ফোন হারালে বা নষ্ট হলে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় ছবিগুলোর জন্য — স্মৃতি তো আর ফিরে পাওয়া যায় না। Google Photos-এর অটো ব্যাকআপ এই চিন্তা থেকে মুক্তি দেয়, কিন্তু ডিফল্ট সেটিংসে চালিয়ে রাখলে একদিন দেখবেন ১৫ জিবি ফ্রি স্টোরেজ শেষ, আর ব্যাকআপ বন্ধ হয়ে গেছে। আমি নিজে এই ফাঁদে পড়েছিলাম। তাই আজ বলছি কোন সেটিংগুলো ঠিক করে নিলে ব্যাকআপ ঠিকঠাক চলবে।

১. ব্যাকআপ কোয়ালিটি। Google Photos খুলে প্রোফাইল ছবিতে চাপ দিন, Photos settings, তারপর Backup-এ যান। Photo and video quality-তে দুটো অপশন পাবেন — Original quality আর Storage saver। Original quality-তে ছবি পুরো রেজোলিউশনে আপলোড হয়, কিন্তু স্টোরেজ দ্রুত শেষ হয়। Storage saver-এ ছবি ১৬ মেগাপিক্সেল আর ভিডিও ১০৮০p-তে কম্প্রেস হয় — খালি চোখে পার্থক্য প্রায় বোঝা যায় না, কিন্তু জায়গা বাঁচে অনেক। প্রিন্টের জন্য ফটোগ্রাফি না করলে Storage saver-ই ঠিক আছে।

২. শুধু Wi-Fi-তে ব্যাকআপ। মোবাইল ডেটা দিয়ে হাজার হাজার ছবি আপলোড হলে ডেটা শেষ হয়ে যাবে। Backup সেটিংসেই মোবাইল ডেটায় ব্যাকআপের অপশনটা বন্ধ রাখুন। আর Back up while charging চালু রাখলে রাতে চার্জে দিলেই ব্যাকআপ হয়ে যাবে — ব্যাটারির চিন্তাও নেই।

৩. কোন ফোল্ডারের ব্যাকআপ হবে। ক্যামেরার ছবি তো বটেই, WhatsApp, Screenshots, Downloads ফোল্ডারের ব্যাকআপ আলাদা করে চালু করতে হয় — না হলে ওই ছবিগুলো ক্লাউডে যাবে না। কিন্তু একটা সতর্কতা — স্ক্রিনশট ফোল্ডারের ব্যাকআপ চালু রাখলে অপ্রয়োজনীয় ছবিতে স্টোরেজ ভরে যাবে। আমি নিজে স্ক্রিনশট ফোল্ডারের ব্যাকআপ বন্ধ রেখেছি।

৪. স্টোরেজ ম্যানেজমেন্ট। Google Photos-এর Manage storage সেকশনে গেলে দেখতে পাবেন কোন জিনিস কত জায়গা নিচ্ছে — ঝাপসা ছবি, বড় ভিডিও, স্ক্রিনশট আলাদা করে দেখায়। মাঝে মাঝে এখান থেকে পরিষ্কার করলে ১৫ জিবি অনেকদিন চলে। আর মনে রাখবেন, এই ১৫ জিবি Gmail আর Drive-এর সাথে শেয়ার হয় — তাই Gmail-এর বড় অ্যাটাচমেন্ট মুছে ফেললেও Photos-এর জন্য জায়গা বাড়ে।

সবশেষে একটা অভ্যাস — ব্যাকআপ ঠিকমতো হচ্ছে কিনা মাঝে মাঝে চেক করুন। অ্যাপের উপরে ক্লাউড আইকনে টিক চিহ্ন থাকলেই বুঝবেন সব ছবি নিরাপদে ক্লাউডে উঠে গেছে।