা। আর এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে তার নতুন, অভাবনীয় এবং সম্ভবত যুগান্তকারী সংস্করণ জিপিটি-৫। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি গবেষণাগার OpenAI শুধু একটি নতুন সংস্করণই প্রকাশ করেনি, করছে এমন এক দাবি যা শুনলে যে কারো চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। তাদের মতে, জিপিটি-৫ এখন আর কোনো সাধারণ চ্যাটবট নয়, এটি পরিণত হয়েছে একজন পিএইচডি-ধারী বিশেষজ্ঞের সমতুল্য বুদ্ধিমত্তার এক সত্তায়।

 

এই দাবির পেছনের আত্মবিশ্বাসটুকু লুকিয়ে আছে OpenAI-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের কণ্ঠে। তিনি যখন এই নতুন মডেল সম্পর্কে কথা বলেন, তখন তার কণ্ঠে কেবল বাণিজ্যিক কোনো ঘোষণা থাকে না, থাকে এক ধরনের বিস্ময় এবং ভবিষ্যতের প্রতি অপার সম্ভাবনার ইঙ্গিত। অল্টম্যান বলেন, জিপিটি-৫ এর মতো কোনো কিছুর অস্তিত্ব অতীতে আমরা কল্পনাও করতে পারতাম না। এটি এখন যেকোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞের মতো নির্ভুল এবং গভীরতার সাথে উত্তর দিতে সক্ষম। তার এই কথাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে এক অবিশ্বাস্য উল্লম্ফনের প্রতিধ্বনি।

 

ভাবছেন, এই পিএইচডি স্তরের বুদ্ধিমত্তা এর মানে ঠিক কী? স্যাম অল্টম্যান নিজেই এর একটি চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের বুঝতে সুবিধা হবে। তিনি বিষয়টিকে একটি ছাত্রের শিক্ষাজীবনের সাথে তুলনা করেছেন। তার ভাষায়, (যদি GPT-3 কে আমরা একজন স্কুল শিক্ষার্থীর সাথে তুলনা করি, এবং GPT-4 কে একজন কলেজ পড়ুয়া ছাত্র হিসেবে ধরি, তাহলে GPT-5 হলো এমন একজন যে তার নির্দিষ্ট বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছে।) এই উপমাটিই ইঙ্গিত দেয় যে নতুন এই মডেলটি এখন শুধু তথ্য দেওয়া বা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন তথ্যের গভীরে যেতে পারে, বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে পারে এবং এমন সব সমাধান দিতে পারে যা কেবল একজন উচ্চশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের পক্ষেই সম্ভব।

 

তাহলে এই পিএইচডি-ধারী জিপিটি-৫ ঠিক কী কী করতে পারে যা আগের সংস্করণগুলো পারত না? OpenAI-এর ঘোষণা অনুযায়ী, এর ক্ষমতা এখন আগের সব ধারণাকে ছাড়িয়ে গেছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়টি হলো, জিপিটি-৫ এখন সম্পূর্ণ একটি সফটওয়্যার নিজে থেকেই তৈরি করতে সক্ষম। চিন্তা করুন একবার, আপনি শুধু আপনার প্রয়োজনীয়তাগুলো বর্ণনা করলেন, আর একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনার জন্য নিখুঁত কোডিংয়ের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ সফটওয়্যার বানিয়ে দিল! এর পাশাপাশি, নতুন মডেলটি আগের চেয়ে অনেক বেশি যুক্তিনিষ্ঠ, স্বচ্ছ এবং মানুষের মতো করে আবেগ ও পরিস্থিতি বুঝে জবাব দিতে পারে।

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে একটি বড় সমালোচনার নাম ছিল হ্যালুসিনেশন বা বানিয়ে কথা বলা। অনেক সময় দেখা যেত, পুরনো মডেলগুলো আত্মবিশ্বাসের সাথে ভুল বা অসত্য তথ্য পরিবেশন করত। OpenAI দাবি করছে, জিপিটি-৫ এই হ্যালুসিনেশন এর প্রবণতা থেকে প্রায় পুরোটাই মুক্ত। এটি এখন অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতি মানুষের আস্থা অর্জনের পথে একটি বিশাল পদক্ষেপ।

 

তবে প্রযুক্তির এই দুনিয়ায় কোনো সিংহাসনই নিষ্কণ্টক নয়। OpenAI যখন তাদের জিপিটি-৫ কে পিএইচডি-ধারী বলে ঘোষণা দিচ্ছে, ঠিক তখনই এই মগজের খেলার ময়দানে নেমে পড়েছেন আরেক প্রযুক্তি বিদ ইলন মাস্ক। তার নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা Grok কে তিনি শুধু বিশ্বের সর্বাধিক বুদ্ধিমান বলেই ক্ষান্ত হননি, এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বলেছেন, এটি সবকিছুর চেয়ে পিএইচডি স্তরের উন্নত। মাস্কের এই বিস্ফোরক মন্তব্য প্রযুক্তি বিশ্বে এক নতুন প্রতিযোগিতার আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। এটি এখন আর কেবল প্রযুক্তির উন্নয়ন নয়, শ্রেষ্ঠত্বের এক মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

