পিথাগোরাস বলেছিলেন- “A fool is known by his speech and a wise by silence”. একজন বোকার পরিচয় তার কথার দ্বারা বোঝা যায় আর একজন জ্ঞানীর পরিচয় হয়ে থাকে তার নীরবতায়।
এমনকি আচার্য চাণক্য বলেছিলেন- “যে ব্যক্তি এটা বুঝে যাবে যে কখন কোথায় কি এবং কতটুকু বলতে হবে সে ব্যক্তিকে সফল হওয়া থেকে কেউ আটকাতে পারবে না”
কারণ ধনুক থেকে বের হওয়া বান আর মুখ থেকে বের হওয়া কথা কখনোই ফিরিয়ে আনা যায় না। আপনার বলা প্রতিটা শব্দ আপনার শক্তি হতে পারে আবার বিপদের কারণ হতে পারে।
আপনি হয়তো খেয়াল করে থাকবেন যখন আমরা কারো সাথে তর্ক করি আর তর্ক করার পরে যখন সেই তর্ক নিয়ে চিন্তা করি তখন মনে হয় যে ওই সময় আমি এটা বলতে পারতাম সেটা কেন বলিনি। যদি তখন এটা বলতাম তাহলে তো আমি সঠিক হতাম কিন্তু তর্ক করার চক্করে আমরা একেবারেই চিন্তা করি না এসব, আর নিজেদেরকে সঠিক প্রমাণ করতে নিজেদের কথার ভ্যালু রাখতে উল্টাপাল্টা যা ইচ্ছা বলে দেই আর মানুষ তখন আমাদের কথার গুরুত্ব দেয় না।
আমাদেরকে মূল্যহীন ভাবতে শুরু করে। তবুও অনেক মানুষ তাদের নিজেদেরকে বড় করে দেখাতে চুপ থাকতে পারে না। যেখানে অনেক মহাজ্ঞানী মহারাজা এবং সফল ব্যক্তিরা উদাহরণ হয়ে রয়েছেন এবং বুঝিয়েছেন সাইলেন্স থাকার মধ্যেই আসল ক্ষমতা থাকে। তাই আজ আমি পাঁচটি পয়েন্ট বলবো যার মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন সাইলেন্ট বা চুপ থাকার গুরুত্ব কতটা।
Silent Will Make You Appear More Powerful
সাইলেন্ট থাকার প্রথম উপকারিতা হলো Silent Will Make You Appear More Powerful. অর্থাৎ চুপ করে থাকা বা নীরবতা আপনাকে বেশি শক্তিশালী দেখায়। একজন অন্যতম যোদ্ধা সানচু উনার সাইলেন্ট থাকার মাধ্যমে অনেক শত্রুদেরকে হারিয়েছেন। তিনি চুপ থাকার মাধ্যমে শত্রুদেরকে গভীর চিন্তায় ফেলে দিতেন এবং শত্রুরা ভয়ে থাকতো যে উনার নেক্সট প্ল্যান কি হবে কখন হবে আর কনফিউশনে পড়ে ভুল পদক্ষেপ নিত এবং হেরে যেত। এইটাকে বলে পাওয়ার অফ সাইলেন্স।
আপনি প্রয়োজনের বেশি যত কথা বলবেন মানুষ আপনাকে ততটাই সাধারণ ভাবতে শুরু করবে। অন্যদিকে সাইলেন্ট থাকলে আপনি এটা ভাবতে পারেন যে আপনাকে কি বলতে হবে এবং সঠিক কোনটা আর চুপ থাকার পর আপনি যখন কিছু বলবেন সেই কথাগুলোর উজনই থাকবে আলাদা।
No One Can Fool You Or Manipulate You
সেকেন্ড পয়েন্টটি হলো No One Can Fool You Or Manipulate You. অর্থাৎ কেউ আপনাকে এত সহজে বোকা বানাতে পারবে না যদি আপনি চুপ থাকা শিখে যান। যখন আপনি কারো সাথে কথা বলবেন এবং সেই সময় যদি চুপ থাকেন তাহলে সামনে থাকা মানুষটির কথা আপনি মন দিয়ে শুনতে পারেন। তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ কথা বলার ধরণ দেখে এটা বুঝতে পারেন যে সে কি সত্যি বলছে নাকি মিথ্যা বলছে অথবা সে কি চায় নাকি সে আপনাকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছে নাকি সত্যি আপনার উপকার করতে চায়। আর এই বিষয়গুলো যখন আপনি চুপ করে শুনবেন তখনই অবজারভেশন করতে পারবেন আর শোনার সাথে সাথে তার উদ্দেশ্যটাও বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
Silence Gets People’s Attention
