আসসালামু আলাইকুুম
হ্যালো,,বন্ধুরা আশা করি সবাই ভালো আছেন।আমিও ভালো আছি।

তো চলুন জেনে নিই,,,,
টেক লাইফ হ্যাক সম্পকে–

আমরা প্রায় সবাই লাইফ হ্যাক ওয়ার্ডটির সাথে বেশ ভালোভাবেই পরিচিত। লাইফ হ্যাকস হচ্ছে কিছু ছোট ছোট কাজ বা ব্যাবহারিক ট্রিকস যেগুলো আপনার প্রাত্যহিক জীবনের কাজগুলোকে আরেকটু সহজ এবং ঝামেলাবিহীন করে আপনার দৈনন্দিন জীবনকে আরেকটু সহজ করে তোলে। আমরা সবাই কম-বেশি কিছু কিছু লাইফ হ্যাকস জানি এবং প্রতিদিন সেগুলোকে কাজেও লাগাই। আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে, এই লাইফ হ্যাকস।

তবে আজকে আমরা আলোচনা করবো এমন কয়েকটি লাইফ হ্যাক নিয়ে যেগুলো শুধুমাত্র প্রযুক্তি বিষয়ক। এই টেক লাইফ হ্যাক গুলো আপনার দৈনন্দিন টেকনোলজিনির্ভর জীবনকে আরেকটু সহজ করে তুলবে এবং আপনার কিছুটা মূল্যবান সময় বাঁচিয়ে দেবে। তো চলুন, আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।

ডেক্সটপ স্ক্রিনশটঃ

স্ক্রিনশট কি এবং এটি কেন দরকার হয় এ বিষয়ে আমার মনে হয়না কিছু বলার প্রয়োজন আছে। আমরা সবাই জানি যে স্ক্রিনশট কি এবং আর প্রয়োজনীয়তা কি। যদিও স্মার্টফোনে স্ক্রিনশট নেওয়া অনেক সহজ, কিন্তু ডেক্সটপ/পিসির ক্ষেত্রে ততোটা সহজ নয়। হ্যাঁ, ডেস্কটপে স্ক্রিনশট নেওয়ার কাজটিকে চাইলেই অনেক সহজ করে তোলা যায় বিভিন্ন থার্ড পার্টি স্ক্রিনশট নেওয়ার প্রোগ্রাম ইন্সটল করে (যেমন : Greenshot)।
কিন্তু স্ক্রিনশট নেওয়ার জন্য উইন্ডোজ এর ডিফল্ট ফার্স্ট পার্টি প্রোগ্রামও রয়েছে যদিও এই প্রোগ্রামটি সম্পর্কে অনেক পিসি ইউজারই জানেন না। হ্যাঁ,আপনি হয়ত এটা জানেন যে পিসিতে যেকোনো সময় স্ক্রিনশট নেওয়া যায় কি-বোর্ডের Insert PrintScreen বাটনটি প্রেস করে। কিন্তু, সেক্ষেত্রে আপনি স্ক্রিনশটটি রিসাইজ করতে পারেন না বা একটি ছোট এরিয়া সিলেক্ট করে স্ক্রিনশট নিতে পারেন না। আপনার স্ক্রিনশটটি ক্লিপবোর্ডে কপি হয়ে থাকে এবং আপনাকে সেই স্ক্রিনশটটি আবার কোন ইমেজ এডিটর প্রোগ্রামে পেস্ট করে নিয়ে তারপরে আবার এডিট করতে হয় অথবা সেভ করতে হয়। এই সম্পূর্ণ কাজ করে শেষ করতে দেখা যায় যে একটি স্ক্রিনশট নেওয়া এবং ক্রপ করার মত ছোট কাজ করতেই ৫ মিনিটের বেশি সময় লেগে যায়।

