কখনো শুনেছেন, Developer Options চালু করলেই ফোন নাকি সুপারফাস্ট হয়ে যায়? আমি নিজে প্রথমবার চালু করে ভেবেছিলাম বিশাল কিছু হবে। সত্যিটা হলো, মেনুটা চালু করলেই কিছু বদলায় না — বদলায় ভেতরের কয়েকটা সেটিং বদলালে। আর সব সেটিং ছোঁয়ার মতো নয়। আজ শুধু সেই ৫টার কথা বলছি, যেগুলো আমি নিরাপদ মনে করি।
আগে চালু করার নিয়মটা: Settings > About Phone > Build Number-এ ৭ বার ট্যাপ করুন। পাসওয়ার্ড চাইলে দিন। ব্যস, Settings-এ Developer Options চলে আসবে।
১. অ্যানিমেশন স্কেল কমান
Window Animation Scale, Transition Animation Scale আর Animator Duration Scale — তিনটাই ডিফল্ট 1x থাকে। তিনটাকে 0.5x করে দিন। ফোনের স্পিড বাড়বে না, কিন্তু অ্যাপ খোলা-বন্ধের অ্যানিমেশন অর্ধেক সময়ে শেষ হবে, ফোনটা চটপটে মনে হবে। এটা আমার সবচেয়ে পছন্দের টুইক। চাইলে Off-ও করতে পারেন, তবে 0.5x-এ দেখতে ভালো লাগে।
২. USB Debugging — শুধু দরকারের সময়
কম্পিউটার থেকে ফোনে অ্যাপ ইনস্টল বা সমস্যা খুঁজতে এটা লাগে। কিন্তু কাজ শেষ হলে বন্ধ করে রাখুন। চালু অবস্থায় ফেলে রাখলে অচেনা কম্পিউটারে লাগালে ঝুঁকি থাকে। আমি এটা সবসময় অফ রাখি, লাগলেই অন করি।
৩. Stay Awake — মাঝে মাঝে কাজে লাগে
চার্জে থাকা অবস্থায় স্ক্রিন জ্বলে থাকবে, যদি এটা চালু করেন। রেসিপি দেখে রান্না বা লম্বা আর্টিকেল পড়ার সময় কাজে লাগে। তবে রোজকার ব্যবহারে এটা অফ রাখাই ভালো, নইলে স্ক্রিন জ্বলে ব্যাটারি খাবে।
৪. Force Dark Mode
যেসব অ্যাপে নিজস্ব ডার্ক মোড নেই, সেগুলোকে জোর করে ডার্ক করার চেষ্টা করে এই অপশন। রাতে চোখে আরাম লাগে। তবে কিছু অ্যাপে লেখা ঠিকমতো দেখা যায় না — এমন হলে বন্ধ করে দিন।
৫. ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস লিমিট — হালকা হাতে
অনেক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চললে ফোন ভারী লাগে। এখানে লিমিট বসানো যায়, তবে খুব কমিয়ে দিলে নোটিফিকেশন আসতে দেরি হতে পারে। আমি এটা নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করি না, ডিফল্টেই রাখি বেশিরভাগ সময়।
আর যেগুলো এড়িয়ে চলবেন: Mock Location (ব্যাংকিং অ্যাপ ধরে ফেললে লগআউট করে দিতে পারে), Don’t Keep Activities (প্রতিবার অ্যাপ ছাড়লেই মুছে যাবে, বিরক্তিকর), OEM Unlocking (এটা শুধু টগল করলেই কিছু হয় না, কিন্তু না বুঝে ছোঁয়ার দরকার নেই)।
মনে রাখবেন, Developer Options কোনো জাদুর বাক্স নয়। দু-একটা সেটিং বুঝে বদলালে ফোনটা আপনার মতো লাগবে — আর না বুঝে সবকিছু অন করলে উল্টো ঝামেলাই বাড়বে।