আমার এক বন্ধুর ফোনে প্রতিমাসের ২০ তারিখের পর ডেটা শেষ হয়ে যেত — অথচ সে নাকি “তেমন কিছু করেই না”। পরে একদিন বসে তার ফোনটা ঘেঁটে দেখলাম, ডেটা খাচ্ছে মূলত ব্যাকগ্রাউন্ডের অ্যাপগুলো, যেগুলোর কথা সে ভাবেইনি। নিচের স্টেপগুলো ফলো করলে আপনিও একই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। চলুন শুরু করি:
স্টেপ ১: Data Saver চালু করুন
Settings → Network & Internet → Data Saver → ON করে দিন। এটা চালু হলে ব্যাকগ্রাউন্ডে কোনো অ্যাপ ডেটা খেতে পারবে না — শুধু যে অ্যাপটা আপনি ব্যবহার করছেন, সেটাই ডেটা পাবে। একটা কথা: WhatsApp-এর মতো জরুরি অ্যাপ চাইলে একই মেনু থেকে whitelist করে রাখতে পারেন, তাহলে মেসেজ আসতে দেরি হবে না।
স্টেপ ২: আসল ডেটা-চোরদের খুঁজে বের করুন
Settings → Network & Internet → SIM-এ গিয়ে দেখুন এই মাসে কোন অ্যাপ সবচেয়ে বেশি ডেটা খেয়েছে। অ্যাপে ট্যাপ করলে দেখা যায় সেটা foreground (আপনি ব্যবহারের সময়) নাকি background (আপনি না দেখার সময়) খরচ করেছে। আমার অভিজ্ঞতায়, তালিকার উপরের দিকে প্রায়ই এমন অ্যাপ থাকে যেটা আপনি সপ্তাহেও একবার খোলেন না।
স্টেপ ৩: ভারী অ্যাপগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করুন
যে অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে বেশি খাচ্ছে — সাধারণত Instagram, Facebook, গেম অ্যাপ — সেগুলোর App Info → Data usage-তে গিয়ে Background data বন্ধ করে দিন। ফোন খুললেই অ্যাপ চলবে, শুধু পেছনে বসে ডেটা খাবে না।
স্টেপ ৪: Play Store-এর অটো-আপডেট Wi-Fi-তে সীমাবদ্ধ করুন
Play Store → Settings → Network preferences → Auto-update apps → “Over Wi-Fi only” সিলেক্ট করুন। নইলে যেকোনো সময় বড় বড় আপডেট ডেটা খেয়ে ফেলবে।
স্টেপ ৫: সোশ্যাল মিডিয়ার অটোপ্লে বন্ধ করুন
Instagram, Facebook, YouTube — সবগুলোর সেটিংসে Data Saver / অটোপ্লে বন্ধ করার অপশন আছে। রিল স্ক্রল করার আগেই ভিডিও প্রি-লোড হয়ে ডেটা খায় — এটা বন্ধ করলে ফারাকটা হাতে-নাতে টের পাবেন।
স্টেপ ৬: WhatsApp-এর মিডিয়া ডাউনলোড Wi-Fi-তে রাখুন
WhatsApp Settings → Storage and data → Media auto-download-তে “When using mobile data” থেকে সব টিক তুলে দিন। গ্রুপের ভিডিওগুলোই অনেক সময় অর্ধেক ডেটা খেয়ে ফেলে।
স্টেপ ৭: লোকেশন পারমিশন ঠিক করুন
Settings → Location → App permissions-তে গিয়ে যেসব অ্যাপ “Allow all the time” আছে, সেগুলোকে “Only while using the app” করে দিন। সারাক্ষণ লোকেশন ট্র্যাকিং শুধু ব্যাটারি না, ডেটাও খায়।
এগুলোর মধ্যে প্রথম তিনটা স্টেপই আমার অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে বেশি ফারাক আনে। একবার সেট করে নিলে মাস শেষে আর ডেটা নিয়ে ভাবতে হবে না।