কিন্তু স্ক্রিনশট নেওয়া এবং একই সাথে ক্রপ করে স্ক্রিনশট নেওয়া বা নির্দিষ্ট এরিয়া সিলেক্ট করে স্ক্রিনশট নেওয়ার জন্য উইন্ডোজের ডিফল্ট আরেকটি প্রোগ্রাম রয়েছে, যার নাম Snipping Tool। এই প্রোগ্রামটি আপনি চোখের সামনেই সবসময় পাবেন না। তাই স্ক্রিনশট নেওয়ার আগে আপনাকে উইন্ডোজ স্টার্ট মেনু থেকে সার্চ করে প্রোগ্রামটি ওপেন করতে হবে। স্টার্ট মেনুর সার্চ বারে Snipping ওয়ার্ডটি লেখার পরেই ওপরে সার্চ রেজাল্টের মধ্যে আপনি প্রোগ্রামটি পেয়ে যাবেন।

এরপর প্রোগ্রামটি একটি ছোট ওয়াইড উইন্ডোতে ওপেন হবে। সেখানে থাকা New অপশনটিতে ক্লিক করলেই আপনাকে মাউস কার্সরের সাহায্যে এরিয়া সিলেক্ট করতে বলা হবে যেটুকুর স্ক্রিনশট নিতে চান আপনি। এরপরে এরিয়া সিলেক্ট করার সাথে সাথেই স্ক্রিনশটটি সেভ করার জন্য ডায়লগ বক্স দেওয়া হবে এবং আপনি স্ক্রিনশটটি যেখানে ইচ্ছা সেভ করে ফেলতে পারবেন। এই প্রোগ্রামটিতে থার্ড পার্টি স্ক্রিনশট প্রোগ্রামগুলোর মত অনেক বেশি ফিচারস নেই, তবে হটাত করে কুইকলি স্ক্রিনশট নেওয়ার দরকার হলে এই ডিফল্ট প্রোগ্রামটি বেস্ট।

ইউটিউব ভিডিও প্লে/পজঃ

এই ব্যাপারটি হয়ত আপনাদের মধ্যে অনেকেই জানেন আবার অনেকেই জানেন না। আমরা পিসিতে সাধারনত কোন ভিডিও প্লেয়াররের সাহায্যে ভিডিও প্লে করার সময় স্পেস বার প্রেস করে ভিডিওটি প্লে/পজ করি। কিন্তু খেয়াল করলে দেখবেন যে অনেকসময় ইউটিউবে ভিডিও দেখার সময় স্পেস বার প্রেস করে ভিডিও পজ করা যায়না। আপনি যদি গুগল ক্রোম ব্রাউজার ব্যাবহার করেন, তাহলে অনেকসময় স্পেসবার ভিডিও পজ করার সময় কাজ করে, কিন্তু সবসময় কাজ করেনা। বিশেষ করে, যদি আপনার ব্রাউজারে স্পেস বারের ফাংশন হিসেবে পেজ স্ক্রল করা সিলেক্ট করা থাকে, তাহলে এটি ইউটিউব ভিডিও প্লে করার সময় কাজ করেনা। ইউটিউব ভিডিও প্লে করার সময় ভিডিও পজ করতে চেয়ে বারবার স্পেস বার ক্লিক করা কিন্তু কাজ না হওয়া, এটা একটু ফ্রাস্ট্রেটিং।

কিন্তু অনেকেই যেটা জানেন না তা হল, ইউটিউব ভিডিও প্লে পজ এবং ফাস্ট ফরওয়ার্ড বা ব্যাকওয়ার্ড করার জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্টকাট কি রয়েছে যেগুলো সবসময়ই কাজ করবে। এই কি গুলো হচ্ছে, J , K এবং L। ইউটিউবে যেকোনো ভিডিও প্লে করার সময় কি-বোর্ডে K বাটনটি প্রেস করে ভিডিওটি প্লে এবং পজ করতে পারবেন। L বাটনটি প্রেস করে ভিডিওটি ১০ সেকেন্ড ফাস্ট ফরওয়ার্ড করতে পারবেন এবং J বাটনটি প্রেস করে যেকোনোসময় ভিডিওটি ১০ সেকেন্ড ফাস্ট ব্যাকওয়ার্ড করতে পারবেন। আর, এই শর্টকাটগুলো ১০০% সময় কাজ করবে।

আপনি ভিডিও পেজের যেকোনো জায়গায় থেকে এই বাটনগুলো প্রেস করলেও কাজ হবে। যেমন, আপনি চাইলে ভিডিও দেখার সময় নিচে ভিডিওর কমেন্ট সেকশন ব্রাউজ করতে করতেও এই কি গুলো প্রেস করে ভিডিও প্লে পজ করতে পারবেন। এটি একইসাথে সহজ এবং টাইম-সেভিং।

