আসসালামু আলাইকুম

আশা করি সকলে অনেক ভালো আছেন। আজকে আবারো একটি ইসলামিক টপিকের উপর একটি আর্টিকেল নিয়ে হাজির হয়েছি। আশা করবো আপনাদের এই আর্টিকেল টি ভালো লাগবে। আমাদের দৈনিক জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই আল্লাহর কাছে আমল করার একটি সুযোগ। আমরা অনেক সময় মনে করি বড় বড় ইবাদত করলেই কেবল জান্নাত অর্জন সম্ভব, কিন্তু বাস্তবে ছোট ছোট আমলও অনেক বড় সওয়াবের কারণ হতে পারে। রাসূল ﷺ বলেছেন:

“আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো সেটি, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়।”
(সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

 

ছোট ৫টি আমল করে বেশি বেশি নেকি অর্জন করার উপায়

ছোট আমলের বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো করা বেশ সহজ, আবার আল্লাহর কাছে এর মূল্য অনেক বড়। প্রতিদিনের জীবনে এগুলো নিয়মিত করতে পারলে আমাদের আখিরাত উজ্জ্বল হতে পারে। নিচে আমি এমনই ছোট ৫ টি আমল সম্পর্কে আপনাদের জানাবো।

 

১. নামাজের পর দোয়া করা

নামাজ হলো ইসলামের ৫টি স্তম্ভের একটি। প্রতিটি প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিমের জন্য ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ। তবে নামাজ শেষে দোয়া করলে সেই ইবাদত আরও পূর্ণতা পায়। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন:

“আর তোমার প্রতিপালক বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব”
(সুরা গাফির: ৬০)

রাসূল ﷺ বলেছেন:

“নামাজ শেষ করার পরের দোয়া সবচেয়ে বেশি কবুল হওয়ার যোগ্য।”
(তিরমিজি, হাদিস ৩৪৯৯)

অতএব, প্রতিটি নামাজ শেষে কয়েক মিনিট সময় নিয়ে দোয়া করা উচিত। সংক্ষিপ্ত একটি দোয়া যেমন,

“আল্লাহুম্মাগফিরলি, ওয়ারহামনি, ওয়াহদিনি, ওয়া আফিনি, ওয়ারযুকনি”
অর্থঃ হে আল্লাহ, আমাকে মাফ করুন, রহম করুন, হিদায়াত দিন, সুস্থতা দিন এবং রিযিক দান করুন।

এগুলো পড়লে আমাদের জীবনে বরকত নেমে আসে, সুস্থতা নসিব হয় এবং আল্লাহর রহমত বর্ষণ হয়।

 

২. দরুদ শরীফ পাঠ করা

রাসূল ﷺ এর প্রতি দরুদ পাঠ করা ইসলামের একটি বিশেষ ইবাদত। আল্লাহ নিজেও তাঁর প্রিয় নবীর ﷺ প্রতি দরুদ পাঠ করেন। কুরআনে বলা হয়েছে:

“নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর ওপর রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম প্রেরণ করো।”
(সুরা আহযাব: ৫৬)

এ বিষয়ে রাসূল ﷺ বলেছেন:

“যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশ রহমত বর্ষণ করেন, তার দশ গুনাহ মাফ করেন এবং দশ মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস ৪০৮)

তাহলে বুঝতেই পারছেন, দরুদ শরীফ পড়া শুধু নেকি বাড়ায় না, বরং আমাদের গুনাহ মাফ হওয়ারও একটি সহজ মাধ্যম। তাই প্রতিদিন বেশি বেশি দরুদ শরীফ পড়া আমাদের অভ্যাসে পরিণত করা উচিত।

 

৩. সালাম দেওয়া ও সালামের জবাব দেওয়া

সালাম দেওয়া ইসলামে শুধু অভিবাদন নয়, বরং দোয়ার সমান। তাই আমাদের উচিত সালাম দেওয়া এবং কেউ সালাম দিলে তার উত্তর দেওয়া। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন:

“যখন তোমাদের সালাম দেওয়া হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তমভাবে বা অন্তত একইভাবে জবাব দাও।”
(সুরা নিসা: ৮৬)

রাসূল ﷺ বলেছেন:

“তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না ঈমান আনবে, আর তোমরা ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না একে অপরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলব, যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে? তোমাদের মধ্যে সালাম প্রচার করো।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস ৫৪)

অতএব, একে অপরকে সালাম দেওয়া শুধু সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করে না, বরং এটি জান্নাতের পথে নিয়ে যাওয়ার একটি মাধ্যমও বটে। তাই আমরা সর্বদা সালাম দেওয়া ও কেউ সালাম দিলে তার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করবো। আর চেষ্টা করবো সালাম পরিপূর্ণ ভাবে দেওয়ার।

 

৪. প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত করা

কুরআন হলো আল্লাহর কালাম। যা মানবজাতির জন্য হিদায়াত। প্রতিদিন অন্তত কয়েক আয়াত হলেও কুরআন তিলাওয়াত করা উচিত। রাসূল ﷺ বলেছেন:

“যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি হরফ পড়বে, তার জন্য একটি নেকি থাকবে। আর সেই নেকি দশগুণ বৃদ্ধি পাবে।”
(তিরমিজি, হাদিস ২৯১০)

এছাড়া আল্লাহ কুরআনে ঘোষণা করেছেন:

“নিশ্চয়ই এই কুরআন সঠিক পথে পরিচালিত করে।”
(সুরা বনি ইসরাইল: ৯)

তাহলে এ থেকে বুঝলাম প্রতিদিন কুরআন পড়লে আমরা নেকি অর্জনের পাশাপাশি সঠিক পথের দিকনির্দেশনাও পাব। তাই এই আমলটি করার চেষ্টা করবো।

 

৫. মানুষের প্রতি হাসিমুখ থাকা ও সাহায্য করা

মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহার ইসলামের বড় আমল। অনেকে মনে করেন ইবাদত মানেই শুধু নামাজ-রোজা, কিন্তু মানুষের সাথে ভালো ব্যবহারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

রাসূল ﷺ বলেছেন:

“তোমার ভাইয়ের প্রতি হাসিমুখ হওয়াটাও একটি সদকা।”
(তিরমিজি, হাদিস ১৯৫৬)

অন্য এক হাদিসে এসেছে:

“মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম সে ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে উপকারী।”
(দারাকুতনি, হাদিস ৪৩১২)

 

একটি বোনাস আমল

আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন, আবার অনেকে নাও জানতে পারেন এটা সম্পর্কে তাই এখানে লিখে দেই। সূরা ইখলাস ৩ বার পাঠ করলে এক কোরআন খতম দেওয়ার মতো সওয়াব পাওয়া যায়। হাদিসে রসুল (স) হতে বর্ণিত আছে,

“যে ব্যক্তি ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ (সুরা ইখলাস) একবার পাঠ করবে, তার জন্য কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করার সওয়াব লেখা হবে।”
(সহিহ বুখারি: ৫০১৩, সহিহ মুসলিম: ৮৮১)

এর থেকে বোঝা যায় একবারে যদি ৩ ভাগের ১ ভাগ সওয়াব পাওয়া যায় তাহলে ৩ বার পাঠ করলে সম্পূর্ণ কোরআন পড়ার সমান সওয়াব অর্জন করা যাবে। তাই আমরা এই আমলটি বেশি বেশি করে করার চেষ্টা করবো।

 

শেষ কথা

আজকের পোস্ট এই পর্যন্তই। আশা করবো আপনাদের ভালো লাগবে। দেখা হবে পরবর্তী কোনো পোস্টে। সে পর্যন্ত সকলেই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।