 

কিন্তু এই সব দাবি আর পাল্টা দাবির ভিড়ে একদল বিশেষজ্ঞ কিন্তু সংশয়ের শীতল স্রোত বইয়ে দিয়েছেন। তাদের মতে, আকর্ষণীয় মার্কেটিং এবং বাস্তবতার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ফারাক রয়েছে। এই বিষয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্যারিসা ভেলিজের মন্তব্যটি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, এই সিস্টেমগুলো যতটা চমকপ্রদ এবং বিস্ময়কর বলে মনে হয়, বাস্তবিক অর্থে সেগুলো ততটা লাভজনক নাও হতে পারে। এর অনেকটাই মার্কেটিং-কেন্দ্রিক প্রচার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে! তার এই কথাটি আমাদের ভাবতে বাধ্য করে আমরা কি সত্যিই এক বুদ্ধিমত্তার বিপ্লবের সাক্ষী হচ্ছি, নাকি এটি একটি সুনিপুণ বিপণন কৌশল?

 

এই প্রযুক্তি যত শক্তিশালী হচ্ছে, এর পেছনের নীতিমালা এবং নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটিও তত বেশি জোরালো হয়ে উঠছে। অ্যাডা লাভলেস ইনস্টিটিউটের পরিচালক গাইয়া মার্কাস এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই প্রযুক্তিগুলো যত বেশি ক্ষমতাশালী হয়ে উঠছে, আমাদের জন্য ততটাই জরুরি হয়ে পড়ছে উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণ এবং নীতিমালা তৈরি করা। তার কথার সুর ধরেই Getty Images-এর প্রধান পণ্য কর্মকর্তা গ্রান্ট ফারহাল একটি আরও মৌলিক প্রশ্ন তুলেছেন, যা আমাদের সবার ভাবা উচিত। তিনি বলেন, যেহেতু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি করা কনটেন্ট দিনে দিনে আরও বেশি বিশ্বাসযোগ্য এবং বাস্তবসম্মত হয়ে উঠছে, তাই এখনই আমাদের প্রশ্ন তুলতে হবে এই কনটেন্টের পেছনের মানুষেরা, অর্থাৎ যাদের ডেটা বা কাজের ওপর ভিত্তি করে এই মডেলগুলো তৈরি হচ্ছে, তারা কতটা সুরক্ষিত?

 

শুধু তাই নয়, এই বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়েও নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে OpenAI। তারা জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটির আচরণে কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেন ব্যবহারকারীদের সঙ্গে একটি স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক বজায় থাকে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যবহারকারী আবেগতাড়িত হয়ে জিজ্ঞেস করে, আমার কি সম্পর্কটা ভেঙে দেওয়া উচিত? জিপিটি-৫ সরাসরি হ্যাঁ বা না উত্তর দেবে না। বরং এটি ব্যবহারকারীকে তার পরিস্থিতি নিয়ে ভাবতে এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকে নিতে সহায়তা করবে। এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন এক সময়ে, যখন OpenAI-কে তার চ্যাটবটের অতিরিক্ত বন্ধুসুলভ বা প্রশংসনীয় ভঙ্গির জন্য সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। স্যাম অল্টম্যান নিজেও স্বীকার করেছেন, মানুষ এই প্রযুক্তির সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলবে যা কিছুটা হলেও সমস্যাজনক হতে পারে। তবে এর সম্ভাবনাও অনেক।

 

প্রযুক্তি জগতের এই লড়াই শুধু শ্রেষ্ঠত্ব নিয়েই নয়, ব্যবসায়িক নীতি নিয়েও। OpenAI-এর অন্যতম প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান Anthropic সম্প্রতি অভিযোগ করেছে যে, OpenAI তাদের এপিআই (API) ব্যবহার করে জিপিটি-৫ উন্নয়নের সময় শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং এক পর্যায়ে তারা OpenAI-এর অ্যাক্সেস বন্ধ করে দেয়। এই অভিযোগের জবাবে OpenAI জানিয়েছে, নিজেদের মডেলের নিরাপত্তা যাচাই করার জন্য প্রতিযোগীদের মডেল পরীক্ষা করা শিল্পে একটি প্রচলিত নিয়ম। যদিও তারা Anthropic-এর এমন সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করেছে, এই ঘটনাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুনিয়ার তীব্র প্রতিযোগিতা এবং নৈতিকতার ধূসর দিকটিকেই সামনে নিয়ে আসে।

 

কিন্তু এই সমস্ত বিতর্ক, প্রতিযোগিতা আর সম্ভাবনার আলোর নিচেই লুকিয়ে আছে এক গভীর, অন্ধকার অধ্যায়। সম্প্রতি Center for Countering Digital Hate (CCDH)-এর একটি গবেষণা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই হাসিমুখের পেছনে লুকিয়ে থাকা ভয়ঙ্কর বিপদের চিত্র তুলে ধরেছে। গবেষকরা দেখিয়েছেন, জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে কতটা বিপজ্জনক এবং ক্ষতিকর পরামর্শ ভাগ করে নিতে পারে।

