এক্সচেঞ্জে অর্ডার টাইপ এবং ট্রেড এক্সিকিউশন

[ক্রিপ্টো ট্রেডিং-৩]: রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ও স্টপ-লস ট্রেডিং সাইকোলজি এবং স্পট বনাম ফিউচার ট্রেডিং ও DCA স্ট্র্যাটেজি

এক্সচেঞ্জগুলোতে ট্রেড করার জন্য মূলত কয়েকটি অপশন থাকে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক অর্ডার টাইপ বেছে নেওয়াটা একজন দক্ষ ট্রেডারের অন্যতম গুণ।

১. মার্কেট অর্ডার (Market Order): “যা দাম আছে, তাতেই কিনে নাও!”

মার্কেট অর্ডার হলো একদম তাৎক্ষণিক কেনাবেচা। বাজারে বর্তমানে যে দাম চলছে, আপনি সেই দামেই সাথে সাথে কিনে বা বিক্রি করে ফেলতে চান।

• কীভাবে কাজ করে?

আপনি শুধু কয়েনের পরিমাণ বা ডলারের পরিমাণ বসিয়ে Buy/Sell এ ক্লিক করবেন। এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশে ট্রেড হয়ে যাবে।

• কখন ব্যবহার করবেন?

যখন হঠাৎ কোনো বড় নিউজ আসে বা মার্কেট খুব দ্রুত পাম্প/ডাম্প করে এবং আপনার সাথে সাথে এন্ট্রি বা এক্সিট দরকার হয়।

সতর্কতা: এতে ‘স্লিপেজ’ (Slippage) হতে পারে। অর্থাৎ, আপনি যে দাম দেখছেন, কিনতে কিনতে দাম একটু এদিক-সেদিক হয়ে যেতে পারে। সাধারণ সময়ে এক্সপার্ট ট্রেডার এটি এড়িয়ে চলেন।

 

২. লিমিট অর্ডার (Limit Order): এক্সপার্ট ক্রিপ্টো ট্রেডিং এর আসল হাতিয়ার : লিমিট অর্ডারে আপনি নিজের পছন্দমতো একটি দাম ঠিক করে দেন। দাম যখন ঠিক ওই পয়েন্টে আসবে, তখনই কেবল আপনার কেনা বা বেচা সম্পন্ন হবে।

• কীভাবে কাজ করে?

ধরুন, বিটকয়েনের বর্তমান দাম ৬৫,০০০ ডলার। আপনি চার্ট অ্যানালাইসিস করে দেখলেন ৬২,০০০ ডলারে একটি শক্তিশালী সাপোর্ট আছে। আপনি ৬২,০০০ ডলারে একটি ‘Buy Limit’ বসিয়ে রাখলেন। আপনি ঘুমিয়ে থাকলেও, দাম ৬২,০০০-এ এলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার কেনা হয়ে যাবে। একইভাবে রেজিস্ট্যান্সে ‘Sell Limit’ বসিয়ে রাখা যায়।

• সুবিধা: আপনি নিজের শর্তে ট্রেড করতে পারেন, সারাক্ষণ চার্টের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না এবং কোনো স্লিপেজ হয় না।

৩. স্টপ-লিমিট (Stop-Limit): বিপদের বন্ধু বা লাইফবোট: ক্রিপ্টো ট্রেডিং লার্নিং পর্বে ইতিপূর্বে পর্বে আমরা আমরা স্টপ-লসের কথা বলেছিলাম। এই স্টপ-লিমিট হলো সেই স্টপ-লস বসানোর প্রক্রিয়া। এখানে মূলত দুটি ঘর থাকে: ‘Stop’ (ট্রিগার) এবং ‘Limit’ (অর্ডার প্রাইস)।

 