রিভার্স চার্জিংঃ

এখানে রিভার্স চার্জিং বলতে বুঝিয়েছি যে, একটি স্মার্টফোন থেকে আরেকটি ফোন চার্জ করা। বিষয়টা অনেক কঠিন মনে হলেও আসলে অনেক সহজ। আপনার কাছে যদি দুটি স্মার্টফোন থাকে তবে আপনি চাইলেই একটি স্মার্টফোন থেকে আরেকটি স্মার্টফোনে চার্জ দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে যে স্মার্টফোন থেকে আপনি চার্জ দিবেন, ওই স্মার্টফোনে অন্য ফোনটির তুলনায় বেশি চার্জ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে বেশি চার্জ থাকার স্মার্টফোনটি পাওয়ার ব্যাংকের মত কাজ করবে।
আর, আরেকটি শর্ত হচ্ছে, যে স্মার্টফোনটি থেকে চার্জ দিবেন ওই স্মার্টফোনটি ওটিজি সাপোর্টেড হতে হবে। এটি খুব একটা বড় চিন্তার বিষয় নয়। কারণ, এখনকার যুগের প্রায় সব স্মার্টফোনই ওটিজি সাপোর্টেড হয়ে থাকে। আর এই সম্পূর্ণ প্রসেসটির জন্য আপনার শুধুমাত্র দরকার হবে ফোনদুটি এবং একটি ওটিজি ক্যাবল আর একটি সাধারন চারজিং ক্যাবল।

আপনাকে যা করতে হবে টা হচ্ছে, যে স্মার্টফোনটিতে চার্জ বেশি আছে সেটাতে ওটিজি ক্যাবল কানেক্ট করতে হবে এবং ওটিজি ক্যাবলের সাথে অন্য ফোনটি নরমাল চার্জিং ক্যাবল দিয়ে কানেক্ট করে দিতে হবে। তাহলে সাথে সাথেই যে ফোনটিতে তুলনামুলকভাবে চার্জ বেশি আছে, ওই ফোনটি থেকে অন্য ফোনে চার্জ ট্রান্সফার হতে শুরু করবে। যে ফোনটিতে চার্জ কম আছে, সেটিতে চার্জিং নোটিফিকেশন বা ইন্ডিকেটর দেখেলেই শিওর হবেন যে এই রিভার্স চার্জিং কাজ করছে। এই চার্জিং প্রসেসটি করবেন যদি আপনার স্মার্টফোনে ৩ হাজার বা ৪ হাজার মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি থাকে। এর থেকে ছোট ব্যাটারি হলে, এটি করার কোন দরকার নেই।

গুগল টাইমারঃ

পিসি ইউজ করার সময় আপনার যদি কোন কারনে কোন টাইমার সেট করার দরকার হয় বা স্টপওয়াচ সেট করার দরকার পড়ে তাহলে আপনি খুব সহজে গুগলের সাহায্যেই টা করতে পারবেন। হতে পারে কোন ইভেন্টের কাউন্টডাউনের জন্য আপনার কয়েক মিনিটের টাইমার সেট করার দরকার হচ্ছে, বা হতে পারে কোন ক্রিকেট ম্যাচের জন্য আপনার টাইমার সেট করার দরকার হচ্ছে। সবক্ষেত্রেই আপনি গুগল সার্চকে একটি ফাংশনাল টাইমার বা স্টপওয়াচ হিসেবে ব্যাবহার করতে পারবেন।

আপনাকে জাস্ট যেকোনো ব্রাউজারে গুগল সার্চ ওপেন করে লিখতে হবে Set timer for X minutes (X= The time you want)। যেমন, আপনি যদি ২ মিনিটের জন্য টাইমার সেট করতে চান, তাহলে টাইপ করুন Set timer for 2 minutes। এবার ইন্টার প্রেস করলেই ২ মিনিটের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যাবে। আপনি কাউন্টডাউনের শেষে বিপ সাউন্ড দিতে পারবেন, টাইমার রিসেট করতে পারবেন, রিস্টার্ট করতে পারবেন এবং একটি বেসিক স্টপওয়াচের প্রায় সব ধরনের ফাংশনই পাবেন। আপনি চাইলে একটি বাটন ক্লিক করে টাইমারটিকে ফুল স্ক্রিনেও সেট করে রাখতে পারবেন।

