আপনি কি কখনো শুনেছেন—“জুমার দিন হলো গরিবের হজ”?
এই কথাটি আমাদের সমাজে অনেক প্রচলিত। এর অর্থ সাধারণত বোঝানো হয়, যারা সামর্থ্যের অভাবে হজ করতে পারেন না, তারা যেন জুমার দিনে আল্লাহর ঘরের দিকে ফিরে এসে বিশেষ ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেন।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। “জুমার দিন গরিবের হজ”—এটি কোনো সহিহ হাদিসের বক্তব্য নয়। তাই এটাকে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর হাদিস বলে প্রচার করা উচিত নয়।
কিন্তু জুমার দিনের মর্যাদা যে অনেক বেশি, তা সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, জুমার দিন সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন। এই দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
আর জুমার নামাজের গুরুত্ব তো আমরা সবাই জানি। একজন মুসলিম যখন সুন্দরভাবে গোসল করে, পরিষ্কার পোশাক পরে, সুগন্ধি ব্যবহার করে, মসজিদের দিকে যায়, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং জামাতে জুমার নামাজ আদায় করে—তখন সে আল্লাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত পালন করে।
তাই “গরিবের হজ” কথাটাকে আক্ষরিক অর্থে হজের বিকল্প মনে করা যাবে না। জুমার নামাজ কখনো হজের পরিবর্তে আদায় হয় না। যার ওপর হজ ফরজ হয়েছে এবং যার সামর্থ্য আছে, তাকে হজ করতেই হবে।
তবে জুমার দিন আমাদের জন্য আল্লাহর দিকে ফিরে আসার একটি অসাধারণ সুযোগ। সারা সপ্তাহের ব্যস্ততার পর এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—দুনিয়ার কাজ যতই থাকুক, শেষ পর্যন্ত আমাদের ফিরে যেতে হবে আল্লাহর কাছেই।
তাই আজ জুমার দিনে শুধু নামাজ পড়েই যেন আমরা থেমে না যাই। বেশি বেশি দরুদ পড়ি, আল্লাহর কাছে দোয়া করি, কুরআন তিলাওয়াত করি, গুনাহ থেকে তওবা করি এবং নিজের পরিবার ও পুরো উম্মাহর জন্য দোয়া করি।
হয়তো আমাদের হাতে হজ করার সামর্থ্য নেই, কিন্তু আল্লাহর দরজায় দাঁড়ানোর সুযোগ প্রতিদিনই আছে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে জুমার দিনের মর্যাদা বুঝে সঠিকভাবে ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।