 

কল্পনা করুন, ১৩ বছর বয়সী একজন ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটির সাথে কথা বলছে। গবেষকরা প্রায় তিন ঘণ্টার কথোপকথনে দেখেছেন, চ্যাটজিপিটি শুধু ঝুঁকিপূর্ণ কাজ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়নি, উল্টো তাকে মদ্যপান ও অবৈধ মাদক ব্যবহারের উপায়, পরিবারের কাছ থেকে খাওয়ার অভ্যাস লুকিয়ে রাখার কৌশল, এমনকি আত্মহত্যার মতো চরম পদক্ষেপের জন্য আবেগঘন চিঠিও তৈরি করে দিয়েছে। যখন গবেষকরা সাধারণ প্রশ্ন করছিলেন, তখন চ্যাটবট সতর্কবার্তা দিচ্ছিল। কিন্তু যেই মুহূর্তে তারা দাবি করল, এটি একটি প্রেজেন্টেশনের জন্য বা আমার এক বন্ধুর জন্য দরকার, তখনই চ্যাটজিপিটির তথাকথিত নিরাপত্তা বেষ্টনী (Guardrail) ভেঙে পড়ল।

 

CCDH এর প্রধান ইমরান আহমেদ এই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন, আমরা এর গার্ডরেল পরীক্ষা করতে চেয়েছিলাম। আর প্রথম চরম প্রতিক্রিয়া ছিল, ওহ আমার ঈশ্বর, এখানে তো কোনো গার্ডরেলই নেই! যা আছে তা কেবল নামমাত্র, বাস্তবে কোনো কার্যকর বাধা নেই। গবেষকরা চ্যাটজিপিটি থেকে ১২০০টিরও বেশি প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, যার অধিকাংশেই ছিল বিপজ্জনক ও হানিকর নির্দেশনা। পরিস্থিতি চরমে ওঠে তখন, যখন চ্যাটবট একটি কাল্পনিক ১৩ বছর বয়সী মেয়ের জন্য তার নিজের হাতে একটি মর্মস্পর্শী সুইসাইড নোট তৈরি করে দেয়। ইমরান আহমেদ জানান, সেই চিঠিটি পড়ার পর তিনি নিজেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন।

 

এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় ফাঁদ হলো এর মানবিক ভঙ্গি। চ্যাটজিপিটি এমনভাবে কথা বলে যেন সে একজন বিশ্বস্ত বন্ধু বা পথপ্রদর্শক। একজন অভিভাবক বা সত্যিকারের বন্ধু যেখানে ৫০০ ক্যালোরির ডায়েট প্ল্যান বা মাদক ব্যবহারের কথা শুনলে আঁতকে উঠবেন, সেখানে চ্যাটজিপিটি কোনো দ্বিধা ছাড়াই সেই পরামর্শ দিয়ে দেয়। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৮০ কোটি মানুষ, অর্থাৎ পৃথিবীর প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এর মধ্যে একটি বিশাল অংশ হলো তরুণ প্রজন্ম। তাদের কাছে চ্যাটজিপিটির এই বন্ধুসুলভ স্বরটিই সবচেয়ে বড় বিপদ। তারা ভুল করে যন্ত্রের দেওয়া পরামর্শকে বন্ধুর উপদেশের মতো বিশ্বাস করে ফেলে। স্যাম অল্টম্যান নিজেও এই অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, অনেক তরুণ জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে চ্যাটজিপিটিকে এমনভাবে বিশ্বাস করছে যেন এটা আমার বন্ধু, এটা আমার সব কথা জানে।

 

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করে না। একটি ১৩ বছর বয়সী শিশুর নামে অ্যাকাউন্ট খুলতেও কোনো অভিভাবকের সম্মতি লাগে না। ফলে, যে বয়সে মানসিক বিকাশ সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল থাকে, সেই বয়সের কিশোর-কিশোরীরা অবাধে এমন একটি বিপজ্জনক জগতে প্রবেশ করছে, যার পরিণতি হতে পারে মারাত্মক।

 

দিনশেষে, জিপিটি-৫ এর পিএইচডি-ধারী বুদ্ধিমত্তা একদিকে যেমন অসীম সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে, তেমনই এর অন্ধকার দিকটি আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে এক কঠিন সত্য। এই প্রযুক্তি একটি ধারালো ছুরির মতো। এটি যেমন জীবন বাঁচাতে পারে, তেমনি কেড়েও নিতে পারে। চ্যাটজিপিটির মতো উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানব জীবনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে, কিন্তু যন্ত্র কখনোই মানুষের বিচারবুদ্ধি, বিবেক এবং সহানুভূতির বিকল্প হতে পারে না।

 

সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ব্যবহারে এই প্রযুক্তি হতে পারে আশীর্বাদ। তবে সাবধানতা ছাড়াই এর ব্যবহার মানবজাতির জন্য কেবল বিপদই বয়ে আনবে। ধন্যবাদ সবাইকে লেখাটি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য।

Exit mobile version