ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস – নিউজ, ইভেন্ট এবং ইকোনমিক ডাটা ইমপ্যাক্ট

[ক্রিপ্টো ট্রেডিং-৩]: রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ও স্টপ-লস ট্রেডিং সাইকোলজি এবং স্পট বনাম ফিউচার ট্রেডিং ও DCA স্ট্র্যাটেজি

ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস—নিউজ, ইভেন্ট এবং ইকোনমিক ডাটা ইমপ্যাক্ট

ক্রিপ্টো মার্কেট বিশ্বজুড়ে চললেও, এর রিমোট কন্ট্রোল অনেকাংশেই আমেরিকার অর্থনীতির হাতে। কারণ ডলারের ওপর ভিত্তি করেই এই ট্রেডিং সবচেয়ে বেশি হয়।

১. CPI ডাটা (Consumer Price Index) বা মূল্যস্ফীতি : প্রতি মাসে আমেরিকা তাদের দেশে মূল্যস্ফীতির (জিনিসপত্রের দাম বাড়ার হার) একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে, যাকে CPI ডাটা বলে।

• ক্রিপ্টোতে প্রভাব (ইমপ্যাক্ট) : যদি CPI ডাটা আগের চেয়ে বেশি আসে (তার মানে ইনফ্লেশন বা জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে), তবে সেটা ক্রিপ্টো মার্কেটের জন্য খারাপ (Bearish)। এর ফলে মার্কেটে ডাম্প দেখা যায়। আর যদি CPI ডাটা কম আসে, তবে সেটা মার্কেটের জন্য খুবই ভালো (Bullish)।

২. ফেড ইন্টারেস্ট রেট (Fed Interest Rate) :

আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক (Federal Reserve বা Fed) প্রতি মাস দেড়েক পর পর সুদের হার (Interest Rate) বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ক্রিপ্টো মার্কেটের সবচেয়ে বড় মুভমেন্ট এই দিনগুলোতেই হয়।

• ইন্টারেস্ট রেট বাড়ালে (Rate Hike): ব্যাংকে টাকা রাখলে যদি বেশি সুদ পাওয়া যায়, তবে মানুষ ক্রিপ্টোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা থেকে টাকা তুলে ব্যাংকে রাখে। ফলে ক্রিপ্টো মার্কেটে বড় পতন বা ডাম্প হয়।

• ইন্টারেস্ট রেট কমালে (Rate Cut): ব্যাংকে সুদ কম পেলে মানুষ বেশি লাভের আশায় স্টক বা ক্রিপ্টোতে ইনভেস্ট করে। ফলে মার্কেটে প্রচুর নতুন টাকা ঢোকে এবং বড় পাম্প হয়।

৩. বিটকয়েন হালভিং (Bitcoin Halving) : ক্রিপ্টো জগতের সবচেয়ে বড় নিজস্ব ইভেন্ট হলো হালভিং, যা প্রতি ৪ বছর পর পর ঘটে। এই ইভেন্টে বিটকয়েন মাইন করে (কম্পিউটার দিয়ে গাণিতিক হিসাব মিলিয়ে) নতুন কয়েন পাওয়ার হার অর্ধেক হয়ে যায়।

Crypto জগতে এই Halving চেক আউট করতে পারেন।

• Halving কেন গুরুত্বপূর্ণ?

সাপ্লাই অর্ধেক হয়ে যাওয়ার কারণে মার্কেটে নতুন বিটকয়েন আসা কমে যায়। ডিমান্ড একই থাকলে বা বাড়লে, সাপ্লাই কমার কারণে দাম রকেটের মতো বাড়তে থাকে। সাধারণত প্রতিটি হালভিংয়ের পরের ১-১.৫ বছর ধরে ক্রিপ্টোতে ‘বুল রান’ বা বিশাল পজিটিভ মার্কেট দেখা যায়।

৪. প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ এবং ETF নিউজ : যখন কোনো বড় কোম্পানি (যেমন: Tesla, MicroStrategy) বা দেশের সরকার ক্রিপ্টো কেনে, তখন মার্কেট পজিটিভ হয়। এছাড়া, Bitcoin ETF বা Ethereum ETF (সাধারণ শেয়ারবাজারের মাধ্যমে ক্রিপ্টোতে ইনভেস্ট করার সরকারি অনুমোদন) অনুমোদনের মতো নিউজগুলো মার্কেটে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার নিয়ে আসে। অন্যদিকে, কোনো দেশ যদি ক্রিপ্টো ব্যান বা নিষিদ্ধ করার নিউজ ছড়ায় (FUD), তখন মার্কেট সাময়িকভাবে ডাম্প করে।

৫. ফিয়ার অ্যান্ড গ্রিড ইনডেক্স (Fear and Greed Index) : ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিসের একটি সহজ টুল হলো এই ইনডেক্স। এটি ০ থেকে ১০০ এর স্কেলে পরিমাপ করে যে মার্কেটের মানুষ এখন কী ভাবছে।

1777397480-picsay

Fear & Greed চেক FearGreedDash হতে চেক করতে পারেন।

• Extreme Fear (০-২৫): চারদিকে প্রচুর ভয় এবং নেগেটিভ নিউজ। মানুষ লসে বিক্রি করে পালাচ্ছে। সওদাগরদের জন্য এটি কেনার (DCA করার) সেরা সময়।

• Extreme Greed (৭৫-১০০): মানুষ লোভে পড়ে পাগলের মতো কিনছে। চারদিকে শুধু পজিটিভ নিউজ। সওদাগরদের জন্য এটি বিক্রি করে প্রফিট ঘরে তোলার সময়।

সামারাইজ

• CPI এবং Fed Rate: আমেরিকার ইনফ্লেশন এবং সুদের হার কমলে ক্রিপ্টো পাম্প করে, আর বাড়লে ডাম্প করে। ট্রেড করার আগে ইকোনমিক ক্যালেন্ডারে এই দিনগুলো মার্ক করে রাখবেন।

• হালভিং: ৪ বছর পর পর আসা এই ইভেন্ট বুল মার্কেটের জন্ম দেয়।

• নিউজ ট্রেডিং: বড় কোনো খারাপ নিউজ এলে প্যানিক সেল করবেন না, আবার খুব ভালো নিউজ দেখে হাই প্রাইসে (FOMO) কিনবেন না। বড় নিউজের সময় মার্কেট প্রচুর ওঠানামা (Volatility) করে, তাই এই সময় ট্রেড না করে চুপচাপ দেখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

• মার্কেট সেন্টিনেন্ট: সবাই যখন ভয়ে কাঁপে, আপনি তখন কিনবেন। সবাই যখন লোভে পড়ে, আপনি তখন বিক্রি করবেন।

এই ফান্ডামেন্টাল বিষয়গুলো মাথায় রাখলে আপনি আগে থেকেই বুঝতে পারবেন মার্কেট হঠাৎ করে কেন অদ্ভুত আচরণ করছে, এবং সে অনুযায়ী নিজের ফান্ড সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।

আজকের লার্নিং এতোটুকুই থাকুক…

সকলের জন্য শুভকামনা ও ভালোবাসা রইলো।