সত্যি কথা বলতে কি, কিছু ফ্রি অ্যাপ খুললে মনে হয় বিজ্ঞাপন দেখতেই অ্যাপটা বানানো হয়েছে। গেম খেলতে গিয়ে মাঝপথে ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও, খবর পড়তে গিয়ে পপ-আপ — আমার নিজেরও মেজাজ খারাপ হয়। পুরোপুরি বিজ্ঞাপনমুক্ত ফোন হয়তো সম্ভব নয়, তবে একটা সেটিং বদলে আমি নিজে অনেকটা শান্তি পেয়েছি, সেটাই বলছি।
সেটিংটার নাম Private DNS। অ্যান্ড্রয়েড ৯-এর পরের প্রায় সব ফোনেই এটা আছে, শুধু খুঁজে পেতে হয়। Settings-এ গিয়ে Network & internet (Samsung-এ Connections) খুলুন, তার ভেতরে Private DNS পাবেন। সেখানে “Private DNS provider hostname” বেছে নিয়ে লিখুন dns.adguard-dns.com, তারপর Save। ব্যস, আর কোনো অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে না, রুটও লাগবে না।
কাজটা কীভাবে হয়, সহজ ভাষায় বলি। ফোন যখন কোনো বিজ্ঞাপন দেখাতে চায়, সে আগে বিজ্ঞাপন কোম্পানির সার্ভারের ঠিকানা খোঁজে। এই DNS সেটিংটা সেই ঠিকানাগুলোকে আটকে দেয় — ফলে অনেক ব্যানার আর ট্র্যাকার লোডই হয় না। আমার ফোনে সেট করার পর ব্রাউজার আর সাধারণ অ্যাপগুলোতে বিজ্ঞাপন চোখে পড়ার মতো কমেছে। ব্যাটারিতেও কোনো বাড়তি চাপ পড়ে না, কারণ আলাদা কোনো অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলছে না।
তবে আগেই সত্যিটা বলে রাখি, নইলে পরে হতাশ হবেন। ইউটিউব বা স্পটিফাইয়ের বিজ্ঞাপন এই পদ্ধতিতে যাবে না, কারণ সেগুলো ভিডিও বা গানের সার্ভার থেকেই আসে — আলাদা বিজ্ঞাপন সার্ভার থেকে নয়। আর কিছু অ্যাপে বিজ্ঞাপনের জায়গাটা ফাঁকা বক্স হয়ে থাকতে পারে। এটা স্বাভাবিক, অ্যাপ নষ্ট হয়নি।
আরো কয়েকটা কাজ করতে পারেন। যে অ্যাপটা সত্যিই কাজে লাগে, তার প্রো ভার্সন কেনা যায় কি না দেখুন — ডেভেলপাররাও তো খেয়ে-পরে বাঁচতে চায়। আর “ফ্রি অ্যাড ব্লকার” নামে অচেনা সাইট থেকে APK ইনস্টল করবেন না — বিজ্ঞাপন আটকাতে গিয়ে উল্টো ম্যালওয়্যার ঢুকে যেতে পারে। যদি কোনো অফিসের সাইট বা ব্যাংকিং অ্যাপ হঠাৎ না খোলে, তাহলে Private DNS আবার Off করে দেখুন, বেশিরভাগ সময় সেখানেই সমস্যা মেটে।
আমার মতে, এটা পাঁচ মিনিটের একটা পরীক্ষা। ভালো না লাগলে সেটিং ফিরিয়ে নিতে আরো পাঁচ মিনিট লাগবে। কিন্তু আমার ফোনে এটা অন করার পর থেকে অ্যাপ ব্যবহারের বিরক্তিটা সত্যিই কমেছে।