আমরা সবাই জীবনে ভালোভাবে চলতে চাই। পরিবারকে ভালো রাখতে চাই, নিজের প্রয়োজন মেটাতে চাই, ভবিষ্যতের জন্য কিছু জমাতে চাই। আর এসবের জন্য দরকার রিজিক।

কিন্তু একটা বিষয় আমরা অনেক সময় ভুলে যাই—রিজিক শুধু কত টাকা পেলাম, তার নাম নয়। রিজিকের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সেই উপার্জনে হালাল ও বরকত আছে কি না।

অনেক সময় দেখা যায়, একজন মানুষ অল্প আয় করেও খুব শান্তিতে জীবন কাটাচ্ছেন। সংসারে হয়তো বিলাসিতা নেই, কিন্তু খাবারে তৃপ্তি আছে, পরিবারে ভালোবাসা আছে, মনে শান্তি আছে। অন্যদিকে কেউ অনেক বেশি টাকা উপার্জন করেও সবসময় চিন্তায় থাকে, অশান্তিতে থাকে, টাকার পেছনে ছুটতে ছুটতে জীবনের আসল শান্তিটাই হারিয়ে ফেলে।

এখানেই আসে বরকতের বিষয়টি।

হালাল উপার্জন হয়তো দেখতে কম মনে হতে পারে, কিন্তু সেই অল্প রিজিকেই আল্লাহ এমন বরকত দিতে পারেন, যা অনেক বেশি অর্থেও পাওয়া যায় না।

আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, তিনি তাঁর বান্দাদের রিজিক দেন। তাই রিজিকের জন্য মানুষের ওপর অন্যায়ভাবে নির্ভর না করে আল্লাহর ওপর ভরসা করা উচিত।

আপনি যদি সামান্য টাকা উপার্জন করেন, কিন্তু সেটা হালাল পথে হয়, তাহলে সেটাকে ছোট মনে করবেন না। কারণ আপনি যে টাকা ঘরে নিয়ে যাচ্ছেন, সেটার প্রতিটি অংশ যদি হালাল হয়, তাহলে সেটাই আপনার জন্য সম্মানের।

অন্যদিকে হারাম পথে উপার্জন করা টাকা যত বেশি হোক না কেন, সেটা কখনো সত্যিকারের সফলতার প্রমাণ নয়।

একটু চিন্তা করে দেখুন—আমরা টাকা উপার্জন করি কী জন্য?

পরিবারের মুখে হাসি দেখার জন্য, ভালোভাবে বাঁচার জন্য, সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য। কিন্তু যদি সেই টাকা উপার্জনের পথই হারাম হয়ে যায়, তাহলে সেই অর্থ আমাদের জীবনে শান্তি আনার বদলে বিপদের কারণ হতে পারে।

তাই রিজিক কম হলে হতাশ হবেন না।

হয়তো আজ আপনার আয় কম। হয়তো আপনি অনেক কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন। হয়তো অন্য কাউকে দেখে মনে হচ্ছে, সে আপনার চেয়ে অনেক ভালো আছে।

কিন্তু মনে রাখবেন, আপনার রিজিকের হিসাব আল্লাহর কাছে।

আপনার কাজ হলো চেষ্টা করা, হালাল পথে থাকা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করা।

হালাল উপার্জনের জন্য কষ্ট করতে হলে কষ্ট করুন। আয় কম হলে ধৈর্য ধরুন। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যান।

কারণ হারাম পথে দ্রুত বড় হওয়ার চেয়ে হালাল পথে ধীরে এগিয়ে যাওয়া অনেক উত্তম।

আর একটা কথা মনে রাখবেন—রিজিক শুধু টাকা-পয়সা নয়।

সুস্থ শরীরও রিজিক, শান্তির ঘুমও রিজিক, ভালো পরিবারও রিজিক, নেক সন্তানও রিজিক, বিপদ থেকে বেঁচে যাওয়াও রিজিক, আর সবচেয়ে বড় রিজিক হলো আল্লাহর হেদায়েত।

তাই প্রতিদিন শুধু বেশি টাকা চাওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে বলুন—

“হে আল্লাহ, আমাকে হালাল রিজিক দান করুন, আমার রিজিকে বরকত দিন এবং হারাম উপার্জন থেকে আমাকে দূরে রাখুন।”

মনে রাখবেন, কম হালাল রিজিকের মধ্যে যে শান্তি আছে, হারাম উপার্জনের পাহাড়েও সেই শান্তি নাও থাকতে পারে।

তাই রিজিক কম বলে আফসোস করবেন না। বরং নিজেকে প্রশ্ন করুন—

“আমার উপার্জন কি হালাল? আমার রিজিকে কি বরকত আছে?”

আল্লাহ আমাদের সবাইকে হালাল রিজিক দান করুন, উপার্জনে বরকত দিন এবং হারাম থেকে হেফাজত করুন।

আমিন।