এয়ারপ্লেন মোডঃ

আমরা অনেকেই স্মার্টফোন চার্জ দেওয়ার সময় স্মার্টফোন পাওয়ার অফ করে করে রাখি তাড়াতাড়ি চার্জ হওয়ার আশায়। এটি অনেকের প্রত্যেকদিনের অভ্যাস। এবং হ্যাঁ, এই চার্জিং সিস্টেমটি যথেষ্ট কাজের। আমিও মাঝে মাঝে ফোন তাড়াতাড়ি চার্জ দেওয়ার জন্য ফোন পাওয়ার অফ করে রাখি এবং চার্জ সত্যিই তুলনামুলকভাবে তাড়াতাড়ি কমপ্লিট হয়। কিন্তু আপনি চাইলে স্মার্টফোন সম্পূর্ণ পাওয়ার অফ না করেও ফোনে দ্রুত চার্জ দেওয়ার ব্যাবস্থা করতে পারেন।

আপনাকে শুধুমাত্র স্মার্টফোনটি চার্জে দেওয়ার আগে নোটিফিকেশন বার থেকে এয়ারপ্লেন মোড অন করে রাখতে হবে। তাহলেই আপনার স্মার্টফোনটি সাধারনের তুলনায় ২০-৩০% পর্যন্ত দ্রুত চার্জ কমপ্লিট করতে পারবে। এয়ারপ্লেন মোড অন করার ফলে আপনার স্মার্টফোন ইনকামিং এবং আউটগোইং সব ধরনের রেডিও এবং ওয়ারলেস সিগনাল সেন্ড এবং রিসিভ করা বন্ধ করে দেয়। যার ফলে ফোনকে ওয়াইফাই তে কানেক্টেড থাকতে হয়না, ব্লুটুথে কানেক্টেড থাকতে হয়না এবং এমনকি জিপিএস এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের সাথেও কানেক্টেড থাকতে হয়না।

তাই স্মার্টফোনটি সাধারনের তুলনায় কিছুটা দ্রুত চার্জ নিতে পারে। যেহেতু, এসব ওয়ারলেস সিগনাল রিসিভ এবং সেন্ড করতে হলে ফোনের ব্যাটারি কন্টিনিউয়াসলি কিছুটা কনজিউম করতে হত। কিন্ত এয়ারপ্লেন মোডে চার্জ দিলে আপনি স্মার্টফোনে কোন ফোন কল এবং কোন ধরনের ইনটারনেট নোটিফিকেশন পাবেন না। কিন্তু আমার মনে হয়না যাদের স্মার্টফোন সম্পূর্ণ পাওয়ার অফ করে চার্জে দেওয়ার অভ্যাস, তাদের জন্য এটি কোন ইস্যু হবে। কিন্তু আপনার জন্য যদি হয়, তবে আপনি এটি করা থেকে বিরত থাকুন। এবং হ্যাঁ, চার্জ শেষ করার পড়ে অবশ্যই আবার এয়ারপ্লেন মোড অফ করে নিবেন।

তো এগুলোই ছিল কয়েকটি টেক লাইফ হ্যাক যেগুলো আপনার দৈনন্দিন প্রযুক্তিনির্ভর জীবনকে করবে আরো বেশি সহজ এবং একই সাথে আপনার কিছুটা সময়ও বেঁচে যাবে এগুলো ফলো করলে। এমন আরো অনেক অনেক লাইফ হ্যাকস আছে। সেগুলো নিয়ে আশা করি অন্য একদিন আলোচনা করা যাবে।

আজকের মত এখানেই শেষ করছি। আশা করি আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে। কোন ধরনের প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন। ভালো থাকবেন।

11 thoughts on "[Hot] টেক লাইফ হ্যাকঃ–যা আপনার প্রযুক্তির জীবনকে আরো সহজ করবে![Part-1]"

  1. Little Star Little Star Author says:
    অসাধারণ 🙂
  2. Shadin Shadin Author says:
    অসাম পোস্ট।

Leave a Reply