থার্ড পয়েন্ট Silence Gets People’s Attention. আপনি যদি কোন গ্রুপ মিটিং এ থাকেন অথবা কোন ক্লাসে থাকেন তখন হয়তো বুঝতে পারেন যে কিভাবে চুপ থাকার মাধ্যমে এটেনশন গ্রাব করে ফেলা যায়। কারণ আপনি খেয়াল করে দেখবেন টিচার যখন ক্লাস নেওয়া শুরু করে তখন মনের অজান্তেই আমরা অন্যমনস্ক হয়ে যাই। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভাবতে শুরু করি অথবা পাশে বসা বন্ধুর সাথে কথা বলতে থাকি আর টিচারের কথা ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে। কিন্তু হঠাৎ যখন টিচার চুপ হয়ে যায় তখন আমাদের ফোকাস অটোমেটিক টিচারের উপর চলে আসে। কারণ সাইলেন্স আপনার ব্রেনকে সিগন্যাল দেয় যে কিছু তো হয়েছে।
আর তখনই আপনার এটেনশন বেড়ে যায়। ঠিক তেমনি আপনি নোটিস করে থাকবেন যখন আপনি কোন গ্রুপে বা কারো সাথে কথা বলছেন কিন্তু আপনার কথা কেউ শুনছেই না বা পাত্তা দিচ্ছে না। কিন্তু যখন আপনি চুপ হয়ে যান তখনই আপনি দেখবেন সবাই আপনার উপর এটেনশন দিচ্ছে তারা এসে জিজ্ঞাসা করছে কি ব্যাপার আগের মতো কথা বলছো না কেন কি হয়েছে।
Silence Makes You More Creative
নাম্বার চার Silence Makes You More Creative. চুপ থাকার মাধ্যমে আপনার ক্রিয়েটিভিটি আগের চেয়ে আরো বেটার হওয়া শুরু করবে। যখন আপনি চুপ থেকে নিজের সাথে একা সময় কাটাবেন নিজেকে সময় দেওয়া শুরু করবেন আপনার মাইন্ডে বিভিন্ন ধরনের ক্রিয়েটিভ চিন্তা ভাবনা আসা শুরু করবে। আপনার ক্রিয়েটিভ থর্টস আপনাকে ধীরে ধীরে প্রোডাক্টিভ তৈরি করে ফেলবে।
আপনি যত বেশি ক্রিয়েটিভ চিন্তা করবেন আপনার ইমাজিনেশন পাওয়ার অর্থাৎ কল্পনাশক্তি তত শক্তিশালী হবে আর কল্পনাশক্তি হলো পাখির মত আপনি যত উপরে উঠতে দেবেন আপনি ততটাই লাইফে এচিভ করতে পারবেন। আপনি নিজেকে চুপ রেখে এবং নিজেকে পজিটিভ রেখে যেকোনো কাজকে বেটার উপায়ে করার ক্ষমতা রাখেন। কারণ চুপ থাকার মাধ্যমে আপনার পজিটিভ মাইন্ড আপনাকে বেটার ডিসিশন বেটার ইমাজিনেশন গ্রেপ করতে সাহায্য করে। যা আপনাকে ক্রিয়েটিভ বানায়।
Never Share Your Goals Or Plans
পাঁচ নাম্বার পয়েন্টটি হলো এমন একটি বিষয় যেখানে আপনার চুপ থাকতেই হবে আর সেটি হলো আপনার প্ল্যানস বা গোলস অর্থাৎ আপনি যদি কোন জিনিসের উপর কাজ করে যাচ্ছেন তাহলে সেটা কখনোই প্রকাশ হতে দিবেন না। এই পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে যারা খোলা বইয়ের মতো সুযোগ পেলেই মনের সব কথা শেয়ার করে দেয়। সব গোলস প্ল্যানস শেয়ার করে দেয়। আর প্রবলেম তখনই হয় যখন কোন কারণে যদি সেই গোল আপনি এচিভ না করতে পারেন তখন মানুষেরা আপনার উপর হাসে আর বলে যে এ শুধু বলতেই পারে কিছু করতে পারে না।
আর তখন মানুষের মধ্যে আপনার উপর নেগেটিভ ইম্প্যাক্ট তৈরি হয় আর আপনার সম্মান কমে যায়। তাই আপনার গোলস আপনার প্ল্যানস শুধু তাদের সাথেই শেয়ার করুন যারা আপনার মতই এক্সপার্ট বা আপনাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। অ্যামাজনের ফাউন্ডার জেফ বেজস ঠিক এমনটাই করেছিলেন। যখন তিনি প্রথম ক্লাউড বিজনেস শুরু করেছিলেন সেই বিজনেস থেকে তার বেশ ভালোই আয় হচ্ছিল। কিন্তু উনি সেই বিজনেস সম্পর্কে তখন কাউকে কিছু বলেনি কারণ তখন তিনি যদি এই বিষয়টি শেয়ার করতেন তাহলে তার বিপরীতে আরো অনেকেই এই বিজনেসে জয়েন হতো এমনকি উনার থেকেও বেশি সফল হয়ে যেত।
কিন্তু সেই সময় চুপ থাকার কারণে আজ অ্যামাজনের কাছে ক্লাউড বিজনেসের সবচেয়ে বেশি শেয়ার রয়েছে। তাই ততক্ষণ নিজের গোলস বা প্ল্যানস শেয়ার করবেন না যতক্ষণ আপনি সফল না হতে পারছেন। সো আশা করছি এই আর্টিকেল থেকে আপনি বুঝতে পেরেছেন যে চুপ থাকার ক্ষমতা কতটা এবং কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