• কীভাবে কাজ করে? ধরুন আপনি ১০০ ডলারে কয়েন কিনেছেন, দাম কমলে ৯৫ ডলারে বিক্রি করে লস ঠেকাতে চান। আপনি Stop এ দিলেন ৯৫.৫ ডলার এবং Limit এ দিলেন ৯৫ ডলার।

• মানে কী? এর মানে হলো, দাম কমতে কমতে ৯৫.৫ ডলারে এলে এক্সচেঞ্জ অ্যালার্ট হয়ে আপনার ৯৫ ডলারের সেল অর্ডারটি খাতা-কলমে (Order Book) এন্ট্রি করবে এবং দাম ঠিক ৯৫-এ এলে বিক্রি করে আপনাকে বড় লস থেকে বাঁচিয়ে দেবে।

 

৪. OCO অর্ডার (One Cancels the Other): এক ঢিলে দুই পাখি : এটি এক্সচেঞ্জের সবচেয়ে চমৎকার এবং বেস্ট ফিচার! OCO মানে হলো “একটি অন্যটিকে বাতিল করবে”। এখানে আপনি একই সাথে প্রফিট নেওয়ার অর্ডার (টেক-প্রফিট) এবং লস ঠেকানোর অর্ডার (স্টপ-লস) বসাতে পারবেন।

 

• কীভাবে কাজ করে? আপনি ১০০ ডলারে কয়েন কিনেছেন। আপনার ট্রেডিং প্ল্যান হলো: ১২০ ডলারে গেলে লাভে বিক্রি করবেন (Take Profit), আর ৯৫ ডলারে গেলে লসে বিক্রি করে বেরিয়ে আসবেন (Stop-Loss)। আপনি OCO অপশনে গিয়ে Limit ঘরে ১২০ লিখলেন (লাভের জন্য), আর নিচে Stop-Limit ঘরে ৯৫-এর হিসাবটা দিয়ে রাখলেন।

• ম্যাজিক: এবার দাম যদি ১২০ এ যায়, আপনার কয়েন লাভে বিক্রি হয়ে যাবে এবং ৯৫ ডলারের স্টপ-লসটি অটোমেটিক বাতিল (Cancel) হয়ে যাবে। আবার দাম যদি উল্টো ঘুরে ৯৫-এ নেমে আসে, তবে ৯৫ তে বিক্রি হয়ে ১২০ এর অর্ডারটি বাতিল হয়ে যাবে। অর্থাৎ, এই ট্রেড বসিয়ে আপনি নিশ্চিন্তে অন্য কাজে বা ঘুমাতে যেতে পারবেন।

এক্ষেত্রে আপনাকে পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট করতে জানতে হবে :

সামারাইজ

• মার্কেট অর্ডার: বর্তমান রিয়েল-টাইম দামে সাথে সাথে কেনাবেচা। (ইমার্জেন্সি মুহূর্তে ব্যবহার্য)।

• লিমিট অর্ডার: আপনার ঠিক করে দেওয়া নিজের টার্গেট প্রাইসে কেনাবেচা। (সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত)।

• স্টপ-লিমিট: মার্কেট উল্টো দিকে গেলে নির্দিষ্ট দামে লস ঠেকানোর জন্য ইমার্জেন্সি এক্সিট।

• OCO: একই সাথে টেক-প্রফিট এবং স্টপ-লস বসানোর সবচেয়ে স্মার্ট এবং টেনশন-ফ্রি উপায়।

এই অর্ডার টাইপগুলো এক্সচেঞ্জ অ্যাপে গিয়ে ছোট ফান্ড দিয়ে বা ডেমো অ্যাকাউন্টে প্র্যাকটিস করে হাত পাকিয়ে নিন। এক্ষেত্রে Portfolio Tracker ডেমো ট্রেডিং’তে আপনাকে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। টুলসগুলো ঠিকঠাক চালাতে পারলে লাইভ ট্রেডের সময় ভুল বাটনে চাপ লেগে লস হওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না!

নিরন্তর শুভকামনা রইলো