আমরা সবাই চাই আল্লাহ আমাদের ওপর খুশি থাকুন। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন—কোন সময় আল্লাহ তাঁর বান্দার ওপর সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট হন?

অনেকেই মনে করেন, আল্লাহকে খুশি করতে হলে শুধু অনেক বেশি আমল করতে হবে। কিন্তু ইসলাম আমাদের একটি খুব সুন্দর শিক্ষা দেয়—আল্লাহর কাছে বান্দার আন্তরিকতা, তাঁর প্রতি ফিরে আসা এবং তওবার মূল্য অনেক বেশি।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, একজন মানুষ যদি মরুভূমিতে তার বাহন হারিয়ে ফেলে, আর সেই বাহনের ওপর তার খাবার-পানি সবকিছু থাকে, তারপর অনেক খোঁজার পর হঠাৎ সেই বাহনটি ফিরে পায়—তাহলে সে যে পরিমাণ আনন্দিত হবে, আল্লাহ তাঁর বান্দা তওবা করে তাঁর দিকে ফিরে এলে তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হন।

— সহিহ মুসলিম

একবার একটু চিন্তা করে দেখুন…

একজন মানুষ হয়তো অনেক ভুল করেছে। নামাজে অবহেলা করেছে, গুনাহ করেছে, আল্লাহর কথা ভুলে গেছে। কিন্তু একদিন তার অন্তর নরম হয়ে গেল। সে একা বসে চোখের পানি ফেলল এবং বলল—

“হে আল্লাহ, আমি ভুল করেছি। আমি আপনার কাছেই ফিরে আসতে চাই। আমাকে ক্ষমা করুন।”

এই ফিরে আসাটাই তওবা।

আল্লাহ আমাদের এমন রব, যিনি বান্দার ফিরে আসাকে ভালোবাসেন। তাই শয়তান যখন আপনাকে বলবে, “তুমি অনেক গুনাহ করেছ, তোমার আর ক্ষমা নেই,” তখন সেই কথায় বিশ্বাস করবেন না।

আল্লাহ কুরআনে বলেছেন,

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন।”

— সূরা আল-বাকারা, ২:২২২

তাই আপনার অতীত যত খারাপই হোক, আজকের দিন থেকেই নতুনভাবে শুরু করুন।

নামাজে ফিরে আসুন।

কুরআন পড়ুন।

হারাম কাজ ছেড়ে দিন।

মানুষের হক নষ্ট করে থাকলে তা ফিরিয়ে দিন এবং ক্ষমা চান।

আর নিজের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করুন।

মনে রাখবেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি কতবার পড়ে গেছেন—শুধু সেটি নয়; বরং পড়ে যাওয়ার পর কতবার তাঁর দিকে ফিরে এসেছেন।

হয়তো আপনি মনে করছেন, আপনার জীবনে আর কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। কিন্তু আল্লাহ চাইলে একটি আন্তরিক তওবাই আপনার পুরো জীবন বদলে দিতে পারে।

তাই আজ রাতে ঘুমানোর আগে কিছুক্ষণ একা থাকুন। নিজের ভুলগুলো মনে করুন। তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান।

কারণ আমরা জানি না—আমাদের জীবনে আর কত রাত বাকি আছে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে আন্তরিকভাবে তওবা করার, গুনাহ থেকে ফিরে আসার এবং তাঁর প্রিয় বান্দা হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।